ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, চালু হতে পারে ওয়াটার বাস
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগ্রহী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশের নৌপথ চালু বিষয়ক এক সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় রাজধানীর নৌপথকে কার্যকর ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় রূপ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় নদীদূষণ প্রতিরোধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া ঢাকার নদীপথকে আরও কার্যকর ও টেকসই করে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত অঞ্চল ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। রবিবার প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো পৃথকভাবে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে এবং অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে এবং তিনি দেশটির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত নানা বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, অঞ্চলটিতে অবস্থানরত নাগরিকদের সব সময় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিমান সংস্থার সর্বশেষ ঘোষণা ও স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন মধ্যপ্রাচ্যে স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। আবার কিছু সংস্থা নির্দিষ্ট রুটে ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে অঞ্চল ত্যাগ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও ওই অঞ্চল হয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। দেশভেদে দূতাবাসগুলো অতিরিক্ত নিরাপত্তা নির্দেশনাও দিয়েছে। জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া সামরিক স্থাপনার আশপাশ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে অবস্থানকারীদের নিকটতম আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান আগে থেকেই জেনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আর্জেন্টিনার স্কাল ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক দূত হলেন বাংলাদেশের ডালটন জহির
ক্যালিফোর্নিয়ার লেক তাহোতে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো ৩২ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানিক্ষেত্র ছাই করে দেওয়ার হুমকি ইরানের
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। স্থানীয় আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করার পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আপাতত তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতেই থাকবে। জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর ৩০ জুলাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। কারামুক্তির পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদ জানান, তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন পেয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে চলমান মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি। দুবাইয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, জামিনের সঙ্গে আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আদালতের অনুমতি ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং পাসপোর্ট আদালতের কাছে জমা রাখা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় শুনানিতে বিবেচনায় নেওয়ার পর আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন বলে সূত্রগুলো জানায়। তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একাধিক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়। গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে তার আটকের বিষয়টি অবহিত করে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা তদন্ত করছে দুদক। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে দেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হয়। বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দুদক তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং বিভিন্ন আদালত পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দুবাইয়ে থেকেই মামলার কার্যক্রমের মুখোমুখি হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাজারের খরচ কমাতে চান?ওয়ালমার্ট, কস্টকো নাকি স্যামস ক্লাব- কোথায় সবচেয়ে বেশি সাশ্রয়!
ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, চালু হতে পারে ওয়াটার বাস
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা কমার আশঙ্কা, উদ্বেগে অবসরপ্রাপ্তরা
টেক্সাসের সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ (দশ আদেশ) প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। হিউস্টন এলাকার তিনজন মা অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন অভিভাবকদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ নির্ধারণের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। মামলায় বলা হয়েছে, টেক্সাসের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনীতে অভিভাবকদের সন্তান লালন-পালন ও ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা সেই অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া টেক্সাস রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইন অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত আকার ও বিন্যাসে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন করতে হবে। পোস্টার দান করা হলে স্কুলগুলো তা টানাবে, আর প্রয়োজন হলে জেলা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থেও তা কিনতে পারবে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি ঐতিহ্যের অংশ। তবে বাদীপক্ষের অভিভাবকদের বক্তব্য, সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। তাদের মতে, পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব অভিভাবকদের, রাষ্ট্রের নয়। এটি টেক্সাসে এ ধরনের প্রথম মামলা নয়। এর আগে বিভিন্ন ধর্মীয় ও অধর্মীয় পরিবারের সদস্যরা একই আইনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। সেইসব মামলায় সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র-ধর্ম পৃথক থাকার নীতির প্রশ্নও সামনে আসে। অন্যদিকে, টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন বরাবরই আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, ‘দশ আদেশ’ আমেরিকার আইন ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং শিক্ষার্থীদের সামনে তা প্রদর্শন করা আইনসঙ্গত। নতুন মামলার শুনানির মাধ্যমে টেক্সাসের এই বিতর্কিত আইন নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলার ফলাফল শুধু টেক্সাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
টেইলর ফার্মসের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট