যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্প-ওবামার মর্যাদার লড়াই, কার সুযোগ কতটুকু?
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আইওয়া ও টেক্সাসের এই নির্বাচনগুলোতে তাদের দেওয়া এই সমর্থনকে নিজ নিজ দলের ওপর তাদের প্রভাব ও জনপ্রিয়তার এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াই প্রমাণ করবে ট্রাম্প নিজে ব্যালটে না থেকেও তার রিপাবলিকান ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টেনে আনতে পারেন কি না, এবং একইসঙ্গে ওবামা ডেমোক্র্যাটদের সেই হারানো ভোটারদের পুনরায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম কি না, যারা একসময় তাকে ভোট দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকেছেন।
আসন্ন এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে নিজেদের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন বারাক ওবামা। তারা হলেন—আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ জশ টুরেক, টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে জেমস ট্যালারিকো এবং টেক্সাসের গভর্নর পদে জিনা হিনোজোসা। অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশজুড়ে শত শত প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তিন আসনেই ওবামার প্রার্থীদের কট্টর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বেছে নিয়েছেন। এই আসনগুলোতে ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীরা হলেন—আইওয়া সিনেটে রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাশলি হিনসন, টেক্সাস সিনেটে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এবং টেক্সাসের বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প আইওয়া ও টেক্সাস—উভয় রাজ্যেই ডাবল ডিজিটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা হ্রাসের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এবার এই রাজ্যগুলোতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চাইছে ডেমোক্র্যাট শিবির। তাদের বিশ্বাস, ওবামার মতো প্রভাবশালী নেতার সমর্থন দলের প্রার্থীদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যালিসন শুস্টার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের সমর্থনকে মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে 'শক্তিশালী সমর্থন' হিসেবে দাবি করেছেন। তার মতে, ১৮৫টি আসনের মধ্যে ১৮৩টিতে জিতে ট্রাম্পের সাফল্যের হার যেখানে ৯৯ শতাংশ, সেখানে অন্য কিছু দাবি করাটা চরম বোকামি। অন্যদিকে, রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির (আরএনসি) জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি নাটালি বালদাসারে কটাক্ষ করে বলেছেন, টেক্সাস ও আইওয়ার মতো ঘোর লাল (রিপাবলিকান) রাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য ওবামার সমর্থন জুলাই মাসে বরফ সরানোর বেলচার মতোই অপ্রয়োজনীয়। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই দুই রাজ্যেই রিপাবলিকানরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমানো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এফ-১, জে-১ এবং আই ভিসা পদ্ধতির নিয়মে ব্যাপক রদবদল আনতে যাচ্ছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বহুল প্রচলিত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈধতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেঁধে দেওয়া হবে, যা কোনোভাবেই চার বছরের বেশি হবে না। প্রস্তাবিত এই নিয়মটি বর্তমানে অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন বা কোর্স চলাকালীন সময়ে শর্তসাপেক্ষে যতদিন খুশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সুযোগ পেতেন। একজন শিক্ষার্থী চাইলে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর এবং পরবর্তীতে পিএইচডি প্রোগ্রামে কোনো জটিলতা ছাড়াই অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই সুবিধা আর থাকছে না। অভিবাসন আইনজীবী রাহুল রেড্ডির মতে, নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর পুরো ক্ষমতা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-এর হাতে চলে যাবে। যেসব কোর্সের মেয়াদ চার বছরের বেশি, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে, যা আগের মতো আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে না। নতুন এই নিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে পারেন দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের শিক্ষার্থীরা। কারণ, পিএইচডি বা ডক্টরাল প্রোগ্রাম শেষ করতে সাধারণত পাঁচ থেকে আট বছর সময় লাগে। এ অবস্থায় কোর্স চলাকালীন সময়ে বারবার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। নিয়মটি প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ম্যাসাচুসেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই নিয়ম বাতিলের দাবিতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আতঙ্কিত না হয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নতুন নিয়মের বিষয়ে সতর্ক ও প্রস্তুত হওয়া জরুরি।
