সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে ইন-এন-আউট বার্গার রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলা, নিহত একাধিক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ০:৫
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে ইন-এন-আউট বার্গার রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে ইন-এন-আউট বার্গার রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহরের একটি ইন-এন-আউট বার্গার রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল এবং সক্রিয় বন্দুকধারীর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অভিযান চালানো হয়। হামলায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও নিহত হয়েছে।


টুইন ফলস পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ হিকস জানান, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার কাজ চলায় এখনই মোট নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে না। আহত কয়েকজনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।


পুলিশ এখনও হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেনি। হামলার উদ্দেশ্যও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রয়োজনে এফবিআইও তদন্তে সহায়তা করছে।


প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি টুইন ফলসের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত নতুন খোলা ইন-এন-আউট শাখায় ঘটে। ঘটনার পর আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনসাধারণকে এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, বন্দুকধারী নিহত হওয়ায় বর্তমানে জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গ্রিন কার্ডের আবেদন
পিটিশনকারী মারা গেলেও তিন ক্ষেত্রে চলতে পারে গ্রিন কার্ডের আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কোনো সদস্যের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পর পিটিশনকারী মারা গেলে আবেদনটি কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়? সাধারণ নিয়মে পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে মুলতবি আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদনে বাধা তৈরি হয় এবং আগে অনুমোদিত পিটিশনও বাতিল হতে পারে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ তিনটি পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর বিধবা বা বিপত্নীক হিসেবে আবেদন, অভিবাসন আইনের ২০৪(এল) ধারায় সুরক্ষা এবং মানবিক কারণে অনুমোদিত পিটিশন পুনর্বহালের আবেদন।   পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনে সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা স্বজন আই-১৩০ ফরম জমা দেন। এই আবেদনকে ফ্যামিলি পিটিশন বলা হয়। এর মাধ্যমে আবেদনকারী ও বিদেশি স্বজনের মধ্যে যোগ্য পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। তবে আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদন হলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। ভিসার প্রাপ্যতা, আর্থিক স্পনসরশিপ, অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদন চলাকালে পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে সেই প্রক্রিয়ায় নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।   প্রথম সুযোগটি রয়েছে মার্কিন নাগরিকের বিধবা বা বিপত্নীকের জন্য। কোনো মার্কিন নাগরিক তাঁর বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়ে মারা গেলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আই-৩৬০ বিধবা বা বিপত্নীক পিটিশনে রূপান্তরিত হয়। পিটিশনটি মৃত্যুর সময় মুলতবি ছিল কিংবা আগেই অনুমোদিত হয়েছিল, উভয় পরিস্থিতিতেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে শুধু পিটিশনকারী স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন করে পুরো পরিবারভিত্তিক আবেদন শুরু করতে হয় না।   তবে আই-৩৬০-এর এই সুবিধা পাওয়ার জন্য বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে মৃত ব্যক্তিকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আইনগত বিচ্ছেদ থাকা যাবে না এবং জীবিত সঙ্গীর পুনর্বিবাহসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রী আগে আই-১৩০ পিটিশন জমা না দিয়ে থাকলেও যোগ্য বিধবা বা বিপত্নীক সাধারণত মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে নিজে আই-৩৬০ জমা দিতে পারেন। তবে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব গ্রিন কার্ডধারী পিটিশনকারীর স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   দ্বিতীয় সুযোগটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২০৪(এল) ধারায়। এই বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিবারভিত্তিক পিটিশনের সুবিধাভোগী পিটিশনকারীর মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে থাকলে এবং মৃত্যুর পরও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস অব্যাহত রাখলে আবেদন এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারেন। আই-১৩০ পিটিশন মৃত্যুর সময় মুলতবি থাকলেও এই সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। একইভাবে আগেই অনুমোদিত পিটিশন থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী ধারাটি ব্যবহার করা যায়।   এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের তথ্য। শুধু মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে উপস্থিত থাকা এবং সেখানে নিয়মিত বসবাস করা এক বিষয় নয়। ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর প্রকৃত বসবাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারে। পাশাপাশি মূল আবেদনকারীর মৃত্যু, পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেদনসংক্রান্ত নথি জমা দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রধান সুবিধাভোগীর পরিবর্তে তাঁর যোগ্য পরিবারের অন্য সদস্যও ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন।   ২০৪(এল) ধারার আওতায় আবেদন চালিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেই অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। ইউএসসিআইএসকে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করতে হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী, অনুমোদন জনস্বার্থের পরিপন্থী হওয়ার বিশেষ কারণ থাকলে সংস্থা আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আবার পিটিশন অনুমোদনের পরও গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে এই ধারাটি মৃত পিটিশনকারীর কারণে তৈরি হওয়া নির্দিষ্ট বাধা দূর করার সুযোগ দেয়, কিন্তু অন্য সব অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতার বিকল্প নয়।   তৃতীয় সুযোগটি হলো মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহাল বা হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট। কোনো পরিবারের সদস্য বিদেশি স্বজনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়েছিলেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় সেটি অনুমোদিত হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি মারা গেছেন—এমন পরিস্থিতিতে এই সুবিধার আবেদন করা যায়। সাধারণ নিয়মে পিটিশনকারীর মৃত্যুর কারণে অনুমোদিত পিটিশন বাতিল হলেও মানবিক বিবেচনায় ইউএসসিআইএস সেটির অনুমোদন পুনর্বহাল করতে পারে।   তবে হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করে। আবেদনকারীর পারিবারিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক, আবেদনের বিলম্বের প্রভাব এবং অন্যান্য মানবিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে পিটিশনটি অনুমোদিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পিটিশন মুলতবি থাকা অবস্থায় পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে সাধারণভাবে শুধু মানবিক পুনর্বহালের এই পথ ব্যবহার করা যায় না।    মানবিক পুনর্বহালের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। এখানেই এটি ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষা থেকে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, একজন মার্কিন নাগরিক বাংলাদেশে থাকা ভাই বা বোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন করেছিলেন এবং পিটিশনটি অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু ভিসার অপেক্ষায় থাকার সময় ওই মার্কিন নাগরিক মারা যান। এমন পরিস্থিতিতে যোগ্য সুবিধাভোগী মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহালের আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না, তা ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত নেবে।   এই দুটি প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্পনসরশিপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অনেক আবেদনে আই-৮৬৪ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। মূল পিটিশনকারী মারা গেলে তাঁর পরিবর্তে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বিকল্প আর্থিক স্পনসর প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণভাবে বিকল্প স্পনসরকে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন ন্যাশনাল অথবা গ্রিন কার্ডধারী হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পারিবারিক সম্পর্ক ও আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। তবে বিধবা বা বিপত্নীকের আই-৩৬০ আবেদনসহ কিছু বিশেষ শ্রেণিতে নিয়ম আলাদা।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এই তিনটি সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবারে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী কিংবা ভাইবোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন করা হয়। এসব আবেদনের কিছু দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক নির্দিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে বার্ষিক সংখ্যাগত সীমা থাকায় অনুমোদিত পিটিশনের পরও ভিসার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই সময় মূল পিটিশনকারী মারা গেলে পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় ধরে নেন, আবেদনটি আর এগোনো সম্ভব নয়। অথচ যোগ্যতা থাকলে বিকল্প আইনি পথ খোলা থাকতে পারে।   তাই এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে জানতে হবে, মৃত্যুর আগে আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদিত হয়েছিল কি না। এরপর দেখতে হবে, যাঁর জন্য আবেদন করা হয়েছে তিনি পিটিশনকারীর মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন কি না এবং এখনো সেখানে বসবাস করছেন কি না। একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য বিকল্প আর্থিক স্পনসরের তথ্য যাচাই করতে হবে। মৃত্যুসনদ, পিটিশনের রসিদ ও অনুমোদনের নোটিশসহ প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।   সব মিলিয়ে পরিবারের গ্রিন কার্ডের পিটিশনকারী মারা গেলে আবেদন সব ক্ষেত্রে শেষ হয়ে যায় না। মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর আই-৩৬০-এ রূপান্তর, ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষা কিংবা মানবিক কারণে অনুমোদিত পিটিশন পুনর্বহালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আবেদন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোন পথটি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে পিটিশনের অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক, আবেদনকারীর বসবাস এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর। তাই আবেদন বন্ধ হয়ে গেছে ধরে নেওয়ার আগে ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা যাচাই এবং অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস), আই-৩৬০ ফরমের নির্দেশনা, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২০৪(এল) ধারা এবং হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্টসংক্রান্ত নীতিমালা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৮:৫
নারী সহকর্মীদের অপহরণ ও যৌ ন হেনস্তার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক পুলিশ সার্জেন্ট গ্রেপ্তার

নারী সহকর্মীদের অপহরণ ও যৌ ন হেনস্তার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক পুলিশ সার্জেন্ট গ্রেপ্তার

গ্রিন কার্ড ছাড়াই বাড়ি কেনার অর্থায়ন, কী কী যোগ্যতা লাগবে

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের বাড়ি কেনার অর্থায়ন কীভাবে কাজ করে?

ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ভয়াবহ জোয়ার, পানির নিচে বে এরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা

ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ভয়াবহ জোয়ার, পানির নিচে বে এরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা

ব্রঙ্কসে ই-বাইকের ব্যাটারির আগুনে একই পরিবারের চারজনের মৃ ত্যু
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ই-বাইকের ব্যাটারির আগুনে একই পরিবারের চারজন নি হ ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে ই-বাইকের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে লাগা আগুনে একই পরিবারের চারজনের মৃ ত্যু হয়েছে। নি হ তদের মধ্যে তিন শিশু-কিশোর এবং ৩৩ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) গভীর রাতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগার পর প্রথমে জিওন মেইন নামের এক শিশুর মৃ ত্যু হয়। পরে শুক্রবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই কিশোর ও এক নারীর মৃ ত্যু হয়।   পরিবারের ৩৭ বছর বয়সী আরেক সদস্য কোর্টনি মেইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিউইয়র্ক ফায়ার বিভাগের তদন্ত অনুযায়ী, অ্যাপার্টমেন্টের প্রবেশপথের কাছে রাখা একটি ই-বাইক থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বাসিন্দারা বের হতে পারেননি। ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ব্রঙ্কসের মট হেভেন এলাকার প্যাটারসন হাউজেস আবাসিক ভবনে। মরিস অ্যাভিনিউয়ের ৩২০ নম্বর ভবনের ১১তলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকলকর্মীরা। কিন্তু ততক্ষণে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দাদের উদ্ধারে দমকলকর্মীদের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। নিউইয়র্ক ফায়ার বিভাগের কমিশনার লিলিয়ান বন্সিগনোর জানিয়েছেন, রান্নাঘরে অ্যাপার্টমেন্টের প্রধান দরজার কাছেই ই-বাইকটি রাখা ছিল। এর লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ই-বাইকটির অবস্থানের কারণে বাসিন্দাদের নিরাপদে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। আগুন ও ঘন ধোঁয়ার মধ্যে তাঁরা আটকা পড়েন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের করে আনেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের দপ্তরের বক্তব্যে শিশুটির ১১ বছর বয়স উল্লেখ রয়েছে। প্রথম দিনের অগ্নিকাণ্ডে জিওনের পরিবারের আরও চারজন গুরুতর আ হ ত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দুই কিশোর, ৩৩ বছর বয়সী সাইদা অ্যাডামস প্যাটারসন এবং ৩৭ বছর বয়সী কোর্টনি মেইন। আ হ তদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। তবে শুক্রবার দুই কিশোর ও সাইদার মৃ ত্যুর খবর নিশ্চিত করে পুলিশ। নি হ ত দুই কিশোরের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর। তাঁদের একজনের নাম জামারি অ্যাডামস এবং অন্যজন সিজে নামে পরিচিত। সাইদা অ্যাডামস প্যাটারসন ছিলেন জামারির মা এবং কোর্টনি মেইনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী। অন্যদিকে কোর্টনি জিওন ও সিজের বাবা। ফলে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন শিশু-কিশোর এবং একজন নারী প্রা ণ হারিয়েছেন। কোর্টনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর প্রথমে কোর্টনির অবস্থাও আশঙ্কাজনক ছিল। তবে শনিবার প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হালনাগাদ তথ্যে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। পরিবারের অন্য চারজনের মৃ ত্যুর পর তিনিই ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা পাঁচজনের মধ্যে জীবিত রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর পুরো আবাসিক এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, জিওন ছিল হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত শিশু। বাস্কেটবল খেলতে পছন্দ করত সে। আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। তার মৃ ত্যুর পর ভবনের সামনে ফুল, মোমবাতি ও বেলুন রেখে স্মরণ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পরিবারের অন্য তিন সদস্যের মৃ ত্যুর খবর এলে শোক আরও গভীর হয়। দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১৩০ জন দমকল ও জরুরি চিকিৎসাকর্মী কাজ করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। উদ্ধারকাজের সময় দুই দমকলকর্মী সামান্য আ হ ত হন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন। ফায়ার কমিশনার বন্সিগনোর জানিয়েছেন, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যাটারির ভেতরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। এ কারণে ই-বাইক কিংবা ই-স্কুটার বাসার প্রধান দরজা, সিঁড়ি অথবা বের হওয়ার পথে রাখা বিপজ্জনক। নিউইয়র্ক ফায়ার বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত শহরে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে অন্তত ৪০১টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৭৪ জন আ হ ত এবং ছয়জন নি হ ত হওয়ার তথ্য তখন প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে ওই প্রাথমিক পরিসংখ্যানে ব্রঙ্কসের সর্বশেষ অগ্নিকাণ্ডে পরে মৃ ত্যু হওয়া তিনজন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। অগ্নিকাণ্ডের পর নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ই-বাইক ও ই-স্কুটারের ব্যাটারি ব্যবহারে বাসিন্দাদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দপ্তর থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় ব্যাটারি নিরাপত্তার নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। নির্দেশনায় অনুমোদিত ও নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যাটারি ব্যবহার, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি ব্যবহার না করা এবং ঘুমানোর সময় ব্যাটারি চার্জে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বিশেষ করে ডেলিভারি ও অন্যান্য কাজে ই-বাইক ব্যবহারকারীদের ব্যাটারি চার্জ এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। রাতভর চার্জ দেওয়া, অনুমোদনহীন চার্জার ব্যবহার কিংবা প্রধান দরজার সামনে ই-বাইক রাখা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ব্রঙ্কসের এই অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চারজনের মৃ ত্যুর ঘটনা নিউইয়র্কে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তকারীরা আগুনের সূত্রপাতের কারণ হিসেবে ব্যাটারিকে শনাক্ত করেছেন। তবে ব্যাটারিতে ঠিক কী ধরনের ত্রুটি হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তথ্য জানা যায়নি। পরিবারের একমাত্র জীবিত উদ্ধার সদস্য কোর্টনি মেইনের চিকিৎসা চলছে। সূত্র: নিউইয়র্ক ফায়ার বিভাগ ও মেয়রের দপ্তর, নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৬:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রবাসীদের জন্য ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার বিভিন্ন সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেছেন? ক্রেডিট কার্ড পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষার প্রয়োজন নেই

