যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করার পর প্রথম তিন মাস সাধারণত বাসা, চাকরি, পরিবহন, ভাষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সামলাতেই কেটে যায়। অথচ এই সময়েই আশপাশে থাকা কয়েকটি বিনামূল্যের বা স্বল্প খরচের কমিউনিটি সেবা কাজে লাগালে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে।
‘প্রথম ৯০ দিন’ কোনো সরকারি সময়সীমা নয়। তবে নতুন অভিবাসীদের পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সময়। এসব সেবা সরাসরি নগদ সহায়তা নয়; বরং চাকরি খোঁজা, ইংরেজি শেখা, ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার, স্থানীয় সহায়তার সন্ধান এবং ছোট ব্যবসা শুরু করার মতো বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়।
১. পাবলিক লাইব্রেরি: বইয়ের বাইরেও নানা সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক লাইব্রেরিগুলো শুধু বই পড়া বা ধার নেওয়ার জায়গা নয়। বেশিরভাগ পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অনেক শাখায় প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, চাকরির আবেদন, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা এবং শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তার মতো সেবাও দেওয়া হয়।
ইনস্টিটিউট অব মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ শতাংশের বেশি পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার লাইব্রেরিতে ইংরেজি কথোপকথন, নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি, চাকরি অনুসন্ধান এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিও চালু থাকে। তবে সব শাখায় একই ধরনের সেবা পাওয়া যায় না।
অনেক লাইব্রেরির সদস্যরা লিবির মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ই-বুক ও অডিওবুক ধার নিতে পারেন। লাইব্রেরি কার্ড করার নিয়ম শহর ও কাউন্টিভেদে আলাদা। সাধারণত পরিচয়পত্র ও স্থানীয় ঠিকানার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। কোথাও অস্থায়ী বাসিন্দা বা এলাকার বাইরের মানুষের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থাও থাকে।
২. আমেরিকান জব সেন্টার: চাকরি খোঁজার সরকারি সহায়তা
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের সমন্বয়ে পরিচালিত আমেরিকান জব সেন্টারগুলো চাকরিপ্রার্থীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন সহায়তা দেয়। দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি জব সেন্টার রয়েছে। তবে প্রতিটি কাউন্টিতে একটি করে সেন্টার আছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কাছের কেন্দ্রটি শহর, অঙ্গরাজ্য বা জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নিতে হয়।
এসব কেন্দ্রে চাকরির তালিকা দেখা, কম্পিউটার ব্যবহার, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি বা পর্যালোচনা, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, স্থানীয় শ্রমবাজার সম্পর্কে ধারণা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। অনেক সেন্টারে ক্যারিয়ার কাউন্সেলর চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে উপযুক্ত কাজ বা প্রশিক্ষণের পথ দেখান।
তবে ওশা, ফর্কলিফট বা অন্য কোনো পেশাগত প্রশিক্ষণ সব জব সেন্টারে সরাসরি ও বিনামূল্যে দেওয়া হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেন্টার শুধু অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেয়। প্রশিক্ষণের খরচ বহনের সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা আবেদনকারীর যোগ্যতা, স্থানীয় কর্মসূচি ও তহবিলের ওপর নির্ভর করে।
৩. অ্যাডাল্ট এডুকেশন: ইংরেজি ও সমমানের সনদের প্রস্তুতি
নতুন অভিবাসীদের জন্য কমিউনিটি কলেজ, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, লাইব্রেরি এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অ্যাডাল্ট এডুকেশন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে। এসব কর্মসূচিতে ইংরেজি ভাষা, পড়া-লেখা, গণিত, কম্পিউটার দক্ষতা এবং হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়া হয়।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন জানিয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাডাল্ট এডুকেশন কর্মসূচি প্রাপ্তবয়স্কদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, মৌলিক শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। স্থানীয় কমিউনিটি কলেজ, লাইব্রেরি বা মানবসেবা দপ্তর থেকে এসব কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষাকে সব জায়গায় শুধু জিইডি বলা ঠিক নয়। অঙ্গরাজ্যভেদে জিইডি, হাইসেট বা অন্য কোনো অনুমোদিত পরীক্ষা থাকতে পারে। ক্লাস বিনামূল্যে হবে নাকি স্বল্প ফি দিতে হবে, সেটিও প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচিভেদে ভিন্ন। কিছু প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা, সপ্তাহান্ত বা অনলাইন ক্লাস থাকলেও তা সর্বত্র নিশ্চিত নয়।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের অনলাইন ব্যবস্থায় জিপ কোড দিয়ে স্থানীয় ইংরেজি ও নাগরিকত্ব প্রস্তুতি ক্লাস খোঁজার সুযোগ রয়েছে।