ফুড স্ট্যাম্প হারিয়েছেন ৫০ লাখ, নতুন নিয়মে সামনে আরও বড় কাটছাঁটের শঙ্কা
বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় পরিবর্তন, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন পথে
মেয়েকে নিয়ে হাঁটার সময়, গায়ের রঙের পার্থক্য দেখে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন, নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসপ্তাহের নির্ধারিত সময় ৪০ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টায় নামানোর প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও প্রতিনিধি মার্ক তাকানো ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ পুনরায় উত্থাপন করেছেন। প্রস্তাবটি পাস হলে ধাপে ধাপে ওভারটাইম পাওয়ার সীমা ৪০ ঘণ্টা থেকে ৩২ ঘণ্টায় নামবে এবং কর্মীদের বেতন ও সুবিধা কমানোর সুযোগ না রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি সরাসরি সব কর্মীর জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ বাধ্যতামূলক করবে না। বরং ফেডারেল শ্রম আইনের আওতাভুক্ত নন-এক্সেম্পট কর্মীদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করলে ওভারটাইম পাওয়ার সীমা ধাপে ধাপে কমানো হবে। অর্থাৎ শেষ ধাপে ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য ওভারটাইম মজুরি প্রযোজ্য হবে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন একবারে কার্যকর করার বদলে চার বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরে ওভারটাইমের সীমা ৩৮ ঘণ্টা, পরের ধাপে ৩৬ ও ৩৪ ঘণ্টা এবং চতুর্থ বছরে ৩২ ঘণ্টায় নামানোর কথা বলা হয়েছে। ফলে কর্মীদের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের জন্য বেশি পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাই প্রস্তাবটির মূল কাঠামো। স্যান্ডার্স ও তাকানোর যুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুফল শুধু প্রতিষ্ঠান বা মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মীদেরও দেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন। তাদের মতে, একই বেতন ও সুবিধা বজায় রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বাড়তে পারে। প্রস্তাবটির পক্ষে যুক্তি থাকলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, কর্মীদের বেতন ও সুবিধা অপরিবর্তিত রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে নিয়োগকর্তাদের শ্রম ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পণ্যের দাম, নিয়োগের হার কিংবা ব্যবসার খরচের ওপর পড়তে পারে। ফলে কর্মঘণ্টা কমানোর সুফল এবং বাড়তি শ্রম ব্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মঘণ্টা নিয়ে চলমান ভিন্নমুখী আলোচনার সঙ্গে মিলেছে। কোথাও প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার সুফল কর্মীদের বেশি অবসর দেওয়ার মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার আলোচনা চলছে, আবার কোথাও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে বেশি কাজের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে। ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরে ৩৫ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের কাঠামো থাকলেও দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জনসংখ্যার বার্ধক্য ও সরকারি অর্থের চাপের মধ্যে বেশি কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে কর্মঘণ্টা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। জার্মানিতেও এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশটির শিল্পখাতের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা ৩৫ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, বাড়তি কর্মঘণ্টা উৎপাদনশীলতা ও শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আপত্তিও রয়েছে। ব্রাজিলেও কর্মঘণ্টা কমানোর উদ্যোগ রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের চেয়ে সেখানে লক্ষ্য আলাদা। দেশটির নিম্নকক্ষ ৪৪ ঘণ্টার সর্বোচ্চ কর্মসপ্তাহ কমিয়ে ৪০ ঘণ্টায় নামানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে দুই দিন ছুটির ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশে কর্মঘণ্টা নিয়ে আলোচনা চললেও সবার লক্ষ্য বা কাঠামো এক নয়। বিশ্বজুড়ে এই ভিন্নমুখী অবস্থান মূলত একটি প্রশ্নকে সামনে এনেছে: প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বাড়লে তার সুফল কর্মীদের বেশি অবসর হিসেবে দেওয়া হবে, নাকি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আরও বেশি কাজ করানো হবে? যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে এখনই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসপ্তাহ ৩২ ঘণ্টায় নেমে যাচ্ছে না। এটি একটি প্রস্তাবিত আইন এবং কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হলেই এর বিধান কার্যকর হবে। তাই আপাতত এটি মার্কিন শ্রমনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ, নিশ্চিতভাবে চালু হয়ে যাওয়া নতুন কর্মব্যবস্থা নয়। সূত্র: নিউজম্যাক্স
