সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

দুবাইয়ে জামিনে মুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৫:৩৪
বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ প্রধান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ প্রধান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। স্থানীয় আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করার পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আপাতত তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতেই থাকবে।

 

জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর ৩০ জুলাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

 

কারামুক্তির পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদ জানান, তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন পেয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে চলমান মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

 

দুবাইয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, জামিনের সঙ্গে আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আদালতের অনুমতি ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং পাসপোর্ট আদালতের কাছে জমা রাখা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় শুনানিতে বিবেচনায় নেওয়ার পর আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন বলে সূত্রগুলো জানায়।

 

তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

 

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একাধিক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়। গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে তার আটকের বিষয়টি অবহিত করে।

 

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা তদন্ত করছে দুদক। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে দেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হয়।

 

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন।

 

২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দুদক তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং বিভিন্ন আদালত পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

তবে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দুবাইয়ে থেকেই মামলার কার্যক্রমের মুখোমুখি হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ছেন বাংলাদেশিরা, বাড়ছে রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ছেন বাংলাদেশিরা, বাড়ছে রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন ও আটলান্টিক সিটি শহরে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি এখন শুধু বসবাস কিংবা চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যবসা, স্থানীয় রাজনীতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন প্রবাসীরা। একসময় উন্নত জীবনের সন্ধানে এসব এলাকায় বসতি গড়া বাংলাদেশিদের পরবর্তী প্রজন্ম এখন স্থানীয় অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে প্যাটারসনের বাংলাদেশ বুলেভার্ড এবং আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি ব্যবসা ও সামাজিক সংগঠনগুলো প্রবাসী কমিউনিটির এই পরিবর্তনের পরিচয় বহন করছে।   নিউইয়র্কের কাছাকাছি অবস্থিত প্যাটারসন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অভিবাসীদের অন্যতম পরিচিত আবাসস্থল। শহরটির ইউনিয়ন অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন মুদি দোকান, রেস্টুরেন্ট, পোশাকের ব্যবসা এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এসব এলাকায় বাংলা ভাষায় কথা বলা, দেশীয় খাবার কেনা কিংবা পরিচিত সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন অভিবাসীদের অনেকের কাছেই প্যাটারসন হয়ে উঠেছে পরিচিত পরিবেশে নতুন জীবন শুরু করার একটি জায়গা। প্যাটারসনের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতির একটি আসে ২০১৯ সালের জুনে। সে সময় শহর কর্তৃপক্ষ ইউনিয়ন অ্যাভিনিউয়ের শেরিডান অ্যাভিনিউ থেকে ওয়েন অ্যাভিনিউ পর্যন্ত প্রায় দুই ব্লক এলাকার নাম দেয় বাংলাদেশ বুলেভার্ড। বাংলাদেশি অভিবাসীদের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই নামকরণ করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির সদস্যরা ওই উদ্যোগে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহরের সড়কে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়াকে প্রবাসীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচিতির গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখেন।   প্যাটারসনে বাংলাদেশিদের বসতি গড়ে ওঠার ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। আশির দশক থেকে বিভিন্ন সময়ে কাজ ও উন্নত জীবনের সুযোগ খুঁজে বাংলাদেশিরা সেখানে যেতে শুরু করেন। পরে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে নতুন অভিবাসীদের আগমন বাড়ে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে শহরটির বাংলাদেশি কমিউনিটির আকার প্রায় ১৫ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এই সংখ্যা বর্তমান সময়ের নতুন কোনো সরকারি গণনার ফল নয়। শহরটিতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি কতটা বেড়েছে, তা নির্ধারণের জন্য সাম্প্রতিক আদমশুমারির তুলনামূলক তথ্য প্রয়োজন। ব্যবসার পাশাপাশি প্যাটারসনের স্থানীয় রাজনীতিতেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। ২০১২ সালে মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান শহরের দ্বিতীয় ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। উত্তর নিউ জার্সিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তিনি অন্যতম পথিকৃৎ। পরবর্তী সময়ে শাহিন খালিকও একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের নির্বাচনী সাফল্য স্থানীয় প্রশাসনে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করে।   ২০২৬ সালের ১২ মে অনুষ্ঠিত প্যাটারসনের মেয়র নির্বাচনেও অংশ নেন সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। নির্বাচনে তিনি ১ হাজার ৯৫৪ ভোট পান। তবে তৃতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন আন্দ্রে সায়েগ। একই নির্বাচনে সিটি কাউন্সিলের তিনটি অ্যাট লার্জ আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি ৩ হাজার ৬০৮ ভোট পেলেও বিজয়ী তিন প্রার্থীর মধ্যে জায়গা করে নিতে পারেননি। এসব নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনীতিতে কমিউনিটির সক্রিয় উপস্থিতি তুলে ধরলেও নির্বাচনী প্রতিনিধিত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার বিষয়টিও সামনে এনেছে। প্যাটারসনের পাশাপাশি আটলান্টিক সিটিও নিউ জার্সির বাংলাদেশিদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সমুদ্রসৈকত, পর্যটন ও ক্যাসিনো শিল্পের জন্য পরিচিত শহরটিতে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পরিবারগুলো বসবাস করছে। স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনের প্রতিনিধিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, আটলান্টিক কাউন্টিতে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। ২০২২ সালে স্টকটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিবেদনে স্থানীয় কমিউনিটির তথ্যের ভিত্তিতে আটলান্টিক সিটিতে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশির বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এগুলো স্থানীয় পর্যায়ের হিসাব, সর্বশেষ সরকারি জনসংখ্যার পরিসংখ্যান নয়।   আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশজুড়ে রয়েছে ছোট ও মাঝারি পারিবারিক ব্যবসা। মুদি দোকান, দেশীয় খাবারের প্রতিষ্ঠান, হালাল মাংসের দোকান এবং দক্ষিণ এশীয় পণ্যের ব্যবসার মাধ্যমে অনেকে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। আটলান্টিক অ্যাভিনিউয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, মসলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যায়। ব্যবসার পাশাপাশি নতুন অভিবাসীদের পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এসব প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখে। আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক জীবনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শহরের আল হেরা মসজিদ বাংলাদেশি মুসলমানদের পরিচিত একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ জার্সির জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সেখানে একটি বড় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০০ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।   ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও আটলান্টিক সিটিতে সক্রিয় রয়েছে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সি স্থানীয় বাংলাদেশিদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। সংগঠনটির উদ্যোগে বৈশাখী মেলা, পিঠা উৎসব, ঈদবাজার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পারিবারিক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি পরিবারের পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটির মানুষও অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।   চলতি বছরের ২১ এপ্রিল আটলান্টিক সিটিতে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সি। অনুষ্ঠানে গান, কবিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দেশীয় খাবারের আয়োজন ছিল। একই বছরের আগস্টে স্যান্ডক্যাসল স্টেডিয়ামে সংগঠনটির উদ্যোগে আরেকটি সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশি শিল্পীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও মেধাবীদের সম্মাননার ব্যবস্থাও ছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে শহর প্রশাসনের যোগাযোগের একটি উদাহরণ। প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি সংগঠনগুলো ভূমিকা রাখছে। ২০২২ সালে স্টকটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আটলান্টিক সিটি ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের প্রতিনিধিরা স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট ও ভিসাসংক্রান্ত সেবা দিয়েছিলেন। এতে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার কাজের জন্য নিউইয়র্কে যাতায়াতের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। এদিকে আগামী ১০ নভেম্বর আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টারে এক দিনের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সি, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট এবং আটলান্টিক সিটির সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতায় কর্মসূচিটি আয়োজনের কথা রয়েছে। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে ই পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, দ্বৈত নাগরিকত্ব, অনাপত্তিপত্র ও বিভিন্ন নথি সত্যায়নসংক্রান্ত সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে। সেবা নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে আয়োজকদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।   প্যাটারসন ও আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্যাটারসনে দীর্ঘদিনের বসতি, বাংলাদেশ বুলেভার্ড এবং স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বেশি দৃশ্যমান। অন্যদিকে আটলান্টিক সিটিতে পারিবারিক ব্যবসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নাগরিক সেবাকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের সংগঠিত উপস্থিতি গড়ে উঠেছে। দুটি শহরেই নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণেরা শিক্ষা, পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তবে এসব শহরে বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত কয়েক বছরে ঠিক কত বেড়েছে, নতুন কতটি প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে কিংবা কতটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য তুলনামূলক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যবসা বা জনসংখ্যা বৃদ্ধির নির্দিষ্ট হার সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসার উপস্থিতি এবং নিয়মিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন নিউ জার্সির এই দুই শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিষ্ঠিত অবস্থান তুলে ধরছে।   একসময় কাজ ও উন্নত জীবনের সুযোগ খুঁজে নিউ জার্সিতে আসা বাংলাদেশি অভিবাসীদের সন্তানদের অনেকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। কেউ পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন, কেউ পেশাজীবী হিসেবে কাজ করছেন, আবার কেউ স্থানীয় রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছেন। প্যাটারসন ও আটলান্টিক সিটির এই পরিবর্তন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান গড়ে ওঠার দীর্ঘ প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন। সূত্র : csb news usa     