ফ্লোরিডায় শিশু নি পীড়নবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৮১, তালিকায় ডিজনি ও ইউনিভার্সালের ১৭ কর্মী

ফ্লোরিডায় শিশু নি পীড়নবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৮১, তালিকায় ডিজনি ও ইউনিভার্সালের ১৭ কর্মী

জর্জিয়ায় মাকে শ্বাসরোধে হ ত্যার চেষ্টা, গাড়ি নিয়ে পালিয়ে ১০০ মাইল বেগে পুলিশের ধাওয়া

জর্জিয়ায় মাকে শ্বাসরোধে হ ত্যার চেষ্টা, গাড়ি নিয়ে পালিয়ে ১০০ মাইল বেগে পুলিশের ধাওয়া

মাধবপুরে সাদাত ফাউন্ডেশনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির
সিলেটের হবিগঞ্জে ৩২০ জনকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাদাত ফাউন্ডেশন

সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাদাত ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনটির উদ্যোগে ধর্মঘর ইউনিয়নের শিয়ালউটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই চক্ষু শিবিরে শিশু, নারী-পুরুষ ও বয়স্কসহ মোট ৩২০ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।   গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। ঢাকা থেকে আসা দুজন চিকিৎসক ও দুজন কম্পিউটার অপারেটরের সমন্বয়ে শিবিরটি পরিচালিত হয়। এ সময় রোগীদের চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ১৫০ জনকে সেবা দেওয়া। তবে শেষ পর্যন্ত ৩২০ জন চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষ উপকৃত হন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ধর্মঘর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিল্লাল মিয়া, সাংবাদিক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, একবদ্ধ হবিগঞ্জ রেলস্টেশনের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ সাগরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রশংসনীয় বলে মনে করেন। সাদাত ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সাংবাদিক জুয়েল সাদাত জানান, চিকিৎসা শিবিরে প্রায় ৫০ জন রোগীর চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করতে আগ্রহীদেরও ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ জন্য ৪০৭-৮৩২-২৮৮২ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। জুয়েল সাদাতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাদাত ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অলাভজনক ৫০১(সি) দাতব্য সংস্থা। ২০১৪ সাল থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফাউন্ডেশনটি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং কখনো তহবিল সংগ্রহ করেনি। সংগঠনটির অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সিলেট বিভাগের চারটি মাদ্রাসা ও দুটি মসজিদ পরিচালনা। ২০২২ সালের সিলেটের বন্যার সময় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাহিরপুর ও দিরাই এলাকায় ১০০টি বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া বিনামূল্যে ওমরাহ, হুইলচেয়ার বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত প্রকল্পসহ মোট ১০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে বলে জানান ফাউন্ডেশনের সিইও। সাদাত ফাউন্ডেশনের পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোতে বর্তমানে ১৫০ জন হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাঁদের মধ্যে ৭০ জন হিফজ সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন জুয়েল সাদাত।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:৫৬
আইসক্রিম নিয়ে ঝগড়ার জেরে ফ্লোরিডায় দুই রুমমেটকে গুলি করে হ ত্যা ৬৯ বছর বয়সী বৃদ্ধের

আইসক্রিম নিয়ে ঝগড়ার জেরে ফ্লোরিডায় দুই রুমমেটকে গুলি করে হ ত্যা ৬৯ বছর বয়সী বৃদ্ধের

নিউইয়র্কে বেকারভাতা সেবা সাময়িক বন্ধ, ২ নভেম্বরের পর ১২ দিন মিলবে না আবেদন সুবিধা

নিউইয়র্কে বেকারভাতা সেবা সাময়িক বন্ধ, ২ নভেম্বরের পর ১২ দিন মিলবে না আবেদন সুবিধা

চার থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের পাশে পুরো কমিউনিটি

মাকে হারিয়ে একসঙ্গে এতিম ৯ সন্তান, চার থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের পাশে পুরো কমিউনিটি

0 Comments