ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে বহুজাতিক একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। নতুন এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডানসহ ১৪টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। জোটটির মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রিয়াদে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। বৈঠকের পর সৌদি আরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, ইয়েমেন, সুদান, জিবুতি ও সোমালিয়া যৌথ বিবৃতিতে জোটের প্রতি সমর্থন জানায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এই পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যোগ দেয়নি।
সৌদি আরব জানিয়েছে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক জোট। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যে এটি গঠন করা হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া, সমুদ্রপথে সমন্বিত টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা জোরদার করাই হবে এর প্রধান কাজ। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবেই স্থাপন করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও অবরোধের কারণে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনও চাপে পড়েছে। ফলে সৌদি আরবের জন্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বিকল্প রুটগুলোর নিরাপত্তা কৌশলগতভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ কারণে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই বাস্তবতায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদারে বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে বহুজাতিক একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। নতুন এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডানসহ ১৪টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। জোটটির মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রিয়াদে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। বৈঠকের পর সৌদি আরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, ইয়েমেন, সুদান, জিবুতি ও সোমালিয়া যৌথ বিবৃতিতে জোটের প্রতি সমর্থন জানায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এই পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যোগ দেয়নি। সৌদি আরব জানিয়েছে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক জোট। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যে এটি গঠন করা হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া, সমুদ্রপথে সমন্বিত টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা জোরদার করাই হবে এর প্রধান কাজ। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবেই স্থাপন করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও অবরোধের কারণে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনও চাপে পড়েছে। ফলে সৌদি আরবের জন্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বিকল্প রুটগুলোর নিরাপত্তা কৌশলগতভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ কারণে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই বাস্তবতায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদারে বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
‘মোদির পা ধুয়ে সেই পানি পান করতে চাই’ বলিউড অভিনেতা সুধেশ বেরির মন্তব্য
ফ্রান্সের দাবানল নেভাতে সামরিক বিমানকে বানানো হলো ওয়াটার বোমারু
আর্জেন্টিনায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, দমকলকর্মীসহ নি হত ৭
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের ব্লেয়ার হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য জন ফেটারম্যান। পেনসিলভানিয়া থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রথাগত পোশাকের বদলে হাফপ্যান্ট ও হুডি পরে এবং পায়ে পা তুলে এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন। তার এই অনানুষ্ঠানিক উপস্থিতি কূটনৈতিক প্রটোকল নিয়ে আলোচনার জন্ম দিলেও, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রতি ফেটারম্যানের দৃঢ় ও অকুণ্ঠ সমর্থনই হয়ে ওঠে এই বৈঠকের মূল বিষয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মার্কিন সিনেটর ফেটারম্যানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের একজন সাহসী সমর্থক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের জোটের পক্ষে নির্ভীকভাবে অবস্থান নেওয়ার জন্য ফেটারম্যান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছেন। সত্যের পক্ষে নির্ভয়ে কথা বলার স্বীকৃতিস্বরূপ ইসরায়েলের জনগণ এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের পক্ষ থেকে তিনি ফেটারম্যানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। জবাবে সিনেটর ফেটারম্যান জানান, মার্কিন সিনেটে দায়িত্ব পালনকালে ইসরায়েলের পাশে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। নিজের একাধিক ইসরায়েল সফরের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি দেশটিকে একটি ‘অলৌকিক রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েলবিষয়ক বর্তমান অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, দলের ভেতরে তিনি এ বিষয়ে ব্যতিক্রমী একটি অবস্থান ধরে রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতিবিদ জোহরান মামদানিরও সমালোচনা করেন। বৈঠকে ফেটারম্যান স্পষ্টভাবে জানান, গাজায় হামাসবিরোধী অভিযান, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েল যে অভিযান পরিচালনা করছে, তার প্রতি তিনি অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। এসব সামরিক পদক্ষেপকে তিনি ‘ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করেন এবং নিজের এমন অবস্থানের জন্য তার বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন। বৈঠকের শেষাংশে নেতানিয়াহু পুনরায় ফেটারম্যানের প্রশংসা করে বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তার এই অটল ভূমিকা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি তেহরানের
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালে সোজা দেশ থেকে বের করা হবে: প্রেসিডেন্ট মিলেই
ইরানের পরামর্শে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনা হুথিদের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে কয়েক হাজার অভিবাসীর একযোগে প্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জোরালো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ইইউ সীমান্তে জড়ো হয়েছেন। সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সামরিক মোতায়েনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভূমধ্যসাগরীয় রুট হয়ে ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন প্রবাহ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। গ্রিসও সম্ভাব্য অভিবাসী প্রবাহ মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নতুন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। অভিবাসন ইস্যু ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
নতুন পাসপোর্ট বিধির ফাঁদে ১০ লাখের বেশি ব্রিটিশ, বিদেশে আটকে পড়ছে ব্রিটিশ পরিবারের শিশুরা
বিলাসবহুল গাড়ি নয়, ফুলে সাজানো সাইকেলেই বাবার হাত ধরে বিয়ের মঞ্চে কনে