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২৩:১৯
ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্তকারী দল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনের কাছে বিমান বিধ্বস্ত, ৯ আরোহীর সবাই নিহত

মিশিগান সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বদলে মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন হ্যালি স্টিভেন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাইমারিতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই কি আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন হ্যালির?

হামট্রাম্যাকের মেয়র পদপ্রার্থী মুহিত মাহমুদ। আদালতের রায়ে তাঁর মেয়র হওয়ার পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের হ্যামট্রামিকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ১৬ বছর বয়সী এমা জুরিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেয়েদের উৎসাহিত করতে ‘শি পারসিস্টস’ পডকাস্ট চালু করেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফারদিনা আলমের সাফল্য-সংগ্রামের গল্প তুলে ধরছে মার্কিন কিশোরীর পডকাস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ১৬ বছর বয়সী কিশোরী এমা জুরিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। নিজের পড়াশোনা, রোবোটিকস চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি নারীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে (এসটিইএম) আগ্রহী করে তুলতে চালু করেছে ‘দ্য শি পারসিস্টস পডকাস্ট’। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যাত্রা শুরু করা এই পডকাস্টে বিভিন্ন বয়সী নারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পেশাদার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। বিশেষ করে সফলতার গল্পের আড়ালে থাকা বাধা, প্রত্যাখ্যান, ব্যর্থতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাগুলো সামনে আনতে চায় এমা।   গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্সে অনুষ্ঠিত আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের (এজিইউ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেয় এমা। আর্নেস্ট এন. মরিয়াল কনভেনশন সেন্টারে ৫৫৩ নম্বর পোস্টারের পাশে দাঁড়িয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে সে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের একটি নাসা-অর্থায়িত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উচ্চ বায়ুমণ্ডলে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বেলুন উড়িয়েছিল এমা ও তার দলের সদস্যরা। বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের তথ্য ব্যবহার করে বন্যার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করা যায় কি না, সেটিই ছিল গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।   এজিইউর বার্ষিক সম্মেলনটি বিশ্বের বিজ্ঞানীদের অন্যতম বড় সমাবেশ। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সম্মেলনে ১২০টির বেশি দেশের ২৫ হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। সেখানে ভার্জিনিয়ার একজন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী হিসেবে এমার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে আবহাওয়া ও গবেষণার পোস্টার উপস্থাপনার বাইরেও তার আরেকটি উদ্যোগ রয়েছে, যার লক্ষ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে মেয়েদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।   এমার নিজের আগ্রহও তৈরি হয়েছে হাতে-কলমে কাজের মধ্য দিয়ে। সে তার রোবোটিকস দলের সঙ্গে রোবটের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করেছে। পাশাপাশি একটি আঞ্চলিক বিজ্ঞান মেলায় বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের সংকট নিয়ে গবেষণাও উপস্থাপন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে সে বুঝতে পারে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে নারীদের সাফল্যের গল্প বলা হলেও তাঁদের পথচলার কঠিন দিকগুলো তুলনামূলক কম আলোচিত হয়।   বাংলা বুলেটিনকে দেওয়া এক বক্তব্যে এমা লিখেছে, অসাধারণ নারীদের অর্জন নিয়ে সাধারণত তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর আলোচনা করা হয়। কিন্তু সেই সাফল্যের আগে তাঁদের যে বাধা, অনিশ্চয়তা ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব বিষয় খুব কমই সামনে আসে। এই অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরতেই পডকাস্টটি শুরু করেছে সে। তার লক্ষ্য, যারা এখনো নিজেদের আগ্রহের বিষয় নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে, তারা যেন অন্য নারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা শুনে সাহস পায়।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশল খাতে নারীদের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যানও এমার উদ্যোগের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে। সোসাইটি অব উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্সের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির প্রকৌশল পেশায় নারীদের অংশ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশেষ করে যন্ত্রকৌশল বিষয়ে নারীদের অংশগ্রহণ আরও কম। ২০২৫ সালে আমেরিকান সোসাইটি ফর ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পাঁচজনের একজনেরও কম। এমাও ভবিষ্যতে যন্ত্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী।   নারীদের উপস্থিতি ও অভিজ্ঞতা অন্য মেয়েদের বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে পারে, এমন প্রমাণও রয়েছে গবেষণায়। ২০২৩ সালে দ্য ইকোনমিক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় প্যারিস অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষার ফল তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, বিজ্ঞান পেশায় কর্মরত একজন নারীর এক ঘণ্টার শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শনের পর দ্বাদশ শ্রেণির মেয়েদের মধ্যে পুরুষ-প্রধান ও প্রতিযোগিতামূলক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের উচ্চশিক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তির হার ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। গবেষকদের মতে, বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নারীকে সামনে থেকে দেখা শিক্ষার্থীদের পেশা নির্বাচনের ধারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   এমার পডকাস্টে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারীরা অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রকৌশলী, যিনি স্পেসএক্সে স্টারশিপের প্রপালশন প্রযুক্তি তৈরিতে কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ফর্মুলা এসএই রেসিং কার দলের নারী সদস্যরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত একটি গল্পও স্থান পেয়েছে এই পডকাস্টে। এতে অংশ নিয়েছেন ড. ফারদিনা এফ. আলম, যিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডে তথ্যবিজ্ঞানের কর্মসূচি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছানোর শিক্ষাগত ও পেশাগত যাত্রা।   পডকাস্টের কয়েকটি পর্বে ভার্জিনিয়া টেকের রকেট নির্মাণ দলের নারী সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন। তাঁদের একজন মাহিমা সাচান জানিয়েছেন, কৌতূহল থেকেই তিনি রকেট নির্মাণের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। দলের আরেক সদস্য কেলিন কারমাইকেল মেয়েদের উদ্দেশে বলেছেন, অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ খুঁজতে আবেদন করতে হবে, নিখুঁত সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকলে চলবে না। তাঁদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য শুরু থেকেই সবকিছু জানা প্রয়োজন নেই। আগ্রহ নিয়ে কাজ শুরু করাও গুরুত্বপূর্ণ।   প্রথম বছরে ‘শি পারসিস্টস’ পডকাস্টের ২৪টি পর্ব প্রকাশিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন মোট ৪৭ জন অতিথি এবং ৪৩টির বেশি দেশের কয়েক হাজার শ্রোতার কাছে পৌঁছেছে অনুষ্ঠানটি। অ্যাপল পডকাস্টে বর্তমানে এর ২৬টি পর্ব তালিকাভুক্ত রয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি পর্বে ভার্জিনিয়া টেকের রকেট নির্মাণ দলের চার নারী সদস্য তাঁদের রকেট তৈরির অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং নিজেদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার গল্প শুনিয়েছেন।   এমার স্বপ্ন, কোনো একদিন কোনো কিশোরী তার পডকাস্টের একটি পর্ব শুনে বুঝতে পারবে যে মহাকাশ প্রকৌশল কিংবা রকেট নির্মাণের মতো ক্ষেত্রেও তার কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শুধু একটি পর্ব শুনে যদি একজন শ্রোতাও নিজের আগ্রহের বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস পায়, তাহলেই উদ্যোগটির উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করে ১৬ বছর বয়সী এই কিশোরী।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২০:২৮
নির্বাচনের দুই দিন আগে আবদুল এল-সায়েদের পরিবর্তে মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন হ্যালি স্টিভেন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শেষ মুহূর্তে আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যানের

কর্মজীবীদের জন্য ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পরিচালনা করছে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির রবার্ট ই. সাইমন স্কুল অব বিজনেস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির পাশাপাশি এমবিএ করার সুযোগ, ভার্জিনিয়ায় ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি ক্লোজিং কস্টের জন্যও আলাদা অর্থ রাখতে হয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্ট কী, কেন দিতে হয় এবং এই খরচ কে বহন করেন?

পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম হলে যোগ্য শিক্ষার্থীদের টিউশন, আবাসন ও খাবারের খরচ বহন করবে বোস্টন ইউনিভার্সিটি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
৭৫ হাজার ডলারের কম আয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়তে পারবেন বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বোস্টন ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন ‘বিইউ প্রমিজ’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম, তাদের সন্তানরা টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আর্থিক সহায়তা। পরিবারের আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এসব সুবিধা নির্ধারণ করা হবে।   বোস্টন ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারের যোগ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি সম্পূর্ণ বহন করবে। পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশও আর্থিক সহায়তার আওতায় আসবে। ফলে পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ডলারের মধ্যে হলে শিক্ষাবাবদ বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার দিতে হবে। ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে এবং ৭৫ হাজার ১ ডলার থেকে ১ লাখ ডলার আয়ের পরিবারের জন্য ১০ হাজার ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে শুধু টিউশন ফি ৭৩ হাজার ২৪ ডলার। আবাসন, খাবার ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৯৮ হাজার ৪১৯ ডলারে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম আয়ের পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বহনের এই উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করছে।   এই কর্মসূচির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন পূরণের জন্য যে সহায়তা দেবে, তাতে কোনো শিক্ষার্থী ঋণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। অর্থাৎ আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে পরিশোধ করতে হবে এমন ঋণ নিতে বাধ্য করা হবে না। তবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা চাইলে আলাদাভাবে ফেডারেল শিক্ষাঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। সেটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। তবে এই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বিইউ প্রমিজ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, যারা প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হবেন। স্থানান্তরিত শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। পাশাপাশি পরিবারের আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সম্পদ এবং নিজস্ব বাড়ি ছাড়া অন্যান্য স্থাবর সম্পদের পরিমাণও বিবেচনা করা হবে। তাই শুধু আয়ের সীমা পূরণ করলেই সুবিধা নিশ্চিত হবে না।   বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা পেতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য আবেদনপত্র (এফএএফএসএ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আর্থিক তথ্যসংক্রান্ত আবেদনপত্র (সিএসএস প্রোফাইল) জমা দিতে হবে। প্রথম বর্ষে আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি সহায়তা চার বছর পর্যন্ত বজায় রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। টিউশন ফি বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির পরিমাণও একই হারে বাড়বে।   উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। হার্ভার্ড ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিসহ (এমআইটি) বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আয়ভিত্তিক আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ব্যয় কমানোর সুযোগ দিচ্ছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির নতুন উদ্যোগও সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত করল। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্যও এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল নিয়ে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনায় এই ধরনের সহায়তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা ও সম্পদের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৯:২০
নিউইয়র্কে ১৭৫ মানুষের মাথার ওপর ছাদ দিলেন তাঁরা

একসময় নিজেরাই ছিলেন গৃহহীন, আজ নিউইয়র্কে ১৭৫ মানুষের মাথার ওপর ছাদ দিলেন তাঁরা

নিউইয়র্কের ফ্লাশিংয়ে হ্যালোইন আয়োজন

পুলিশের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন বিকেল, নিউইয়র্কের ফ্লাশিংয়ে হ্যালোইন আয়োজন

পরিচয়হীন ৯ গৃহহীনকে সম্মানজনক বিদায় দিচ্ছে নিউইয়র্ক

শীতে রাস্তায় মৃত্যু ঠেকাতে উদ্যোগ, পরিচয়হীন ৯ গৃহহীনকে সম্মানজনক বিদায় দিচ্ছে নিউইয়র্ক

0 Comments