সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউ জার্সিতে নৌকা দুর্ঘটনায় একসঙ্গেই প্রাণ গেল দুই ভাই-বোনের, শোকের ছায়া পরিবারে

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১২:২৩
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই শিশু মায়া ও সিগমন্ডের সাথে তাদের বাবা-মা। ছবি: ফেসবুক
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই শিশু মায়া ও সিগমন্ডের সাথে তাদের বাবা-মা। ছবি: ফেসবুক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক মর্মান্তিক নৌকা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একমাত্র দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। রবিবার রাতে বার্নেগাট বে এলাকায় নানা-নানির সাথে নৌভ্রমণে বের হয়ে ৯ বছর বয়সী মেয়ে মায়া এবং ৭ বছর বয়সী ছেলে সিগমন্ড মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার শিকার হয়।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের ৬৩ বছর বয়সী নানা স্টিভেন স্নাইডার ৩০ ফুটের একটি নৌকা চালাচ্ছিলেন। সাথে ছিলেন তাঁদের ৬৪ বছর বয়সী নানি লরি স্নাইডার। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওয়াটারওয়ে বা খালের একটি বয়া নির্দেশকের সাথে নৌকাটির সজোড়ে ধাক্কা লাগে। আঘাতের তীব্রতায় শিশুরা ছিটকে পানিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর নানা-নানি মিলে শিশুদের পানি থেকে উদ্ধার করলেও তাদের কোনো সাড়াশব্দ ছিল না। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়েও তাদের বাঁচাতে পারেননি এবং মৃত ঘোষণা করেন।

 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, দুর্ঘটনার সময় সংকেত নির্দেশকের আলো সম্পূর্ণ সচল ছিল। ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত পানিতে নেমে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। উদ্ধার পাওয়া একটি শিশুর কাছেই লাইফ জ্যাকেট রাখা ছিল। মর্মান্তিক এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিউ জার্সি স্টেট পুলিশ, তবে এখনও কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

 

নিজেদের একমাত্র দুই সন্তানকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। শোকবার্তায় দুই ভাই-বোনের ভালোবাসার স্মৃতি স্মরণ করে স্বজনরা জানান, মায়া ও সিগমন্ড কেবল ভাই-বোনই ছিল না, তারা ছিল একে অপরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সবসময় হাসি-ঠাট্টা আর অ্যাডভেঞ্চারে মেতে থাকত তারা।

 

স্বজনদের মতে, ৯ বছরের মায়া ছিল অত্যন্ত মিষ্টি, দয়ালু ও প্রাণবন্ত এক মেয়ে। সাঁতার কাটা, সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানো আর গ্রীষ্মের রাতে কাঁকড়া ধরা পছন্দ করত সে। অন্যদিকে ৭ বছরের ছোট ভাই সিগমন্ড, যাকে সবাই ভালোবেসে 'সিগি' বলে ডাকত, সে একটু লাজুক হলেও ছিল দুঃসাহসিক আর কল্পনাপ্রবণ। বাস্কেটবল ও বেসবল খেলা ছিল তার ভীষণ প্রিয়। অকালে চলে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া ভালোবাসার স্মৃতি পরিবারের কাছে চিরদিন অমলিন থাকবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার
তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

