বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের এখন বসবাস টেনেসির এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে থাকছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের মেমফিস প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ তদারকি করতে তিনি প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। বিষয়টি মাস্ক নিজেই জানিয়েছেন।
১৫ সেপ্টেম্বর ‘অল-ইন’ পডকাস্টের এক অনুষ্ঠানে ভিডিও সংযোগে অংশ নেন মাস্ক। সেখানে তিনি মেমফিসে নিজের থাকার জায়গাকে মজা করে ‘প্রাসাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, সেটি একটি এয়ারস্ট্রিম ট্রেলার। অনুষ্ঠানে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েলও উপস্থিত ছিলেন।
মাস্ক মেমফিসে অবস্থান করছেন এক্সএআইয়ের ‘কলসাস’ সুপারকম্পিউটার প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজের কারণে। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য এই বিশাল কম্পিউটার অবকাঠামো ব্যবহার করছে। মেমফিসে এক্সএআইয়ের অবকাঠামো আরও বাড়ানোর কাজও চলছে।
গুইন শটওয়েল অনুষ্ঠানে বলেন, মাস্ক মেমফিসে থেকে নির্মাণকাজে যুক্ত আছেন। তিনি আরও জানান, মাস্ক এমনভাবে কাজ করেন যে প্রয়োজন হলে কারখানার মেঝেতেও ঘুমিয়ে থাকেন। এর আগে বিভিন্ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার অভ্যাসও তাঁর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাস্কের বর্তমান থাকার জায়গাটি কোনো বিলাসবহুল বাড়ি নয়। এয়ারস্ট্রিমের বিভিন্ন ট্রেলারে সীমিত জায়গার মধ্যে ঘুমানোর ব্যবস্থা, রান্নাঘর ও বাথরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকে। তবে মাস্ক ঠিক কোন মডেলের এয়ারস্ট্রিম ট্রেলারে থাকছেন, তা তিনি জানাননি।
বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও তুলনামূলক সাধারণ জায়গায় থাকার বিষয়টি মাস্কের জন্য নতুন নয়। ২০২০ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের বেশির ভাগ সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং কোনো বাড়ির মালিক থাকতে চান না। পরে অবশ্য টেক্সাসের অস্টিনে একাধিক বাড়ি কেনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগেও কাজের প্রয়োজনে কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার নজির রয়েছে মাস্কের। জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের বর্ণনা অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যবসা ও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি অফিস বা কারখানার কাছাকাছি থেকেছেন। ২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণের পরও তিনি কোম্পানির কার্যালয়ে ঘুমিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।
মেমফিসে তাঁর বর্তমান অবস্থানও মূলত কাজকেন্দ্রিক। এক্সএআইয়ের কম্পিউটিং অবকাঠামো সম্প্রসারণের সময় প্রকল্পের কাছাকাছি থেকে কাজের অগ্রগতি দেখছেন তিনি। ফলে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হয়েও বর্তমানে তাঁর অস্থায়ী থাকার জায়গা হয়ে উঠেছে টেনেসির একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলার।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ছবি ও ভিডিওকে ঘিরে ভয়াবহ তদন্তে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের মধ্যে ৫ নারীকে মৃত বা মৃত অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা, আর আরও ২ নারী এখনো নিখোঁজ। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারীদের কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কাউকে অভিযুক্তও করা হয়নি। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু ফিলাডেলফিয়ার অলনি এলাকার ওয়েস্ট চিউ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন বসবাস করতেন প্রয়াত রেমন্ড ‘আরসি’ হর্শ এবং তার ছেলে ইউজিন হর্শ। রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। তিনি যৌনধর্মী ছবি ও ভিডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার কাজের বড় একটি ডিজিটাল সংগ্রহ বাড়িটিতে সংরক্ষিত ছিল। ফিলাডেলফিয়া পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক ভ্যানোরে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যালোচনা করেছেন। এর মধ্যেই ৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আরও ২৫ জনকে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, আরও বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও এখনো পর্যালোচনা করা বাকি। নতুন করে তদন্তে যুক্ত হয়েছে আরও দুই নারী। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ভিডিও ও ছবিতে প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে অচেতন ও শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ দেখা গেছে। পরিবারটির অনুরোধে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আরেকটি ছবিতে মধ্য বিশের এক নারীকে আহত ও প্রাণহীন অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে আরও তিন নারীকে শনাক্ত করে তাদের মৃত বলে ধারণা করেছিল পুলিশ। তদন্তে আলোচিত নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, মারিবেল ফ্রেসেস ও নিকোল ফুসারো। ফুসারো ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা একটি ভিডিওতে রেমন্ড হর্শকে তার গলায় বাঁধন দেওয়ার মতো আচরণ করতে দেখা যায়। তবে তার মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। আরও দুই নিখোঁজ নারী হলেন ব্লেয়ার টনজেলি ও অ্যামি ম্যাকহেল। টনজেলি ২০২৩ সালে নিখোঁজ হন। ম্যাকহেল ছিলেন রেমন্ড হর্শের সাবেক স্ত্রী এবং ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন। তদন্তের শুরু হয় চলতি বছরের জুনে ইউজিন হর্শ গ্রেপ্তার হওয়ার পর। ফিলাডেলফিয়ায় তাকে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে আটক করা হয়। তার কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়পত্রও পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে ব্লেয়ার টনজেলির পরিচয়পত্র পাওয়ার পর তদন্তকারীদের নজর আরও গভীরভাবে ওই বাড়ির দিকে যায়। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও, কম্পিউটার সরঞ্জাম, রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। বাড়িতে পাওয়া রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে একটি কথিত ল্যাবরেটরির মতো জায়গা, বিভিন্ন রাসায়নিকের পাত্র এবং পাঁচটি ছাই রাখার পাত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু পাত্রে মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা রয়েছে। তবে এসব দেহাবশেষ নিখোঁজ নারীদের কারও কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা রাসায়নিকগুলো কোনোভাবে প্রমাণ নষ্ট বা দেহাবশেষ গোপন করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত আরও জটিল হয়েছে কারণ রেমন্ড হর্শের তৈরি অনেক ছবি ও ভিডিওতে সহিংসতার দৃশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসবের কিছু দৃশ্য সাজানো বা অভিনয় হতে পারে। আবার কিছু দৃশ্য বাস্তব সহিংসতার ঘটনাও হতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশঙ্কা। তাই ভিডিওতে দেখা প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, শুধু ভিডিওর দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করতে তারা সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করছে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশ ও এফবিআই যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। এফবিআই ফিলাডেলফিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়েইন জ্যাকবস জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে বাড়িটিতে আরও তল্লাশি চালানো হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের লক্ষ্য দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নয়, বরং উদ্ধার করা বিপুল ডিজিটাল তথ্যের প্রতিটি অংশ যথাসম্ভব যাচাই করে নিখোঁজ নারীদের পরিচয় ও তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজে বের করা। ইউজিন হর্শ বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়পত্রসংক্রান্ত ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে। তবে নিখোঁজ নারীদের মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। একইভাবে, রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধেও এসব ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা এখনো ডিজিটাল প্রমাণ, রাসায়নিক পদার্থ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে দেখছেন। তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্যের মাত্র একাংশ এখনো পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে ফিলাডেলফিয়ার ওই বাড়িকে ঘিরে নিখোঁজ নারীদের রহস্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আরও তথ্য যাচাই ও নতুন তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাগুলোর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।
মিনিয়াপলিসে ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি করার অভিযোগ, হেনেপিন কাউন্টি জেলে আইসিই এজেন্ট
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের এখন বসবাস টেনেসির এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে
নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খাবারের শহর হলো নিউ অরলিন্স
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি কাঁকড়ার থাবায় ব্লেডের মতো ধারালো বস্তু নিয়ে ঘোরার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এডুয়ার্ডো আলভারেজ নামের এক ব্যক্তি তার বাড়ির উঠানে ঘটনাটি ভিডিও করেন। সেখানে তার পোষা কুকুর সামারকে কাঁকড়াটির দিকে এগিয়ে যেতে এবং পরে প্রাণীটিকে কুকুরটির দিকে থাবা বাড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। আলভারেজ বুধবার ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘ফ্লোরিডা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।’ প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে এবং ২ কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সামার নামের কুকুরটি উঠানের এক পাশে থাকা কাঁকড়াটির দিকে এগিয়ে যায়। প্রাণীটি তখন একটি থাবা উঁচিয়ে কুকুরটির দিকে এগোনোর চেষ্টা করে। কাঁকড়াটির অন্য থাবায় থাকা ছোট একটি ধারালো বস্তু ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায়। কুকুরটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আলভারেজ দ্রুত এগিয়ে যান। তিনি কাঁকড়াটিকে ধরার চেষ্টা করলে সেটি থাবা নাড়াতে থাকে। কয়েকবার চেষ্টা করার পর তিনি প্রাণীটিকে ধরে উঠানের অন্য অংশে সরিয়ে নেন। কুকুরটিকে সেটির কাছ থেকে দূরে থাকতে সতর্কও করেন তিনি। ঘটনার অস্বাভাবিকতায় আলভারেজ নিজেও বিস্মিত হন। ভিডিওতে তাকে কুকুরটির উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, এমন একটি ধারালো বস্তু হাতে থাকা কাঁকড়া থেকে দূরে থাকাই ভালো। পরে মজা করে তিনি প্রাণীটিকে ‘গ্যাংস্টার কাঁকড়া’ বলে অভিহিত করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ ঘটনাটিকে ফ্লোরিডার অদ্ভুত ঘটনার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। আলভারেজের কাছেও এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেননি। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা কাঁকড়াটি সম্ভবত ব্লু ল্যান্ড ক্র্যাব বা নীল স্থল কাঁকড়া। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, এই প্রজাতির পূর্ণবয়স্ক কাঁকড়া সাধারণত নীলচে-ধূসর রঙের হয় এবং দেহের খোলস প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। এদের একটি থাবা অন্যটির তুলনায় বড় হয়। দক্ষিণ ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকায় এদের বেশি দেখা যায় এবং সাধারণত উপকূল থেকে ৫ মাইলের বেশি দূরে পাওয়া যায় না। এই কাঁকড়া মূলত স্থলভাগে বসবাস করে এবং গর্ত তৈরি করে থাকে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরা প্রধানত উদ্ভিদজাত খাবার খায়, তবে মাঝে মাঝে পোকামাকড়ও খেতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় এরা মানুষের জন্য হুমকি নয়। তবে হাতে ধরার চেষ্টা করলে শক্ত থাবা দিয়ে কামড় দিতে পারে। ভিডিওতে দেখা ধারালো বস্তুটি ছোট ছুরি বা পকেট ছুরির অংশ বলে মনে হচ্ছে। তবে কাঁকড়াটি কীভাবে সেটি থাবায় পেল, তা এখনো জানা যায়নি। প্রাণীটি নিজে কোনো অস্ত্র সংগ্রহ করেছে, নাকি অন্য কোনোভাবে সেটি তার থাবায় আটকে গেছে, সে বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের ঘটনা একেবারে নতুনও নয়। ২০২২ সালে জাপানে ক্যাম্পিং করার সময় কাইল কিং নামে এক ব্যক্তি একটি বড় নারকেল কাঁকড়াকে ছুরি হাতে দেখতে পেয়েছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টের পুরোনো প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। রাত ২টার দিকে তাঁবুর বাইরে শব্দ শুনে বের হওয়ার পর তিনি কাঁকড়াটিকে একটি স্টেক ছুরি থাবায় ধরে থাকতে দেখেন। তবে ফ্লোরিডার সাম্প্রতিক ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠলেও এডুয়ার্ডো আলভারেজের প্রকাশ করা ভিডিওতে কাঁকড়াটির অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যাচ্ছে। প্রাণীটির থাবায় থাকা ধারালো বস্তুটির উৎস অবশ্য এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট, ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তায় বছরে ব্যয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি
ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নিহত তিন সন্তানের মা
ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে জীবনাবসানের ওষুধ নেওয়ার সুযোগ এখন আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা চিকিৎসকের কাছে এমন ওষুধের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা তাঁরা নিজেরাই গ্রহণ করবেন। ‘অপশনস ফর টার্মিনালি ইল পেশেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইনটি ‘ডেব’স ল’ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গভর্নর জেবি প্রিটজকার এতে স্বাক্ষর করেন এবং ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আইনটি কার্যকর হয়। ইলিনয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩তম অঙ্গরাজ্য, যেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের এই পদ্ধতি আইনি অনুমোদন পেয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতেও একই ধরনের আইন রয়েছে। আইনটির নাম ‘ডেব’স ল’ রাখা হয়েছে ডেব রবার্টসনের নামে। ইলিনয়ের লম্বার্ড এলাকার সাবেক সমাজকর্মী রবার্টসন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ক্যানসারে ভুগছেন এবং মরণাপন্ন রোগীদের নিজের জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রচারণা আইনটি পাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীকে ইলিনয়ের প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা হতে হবে এবং এমন একটি মরণাপন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হবে, যাতে চিকিৎসকদের হিসাবে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাব্য সময় ছয় মাসের কম। একই সঙ্গে রোগীকে নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোগীর চিকিৎসক এবং একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর রোগ, সম্ভাব্য আয়ু এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। প্রক্রিয়াটি শুরু করতে রোগীকে নিজের চিকিৎসকের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। এর পাশাপাশি অন্তত পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি মৌখিক অনুরোধ করতে হবে। দ্বিতীয় চিকিৎসকের অনুমোদনও প্রয়োজন। কোনো রোগীর পাঁচ দিনের মধ্যে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক নির্ধারিত অপেক্ষার সময় কমিয়ে দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর হয়ে পরিবারের সদস্য, অভিভাবক বা অন্য কোনো প্রতিনিধি আবেদন করতে পারবেন না। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুরোধটি অবশ্যই রোগীকে নিজেকেই করতে হবে। আগাম স্বাস্থ্য নির্দেশনা বা স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমেও এই আবেদন করা যাবে না। চিকিৎসকের দায়িত্বও আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোগীকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, ওষুধ গ্রহণের সম্ভাব্য ফলাফল এবং চাইলে আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে জানাতে হবে যে প্রেসক্রিপশন পাওয়ার পরও ওষুধটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসক রোগীর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। আইন অনুযায়ী, চিকিৎসকরা এই কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য নন। কোনো চিকিৎসক রোগীর অনুরোধে প্রেসক্রিপশন দিতে না চাইলে তাঁকে অন্য এমন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতে হবে, যিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার কারণে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আইন কার্যকর হওয়ার পর রোগীদের জন্য চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইলিনয়ে এই সেবা দেওয়া চিকিৎসক বা বিশেষায়িত ফার্মেসির কোনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আইন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি অনলাইন আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থের বিষয়টিও রোগীদের জন্য বাধা হতে পারে। আইনে স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ওষুধের খরচ বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই ধরনের ওষুধের জন্য রোগীকে কয়েকশ থেকে প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত নিজ খরচ করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাও কিছু রোগীর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। নিজের ভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রয়োজনীয় দোভাষীর সুবিধা না থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। আইনটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। ধর্মীয় সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের কয়েকটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছে। তাদের একটি অংশের দাবি, আইনটি অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই। শিকাগোর ক্যাথলিক আর্চবিশপ কার্ডিনাল ব্লেইজ কাপিচও আইনটির বিরুদ্ধে করা একটি ফেডারেল মামলায় যুক্ত হয়েছেন। মামলাকারীদের দাবি, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলছে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না চাওয়া প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের ওপর আইনি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আইনটি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া মুসলিম চিকিৎসকদের একটি দলও পৃথক মামলায় দাবি করেছে, আইনটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের করা আরেক মামলায় আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইলিনয়ের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। ১৯৯৭ সালে ওরেগনে প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কমপ্যাশন অ্যান্ড চয়েসেস নামের একটি জাতীয় সংগঠনের হিসাবে, গত প্রায় তিন দশকে যেখানে এই ব্যবস্থা বৈধ, সেখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ ধরনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন পেয়েছেন এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষ তা গ্রহণ করেছেন। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন আইনের আওতায় চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট তথ্য রোগীর মৃত্যুর পর ৬০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য গোপনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর কারণে ভবিষ্যতে আইনের প্রয়োগে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে আইনটি কার্যকর রয়েছে এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা ইলিনয়ের বাসিন্দারা এর আওতায় আবেদন করতে পারছেন। সূত্র: শিকাগো সান-টাইমস ও ইলিনয় ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ।
ডালাসে চার মাসের শিশুর জীবনরক্ষা, ৭৫ জনের বেশি চিকিৎসাকর্মীর চেষ্টায় বাড়ি ফিরল কেনজি
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি মা ও মেয়ের কড়াই কিচেন