সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ট্রাম্প ২০২৮’ জেনারেলের পোশাকে ট্রাম্প, পোস্টে ফের তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ২:৪
ট্রুথ সোশ্যালে জেনারেল জর্জ এস. প্যাটনের আদলে সামরিক পোশাকে নিজের এআই ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রুথ সোশ্যালে জেনারেল জর্জ এস. প্যাটনের আদলে সামরিক পোশাকে নিজের এআই ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা একটি প্রচারণামূলক ছবি এবং জেনারেলের পোশাকে নিজের একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেন তিনি। পোস্ট দুটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। 

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি ছবিতে তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন জেনারেল জর্জ এস. প্যাটনের আদলে সামরিক পোশাকে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা প্রচারণামূলক বার্তা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নির্ধারিত দুই মেয়াদের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। 

 

মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে ট্রাম্পের ২০২৮ সালের সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে ইঙ্গিত বাস্তবে সাংবিধানিক বাধার মুখে রয়েছে। অতীতেও তিনি একাধিকবার তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে মন্তব্য করলেও পরে স্বীকার করেছেন যে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর নির্বাচন করতে পারবেন না। 

 

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টের পর সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, সামরিক প্রতীক এবং এআই-নির্মিত চিত্র ব্যবহার করে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে তার সমর্থকদের একটি অংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা ও প্রতীকী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন। 

 

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এ ধরনের পোস্ট রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও উসকে দিলেও, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে একটি নৌকা থেকে সন্দেহভাজনদের নামিয়ে দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে নামিয়ে পালিয়ে গেল নৌকা

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বন্দরে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের নামিয়ে দেওয়ার পর তাদের বহনকারী নৌকা নিয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা একদল অভিবাসীকে একটি নৌকায় করে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আনা হয়। পরে তাদের একটি বন্দরে নামিয়ে দিয়ে নৌকাটি সেখান থেকে চলে যায়। ঘটনাটিকে কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে সমুদ্রপথে অভিবাসী আনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনা হিসেবে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল দিয়ে নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা নতুন নয়। চলতি বছরও ইউএস কোস্ট গার্ড দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল থেকে একাধিক সন্দেহভাজন অভিবাসীকে আটক করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগোর প্রায় ২১ মাইল পশ্চিমে একটি পাঙ্গা-ধরনের নৌকা থেকে ১৬ জনকে আটক করে কোস্ট গার্ড। তাদের পরে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর সান্তা বারবারা আইল্যান্ডের প্রায় তিন মাইল দক্ষিণে ২৪ জন সন্দেহভাজন অভিবাসীকে একটি নৌকা থেকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড তাদের নিউপোর্ট হারবারে নিয়ে যায় এবং সেখানে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করে।    কোস্ট গার্ডের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ছোট নৌকা ব্যবহার করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর চ্যানেল আইল্যান্ডস হারবার থেকে প্রায় ৮৮ মাইল দূরে একটি ৩০ ফুটের নৌকা থেকে ৩৭ জন সন্দেহভাজন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। নৌকাটিতে জ্বালানি, খাবার ও পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং সেটি দুই দিন ধরে ভাসছিল। পরে ৩৭ জনকেই বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    নতুন ঘটনাটির ক্ষেত্রে ঠিক কতজনকে বন্দরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জাতীয়তা কী এবং নৌকাটি কোথা থেকে এসেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   তবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রপথে সন্দেহজনক নৌযান শনাক্ত হলে তারা ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী অভিবাসন ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১১:২৭
নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও এর খরচ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পাতালরেলে পুলিশের ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল শেষ, বাড়তি খরচ দিচ্ছে মামদানি প্রশাসন

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সমস্যার কারণে আবারও ফ্লাইট ব্যাহত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইন যে ক্ষতিপূরণ ও রিফান্ড দেয়, জানুন যাত্রী অধিকার

পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ লতিফ। ছবি: সংগৃহীত

চুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ

চলতি সপ্তাহে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক পেমেন্ট পেতে যাচ্ছেন লাখ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল সিকিউরিটিতে এ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার, কারা পাচ্ছেন! জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী চলতি সপ্তাহে সেপ্টেম্বরের মাসিক পেমেন্ট পেতে যাচ্ছেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার অবসর, সারভাইভার ও সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি ইন্স্যুরেন্সের সেই সুবিধাভোগীদের পেমেন্ট যাবে, যাদের জন্ম মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে। এ সপ্তাহের পেমেন্ট নিয়ে আলোচনায় থাকা ৫,১৮১ ডলার হলো ২০২৬ সালে ৭০ বছর বয়সে রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট শুরু করা নির্দিষ্ট যোগ্য কর্মীর সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা, সবার জন্য প্রযোজ্য অঙ্ক নয়।   সোশ্যাল সিকিউরিটির নিয়ম অনুযায়ী, বেশিরভাগ অবসর, সারভাইভার ও সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি ইন্স্যুরেন্স সুবিধাভোগীর পেমেন্ট জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাসের তিনটি বুধবারে ভাগ করে দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ১ থেকে ১০ তারিখে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীদের পেমেন্ট গেছে ৯ সেপ্টেম্বর, ১১ থেকে ২০ তারিখে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পেমেন্ট গেছে ১৬ সেপ্টেম্বর। ২১ থেকে ৩১ তারিখে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের অফিসিয়াল পেমেন্ট ক্যালেন্ডারেও এই সময়সূচি রয়েছে।   তবে সবাই এই জন্মতারিখভিত্তিক সূচি অনুসরণ করেন না। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট পাওয়া শুরু করেছিলেন, তাদের জন্য আলাদা পেমেন্ট সূচি রয়েছে। একইভাবে যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি ও সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই দুটিই পান, তাদের পেমেন্টের তারিখও আলাদা হতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসে এসএসআই পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর এবং নির্দিষ্ট কিছু সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর পেমেন্ট গেছে ৩ সেপ্টেম্বর।   ৫,১৮১ ডলারের অঙ্কটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সাধারণ মাসিক পেমেন্ট নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কেউ যদি ২২ বছর বয়স থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের সীমা পর্যন্ত আয় করেন এবং ৭০ বছর বয়সে অবসর সুবিধা শুরু করেন, তাহলে তার সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা হতে পারে ৫,১৮১ ডলার। একই ধরনের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড থাকা কেউ ৬২ বছর বয়সে সুবিধা শুরু করলে সর্বোচ্চ ২,৯৬৯ ডলার এবং পূর্ণ অবসর বয়সে শুরু করলে সর্বোচ্চ ৪,১৫২ ডলার পেতে পারেন।   অর্থাৎ ৫,১৮১ ডলার পেতে হলে দীর্ঘ কর্মজীবনে সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের পর্যায়ে থাকা এবং ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত সুবিধা নেওয়া পিছিয়ে দেওয়ার মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির জন্য সর্বোচ্চ করযোগ্য আয় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার। তবে শুধু কোনো এক বছরে এই পরিমাণ আয় করলেই সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যায় না। একজনের আজীবনের আয়ের রেকর্ড এবং সুবিধা নেওয়ার বয়সসহ বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত পেমেন্ট নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।   বাস্তবে বেশিরভাগ অবসরপ্রাপ্ত মানুষ ৫,১৮১ ডলার পান না। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গড়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মাসে প্রায় ২,০৭১ ডলার পাওয়ার কথা ছিল। জুলাই ২০২৬-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা ছিল ২,০৮৫ দশমিক ৯৮ ডলার। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সুবিধা ও গড় সুবিধার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।   চলতি বছরে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় কার্যকর হয়েছে। ২০২৬ সালে পূর্ণ অবসর বয়সে অবসর নেওয়া ব্যক্তির সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪,১৫২ ডলার হয়েছে। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর প্রকৃত পেমেন্ট তার নিজের আয়ের ইতিহাস, কখন সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন এবং কোন ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে। নিজের সম্ভাব্য পেমেন্ট জানতে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত সুবিধার হিসাব দেখা যায়।   এদিকে সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখের পর নিয়মিত জন্মতারিখভিত্তিক পেমেন্ট চক্র শেষ হবে। এরপর অক্টোবরের পেমেন্ট সূচি শুরু হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত পেমেন্টের দিন ছুটির দিন বা সপ্তাহান্তে পড়লে সাধারণত আগের কর্মদিবসে পেমেন্ট দেওয়া হয়। কোনো সুবিধাভোগীর নির্ধারিত দিনে টাকা না এলে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা হয়েছে ধরে না নিয়ে প্রথমে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:২০
আলাস্কায় বন্দুক দুর্ঘটনায় নিহত তরুণী ক্লোরে ম্যাকব্রেয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বন্দুক নিয়ে ‘খেলতে গিয়ে’ দুর্ঘটনাবশত প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা, এরপর নিজেই আত্মহত্যা করলেন যুবক

এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সিপিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের সিপিটিতে কড়াকড়ি, ইন্টার্নশিপে নতুন শর্ত

বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবের চ্যাম্পিয়নশিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

গলফ খেলায় আবারও বিতর্কে ট্রাম্প, প্রতারণা করে ট্রফি জেতার অভিযোগ

ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তা না হলে দেশটির অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে এবং ইরানের নেতৃত্বও নির্মূল হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে আসার প্রস্তুতির মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।   রোববার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের নেতাদের সামনে চুক্তি করা অথবা অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের ঝুঁকি নেওয়ার বিকল্প রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিউইয়র্কে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।   অন্যদিকে, ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যেসব আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেবে, তাদেরও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কাতারে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তার নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে।    ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার কয়েকটি শর্তও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিও আগের চুক্তির বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে তেহরান।    ফলে একদিকে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে তেহরানকে চুক্তিতে আনতে চাইছে, অন্যদিকে ইরান নতুন হামলার আশঙ্কা তুলে পাল্টা প্রতিরোধের বার্তা দিচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা একই শহরে অবস্থান করায় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।    সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।    Source: রয়টার্স, এপি, আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:৫৩
ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক

ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক

মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার

মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার

নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের

নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের

0 Comments