স্তন্যদানকারী মা দুই সিনড্রোম শিশু থেকে আলাদা করে আইসির হেফাজতে, পরিবারের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এক স্তন্যদানকারী মাকে আটক করার পর তার ১০ মাস বয়সী শিশুসন্তান এবং ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত আরেক সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে ওই মায়ের মুক্তি দাবি করেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশভিলের অ্যান্টিয়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে আটক করে আইসিই। আটকের সময় তিনি তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন এবং পরিবারের আরেকটি ছোট সন্তান ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ায় বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের আইনজীবী ও স্বজনদের অভিযোগ, মাকে আটক করার ফলে শিশু দুটি প্রয়োজনীয় মাতৃসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্তন্যদানকারী শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের পরিচর্যা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা ঘটনাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, চলমান অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করা উচিত এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এদিকে আইসিইর নীতিমালা অনুযায়ী, গর্ভবতী, সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া বা স্তন্যদানকারী ব্যক্তিদের আটক করার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার কথা উল্লেখ থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সংস্থাটি তাদের হেফাজতে নিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কয়েকটি ঘটনায় ফেডারেল আদালত আইসিইর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির নির্দেশও দিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে আইসিইর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ টেক্সাস নিবাসী নাজিয়া হাজি জাদা নামের এক আফগান নারীকে 'বিদেশি সন্ত্রাসী' আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে বহিষ্কারের আবেদন করেছে। প্রায় ৩০ বছর আগে গঠিত বিরল 'এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট' বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো মামলার শুনানি হতে যাচ্ছে। ফোর্ট ওয়ার্থের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী নাজিয়া বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন একটি ব্যর্থ বন্দুক হামলা বা বড় ধরনের হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তার কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগে আইনজীবীরা তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। কার্যকরী অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, "এই মামলার অভিযোগগুলো এমন এক পরিবারের প্রধানকে তুলে ধরে যারা দায়েশ মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং আমেরিকার ভোটারদের ওপর হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিল।" নাজিয়া জাদার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সন্ত্রাসবাদের ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি এবং তার কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ডও নেই। তবে তার ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমেদ তৌহিদি এফবিআই-এর এক গোপন এজেন্টের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার পর সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গ্রেফতার হওয়া আবদুল্লাহকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং মুক্তির পর তাকে বহিষ্কারের চুক্তি হয়। তৌহিদিও ২০২৫ সালে দায়েশকে সমর্থনের কথা স্বীকার করেন। এফবিআই-এর একটি সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় নাজিয়া ওই ষড়যন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন এবং তার সন্তানদের মধ্যে এই উগ্রবাদী আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেছিলেন। এফবিআই আরও জানিয়েছে, নাজিয়া তার অজ্ঞ স্বামীর কাছ থেকে পরিবারের এই উগ্রবাদী পরিকল্পনা ও আদর্শ গোপন রেখেছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে গঠিত 'এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট' সরকারের জন্য এমন এক বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে যেখানে গোপন তথ্য ব্যবহার করে অনাগরিকদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গোপনীয় তথ্য দেখতে বা তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না। প্রাথমিক কার্যক্রমগুলো গোপনীয়ভাবে সম্পন্ন হয় এবং বহিষ্কারের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরেই কেবল প্রকাশ্য শুনানি হয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ই-বে'র বিরুদ্ধে তেলাপোকা ও রক্তমাখা শূকরের মুখোশ পাঠানোর অভিযোগ, দম্পতিকে ৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ
বিদেশি প্রভাবের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় এফবিআই অভিযান
স্তন্যদানকারী মা দুই সিনড্রোম শিশু থেকে আলাদা করে আইসির হেফাজতে, পরিবারের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিজের মাকে গুলি করে হত্যা এবং পরে মরদেহে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের দাবি, তার মা মৃত্যুর পর দাহ করতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি মরদেহে আগুন দেন। তবে তদন্তকারীদের মতে, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে ফ্লোরিডার লি কাউন্টির ফোর্ট মায়ার্স এলাকায়। অভিযুক্ত জর্জ বিমার প্রথমে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করে বুকে ব্যথার কথা জানান। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর একই ঠিকানা থেকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় কর্তৃপক্ষ। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির রান্নাঘরে এক নারীর গুরুতর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন। তদন্তে পরে পুলিশ জানতে পারে, নিহত নারী অভিযুক্তের মা। তদন্তকারীদের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে জর্জ বিমার স্বীকার করেন যে তিনি তার মাকে একবার গুলি করেন। এরপর মরদেহের চারপাশে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তিনি পুলিশকে বলেন, তার মা মৃত্যুর পর দাহ করতে চেয়েছিলেন এবং তিনি সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বহু বছরের ক্ষোভ এবং শৈশবে নির্যাতনের অভিযোগ থেকেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক পরিচিত ব্যক্তি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্তের নির্যাতনের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার ভাষায়, এমন ঘটনার কোনো ভিত্তি তিনি কখনো দেখেননি। লি কাউন্টির শেরিফ কারমাইন মার্সেনো ঘটনাটিকে “কল্পনাতীত নিষ্ঠুর সহিংসতা” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ জর্জ বিমারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা, প্রথম ডিগ্রির অগ্নিসংযোগ এবং মরদেহের অবমাননার অভিযোগ এনেছে। বর্তমানে তিনি লি কাউন্টি কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও পাঁচ শিশুর পরিবারে ফেরা, মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকায় প্রশংসনীয় ভূমিকা
আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, প্রস্তুত আছি: লতিফ সিদ্দিকী
ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক!
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বত গ্রানাইট পিকে ট্রেকিং করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েও অবিশ্বাস্যভাবে নিজের জীবন বাঁচিয়েছেন এক পর্বতারোহী। ট্রেকিং স্টিক শরীর ভেদ করে ঢুকে যাওয়ার পরও তিনি প্রায় ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল) দুর্গম পাহাড়ি পথ হেঁটে নিরাপদ স্থানে পৌঁছান। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী ডেভিড সিফালদি নামের ওই ব্যক্তি মন্টানার বিলিংস শহরের একজন নার্স। গত ২০ জুলাই দুই বন্ধুকে নিয়ে ১২ হাজার ৮০০ ফুটের বেশি উচ্চতার গ্রানাইট পিকে আরোহণের সময় ঢিলা পাথরে পা পিছলে পড়ে যান। এ সময় তার হাতে থাকা স্টিলের মাথাযুক্ত ট্রেকিং স্টিকটি বাম বাহুর নিচ দিয়ে শরীর ভেদ করে পিঠের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর নিজের চিকিৎসা–জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সিফালদি দ্রুত আঘাতের অবস্থা মূল্যায়ন করেন। তিনি বুঝতে পারেন, ট্রেকিং স্টিকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বা ফুসফুসে আঘাত করেনি। এরপর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের জন্য অপেক্ষা না করে দুই সঙ্গীর সহায়তায় পাহাড় থেকে নিজেই নেমে আসার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা ট্রেইলহেডে পৌঁছান। সেখান থেকে গাড়িতে করে প্রথমে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পরে বিলিংসের হাসপাতালে নেওয়া হয় সিফালদিকে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে ট্রেকিং স্টিকটি সফলভাবে অপসারণ করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, স্টিকটি অল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। সিফালদি জানান, একজন নার্স হিসেবে তার অভিজ্ঞতাই সংকটময় মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে তার দুই সঙ্গীর উপস্থিতি ও সহায়তাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরও সিফালদি দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন। তবে ভবিষ্যতে আরও চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি সুস্থ হলে আবারও গ্রানাইট পিকে ফিরে অসমাপ্ত আরোহণ শেষ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।
এমিরেটসে এবার বিটকয়েনে টিকিটের মূল্য পরিশোধ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুগের সূচনা
সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা