ফ্লোরিডায় মায়ের ‘শেষ ইচ্ছা’ পূরণের দাবি করে গুলি করে হত্যা করে মরদেহে আগুন! ছেলে গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিজের মাকে গুলি করে হত্যা এবং পরে মরদেহে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের দাবি, তার মা মৃত্যুর পর দাহ করতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি মরদেহে আগুন দেন। তবে তদন্তকারীদের মতে, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে ফ্লোরিডার লি কাউন্টির ফোর্ট মায়ার্স এলাকায়। অভিযুক্ত জর্জ বিমার প্রথমে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করে বুকে ব্যথার কথা জানান। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর একই ঠিকানা থেকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় কর্তৃপক্ষ।
দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির রান্নাঘরে এক নারীর গুরুতর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন। তদন্তে পরে পুলিশ জানতে পারে, নিহত নারী অভিযুক্তের মা।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে জর্জ বিমার স্বীকার করেন যে তিনি তার মাকে একবার গুলি করেন। এরপর মরদেহের চারপাশে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তিনি পুলিশকে বলেন, তার মা মৃত্যুর পর দাহ করতে চেয়েছিলেন এবং তিনি সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বহু বছরের ক্ষোভ এবং শৈশবে নির্যাতনের অভিযোগ থেকেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
তবে পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক পরিচিত ব্যক্তি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্তের নির্যাতনের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার ভাষায়, এমন ঘটনার কোনো ভিত্তি তিনি কখনো দেখেননি।
লি কাউন্টির শেরিফ কারমাইন মার্সেনো ঘটনাটিকে “কল্পনাতীত নিষ্ঠুর সহিংসতা” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জর্জ বিমারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা, প্রথম ডিগ্রির অগ্নিসংযোগ এবং মরদেহের অবমাননার অভিযোগ এনেছে। বর্তমানে তিনি লি কাউন্টি কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাজেট আইনের পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত এই পতনের হিসাব পাওয়া গেছে। একই সময়ে ১৫ লাখের বেশি শিশু ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এর মধ্যেই আগামী ১ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটির প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে। ফলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে আরও চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ বা ১২ শতাংশ কমেছে। এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তর ও বিভিন্ন রাজ্যের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২০ সালের পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা এত দ্রুত কমার নজির খুবই বিরল। শিশুদের ক্ষেত্রেও পতনটি উল্লেখযোগ্য। যেসব ২৫টি রাজ্যের শিশুদের তথ্য পাওয়া গেছে বা রাজ্যগুলো তথ্য দিয়েছে, সেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ লাখ শিশু ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সরকারি সংখ্যা নয়, বরং বিভিন্ন রাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা একটি হিসাব। সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমার পেছনে নতুন আইনের বিভিন্ন পরিবর্তন ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মসংক্রান্ত শর্ত কঠোর করা, যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন এবং সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাড়তি প্রশাসনিক বাধার বিষয় রয়েছে। তবে ফুড স্ট্যাম্পে অংশগ্রহণ কমার সবটুকু যে শুধু নতুন আইনের কারণে, এমন সিদ্ধান্তও টানা হয়নি। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কিছু রাজ্যে পতনের প্রবণতা আইনটি কার্যকর হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। নতুন নিয়মে নির্ভরশীল সন্তান নেই এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কর্মসংক্রান্ত শর্তের আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে। আগে যে বয়সসীমার মধ্যে এই শর্ত প্রযোজ্য ছিল, সেটি বাড়িয়ে ৬৪ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে। বাবা-মা ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের দায়িত্বে থাকা কিছু মানুষের জন্যও আগের ছাড়ের নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি মানুষকে