বাড়ি বা গাড়ি নেই, নেই নিয়মিত সংসারের ঝামেলাও। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে ক্রুজ জাহাজেই বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক লিবি রোম ও তার স্বামী। তাদের দাবি, খাবার, থাকার জায়গা, যাতায়াত ও বিনোদনসহ দুজনের দৈনিক মোট খরচ প্রায় ৬৬ ডলার, যা তাদের আগের জীবনযাপনের তুলনায় বেশ কম।    ৫২ বছর বয়সী লিবি রোম পিপল ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, তিনি ও তার স্বামী গত ১৬ বছর ধরে অনেকটা যাযাবর জীবনযাপন করছেন। একসময় বিভিন্ন দেশে হোটেলে থেকে কাজ করলেও পরে ক্রুজ জাহাজে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিন বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া সেই জীবন এখনো চলছে এবং আপাতত স্থলে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।    রোম পেশাগতভাবে রিমোটে কাজ করেন। দুজন মিলে নিজেদের বেশির ভাগ সম্পদ বিক্রি করে জীবনযাপনকে অনেকটাই মিনিমালিস্ট করে ফেলেছেন। এখন তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এত কম যে সবকিছু একটি ব্যাকপ্যাকেই রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন রোম।    এই জীবনযাপনের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো প্রতিদিনের সংসারের ঝামেলা কমে যাওয়া। তাদের নিজস্ব বাড়ি বা গাড়ি নেই। কাপড় ধোয়ার কাজও অনেক সময় ক্রুজ কোম্পানির সুবিধার মাধ্যমে হয়ে যায়। প্রিন্সেস ক্রুজের এলিট পর্যায়ের সদস্যরা নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রুজ বা ক্রুজ-ডে পূরণ করলে বিনামূল্যে লন্ড্রি সার্ভিসসহ বিভিন্ন সুবিধা পান।    রোম জানান, তারা একই জাহাজে সারাবছর থাকেন না। সাধারণত বছরে দুই থেকে তিনটি জাহাজে পরপর ক্রুজ বুক করেন। কখনো আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত একটানা ক্রুজের পরিকল্পনাও করেছেন। রুটের মধ্যে বিরতি পড়লে এক রাতের জন্য হোটেলে থাকতে হয়।    খরচ কমানোর পেছনে রয়েছে আরও একটি কৌশল। রোম ও তার স্বামী বিভিন্ন ক্রুজ লাইনের ক্যাসিনো লয়্যালটি প্রোগ্রামের সুবিধা নেন। এসব প্রোগ্রামে নির্দিষ্ট পর্যায়ের খরচ বা ব্যবহারের পর ফ্রি বা কম খরচে ক্রুজ পাওয়ার সুযোগ থাকে। এর ফলে তারা মূলত পোর্ট ফি ও ট্যাক্সসহ অন্যান্য সীমিত খরচ বহন করে অনেক সময় ক্রুজ চালিয়ে যেতে পারেন।    রোমের হিসাবে, দুজনের দৈনিক প্রায় ৬৬ ডলারের খরচে থাকা, খাবার, যাতায়াত ও বিনোদনের বড় অংশই অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২ হাজার ডলারের মতো খরচ হয় তাদের।   তবে ক্রুজে স্থায়ীভাবে বসবাসের সঙ্গে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রোমের টাইপ-১ ডায়াবেটিস থাকায় নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রয়োজন হয়। শুরুতে বিভিন্ন বন্দর ও বিভিন্ন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে তার জন্য প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। এখন তিনি এমন ক্রুজ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যেগুলো একই বন্দর থেকে শুরু ও শেষ হয়, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হয়।    ক্রুজ জাহাজের মেডিকেল সেন্টার জরুরি বা আকস্মিক অসুস্থতা ও দুর্ঘটনায় চিকিৎসা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এগুলো ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়। তাই নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্য স্থায়ী ক্রুজ জীবনযাপনে বাড়তি পরিকল্পনা জরুরি।  ডাকপত্রের ক্ষেত্রেও রোমের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার বোনের ঠিকানায় পাঠানো হয়। আর প্রতিদিন নতুন কোনো দেশে ঘুম থেকে ওঠা, সমুদ্রযাত্রা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতাই তার কাছে এই জীবনযাপনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।    যারা এমন জীবন বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের আগে কয়েকটি ক্রুজ করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রোম। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার অভিজ্ঞতা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিন বছরের বেশি সময় জাহাজে কাটানোর পরও তিনি ও তার স্বামী এই জীবনযাপন নিয়ে সন্তুষ্ট এবং আপাতত স্থায়ীভাবে স্থলে ফেরার কোনো পরিকল্পনা করছেন না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২৩:৫৮
চার অঙ্গরাজ্যে স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে ১৫ লাখ ডলারের প্রতারণা, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার

চার অঙ্গরাজ্যে স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে ১৫ লাখ ডলারের প্রতারণা, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার

১৯ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে বিলিয়ন ডলারের ইউটিউব, নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম

১৯ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে বিলিয়ন ডলারের ইউটিউব, নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ফের ছুরিকাঘাত, মুখ ও পেটে আঘাত নিয়ে আহত ২৩ বছরের তরুণ

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ফের ছুরিকাঘাত, মুখ ও পেটে আঘাত নিয়ে আহত ২৩ বছরের তরুণ