৪. ২১১ হেল্পলাইন: স্থানীয় সহায়তার তথ্য এক জায়গায়
বাসস্থান, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি বিল, পরিবহন বা শিশুদের কর্মসূচি নিয়ে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে বুঝতে না পারলে ২১১ নম্বরটি কাজে আসতে পারে। ফোনে ২১১ ডায়াল করলে সাধারণত স্থানীয় প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যায়। অনলাইনেও ঠিকানা বা জিপ কোড দিয়ে এলাকার সেবা খোঁজা যায়।
ইউনাইটেড ওয়ে পরিচালিত ২১১ নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। এই সেবা স্থানীয় ফুড প্যান্ট্রি, আবাসন সহায়তা, কম খরচের চিকিৎসা, পরিবহন, ইউটিলিটি সহায়তা এবং অন্যান্য কমিউনিটি কর্মসূচির তথ্য দিতে পারে। কল সাধারণত গোপনীয় রাখা হয় এবং পরিচয় না জানিয়েও সহায়তা চাওয়া যেতে পারে।
তবে ২১১ কোনো সুবিধা অনুমোদনকারী সরকারি সংস্থা নয়। তারা মূলত আবেদনকারীকে সম্ভাব্য স্থানীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করে। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের এলাকা, বয়স এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতাসহ বিভিন্ন শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।
৫. স্কোর মেন্টরশিপ: ছোট ব্যবসার জন্য বিনামূল্যের পরামর্শ
ছোট ব্যবসা, অনলাইন স্টোর বা সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শুরু করার পরিকল্পনা থাকলে স্কোরের স্বেচ্ছাসেবী ব্যবসা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া যায়। স্কোর ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি রিসোর্স পার্টনার।
স্কোরের মেন্টররা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, অর্থায়ন, বিপণন, মানবসম্পদ, পরিচালনা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের মতো বিষয়ে পরামর্শ দেন। সরাসরি সাক্ষাৎ ছাড়াও ফোন, ই-মেইল ও ভিডিও কলের মাধ্যমে মেন্টরশিপ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মেন্টররা শুধু অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী নন; তারা বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী বিশেষজ্ঞ।
স্কোরের ব্যক্তিগত মেন্টরশিপ বিনামূল্যের হলেও সব কর্মশালা বা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান বিনামূল্যে হবে—এমন নয়। কোনো অনুষ্ঠানে নিবন্ধন ফি থাকতে পারে। তাই নাম লেখানোর আগে আয়োজনটির খরচ ও শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রথম ৯০ দিনে যে তিনটি কাজ করবেন
প্রথমত, পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কাগজ, শিক্ষাগত সনদ এবং চাকরির নথির কপি একটি আলাদা ফোল্ডারে রাখুন। ডিজিটাল কপিগুলো নিরাপদ ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, কোনো কর্মসূচির তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে চূড়ান্ত ধরে নেবেন না। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, লাইব্রেরি, কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফোন নম্বর দিয়ে নিয়ম, ফি ও যোগ্যতা যাচাই করুন।
তৃতীয়ত, কোনো সরকারি বা চাকরির ফর্ম বুঝতে সমস্যা হলে আন্দাজ করে তথ্য দেবেন না। লাইব্রেরি, আমেরিকান জব সেন্টার বা অনুমোদিত সহায়তা প্রতিষ্ঠানে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মীকে আইনজীবী ধরে নিয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
এই সেবাগুলোর অনেকটাই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হলেও সব সুবিধা সবার জন্য বিনামূল্যে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্য নয়। সেবার ধরন, নিবন্ধনের নিয়ম এবং যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও প্রতিষ্ঠানভেদে বদলে যেতে পারে।
আপনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কোন সালে এসেছেন? কমেন্টে শুধু সালটি লিখতে পারেন—যেমন ২০১৮, ২০২২ বা ২০২৪। কোন সময়ের অভিবাসীরা বেশি সাড়া দেন, তার ভিত্তিতে তাদের সাধারণ সমস্যা ও করণীয় নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করা যেতে পারে।