ফুড স্ট্যাম্প ধরে রাখতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি রাজ্যগুলোর ওপর প্রশাসনিক ব্যয়ের চাপও বাড়ছে। বর্তমানে ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয়ের অর্ধেক কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে। কিন্তু ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ২৫ শতাংশে নেমে যাবে এবং রাজ্যগুলোকে ৭৫ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে কর্মসূচিটির অর্থায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু প্রশাসনিক ব্যয় নয়, ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে ফুড স্ট্যাম্পের মূল সুবিধা প্রদানের ব্যয়েরও একটি অংশ রাজ্যগুলোর ওপর পড়বে। রাজ্যগুলোর সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হারের ওপর ভিত্তি করে অধিকাংশ রাজ্যকে মোট সুবিধা ব্যয়ের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বহন করতে হতে পারে। এই পরিবর্তন রাজ্যগুলোর বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে। সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের হিসাবে, ২০২৭ সাল থেকে অধিকাংশ রাজ্যকে ফুড স্ট্যাম্পের মূল সুবিধা ব্যয়ের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হতে পারে। অনেক রাজ্যের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ বছরে কয়েকশ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। রাজ্যগুলোর ভুলের হার যত বেশি হবে, তাদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপও তত বাড়বে। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা বড় মাত্রায় কমেছে। অ্যারিজোনায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫৪ শতাংশ কমেছে বলে সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের তথ্য জানিয়েছে। লুইজিয়ানা ও নেভাদায় কমেছে ২১ শতাংশ করে। ফ্লোরিডায় কমেছে ২০ শতাংশ এবং ওকলাহোমায় ১৯ শতাংশ। এই পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারানো মানুষের একটি অংশ খাদ্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন। তবে খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, খাদ্য ব্যাংকের পক্ষে ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির মাধ্যমে যে পরিমাণ সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার পুরো ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে পূরণ করা সম্ভব নয়। ফুড স্ট্যাম্পের ব্যয় রাজ্যগুলোর ওপর স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন কংগ্রেসের প্রতি পরিবর্তনগুলো পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে রাজ্যগুলো সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আনতে পারে। এতে যোগ্য ব্যক্তিরাও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচি এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সুবিধা কমে যাওয়ার পর সামনে রাজ্যগুলোর ওপর প্রশাসনিক ব্যয়ের বড় অংশ চাপছে। এর সঙ্গে কঠোর কর্মশর্ত এবং ২০২৭ সাল থেকে সুবিধা প্রদানের ব্যয়ের অংশ রাজ্যগুলোর ওপর যাওয়ার বিধান যুক্ত হওয়ায় খাদ্য সহায়তা থেকে আরও মানুষ বাদ পড়বেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: এবিসি নিউজ
বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় পরিবর্তন, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন পথে
মেয়েকে নিয়ে হাঁটার সময়, গায়ের রঙের পার্থক্য দেখে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন, নারী গ্রেপ্তার
কাজ কমবে, বেতন নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে ভিন্নমুখী বিতর্ক
শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা সেই বাড়ি এখন আর ট্রাম্প পরিবারের নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনের প্রথম চার বছর কেটেছিল নিউইয়র্কের কুইন্সের যে বাড়িতে, সেটি এবার বিক্রি হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। কুইন্সের জামাইকা এস্টেটস এলাকায় টিউডর ধাঁচের এই বাড়িটি ১৯৪০ সালে নির্মাণ করেছিলেন ট্রাম্পের বাবা ও আবাসন ব্যবসায়ী ফ্রেড ট্রাম্প। একসময় যে বাড়িতে ছোট্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেড়ে ওঠার শুরু, বহু বছর পর সেটিই হয়ে উঠেছিল অবহেলায় পড়ে থাকা একটি পুরোনো বাড়ি। পাঁচ শয়নকক্ষ ও তিন বাথরুমের বাড়িটি দীর্ঘদিন খালি ছিল। একটি পাইপ ফেটে যাওয়ায় বাড়ির ভেতরে পানির ক্ষতি হয়, দেখা দেয় ছত্রাকের সমস্যাও। এমনকি একসময় সেখানে বন্য বিড়ালের একটি দলও আশ্রয় নিয়েছিল। গত বছর বাড়িটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে কিনেছিলেন ডেভেলপার টমি লিন। এরপর প্রায় ৫ লাখ ডলার খরচ করে আট মাস ধরে সংস্কার করেন তিনি। পুরোনো বাড়িটি বদলে যায় আধুনিক আবাসনে। যুক্ত হয় আধুনিক রান্নাঘর, হেরিংবোন কাঠের মেঝে এবং স্পা-ধাঁচের বাথরুমসহ নানা সুবিধা। সংস্কারের পর বাড়িটির দামও বেড়ে যায়। জুলাইয়ে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতার সঙ্গে বিক্রির চুক্তি হয় এবং শুক্রবার রিয়েল এস্টেট ওয়েবসাইটগুলোতে ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়। তবে বাড়িটির গল্প শুধু পুরোনো দেয়াল আর নতুন সাজসজ্জার নয়। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৭ সালেও বাড়িটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল বলে জিলোর তথ্য থেকে জানা যায়। এরপর বাড়িটি ‘ট্রাম্প বার্থ হোম এলএলসি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় যায়। একসময় এটি এয়ারবিএনবিতেও ভাড়ার জন্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পের জীবন-আকারের কার্ডবোর্ড কাটআউট, তার বই ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’-এর কপি এবং ট্রাম্পের ছবি থাকা ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের একটি প্রচ্ছদও রাখা হয়েছিল। ২০১৯ সালে বাড়িটি আবার বিক্রির জন্য তোলা হয়। তখন দাম চাওয়া হয়েছিল ২৯ লাখ ডলার। শেষ পর্যন্ত কয়েক বছর পর টমি লিন বাড়িটি কিনে সংস্কার করেন এবং এবার সেটি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। আজ ট্রাম্পের সেই শৈশবের বাড়ির চেহারা অনেকটাই বদলে গেছে। কিন্তু বাড়িটির দেয়ালজুড়ে রয়ে গেছে এক ভিন্ন সময়ের গল্প—যে সময় নিউইয়র্কের কুইন্সের এই বাড়িতেই জীবনের প্রথম বছরগুলো কাটিয়েছিলেন ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে আবাসন ব্যবসায় নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ট্রাম্প। ম্যানহাটনে নির্মাণ করেন ট্রাম্প টাওয়ার, আর একসময় ব্যবসার জগত থেকে পা রাখেন রাজনীতিতে। শৈশবের সেই পুরোনো ঠিকানা এখন নতুন মালিকের। সময় বদলেছে, বদলেছে বাড়িটির চেহারাও। তবে ট্রাম্পের জীবনের শুরুর গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি তার অতীতের একটি স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে।
নিজেদের শৈশবের ক্ষুধার কথা মনে করে শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া মেটালেন বন্দিরা
আইসিই কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার বিধিনিষেধ নিয়ে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ডিওজের মামলা
ডলারের নোটে এই সিরিয়াল থাকলে দাম উঠতে পারে ১৯ হাজার ডলার পর্যন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গে গ্যাস স্টেশনে গাড়িতে জ্বালানি নেওয়ার সময় এক নারীর ওপর আগুনের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে এলেনর ক্রফোর্ড নামে ৪১ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ৪০তম অ্যাভিনিউ নর্থের একটি মোবিল গ্যাস স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী তার ভলভো এসইউভিতে জ্বালানি নিচ্ছিলেন। এ সময় ক্রফোর্ড তার কাছে গিয়ে প্রথমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে চান। ফোন ব্যবহারের পর তিনি ওই নারীর কাছে টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্রফোর্ড লাইটার দিয়ে জ্বালানি প্রজ্বালিত করেন বলে পুলিশের অভিযোগ। আগুন দ্রুত গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভুক্তভোগী গুরুতর আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্বিতীয় মাত্রার দ গ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। পরে তাকে ট্যাম্পা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা এক ব্যক্তি দ্রুত এগিয়ে এসে আহত নারীকে সহায়তা করেন এবং জরুরি সেবায় ফোন করেন। আগুনে ভুক্তভোগীর গাড়ি ও গ্যাস পাম্পের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর ক্রফোর্ডকে গ্যাস স্টেশন থেকে কয়েক ব্লক দূরে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার জামিনের পরিমাণ ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ক্রফোর্ড ও ভুক্তভোগী একে অপরকে আগে থেকে চিনতেন না। কেন ক্রফোর্ড এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে। তদন্ত এখনো চলছে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ক্রফোর্ডকে আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা বাড়তে পারে ২০২৭ সালে, জেনে নিন হিসাব
এআই প্রম্পটসহ সংবাদপত্র প্রকাশ, ট্রলের শিকার টাইমস অব বাংলাদেশ