যেখানে কেটেছিল ট্রাম্পের শৈশব, সেই বাড়ি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে
নিজেদের শৈশবের ক্ষুধার কথা মনে করে শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া মেটালেন বন্দিরা
আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ডিওজের মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের নোটে বিশেষ ধরনের সিরিয়াল নম্বর থাকলে সেটি অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। একই সংখ্যা বারবার থাকা ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বরের নোট সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এমন নোট নিলামে নিয়মিতই হাজার হাজার ডলারে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বর বলতে এমন সিরিয়ালকে বোঝায়, যেখানে মূল সংখ্যাগুলো একই অঙ্ক দিয়ে তৈরি। যেমন ১১১১১১১১, ৭৭৭৭৭৭৭৭ বা ৮৮৮৮৮৮৮৮। পেপার মানি গ্যারান্টি বা পিএমজি বলছে, সিরিয়ালের শুরুতে থাকা অক্ষর বা প্রিফিক্স বাদ দিলে পুরো নম্বরে একই সংখ্যা পুনরাবৃত্তি হলে সেটিকে সলিড সিরিয়াল বলা হয়। মুদ্রা সংগ্রাহকদের কাছে এ ধরনের নোটের আকর্ষণের অন্যতম কারণ হলো সিরিয়াল নম্বরটি সহজেই চোখে পড়ে। আমেরিকান নিউমিসম্যাটিক অ্যাসোসিয়েশনের এডওয়ার্ড সি. রোশেট মানি মিউজিয়ামের পরিচালক ডগ মাডের মতে, সলিড সিরিয়াল দেখতে সহজে আলাদা করা যায় বলেই সংগ্রাহকদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গাণিতিক দিক থেকে সলিড সিরিয়াল অন্য যেকোনো নির্দিষ্ট সিরিয়ালের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে বেশি বিরল নয়। সিরিয়াল নম্বরগুলো নির্দিষ্ট নিয়মে তৈরি হলেও একই সংখ্যা আটবার থাকার মতো প্যাটার্ন সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। ফলে বাজারে এমন নোটের জন্য অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দিতে আগ্রহী ক্রেতা পাওয়া যায়। নোটের অবস্থা এর সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ভালো অবস্থায় থাকা নোট, বিশেষ করে যেগুলো প্রায় নতুন বা খুব কম ব্যবহৃত, সংগ্রাহকদের কাছে বেশি মূল্য পেতে পারে। একই ধরনের সিরিয়াল নম্বর থাকলেও ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত নোট এবং ভালো অবস্থার নোটের বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় পার্থক্য হতে পারে। সলিড সিরিয়ালের মধ্যেও ৮ সংখ্যার প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। পিএমজির তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার কাগজের মুদ্রা সংগ্রাহকদের মধ্যে সলিড-৮ সিরিয়ালের বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর একটি কারণ হলো, কিছু সংস্কৃতিতে ৮ সংখ্যাকে সৌভাগ্য ও সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। ফলে ৮৮৮৮৮৮৮৮-এর মতো সিরিয়াল বাড়তি আগ্রহ তৈরি করতে পারে। এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। ২০২৪ সালে হেরিটেজ অকশনে প্রায় নিখুঁত অবস্থায় থাকা ৮৮৮৮৮৮৮৮ সিরিয়ালের একটি ১০০ ডলারের নোট ১৯ হাজার ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয়। অর্থাৎ ১০০ ডলারের অভিহিত মূল্যের তুলনায় নোটটির সংগ্রাহক মূল্য ছিল বহুগুণ বেশি। তবে এই উদাহরণ দেখে সব সলিড সিরিয়াল নোটের মূল্য হাজার হাজার ডলার ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো নোটের সম্ভাব্য দাম নির্ভর করে সিরিয়াল নম্বরের ধরন, নোটের অবস্থা, গ্রেড, সিরিজ এবং সংগ্রাহকদের চাহিদার ওপর। একই ধরনের সিরিয়াল থাকা দুটি নোটও ভিন্ন দামে বিক্রি হতে পারে। সলিড সিরিয়াল ছাড়াও রাডার, রিপিটার, ল্যাডার ও অন্যান্য ‘ফ্যান্সি’ সিরিয়াল নম্বরের নোট সংগ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয়। এসব নম্বর সাধারণ সিরিয়ালের তুলনায় দেখতে আলাদা হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে নোটের সংগ্রাহক মূল্য বাড়তে পারে। তাই হাতে থাকা ডলারের নোট খরচ করার আগে সিরিয়াল নম্বরটি একবার দেখে নেওয়া যেতে পারে। একই সংখ্যা বারবার থাকা কোনো সিরিয়াল চোখে পড়লে সেটিকে সাধারণ নোট হিসেবে খরচ করার আগে সংগ্রাহক বাজারে এর সম্ভাব্য মূল্য যাচাই করা যেতে পারে। তবে শুধু সিরিয়াল দেখেই নির্দিষ্ট দাম ধরে নেওয়া উচিত নয়, কারণ প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে নোটের অবস্থা ও বাজারের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউজ নেশন
তেল নেওয়ার সময় টাকা না দেওয়ায় লাইটার দিয়ে নারীকে আ হ ত, গ্রেপ্তার আরেক নারী
সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা বাড়তে পারে ২০২৭ সালে, জেনে নিন হিসাব