সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

জাপানে গবেষণা ইন্টার্নশিপে সুযোগ পেলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম

Unknown প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৫:২১
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম। ছবি;সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম। ছবি;সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সেস (এনআইপিএস)-এর একটি প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা ইন্টার্নশিপে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নভেম্বরে তিনি জাপানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মলিকুলার নিউরোইমিউনোলজি ল্যাবরেটরিতে স্নায়ুবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

 

এই ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে তাহিয়া বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ আলঝেইমার রোগ, স্মৃতিভ্রম এবং অন্যান্য স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ নিয়ে চলমান গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। গবেষণায় মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, স্নায়ুকোষের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হবে।

 

তাহিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজ জীবন থেকেই গবেষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর গবেষণাগারের সীমিত সুযোগ-সুবিধা তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার প্রস্তুতি নিতে অনুপ্রাণিত করে। নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে নিজের দক্ষতা বাড়িয়েছেন। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইলেও বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

 

তাহিয়া জানান, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার প্রতি আগ্রহ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং সিনিয়রদের দিকনির্দেশনা তাঁকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তাঁর লক্ষ্য ভবিষ্যতে মলিকুলার জেনেটিকস বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করা এবং মানবস্বাস্থ্যের জটিল রোগের সমাধানে অবদান রাখা।

 

স্থানীয় সূত্র এবং বিজ্ঞান সংগঠনের সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া থেকে প্রতিবছর খুব সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ধরনের গবেষণা ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে "প্রতি বছর মাত্র দুই থেকে তিনজন" নির্বাচিত হওয়ার দাবির স্বাধীন সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ তথ্যকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

তাহিয়ার বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশ নিতে চাইলে শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নতুন কিছু শেখার আগ্রহ, গবেষণার দক্ষতা, কার্যকর যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতি। তাঁর মতে, বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ তৈরি হয় নিজের সক্ষমতা গড়ে তোলার মাধ্যমে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দিতে আদালতের নির্দেশ
সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দিতে আদালতের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার অবিলম্বে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ফেডারেল বিচারক টিম কেলি এই আদেশ জারি করেন।   আদেশে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’ হিসেবে উল্লেখ করে আগামী ১৪ দিনের জন্য তা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধাগ্রস্ত হন এবং পরবর্তীতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন।   আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে বিচারক টিম কেলি এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দেন। আদেশে তিনি স্পষ্ট জানান, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে বা পাস ফিরিয়ে দিলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে— এমন কোনো বাস্তব প্রমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।   এর আগে সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ক্রমাগত মিথ্যা ও মনগড়া লেখা ছড়ানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।   ওই সময় ভুয়া খবর প্রচারকারী অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ ও ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর নাম উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আদালতের সর্বশেষ আদেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:৫০
নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিককে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল

নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিককে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত পর্যালোচনার নির্দেশ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ননসিটিজেন ভোটার খুঁজতে ভোটার তালিকা দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশ হোয়াইট হাউসের

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে শহরের সাবওয়েতে ভ্রমণ করছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মামদানির সঙ্গে সাবওয়ে ট্রেনে ঘুরলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে শহরের সাবওয়েতে ভ্রমণ করেছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন। বুধবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির নিউইয়র্ক আইরিশ সেন্টার পরিদর্শনের পর তারা একসঙ্গে সাবওয়েতে ওঠেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন মার্টিন।   নিউইয়র্ক আইরিশ সেন্টারে গিয়ে দুই নেতা আইরিশ-আমেরিকান প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটান এবং সাপ্তাহিক বিঙ্গো খেলায় অংশ নেন। পরে কয়েক ব্লক হেঁটে তারা সাবওয়ে স্টেশনে যান। সেখানে সাতটি স্টেশন পর্যন্ত একসঙ্গে ট্রেনে ভ্রমণ করেন মামদানি ও মার্টিন। এ সময় কয়েকজন নিউইয়র্কবাসী তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন।   সাবওয়ে যাত্রার সময় নিউইয়র্ক ও আয়ারল্যান্ডের আবাসন সংকট নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। মার্টিন জানান, আয়ারল্যান্ডে আবাসন সংকট তাদের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। মামদানিও বলেন, নিউইয়র্কে আবাসন সংকট তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিউইয়র্কে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নতুন আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েও তিনি কথা বলেন।   আয়ারল্যান্ডের প্রস্তাবিত মেট্রোলিংক প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। মার্টিন জানান, প্রায় ১৯ বিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে টানেল নির্মাণের বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে আয়ারল্যান্ডের। অন্যদিকে মামদানিকে আয়ারল্যান্ডে অল-আয়ারল্যান্ড ফাইনাল দেখতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান মার্টিন।   সাবওয়ে যাত্রায় আইরিশ ঐতিহ্য ও নিউইয়র্কের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘ সম্পর্কও উঠে আসে। মার্টিন মামদানিকে গ্যালিক অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশন বা জিএএ-এর ইতিহাস সম্পর্কে জানান। এই সফরকে নিউইয়র্ক ও আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবেও তুলে ধরেছে আইরিশ সংবাদমাধ্যম।   এ সময় আয়ারল্যান্ডের ঐক্য নিয়েও মামদানিকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আইরিশ জনগণের এবং তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণের নীতিতে বিশ্বাস করেন। তবে তাদের নিউইয়র্কের সাক্ষাতের মূল আলোচনায় ছিল আবাসন, পরিবহন, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং নিউইয়র্কে আইরিশ কমিউনিটির ভূমিকা।   সূত্র: দ্য জার্নাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১২:২৮
নিরাপত্তা সতর্কবার্তার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা সতর্কতার পর তারাহুরোয় নিউইয়র্ক ছাড়লেন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে ১৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট জেতা জেমস ফার্থিং। ছবি: সংগৃহীত