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্য ও কমিউনিটি সচেতনতার জন্য তৈরি। এটি কোনো আইনি, অভিবাসন বা আর্থিক পরামর্শ নয়। কোনো কর্মসূচিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ড পরার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজের মধ্যেই রক্তচাপের প্রবণতা, হৃদস্পন্দন, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের হার পর্যবেক্ষণ করবে টয়লেট সিট। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রচেস্টারভিত্তিক স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কাসানা বাজারে এনেছে এমনই সেন্সরযুক্ত ‘স্মার্ট সিট’। প্রাথমিকভাবে এর দাম রাখা হয়েছে ১৯৯ ডলার। চলতি জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যটির বিক্রি শুরু করেছে কাসানা। সাধারণ টয়লেটের প্রচলিত সিট খুলে তার জায়গায় নতুন এই সিট বসানো যায়। এরপর ব্যবহারকারী যখনই সেখানে বসবেন, সিটে থাকা বিভিন্ন সেন্সর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শারীরিক তথ্য সংগ্রহ করবে। সেই তথ্য দেখা যাবে কাসানার মোবাইল অ্যাপে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, স্মার্ট সিট রক্তচাপের প্রবণতা, হৃদস্পন্দন, হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের হারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কোনো ডিভাইস পরতে বা প্রতিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা মনে রাখতেও হয় না। এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে প্রায় এক দশকের গবেষণা। রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে শুরু হওয়া গবেষণা থেকে প্রযুক্তিটির বিকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা নিকোলাস কন ২০১৮ সালে কাসানা প্রতিষ্ঠা করেন। পণ্যটির গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের বড় অংশই হয়েছে রচেস্টার এলাকায়। কাসানা এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে সিরিজ বি বিনিয়োগে আসে ৩ কোটি ডলার। কোম্পানির প্রেসিডেন্ট অস্টিন ম্যাককর্ডের মতে, স্মার্ট সিটের অন্যতম বড় সুবিধা হলো স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহারকারীকে নতুন কোনো অভ্যাস গড়ে তুলতে হয় না। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণ করতে হয় এমন মানুষের জন্য প্রযুক্তিটি কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কাসানা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমানে বাজারজাত করা স্মার্ট সিটটি সাধারণ স্বাস্থ্য ও সুস্থতা পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি। এটি কোনো রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র নয় এবং চিকিৎসক বা প্রচলিত চিকিৎসা পরীক্ষার বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত নয়। ব্যবহারকারীর শারীরিক সূচকের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন ও প্রবণতা বুঝতে সহায়তা করাই এর উদ্দেশ্য। কাসানার প্রযুক্তির আগের সংস্করণ ‘হার্ট সিট’ ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ছাড়পত্র পেয়েছিল হৃদস্পন্দন ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপের জন্য। তবে বর্তমানে সরাসরি গ্রাহকদের জন্য বিক্রি হওয়া ‘স্মার্ট সিট’কে কোম্পানি চিকিৎসা যন্ত্র নয়, বরং সাধারণ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ পণ্য হিসেবে বাজারজাত করছে। কাসানার ওয়েবসাইটে স্মার্ট সিটের সীমিত সময়ের প্রাথমিক মূল্য ১৯৯ ডলার দেখানো হয়েছে। এই দামের সঙ্গে প্রথম বছরের সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোম্পানিটি আশা করছে, দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক একটি কাজের সঙ্গে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ যুক্ত হওয়ায় বিশেষ করে বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন বুঝতে প্রযুক্তিটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ পার্টি স্কুল হিসেবে পরিচিত অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি কনটেন্ট তৈরি বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ওপর একটি নতুন ব্যাচেলর ডিগ্রি চালু করেছে। অনলাইনে দর্শক বাড়ানো, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরি এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল শেখাতে এই একাডেমিক প্রোগ্রামটি আনা হয়েছে। তবে ৪ বছর মেয়াদি এই ডিগ্রি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে অনেকেই একে অপ্রয়োজনীয় ও টিউশন ফি অপচয় বলে সমালোচনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কোর্সটি কেবল টিকটকে ভিডিও বানানো শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্রনকি স্কুল অফ জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিন জেসিকা পুচ্চি জানান, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের পারফরম্যান্স মেট্রিকস বিশ্লেষণ করা, কনটেন্ট কৌশল নিয়ে কাজ করা এবং ডেটা ব্যবহার করে এনগেজমেন্ট বাড়ানোর পদ্ধতি শেখানো হবে। বিশেষ করে সমাপনী প্রজেক্ট হিসেবে শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট সেমিস্টারে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে কাজ করে দৃশ্যমান ফলোয়ার ও ব্র্যান্ড তৈরির প্রমাণ দেখাতে হবে। ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল একটি কাগজের সনদই নয়, বরং বাস্তবসম্মত অনলাইন ফলোয়ার ও প্রকাশিত কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সেলফ-লার্নিং বা নিজ চেষ্টায় শেখা যায় এমন বিষয়ের জন্য চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি আদতে কতটা জরুরি। অনেকের মতে, শিক্ষার্থীরা ঘরের বসে কোনো খরচ ছাড়াই এই দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তাই এই খাতে ডিগ্রি অর্জনের জন্য এত অর্থ খরচ করা পুরোপুরি বোকামি। কেউ কেউ আবার বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বর্তমান ইন্টারনেট ট্রেন্ডের সুযোগ নিয়ে কেবল আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, সমালোচকদের পাশাপাশি এই নতুন ডিগ্রির পক্ষেও জোরালো মতামত পাওয়া গেছে। অনেকে যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন যে, আধুনিক ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট ক্রিয়েশন একটি অত্যন্ত লাভজনক ও বড় পেশা হয়ে উঠেছে, যা প্রথাগত অনেক চাকরির চেয়েও বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি করে দেয়। কেউ কেউ আবার শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যদি ট্যাক্স, সঞ্চয় বা মর্টগেজের মতো মৌলিক জীবনমুখী দক্ষতাগুলোও শেখানো হয়, তবে এই ডিগ্রি কার্যকর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপ, এশিয়া কিংবা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইস্তাম্বুল ধীরে ধীরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাবে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, বিস্তৃত ফ্লাইট নেটওয়ার্ক এবং তুর্কী এয়ারলাইন্স-এর বৈশ্বিক সংযোগের কারণে অনেক মার্কিন যাত্রী এখন ইস্তাম্বুল হয়ে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণকে বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টকে কেন্দ্র করে তুর্কী এয়ারলাইন্স বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহর থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, হিউস্টন, মায়ামি, সান ফ্রান্সিসকো, ওয়াশিংটন ডিসি, ডালাস, সিয়াটল, বোস্টন, ডেট্রয়েট, আটলান্টাসহ বিভিন্ন শহর থেকে ইস্তাম্বুলে নিয়মিত ফ্লাইট রয়েছে। অনেক রুটে প্রতিদিনই একাধিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থানই এর সবচেয়ে বড় শক্তি। ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ইস্তাম্বুল থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার শতাধিক গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছে এটি একটি কার্যকর সংযোগকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তুর্কী এয়ারলাইন্স-এর অন্যতম জনপ্রিয় সুবিধা হলো ‘টুরিস্ট’ কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক সংযোগ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ইস্তাম্বুলে ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টার উপযুক্ত লেওভার থাকলে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে যাত্রীরা বিনামূল্যে শহর ভ্রমণের সুযোগ পান। এই ট্যুরে হাজিয়া সোফিয়া, সুলতান আহমেদ মসজিদ, তোপকাপি প্রাসাদসহ ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখার ব্যবস্থা থাকে। তবে এ সুবিধা নির্দিষ্ট শর্ত, সময়সূচি এবং আসনসংখ্যার ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া দীর্ঘ লেওভারের ক্ষেত্রে তুর্কী এয়ারলাইন্স -এর আলাদা ‘Stopover’ কর্মসূচির আওতায় কিছু যাত্রী বিনামূল্যে হোটেল সুবিধাও পেতে পারেন। তবে এটি ইস্তাম্বুল থেকে পৃথক একটি কর্মসূচি এবং এর জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত প্রযোজ্য। ভিসা নিয়মের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মার্কিন পাসপোর্টধারীরা এখন পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই তুরস্কে প্রবেশ করতে পারেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য পূর্বের মতো ই-ভিসা বাধ্যতামূলক নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম নির্ভর করে তাদের পাসপোর্টের দেশের ওপর। যেমন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী গ্রিন কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ইস্তাম্বুলে সংযোগ ফ্লাইট থাকলে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধান রাখা উচিত। কারণ বিমানবন্দরটি আয়তনে অত্যন্ত বড় এবং আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের সময় নিরাপত্তা ও গেটে পৌঁছাতে উল্লেখযোগ্য সময় লাগতে পারে। এছাড়া ভিসা, ট্রানজিট সুবিধা বা লেওভার কর্মসূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তুর্কী এয়ারলাইন্স এবং তুরস্ক সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই নিরাপদ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানগামী যাত্রীদের মধ্যে ইস্তাম্বুল হয়ে ভ্রমণের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কম সংযোগ, বিস্তৃত গন্তব্য নেটওয়ার্ক এবং ট্রানজিট সুবিধার সমন্বয়ে তুরস্ক এখন বৈশ্বিক বিমান চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।