সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মিশিগান প্রাইমারির আগে বড় সমর্থন পেলেন আবদুল এল-সায়েদ, প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ২৩:৫৬
মিশিগান সিনেট প্রাইমারির আগে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন ডা. আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগান সিনেট প্রাইমারির আগে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন ডা. আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ একটি সমর্থন পেলেন প্রগ্রেসিভ প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সায়েদ। ওয়েন কাউন্টি ডেপুটি শেরিফস অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সামাজিক মাধ্যমে জানান, এল-সায়েদের পক্ষে এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সংগঠন মিলিয়ে ২০০টিরও বেশি এনডোর্সমেন্ট রয়েছে। 

 

আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। এই নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগ্রেসিভ ও প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

 

আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ওয়েন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন। 

 

তার প্রচারণায় ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, রাশিদা তালিব, এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ ডেমোক্রেটিক পার্টির একাধিক প্রগ্রেসিভ নেতা। পাশাপাশি ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ), ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেডসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সংগঠনও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। 

 

সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সায়েদকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির অন্যতম শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও হাড্ডাহাড্ডি, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে বড় বড় এনডোর্সমেন্ট তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। 

 

ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তার মুখোমুখি হবেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। মিশিগান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর একটি। ফলে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হলেও সাধারণ নির্বাচনে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। 

 

তবে আবদুল এল-সায়েদের প্রার্থিতা ইতোমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আরেকটি কারণে। তিনি যদি ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন জিতে পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনেও বিজয়ী হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়বেন। এই সম্ভাবনাই তার প্রচারণাকে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সমাবর্তন মঞ্চে সদ্যজাত কন্যা অ্যানাবেলকে কোলে নিয়ে ডিগ্রি গ্রহণ করছেন গ্রেস শিমচ্যাক। ছবি: সংগৃহীত
সিজারিয়ান সন্তান জন্মের ১০ দিন পর নবজাতককে কোলে নিয়েই গ্র্যাজুয়েশনে মা

মিশিগানের ২৪ বছর বয়সী গ্রেস শিমচ্যাকের গ্র্যাজুয়েশন হওয়ার কথা ছিল ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩। এর তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিকল্পনার আগেই ৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর আলো দেখে মেয়ে অ্যানাবেল।   তবু দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত ডিগ্রির গুরুত্বপূর্ণ দিনটি গ্রেস হাতছাড়া করতে চাননি। সন্তান জন্মের মাত্র ১০ দিন পর ১৫ ডিসেম্বর তিনি মিশিগানের বিগ র‌্যাপিডসে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে হাজির হন। সঙ্গে ছিল তার সদ্যোজাত মেয়ে অ্যানাবেল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে।    সমাবর্তনে গ্রেস তার ছোট মেয়েকে একটি বেবি ক্যারিয়ারে নিজের শরীরের সঙ্গে রেখে তার ওপর গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরেছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অ্যানাবেল ঘুমিয়েই ছিল। গ্রেসের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।    গ্রেস ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ম্যাগনা কাম লডে সম্মান পান। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ, বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি মিশিগানের ট্রাভার্স সিটিতে তিন বছর বয়সী শিশুদের জন্য একটি স্টেট ফান্ডেড প্রি-স্কুলে ফুলটাইম শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।    গ্রেস জানিয়েছিলেন, ডিগ্রির জন্য তিনি দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাই অ্যানাবেল নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নিলেও সহপাঠীদের সঙ্গে মঞ্চে হেঁটে ডিগ্রি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। একই সঙ্গে সদ্যোজাত মেয়েকে নিজের কাছ থেকে দূরে রাখতেও প্রস্তুত ছিলেন না।    গ্রেসের এই বিশেষ মুহূর্তের ছবি পরে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রকাশ করে। ছবিতে তাকে গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়, আর গাউনের ভেতরে তার ছোট্ট মেয়ে অ্যানাবেল। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক মনোযোগ পায়।    গ্রেস পরে জানান, তার এই অভিজ্ঞতা অন্য মা-বাবাকে পড়াশোনা শেষ করার স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করুক, সেটিই তিনি চান। ২০২৪ সালে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিজের গল্প দেখে অন্যরা যেন বুঝতে পারেন, জীবনের নানা দায়িত্বের মধ্যেও নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করা সম্ভব।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৯:১৩
দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের অভিযোগ

দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের চেষ্টা, লাস ভেগাসের পুলিশ কর্মকর্তা ও স্ত্রী হেফাজতে

ক্যালিফোর্নিয়ায় কমেছে নতুন চাকরির সুযোগ

ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা

সংবাদ সংগ্রহের সময় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের

এনগেজমেন্টের এক বছরের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের

নিউইয়র্কে শীতকালে বরফ পরিষ্কারের কাজে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ ডলার আয়ের সুযোগ
নিউইয়র্কে বরফ পরিষ্কারের কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, ৪০ ঘণ্টা পেরোলেই ৪৫!

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে শীত মৌসুমে জরুরি তুষার অপসারণ কর্মসূচিতে কাজ করা কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পাওয়া যাবে। সপ্তাহে প্রথম ৪০ ঘণ্টা কাজের পর প্রতি ঘণ্টার পারিশ্রমিক বেড়ে হবে ৪৫ ডলার।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি মঙ্গলবার এই নতুন পারিশ্রমিক কাঠামোর ঘোষণা দেন। গত শীতের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। গত বছর ঘণ্টায় ১৯ দশমিক ১৪ ডলার এবং সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের পর ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৭১ ডলার দেওয়া হয়েছিল। গত শীতে ভারী তুষারপাত, তুষারঝড় ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে নিউইয়র্কের জরুরি তুষার অপসারণ কর্মসূচিতে ৭ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন। শহরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তুষার সরানোর কর্মী ও স্যানিটেশন বিভাগের কর্মীরা মিলে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার পথচারী পারাপারের স্থান, ৩৪ হাজার বাসস্টপ এবং ২৯ হাজার অগ্নিনির্বাপক হাইড্র্যান্ট পরিষ্কার করেছিলেন। এবার কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সময়ও এগিয়ে আনা হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্যানিটেশন বিভাগের কোনো নিবন্ধন আয়োজনে নাম নিবন্ধন করলে আবেদনকারীরা ডিসেম্বরে চার ঘণ্টার একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য পারিশ্রমিক পাবেন। দ্রুত পারিশ্রমিক দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে; কাজ করার দুই সপ্তাহের মধ্যে অর্থ পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ কর্মসূচির প্রথম নিবন্ধন আয়োজন হবে শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্রঙ্কসের টাফট হাইস্কুলে। পরে পাঁচ বরোতে আরও নিবন্ধন আয়োজনের তথ্য স্যানিটেশন বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরকারি ওয়েবসাইটে জানাবে। মামদানি বলেন, গত শীতে হাজারো নিউইয়র্কবাসী ভারী তুষার ও বরফ সরিয়ে নিজেদের প্রতিবেশীদের সহায়তা করেছেন। এবার পারিশ্রমিক বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে, যাতে তুষারপাত শুরু হলে শহর দ্রুত প্রস্তুতি নিতে পারে। এই কাজে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আইন অনুযায়ী কাজের অনুমতিও থাকতে হবে এবং শীতের কঠিন আবহাওয়ায় শারীরিকভাবে পরিশ্রম করার সক্ষমতা থাকতে হবে। আবেদনকারীদের একটি বৈধ ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, ফেডারেল ও স্টেট উইথহোল্ডিং ফর্ম এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রসহ আই-৯ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এবার আর নিজের ছবি প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে না; নিবন্ধনের সময় স্যানিটেশন বিভাগের কর্মীরাই ছবি তুলে দেবেন। নিউইয়র্ক সিটির জরুরি তুষার অপসারণ কর্মসূচিতে কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ থাকায় শীত মৌসুমের আগে অনেকেই এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তুষারপাতের সময় পথচারীদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাসস্টপসহ বিভিন্ন জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করতেই এই কর্মীদের কাজে লাগানো হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৭:৮
সোনার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে ফ্রেন্ডসউড পুলিশের তদন্ত

পুলিশ সেজে বয়স্ক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে সোনা হাতানোর চেষ্টা, গ্রে প্তার ৩

ইরান সংঘাতে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন শহর।

ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার, সামনে মাসে আরও ৩ বিলিয়ন

সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪০ থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব

৪০ ঘণ্টার বদলে সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টা কাজ! যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিল

দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু বিদেশি নাগরিকের ওপর নতুন ভিসা বিধিনিষেধ
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য ভিসায় বড় পরিবর্তন আনল ট্রাম্প প্রশাসন

দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু বিদেশি নাগরিকের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভূমি নীতি ও ব র্ণভিত্তিক ব ৈ ষ ম্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষতিপূরণ ছাড়াই জমি দখল, ব র্ণভিত্তিক বৈ ষ ম্য অথবা সংখ্যালঘু জাতিগত বা ব র্ণগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স হিং তায় উসকানি দেওয়ার মতো আইন বা নীতির জন্য দায়ী কিংবা এতে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের ওপর এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। তবে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার সব নাগরিকের ওপর ব্ল্যাঙ্কেট ভিসা নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং নির্দিষ্ট নীতি বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে মার্কিন প্রশাসন যাদের মনে করছে, তাদের লক্ষ্য করেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রুবিও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে আগে থেকেই এসব বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, দেশটির সরকার সেসব উদ্বেগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করেনি। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা কমিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আফ্রিকানারদের পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছেন। ট্রাম্প এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে আফ্রিকানারদের বিরুদ্ধে বৈ ষ ম্য ও নি পী ড় নের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দেশটিতে ‘শ্বেতাঙ্গ গ ণ হ ত্যা’ চলছে বলেও দাবি করেছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও রামাফোসার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা যায়। বৈঠকে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের বিরুদ্ধে স হিং সা তায় প্রমাণ হিসেবে কিছু ভিডিও ও ছবি দেখান। জবাবে রামাফোসা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের নি পী ড় ন করে—এমন কোনো নীতি দেশটির নেই। রামাফোসা আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় অ প রা ধ ও হ ত্যা কা ণ্ডের ঘটনা রয়েছে, তবে এর শিকার শুধু শ্বেতাঙ্গরা নন; কৃষ্ণাঙ্গরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভুক্তভোগী। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৫:৪৫
বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে গু/লিতে নি/হত ভারতীয় নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান, বাড়ছে প্রবাসী হওয়ার প্রবণতা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট, রোগীসেবায় প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

0 Comments