স্টকিংয়ের অভিযোগে জন কেনেডি (৫৩) নামের হাইস্কুল শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
নিউইয়র্কে প্রাক্তন ছাত্রীকে স্টকিংয়ের অভিযোগ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলজীবনেই যৌ ন সম্পর্কের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে প্রাক্তন এক ছাত্রীকে ক্রমাগত অনুসরণ বা স্টকিংয়ের অভিযোগে জন কেনেডি (৫৩) নামের এক হাইস্কুল শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বে শোর হাইস্কুলের শিল্পকলার এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার ১৮ বছর বয়সী এক প্রাক্তন ছাত্রীর পিছু নিয়েছিলেন।   সাফোক কাউন্টি পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ২০২৫ সালে ভুক্তভোগী তরুণী যখন ওই স্কুলে ১৭ বছর বয়সী সিনিয়র ছাত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তার সঙ্গে ওই শিক্ষকের যৌন সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে ওই তরুণী সাফোক কমিউনিটি কলেজে পড়ছেন এবং গত এক মাস ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক একাধিকবার সেখানে গিয়ে তাকে অনুসরণ করেছেন।   পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সেলডেনে যাওয়ার পথে ওই তরুণী বুঝতে পারেন যে কেনেডি তার পিছু নিয়েছেন। এর আগে তরুণী তাকে দূরে থাকার কথা বললেও তিনি বারবার কথা বলার চেষ্টা করেন। সাফোক কাউন্টি পুলিশ কমিশনার কেভিন ক্যাটালিনা জানান, শিক্ষক বারবার তাকে অনুসরণ করায় তরুণী অত্যন্ত অস্বস্তিবোধ করেন এবং বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হন।   এছাড়া অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর বাড়ির আশেপাশেও গাড়ি নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে 'ফোর্থ-ডিগ্রি স্টকিং'-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে কেনেডির আইনজীবী কেভিন সেম্যান এই অভিযোগ ও যৌন সম্পর্কের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কেনেডি জনসমক্ষে ছিলেন এবং পরিচিত একজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন।   এদিকে, বে শোর স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যৌন হয়রানির অভিযোগে এক অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর করা দেওয়ানি মামলার জেরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকেই কেনেডিকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং স্কুল চত্বরে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে মামলাকারী শিক্ষার্থী এবং বর্তমান ভুক্তভোগী একই ব্যক্তি কি না, তা স্পষ্ট নয়।   এড্রিয়ানা সিনকে নামের ওই স্কুলের আরেক প্রাক্তন ছাত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষকের এমন আচরণের খবরে তিনি খুব একটা অবাক হননি, কারণ আগে একটি ফিল্ড ট্রিপে এই শিক্ষকের আচরণ তাকেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। শুক্রবার আদালত থেকে কেনেডি জামিন ছাড়াই মুক্তি পেলেও বিচারক তাকে ওই তরুণীর কাছ থেকে দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষদিকে তাকে আবারও আদালতে হাজির হতে হবে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২২:১
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য সুদ এড়িয়ে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ি কেনার যেসব বিকল্প আছে

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য সুদ এড়িয়ে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ি কেনার যেসব বিকল্প আছে

যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব, সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব, সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২

ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করা বাবা-মাকে চাইল্ড কেয়ার সহায়তা দিবে ট্রাম্প প্রশাসন

ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করা বাবা-মাকে চাইল্ড কেয়ার সহায়তা দিবে ট্রাম্প প্রশাসন

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিমান দুর্ঘটনায় মায়ের সঙ্গে প্রাণ গেল দুই ছেলের, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিমান দুর্ঘটনায় মায়ের সঙ্গে প্রাণ গেল দুই ছেলের, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সিঙ্গেল ইঞ্জিন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক নারী পাইলট ও তার দুই ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার ফ্রেসনো শহরের সিয়েরা স্কাই পার্ক বিমানবন্দরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নারী ডান্না ইডি (৪১) পেশায় একজন ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর ছিলেন।   এ ঘটনায় তার দুই ছেলে পাভেল (১০) ও রেমাস (১৩) নিহত হলেও গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে গেছেন তার স্বামী ক্রেইগ। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শরীরে মারাত্মক পোড়া ক্ষতসহ একাধিক গভীর জখম রয়েছে।   ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সান জোয়াকিন নদীর তীরের একটি পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলেই দুই শিশু সন্তানকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ডান্না ও তার স্বামীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডান্নার মৃত্যু হয়।   বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই পাহাড়ের একাংশে তীব্র আগুন ধরে যায়, যা দমকলকর্মীরা দ্রুত নেভাতে সক্ষম হন এবং তা লোকালয়ে ছড়াতে দেননি। ডান্নার বন্ধু নিক উইলকক্স জানান, পরিবারটি একটি এয়ারশোতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।   ফ্রেসনোর এভিয়েশন বা উড্ডয়ন সম্প্রদায়ের কাছে ডান্না ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। তিনি রিডলি কলেজে ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় 'এক্সপেরিমেন্টাল এয়ারক্রাফট অ্যাসোসিয়েশন'-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।   উইলকক্স জানান, ডান্না সদ্য পাইলট হলেও ইতিমধ্যে হাজার হাজার ঘণ্টা ওড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। আকাশে ওড়াই ছিল তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এবং তিনি তার ভালোবাসার কাজটি করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন।   পরিবারটিতে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী আরও দুই সন্তান রয়েছে। স্বামীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটাতে 'সাপোর্টনাও' পেজের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন তাদের এক পারিবারিক বন্ধু।   ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো অস্পষ্ট। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে, যেখানে এনটিএসবি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে পুরোপুরি কর্ডন করে রাখা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২০:৩৫
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বস্তিতে ট্রাম্প

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বস্তিতে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন পরিবর্তন, ক্রেডিট রিপোর্টেও নজর ইউএসসিআইএসের

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন পরিবর্তন, ক্রেডিট রিপোর্টেও নজর ইউএসসিআইএসের

যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে লোমশ ‘দানব’ বিগফুট, আতঙ্কে ৯১১-তে একের পর এক কল

যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে লোমশ ‘দানব’ বিগফুট, আতঙ্কে ৯১১ নম্বরে একের পর এক কল

0 Comments