মহাসড়কে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু, উবারকে ৪০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বাবা-মাকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের সালিশি শুনানি শেষে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ. স্টোন উবার ও চালক ভু ট্রানকে ওই ঘটনায় যৌথভাবে দায়ী করেন। নিহত এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা ক্যারল নরম্যান্ডিন ও মা কেন পার্কারকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট। এমিলি তার বন্ধু লুনা মুরের সঙ্গে রাতে বাইরে যাওয়ার পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। যাত্রাপথে মুর অসুস্থ হয়ে পড়লে চালক ভু ট্রান অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩-এর একটি ‘গোর পয়েন্টে’ গাড়ি থামান। এটি মহাসড়কের মূল সড়ক ও অফ-র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির একটি অংশ।
সালিশি রায়ে বিচারক স্টোন ওই জায়গাটিকে ‘অনিরাপদ ও অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ডের প্রস্থানপথ ব্যবহার করে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে পারতেন। রায়ে আরও বলা হয়, ট্রান জানতেন দুই যাত্রীই মদ্যপ ছিলেন। গাড়ি পরিষ্কারের খরচ নিয়ে মুরের সঙ্গে তার বিরোধের পর তিনি তাদের ওই স্থানে নামিয়ে দেন।
এরপর এমিলি মহাসড়কের মূল সড়কে চলে যান এবং একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। সালিশি রায়ে বলা হয়েছে, জিপিএস তথ্য অনুযায়ী ট্রান সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় এমিলির মরদেহের কাছ দিয়ে যান। এরপর পরবর্তী প্রস্থানপথ দিয়ে মহাসড়ক থেকে বের হয়ে তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গাড়ি পরিষ্কারের খরচ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন।
বিচারক স্টোন ট্রানের সাক্ষ্য নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। সালিশি রায়ে তার বক্তব্যকে প্রায় সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিচারকের মতে, ট্রান যাত্রীদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজের নতুন গাড়ি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। একই সঙ্গে তার কাছে দুই নারীকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
এমিলির পরিবারের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সালিশি শুনানিতে ট্রানের আগের আচরণ নিয়েও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তাদের দাবি, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে উবারের কাছে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ছিল। একজন যাত্রী তার সঙ্গে হওয়া যাত্রাকে নিজের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে অনিরাপদ যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আরেকজন অভিযোগ করেছিলেন, ট্রান গাড়ি চালাতে পারেন না।
এমিলির বাবা কেন পার্কার অভিযোগগুলোর মধ্যে একমুখী সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অনিয়মিতভাবে গাড়ি চালানো এবং পথচারীদের প্রায় ধাক্কা দেওয়ার মতো আচরণের কথা উল্লেখ করেন। তবে উবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রান এখন আর তাদের প্ল্যাটফর্মে চালক হিসেবে কাজ করেন না।
পাঁচ দিনের সালিশি প্রক্রিয়া শেষে এমিলির বাবা ও মাকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় তার বন্ধু লুনা মুরকে ৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
সালিশি রায়ে উবারকে চালক ট্রানের অবহেলার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করা হয়। উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি মূলত যাত্রী ও চালকদের সংযোগকারী একটি প্রযুক্তি কোম্পানি। তবে বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে বলা হয়, উবার অ্যাপের মাধ্যমে পরিবহনসেবা দেয়, ভাড়া নির্ধারণ করে এবং যাত্রীদের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ‘প্রপোজিশন ২২’ নিয়েও উবারের যুক্তি ছিল। ২০২০ সালে অনুমোদিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যাপভিত্তিক চালকদের কর্মচারীর পরিবর্তে স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সালিশি বিচারক মনে করেন, এই বিধান ট্রানের আচরণের জন্য উবারকে দায়মুক্তি দেয় না।
উবার এক বিবৃতিতে এমিলির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কোনো পরিবারেরই সন্তান হারানোর কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। তবে উবার একই সঙ্গে জানিয়েছে, সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও প্রতিষ্ঠানটিকে ওই ঘটনার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। উবার আরও জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন প্রযুক্তি, নীতিমালা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে এমিলির বাবা-মা মেয়ের মৃত্যুর পর তার স্মরণে ‘এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাইডশেয়ারিং সেবায় যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং করপোরেট জবাবদিহি নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই ফাউন্ডেশনটি গঠন করা হয়েছে। সালিশি মামলায় পাওয়া অর্থের একটি অংশ এই উদ্যোগে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এমিলি ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। মেয়েকে স্মরণ করে তার মা জানিয়েছেন, এমিলির হাসি ছিল সংক্রামক। পরিবার জানিয়েছে, তিনি ছিলেন হাসিখুশি এবং গান গাইতে ভালোবাসতেন।
সূত্র: গুড মর্নিং আমেরিকা
