যুক্তরাষ্ট্রে বাজারের খরচ কমাতে চান?ওয়ালমার্ট, কস্টকো নাকি স্যামস ক্লাব- কোথায় সবচেয়ে বেশি সাশ্রয়!
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বসবাস শুরু করা অনেক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে মাসিক বাজারের খরচ কমানো বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ওয়ালমার্ট, কস্টকো এবং স্যামস ক্লাব—তিনটি জনপ্রিয় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনটি বেছে নিলে বেশি সাশ্রয় হবে, তা নির্ভর করে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কেনাকাটার ধরন এবং বাসস্থানের অবস্থানের ওপর।
মেম্বারশিপ ছাড়াই কেনাকাটার সুযোগ থাকায় ছোট পরিবার ও একা বসবাসকারীদের জন্য ওয়ালমার্ট এখনও সবচেয়ে সহজ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে বড় পরিবার বা যারা একবারে বেশি পরিমাণে বাজার করেন, তাদের জন্য কস্টকো ও স্যামস ক্লাবের বাল্ক কেনাকাটা দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ওয়ালমার্টে চাল, ডাল, তেল, সবজি, গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রায় সবকিছুই পাওয়া যায়। যেহেতু এখানে কোনো সদস্যপদ লাগে না, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে কেনাকাটা করা সহজ। যারা সপ্তাহভিত্তিক বাজার করেন বা সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা নেই, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক।
অন্যদিকে কস্টকোতে কেনাকাটা করতে বার্ষিক সদস্যপদ নিতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্ট্যান্ডার্ড সদস্যপদের বার্ষিক ফি বর্তমানে ৬৫ ডলার থেকে শুরু। তবে বড় প্যাকেজে পণ্য বিক্রির কারণে চাল, রান্নার তেল, মাংস, দুধ, ডায়াপার, টয়লেট পেপারসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যে ইউনিটপ্রতি খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। এছাড়া অনেক কস্টকো শাখায় সদস্যদের জন্য তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি কেনার সুযোগও রয়েছে, যা নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সাশ্রয় এনে দিতে পারে।
স্যামস ক্লাবও একইভাবে সদস্যপদভিত্তিক একটি বাল্ক রিটেইল চেইন। ওয়ালমার্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অনেক এলাকায় গ্রোসারি ও গৃহস্থালির পণ্যে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং নিয়মিত মূল্যছাড় পাওয়া যায়। বড় পরিবার, রেস্তোরাঁ বা ছোট ব্যবসা পরিচালনাকারীদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় বিকল্প।
অর্থনৈতিক দিক থেকে কোন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে লাভজনক হবে, তার একক কোনো উত্তর নেই। যদি পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত বাজার করার অভ্যাস থাকে, তাহলে ওয়ালমার্টই অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।
অন্যদিকে চার থেকে ছয় সদস্যের পরিবার, যাদের বাসায় পর্যাপ্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং যারা মাসে এক বা দুইবার বড় পরিমাণে কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য কস্টকো বা স্যামস ক্লাবের সদস্যপদ নেওয়া লাভজনক হতে পারে। বিশেষ করে যদি বাসার কাছেই এসব স্টোর থাকে এবং একই সঙ্গে সেখান থেকে জ্বালানিও নেওয়া যায়, তাহলে সদস্যপদের খরচ কয়েক মাসের মধ্যেই উঠে আসতে পারে।
শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের দাম নয়; স্থানীয় অফার, কুপন, মৌসুমি মূল্যছাড় এবং নিজের কেনাকাটার অভ্যাস বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই শহরের ভিন্ন শাখাতেও পণ্যের দাম ও অফারে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
তাই বাজারের খরচ কমাতে চাইলে সদস্যপদ নেওয়ার আগে নিজের এলাকার স্টোরগুলোর মূল্য, অফার এবং সদস্যপদের সুবিধাগুলো যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত হতে পারে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreআর্জেন্টিনার রিও নেগ্রো ও নেউকেন প্রদেশভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্যটন সংগঠন স্কাল ইন্টারন্যাশনাল আলতো ভ্যালে এশিয়া ও ইউরোপ অঞ্চলের আন্তর্জাতিক দূত হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন বিশেষজ্ঞ, ভ্রমণ লেখক ও গণমাধ্যম পরামর্শক এম. জেড. আই. ডালটন জহির-কে নিয়োগ দিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি লুকাস মার্টিন সোনোরা স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যটন, আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক কূটনীতিতে ডালটন জহিরের দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তিনি এশিয়া, ইউরোপ ও আর্জেন্টিনার পর্যটন খাতের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরিতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন পেশাজীবীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবেন। স্কাল ইন্টারন্যাশনাল আলতো ভ্যালের সভাপতি লুকাস মার্টিন সোনোরা বলেন, ডালটন জহিরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব তাঁকে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে ডালটন জহির ইউরোপ কি, ট্রাভেলার কি এবং ওয়ার্ল্ড ভ্যাকেশন ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ট্রাভেলার টাইমস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক। এছাড়া ওয়েলকাম বাংলাদেশ নামে আন্তর্জাতিক পর্যটনভিত্তিক গণমাধ্যম ও প্রকাশনা উদ্যোগেরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি। বাংলাদেশের ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন উন্নয়ন সমিতির নির্বাচিত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ডালটন জহির দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক হোটেল ও অবকাশকেন্দ্রে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কাজ করেছেন। পাশাপাশি পর্যটন, ঐতিহ্য ও আতিথেয়তা বিষয়ে তাঁর প্রকাশিত একাধিক গ্রন্থ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত লেখালেখি তাঁকে বৈশ্বিক পর্যটন অঙ্গনে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তাঁর পেশাগত জীবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যটন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে ইউরোপ, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা জোরদারে কাজ করে আসছেন। ডালটন জহির বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পর্যটন মেলা ও সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর মধ্যে স্পেনের ফিতুর, জার্মানির আইটিবি বার্লিন, যুক্তরাজ্যের বিশ্ব ভ্রমণ বাজার, দুবাইয়ের আরব ভ্রমণ বাজার, সিঙ্গাপুরের আইটিবি এশিয়া, পর্তুগালের বিটিএল এবং ইতালির মিলান ভ্রমণ মেলাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিনি জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থার অধিভুক্ত আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির এশিয়া অঞ্চলের দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পর্যটন প্রচার, আলোকচিত্র এবং ভ্রমণ সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য দেশে-বিদেশে একাধিক সম্মাননা লাভ করেছেন। ডালটন জহির বলেন, নতুন এই দায়িত্ব বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এশিয়া, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে টেকসই পর্যটন, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি কাজ করে যেতে চান।
ক্যালিফোর্নিয়ার লেক তাহোতে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো ৩২ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানিক্ষেত্র ছাই করে দেওয়ার হুমকি ইরানের
দুবাইয়ে জামিনে মুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বসবাস শুরু করা অনেক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে মাসিক বাজারের খরচ কমানো বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ওয়ালমার্ট, কস্টকো এবং স্যামস ক্লাব—তিনটি জনপ্রিয় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনটি বেছে নিলে বেশি সাশ্রয় হবে, তা নির্ভর করে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কেনাকাটার ধরন এবং বাসস্থানের অবস্থানের ওপর। মেম্বারশিপ ছাড়াই কেনাকাটার সুযোগ থাকায় ছোট পরিবার ও একা বসবাসকারীদের জন্য ওয়ালমার্ট এখনও সবচেয়ে সহজ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে বড় পরিবার বা যারা একবারে বেশি পরিমাণে বাজার করেন, তাদের জন্য কস্টকো ও স্যামস ক্লাবের বাল্ক কেনাকাটা দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে। ওয়ালমার্টে চাল, ডাল, তেল, সবজি, গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রায় সবকিছুই পাওয়া যায়। যেহেতু এখানে কোনো সদস্যপদ লাগে না, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে কেনাকাটা করা সহজ। যারা সপ্তাহভিত্তিক বাজার করেন বা সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা নেই, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক। অন্যদিকে কস্টকোতে কেনাকাটা করতে বার্ষিক সদস্যপদ নিতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্ট্যান্ডার্ড সদস্যপদের বার্ষিক ফি বর্তমানে ৬৫ ডলার থেকে শুরু। তবে বড় প্যাকেজে পণ্য বিক্রির কারণে চাল, রান্নার তেল, মাংস, দুধ, ডায়াপার, টয়লেট পেপারসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যে ইউনিটপ্রতি খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। এছাড়া