১৬৭ মিলিয়ন ডলার লটারি জিতেও বদলাল না ভাগ্য, পঞ্চমবারের মতো ঘুমন্ত অবস্থায় জয়ী গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের ফুটপাতে গৃহহীনদের গড়ে তোলা শিবিরের বিষয়ে নতুন পদ্ধতি ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে গৃহহীন শিবির নিয়ে মমদানির নতুন নীতি, পুলিশের ভূমিকা বদল

ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ব্যবহারের পর অপ্রত্যাশিতভাবে মা হওয়া সেই নারী ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন বন্ধ্যা, ওজেম্পিক নেওয়ার পর দুই বছরে তৃতীয় সন্তানের মা

দুই বছর আগেও চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন, সন্তান ধারণের সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু এরপর ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ব্যবহারের পর অপ্রত্যাশিতভাবে গর্ভধারণ করেন এক নারী। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারীর দীর্ঘদিন ধরে সন্তান ধারণে সমস্যা ছিল। চিকিৎসকেরা তাকে বন্ধ্যাত্বের কথা জানিয়েছিলেন। পরে ওজন কমানোর জন্য তিনি ওজেম্পিক ব্যবহার শুরু করেন। এর পরপরই তার গর্ভধারণের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তার গর্ভধারণের সরাসরি কারণ ওজেম্পিক ছিল, এমন প্রমাণ এই ব্যক্তিগত ঘটনার মাধ্যমে পাওয়া যায় না।   ওজেম্পিকের মূল উপাদান সেমাগ্লুটাইড। এটি মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় এবং ওজন কমাতেও এর ব্যবহার রয়েছে। শরীরের ওজন কমার পাশাপাশি কিছু নারীর হরমোন ও মাসিক চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে স্থূলতা ও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএসের সঙ্গে সন্তান ধারণের সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।   সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় সেমাগ্লুটাইড ও উর্বরতার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় পিসিওএস ও অতিরিক্ত ওজন থাকা নারীদের মধ্যে সেমাগ্লুটাইড ও মেটফরমিনের সমন্বিত ব্যবহারে ওজন কমার পাশাপাশি মাসিক চক্র ও স্বাভাবিক গর্ভধারণের কিছু উন্নতি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এর ফল থেকে সবার ক্ষেত্রে একই প্রভাব হবে বলা যায় না।    অন্যদিকে, ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি বড় বাস্তবভিত্তিক গবেষণায় বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নেওয়া অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকা নারীদের মধ্যে সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারের সঙ্গে গর্ভধারণ ও জীবিত সন্তান জন্মের হার কম এবং গর্ভধারণে বেশি সময় লাগার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।    তাই ওই নারীর অভিজ্ঞতাকে ওজেম্পিকের প্রমাণিত উর্বরতা বৃদ্ধির ফল হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ওজন কমার ফলে কারও মাসিক চক্র বা ডিম্বস্ফোটনে পরিবর্তন এলে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বদলাতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিভেদে এর কারণ আলাদা হতে পারে।   গর্ভাবস্থায় সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারের বিষয়েও সতর্কতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ওজেম্পিকের অনুমোদিত তথ্য অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ওষুধটির নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষের ওপর পর্যাপ্ত তথ্য নেই এবং প্রাণীর ওপর গবেষণায় ভ্রূণের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা গেছে। তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা বা গর্ভাবস্থায় এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৫৪
নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই বিভিন্ন খাতের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আয়োজিত জব ফেয়ার বা নিয়োগ মেলা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য ৭ চাকরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই আবেদন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার চুক্তিতে ঢাকাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি: সংগৃহীত

আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ খোঁজার আগে যে ৫টি বিষয় যাচাই করবেন, জেনে নিন

0 Comments