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreডারহাম পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহাম ফ্রিওয়ের দক্ষিণমুখী লেনে ফায়েটভিল স্ট্রিটের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির টায়ার পাংচার হওয়ায় রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে টায়ার পরিবর্তনের জন্য বাইরে নেমেছিলেন ৩৭ বছর বয়সী রাকেশ বাবু পুজারি। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। দুর্ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত ৩ নভেম্বর জুলিয়েন জোসেফ নামে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ডারহাম পুলিশ। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপেক্স এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হিট অ্যান্ড রান বা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর প্রায় ১২ মাইল গাড়ি চালিয়ে যান জোসেফ। পরে প্রথমে স্ত্রীকে ফোন করেন এবং এরপর জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ যোগাযোগ করেন। তবে এক স্টেট ট্রুপারের কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, তার গাড়ির সঙ্গে একটি হরিণের ধাক্কা লেগেছে। জোসেফ এক লাখ ডলারের জামানতবিহীন বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার আদালতে হাজিরাও দেন তিনি। মুক্তির নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের আগের অপরাধের রেকর্ড না থাকা, স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা ও অনুশোচনা প্রকাশের বিষয়টিও জামিনের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরবর্তী আদালতে হাজিরার তারিখ আগামী বছরের ১৪ জানুয়ারি। এদিকে রাকেশের মৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা। বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের আর্থিক সহায়তা ও স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তিনি। ভারতে থাকা পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেওয়ার পর স্বজনেরা ভেঙে পড়েন। বন্ধু মোহাম্মদ শেখজি বলেন, রাকেশ ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও সদয় মনের মানুষ। তার মৃত্যুর খবর প্রথম শোনার পর তারা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন। বন্ধুরা জানান, রাকেশ সব সময় অন্যের উপকার করতেন এবং সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। তার সেই মানবিক গুণাবলিই তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। রাকেশের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা মানুষের প্রতি আরও সদয় ও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মোহাম্মদ শেখজির ভাষায়, রাকেশ যেমন মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, তেমনি প্রত্যেকেরই উচিত একে অপরের প্রতি সহায়ক ও মানবিক হওয়া। স্ত্রী ও স্বজনদের রেখে যাওয়া রাকেশকে শেষ পর্যন্ত ভারতে সমাহিত করা হয়েছে।
১০ ডলারের অপমান, ৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের ভালোবাসা পেলেন চার সন্তানের বাবা
বাংলাদেশি একই পরিবারের দুই সদস্য নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে, স্বজনদের আনন্দ বার্তা
ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভবিষ্যতে কোনো প্রেসিডেন্ট যাতে ওভাল অফিস ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলোর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি। নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় ওভাল অফিসের পাশাপাশি আউটার ওভাল অফিস এবং ক্যাবিনেট রুমকেও জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কক্ষের ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, ওভাল অফিসে তাঁর প্রশাসন অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। তাই ভবিষ্যতে কেউ যেন এই ঐতিহাসিক কক্ষের দেয়াল ভেঙে ফেলতে কিংবা এর মূল নকশা পরিবর্তন করতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি। ওভাল অফিসকে হোয়াইট হাউসের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানান, নতুন ঘোষণার মাধ্যমে ওভাল অফিস ও ক্যাবিনেট রুমের বড় ধরনের পরিবর্তন সীমিত করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো প্রেসিডেন্ট ওভাল অফিসের গোলাকার কাঠামো পরিবর্তন করে সেটিকে চৌকো করতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। এ বিষয়ে ঘোষণাপত্রটি কংগ্রেসে পাঠিয়ে অনুমোদন নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত মূল ঘোষণাপত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার নির্দিষ্ট বিধান নেই। এতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য পরিবর্তনের আগে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত, পর্যালোচনা এবং বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টিকুইটিজ অ্যাক্টের আওতায় ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে স্বরাষ্ট্র বিভাগের অধীন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের ওপর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কক্ষগুলোর ঐতিহাসিক স্থাপত্য, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হিসেবে গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে একটি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। তবে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টরা প্রয়োজন অনুযায়ী আসবাবপত্র পরিবর্তন, সাজসজ্জা এবং সাধারণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সংস্কার করতে পারবেন। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ওভাল অফিসের সাজসজ্জায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন ট্রাম্প। কক্ষটির দেয়ালে সোনালি অলংকরণ, নতুন প্রতিকৃতি, বিশেষ আয়না এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের একটি অনুলিপি স্থাপন করেছেন তিনি। ক্যাবিনেট রুমেও নতুন ঝাড়বাতি ও অন্যান্য সাজসজ্জা যোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে বিশাল বলরুম নির্মাণের প্রকল্পও হাতে নিয়েছেন ট্রাম্প। এসব পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা ও আইনি বিতর্কের মধ্যেই ওভাল অফিস সংরক্ষণের নতুন ঘোষণা এল। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টদের ওভাল অফিসের সাজসজ্জা পরিবর্তন থেকে পুরোপুরি বিরত রাখতে পারবে না। এমনকি পরবর্তী কোনো প্রেসিডেন্ট চাইলে ঘোষণাটির পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের উদ্যোগও নিতে পারেন। এর আগে ট্রাম্প নিজেও পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের দেওয়া কয়েকটি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা পরিবর্তন করেছেন। ফলে নতুন ঘোষণার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গত ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ ও সংস্কার নিয়ে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদসূত্র: হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র (৫ নভেম্বর ২০২৬), এবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের টহল বাড়ানোর অনুমোদন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের
মিনেসোটায় নির্বাচনে জয়ী সোমালি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী, ডে-কেয়ারে অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক
ট্রাম্পের ২৫০ ফুট স্মারক তোরণ নির্মাণে অনুমোদন, আটকে দিলেন আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলে যাওয়ার পথে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের হাতে আটক ও আহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাঁর কবজিতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। একজন মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীর নাম এরিক জেপেদা। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং সান্তা মারিয়া হাইস্কুলের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী। তাঁর এমন কিছু শারীরিক ও যোগাযোগগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যার কারণে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং স্পষ্টভাবে কথা বলা তাঁর জন্য কঠিন। দ্য গার্ডিয়ানের ৫ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সকালে প্রতিদিনের মতো হেঁটে স্কুলে যাচ্ছিলেন এরিক। এ সময় মুখোশ পরা কয়েকজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁর কাছে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও ভিডিও পর্যালোচনা করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, কর্মকর্তারা তাঁকে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরান এবং একটি সরকারি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এরিকের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন এবং আঘাত করেন। তিনি জানান, ওই সময় তাঁর মনে হয়েছিল তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে। তিনি কোনো অন্যায় করেননি বলেও দাবি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সময় গাড়িতে রাখার পর কর্মকর্তারা তাঁকে ছেড়ে দেন। চোখে আঘাত ও কবজিতে তীব্র ব্যথা নিয়ে এরিক বাকি পথ হেঁটে স্কুলে পৌঁছান। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কবজির হাড় ভাঙার বিষয়টি ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচার করা হয়। এরিকের সাবেক বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক ও ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা গ্লেন গোল্ডিন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এরিককে চেনেন। অনেক চেষ্টার পর গত বছর এরিক একা স্কুলে যাতায়াত শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং কয়েক সপ্তাহ স্কুলে ফিরতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। সিনেটর অ্যাডাম শিফ ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিনিধি সালুদ কারবাহালও পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। সান্তা মারিয়া পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা অ্যাটর্নি, ক্যালিফোর্নিয়া বিচার বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে আইসিই কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট অভিবাসনবিষয়ক অভিযানে ছিলেন। তাঁদের ধারণা হয়েছিল, এরিক তাঁদের খোঁজা ব্যক্তির বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছেন। সংস্থার দাবি, এরিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ মানেননি এবং প্রতিরোধ করেছিলেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আইসিই আরও দাবি করেছে, তাঁর হাড় ভাঙার অভিযোগ সত্য নয় এবং তিনি কর্মকর্তাদের কাছে চিকিৎসা সহায়তা চাননি। অন্যদিকে এরিকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের ছাড়পত্রে কবজির হাড় ভাঙার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে এবং এ কারণে তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। সান্তা মারিয়া ও পাশের এলাকার কয়েকটি স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনো শিক্ষার্থী যেন স্কুলে যাওয়ার পথে এমন ঘটনার শিকার না হন। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা, আটকের কারণ এবং শারীরিক আঘাতের বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। তাই পুরো ঘটনার দায় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ কীভাবে এমন ভীতিকর অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো, তা নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এরিকের পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অপমানের ভিডিও ভাইরাল, চার সন্তানের বাবার জন্য প্রায় ৮ লাখ ডলার দিলেন মানুষ
নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ডুবন্ত ব্যক্তিকে বাঁচালেন মা, কৃতজ্ঞতা জানাতে ফিরলেন তিনি