অনেক কস্টকো শাখায় সদস্যদের জন্য তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি কেনার সুযোগও রয়েছে, যা নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সাশ্রয় এনে দিতে পারে। স্যামস ক্লাবও একইভাবে সদস্যপদভিত্তিক একটি বাল্ক রিটেইল চেইন। ওয়ালমার্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অনেক এলাকায় গ্রোসারি ও গৃহস্থালির পণ্যে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং নিয়মিত মূল্যছাড় পাওয়া যায়। বড় পরিবার, রেস্তোরাঁ বা ছোট ব্যবসা পরিচালনাকারীদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় বিকল্প। অর্থনৈতিক দিক থেকে কোন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে লাভজনক হবে, তার একক কোনো উত্তর নেই। যদি পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত বাজার করার অভ্যাস থাকে, তাহলে ওয়ালমার্টই অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথেষ্ট। অন্যদিকে চার থেকে ছয় সদস্যের পরিবার, যাদের বাসায় পর্যাপ্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং যারা মাসে এক বা দুইবার বড় পরিমাণে কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য কস্টকো বা স্যামস ক্লাবের সদস্যপদ নেওয়া লাভজনক হতে পারে। বিশেষ করে যদি বাসার কাছেই এসব স্টোর থাকে এবং একই সঙ্গে সেখান থেকে জ্বালানিও নেওয়া যায়, তাহলে সদস্যপদের খরচ কয়েক মাসের মধ্যেই উঠে আসতে পারে। শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের দাম নয়; স্থানীয় অফার, কুপন, মৌসুমি মূল্যছাড় এবং নিজের কেনাকাটার অভ্যাস বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই শহরের ভিন্ন শাখাতেও পণ্যের দাম ও অফারে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। তাই বাজারের খরচ কমাতে চাইলে সদস্যপদ নেওয়ার আগে নিজের এলাকার স্টোরগুলোর মূল্য, অফার এবং সদস্যপদের সুবিধাগুলো যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, চালু হতে পারে ওয়াটার বাস
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা কমার আশঙ্কা, উদ্বেগে অবসরপ্রাপ্তরা
সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ? টেক্সাসের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিভাবকরা
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেইলর ফার্মস তাদের টেনেসি শাখার সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান থিউরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। মামলায় তার স্ত্রীসহ আরও কয়েকজনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত টেইলর ফার্মস টেনেসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রায়ান থিউর। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, বিক্রেতা নির্বাচন ও হিসাবরক্ষণে তার ব্যাপক কর্তৃত্ব ছিল। সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বছরের পর বছর কোম্পানির অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, একটি আইআরএস (ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস) নিরীক্ষা এবং কোম্পানির নিজস্ব তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ব্রায়ান থিউর গোপনে তার স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্যালিকাসহ নিজের ব্যক্তিগত কর্মচারী যাদের মধ্যে একজন ব্যক্তিগত রাঁধুনি, চালক, ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক ও মেরামতকর্মীও ছিলেন—তাদের কোম্পানির বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে দেখিয়েছিলেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানির অর্থ দিয়ে হাওয়াইয়ে প্রায় ৫৫ লাখ ডলারের বাড়ি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০০ একরের একটি খামার কেনা এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে প্রায় ১০ লাখ ডলারের একটি তহবিল গঠনের অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে রেকর্ড করা এক ফোনালাপে ব্রায়ান থিউর কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি টেইলর ফার্মসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রুস টেইলরের কাছে ভয়েসমেইল পাঠিয়ে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির প্রতিনিধিদের পাঠানো বার্তায়ও বিষয়টি স্বীকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। টেইলর ফার্মস আদালতের কাছে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত, দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য আইনি প্রতিকার চেয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত বলে গণ্য হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট
ইরান অনুরোধ করেছিল, বড় হামলা তাই বন্ধ থাকবে: ট্রাম্প