কাজ কমবে, বেতন নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে ভিন্নমুখী বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসপ্তাহের নির্ধারিত সময় ৪০ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টায় নামানোর প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও প্রতিনিধি মার্ক তাকানো ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ পুনরায় উত্থাপন করেছেন। প্রস্তাবটি পাস হলে ধাপে ধাপে ওভারটাইম পাওয়ার সীমা ৪০ ঘণ্টা থেকে ৩২ ঘণ্টায় নামবে এবং কর্মীদের বেতন ও সুবিধা কমানোর সুযোগ না রাখার কথা বলা হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি সরাসরি সব কর্মীর জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ বাধ্যতামূলক করবে না। বরং ফেডারেল শ্রম আইনের আওতাভুক্ত নন-এক্সেম্পট কর্মীদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করলে ওভারটাইম পাওয়ার সীমা ধাপে ধাপে কমানো হবে। অর্থাৎ শেষ ধাপে ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য ওভারটাইম মজুরি প্রযোজ্য হবে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তন একবারে কার্যকর করার বদলে চার বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরে ওভারটাইমের সীমা ৩৮ ঘণ্টা, পরের ধাপে ৩৬ ও ৩৪ ঘণ্টা এবং চতুর্থ বছরে ৩২ ঘণ্টায় নামানোর কথা বলা হয়েছে। ফলে কর্মীদের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের জন্য বেশি পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাই প্রস্তাবটির মূল কাঠামো।
স্যান্ডার্স ও তাকানোর যুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুফল শুধু প্রতিষ্ঠান বা মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মীদেরও দেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন। তাদের মতে, একই বেতন ও সুবিধা বজায় রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বাড়তে পারে।
প্রস্তাবটির পক্ষে যুক্তি থাকলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, কর্মীদের বেতন ও সুবিধা অপরিবর্তিত রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে নিয়োগকর্তাদের শ্রম ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পণ্যের দাম, নিয়োগের হার কিংবা ব্যবসার খরচের ওপর পড়তে পারে। ফলে কর্মঘণ্টা কমানোর সুফল এবং বাড়তি শ্রম ব্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মঘণ্টা নিয়ে চলমান ভিন্নমুখী আলোচনার সঙ্গে মিলেছে। কোথাও প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার সুফল কর্মীদের বেশি অবসর দেওয়ার মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার আলোচনা চলছে, আবার কোথাও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে বেশি কাজের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে।
ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরে ৩৫ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের কাঠামো থাকলেও দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জনসংখ্যার বার্ধক্য ও সরকারি অর্থের চাপের মধ্যে বেশি কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে কর্মঘণ্টা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
জার্মানিতেও এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশটির শিল্পখাতের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা ৩৫ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, বাড়তি কর্মঘণ্টা উৎপাদনশীলতা ও শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আপত্তিও রয়েছে।
ব্রাজিলেও কর্মঘণ্টা কমানোর উদ্যোগ রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের চেয়ে সেখানে লক্ষ্য আলাদা। দেশটির নিম্নকক্ষ ৪৪ ঘণ্টার সর্বোচ্চ কর্মসপ্তাহ কমিয়ে ৪০ ঘণ্টায় নামানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে দুই দিন ছুটির ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশে কর্মঘণ্টা নিয়ে আলোচনা চললেও সবার লক্ষ্য বা কাঠামো এক নয়।
বিশ্বজুড়ে এই ভিন্নমুখী অবস্থান মূলত একটি প্রশ্নকে সামনে এনেছে: প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বাড়লে তার সুফল কর্মীদের বেশি অবসর হিসেবে দেওয়া হবে, নাকি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আরও বেশি কাজ করানো হবে? যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।
তবে এখনই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসপ্তাহ ৩২ ঘণ্টায় নেমে যাচ্ছে না। এটি একটি প্রস্তাবিত আইন এবং কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হলেই এর বিধান কার্যকর হবে। তাই আপাতত এটি মার্কিন শ্রমনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ, নিশ্চিতভাবে চালু হয়ে যাওয়া নতুন কর্মব্যবস্থা নয়।
সূত্র: নিউজম্যাক্স
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসেতে ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে হাঁটার সময় এক বাবাকে তার নিজের মেয়েকে পাচারের অভিযোগ করার ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৬ সেপ্টেম্বর আলমাডেন এলাকার ৬৪০০ ব্লক অ্যাসপেন ক্রিকে ওই নারী গাড়ি নিয়ে বাবা ও মেয়েটির কাছে একাধিকবার গিয়ে তাদের উদ্দেশে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সান জোসে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী বাবা ও মেয়ের মধ্যে গায়ের রঙের পার্থক্য দেখে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভিডিওতে তাকে ওই বাবাকে মেয়েটিকে কেনাবেচা বা পাচার করার অভিযোগ করতে শোনা যায়। বাবা নিজেকে বাদামি গায়ের রঙের মানুষ এবং মেয়েকে অর্ধেক শ্বেতাঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নারীটি আরও দাবি করেন, তিনি ফেডারেল সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। তবে পুলিশের তদন্তে ওই বাবার বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ঘটনার ভিডিওটি ওই বাবা নিজেই ধারণ করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে থাকা নারীটি একাধিকবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। তিনি মেয়েটির চেহারা ও বাবার গায়ের রঙের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ওই বাবা পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান। সান জোসে পুলিশ ঘটনাটিকে শুরু থেকেই সম্ভাব্য হেট মোটিভেটেড বা বিদ্বেষপ্রসূত ঘটনা হিসেবে তদন্ত করে। তদন্তের সময় পুলিশ অটোমেটেড লাইসেন্স প্লেট রিডার বা এএলপিআর ক্যামেরার সহায়তায় ওই গাড়ি ও সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করে। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, একই নারী সান জোসে এলাকায় আরও কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সান জোসের একটি হাইস্কুলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও রয়েছে। এসব ঘটনার পর সান জোসে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অ্যাসল্টস ইউনিটের গোয়েন্দারা সমন্বিত তদন্ত শুরু করেন। এদিকে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে। সান জোসে ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানায়, একজন ব্যক্তি স্কুল কমিউনিটির সদস্যদের হয়রানি করছেন, ভিডিও ও ছবি ধারণ করছেন এবং সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন—এমন অভিযোগ তারা পেয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট পুলিশে রিপোর্ট করে এবং সান জোসে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কাজ শুরু করে। তদন্ত শেষে পুলিশ সান জোসেতে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেইন জেলে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে স্টকিং, হেট ক্রাইমসহ একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত এখনো চলমান। পুলিশও ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত আইনি অবস্থান বা পরবর্তী কোর্ট হিয়ারিংয়ের তথ্য প্রকাশ করেনি। সান জোসে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাদের তদন্ত সক্রিয় ও চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে অ্যাসল্টস ইউনিটের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশ আলাদাভাবে ঘটনাগুলোর তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করছে।
কাজ কমবে, বেতন নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে ভিন্নমুখী বিতর্ক
যেখানে কেটেছিল ট্রাম্পের শৈশব, সেই বাড়ি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে
নিজেদের শৈশবের ক্ষুধার কথা মনে করে শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া মেটালেন বন্দিরা
নিউ জার্সিতে দায়িত্ব পালনের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা রাজ্য আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে)। মামলাটি ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল গত ২৫ মার্চ ২০২৬ একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এতে দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজ্য সরকারের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি বাড়ানো। রাজ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমের সময় এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নিউ জার্সি। তবে ২৯ এপ্রিল ডিওজে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। বিচার বিভাগের দাবি, রাজ্য সরকার ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণ করতে পারে না। ডিওজের মতে, মুখ ঢাকার সুযোগ সীমিত করার মতো বিধিনিষেধ ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এসব নিয়ম তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। মামলাটি নিউ জার্সিতে ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চলমান মতবিরোধের অংশ। এর আগে রাজ্যের আরেকটি নির্বাহী আদেশ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিউ জার্সির আইনি বিরোধ হয়েছিল। ওই আদেশে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশ এবং সেখানে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। তবে ওই মামলায় নিউ জার্সি আদালতের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউ জার্সির ফেডারেল জেলা আদালত রাজ্যের ওই নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাটি খারিজ করে দেয়। পরে গভর্নর ও রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন মামলাটি অবশ্য ভিন্ন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—একটি রাজ্য কতটা পর্যন্ত ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার মতো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিই এখন আদালতের বিবেচনার বিষয়। ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের এই বিরোধ নিউ জার্সির অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে কীভাবে কার্যকর হবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ডলারের নোটে এই সিরিয়াল থাকলে দাম উঠতে পারে ১৯ হাজার ডলার পর্যন্ত
তেল নেওয়ার সময় টাকা না দেওয়ায় লাইটার দিয়ে নারীকে আ হ ত, গ্রেপ্তার আরেক নারী
সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা বাড়তে পারে ২০২৭ সালে, জেনে নিন হিসাব
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হতে পারে, সেই সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে প্রকাশিত একটি ক্রীড়া প্রতিবেদনের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্পাদনা প্রম্পট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল ক্রীড়া সংবাদের আগে এমন একটি প্রম্পট দেখা যায়, যা সাধারণত এআইকে কোনো লেখা সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের জন্য দেওয়া হয়। ফলে পাঠকের সামনে সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ অংশ সরাসরি চলে আসে। ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ, এআই এখন সংবাদ সংগ্রহ, গবেষণা, কপি এডিটিং ও প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এআইয়ের তৈরি বা সম্পাদিত কোনো লেখা সরাসরি প্রকাশের আগে মানবসম্পাদনা ও তথ্য যাচাই জরুরি বলে সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগেও আলোচনা হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান বলেছেন, ফাইনাল স্পেনেই হওয়ার কথা। অন্যদিকে মরক্কোও নতুন গ্র্যান্ড স্টাদে হাসান-২ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফাইনালের চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণের ক্ষমতা ফিফার হাতে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিতেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করা হলেও তথ্য যাচাই, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদ তৈরিতে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির তৈরি কনটেন্ট যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা। কোনো এআই প্রম্পট, অসম্পূর্ণ খসড়া বা অভ্যন্তরীণ নোট ভুল করে প্রকাশিত হলে তা সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের ঘটনাটি তাই শুধু একটি প্রতিবেদনে এআই প্রম্পট প্রকাশ পাওয়ার বিষয় নয়। এটি সংবাদকক্ষে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবসম্পাদনা, তথ্য যাচাই এবং প্রকাশের আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
নিউইয়র্কে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা ভারী বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বিভিন্ন এলাকা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বাজারে শীতলতা, ২০২৭ সালেও কমতে পারে দামের গতি