সুরক্ষা হারিয়ে সাউথ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সাউথ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের সাময়িক সুরক্ষা বাতিলের পথ খুলে গেছে। শুক্রবার দুই ফেডারেল বিচারক অভিবাসন অধিকারকর্মীদের করা শেষ মুহূর্তের আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছেন।
এর ফলে প্রায় ২৩২ জন সাউথ সুদানের নাগরিক এবং প্রায় ৪ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক নির্বাসন থেকে পাওয়া টিপিএস হারাতে পারেন।
টিপিএসের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের নিজ দেশে সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসন থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তারা বৈধভাবে কাজের অনুমতিও পান।
বোস্টনের ফেডারেল বিচারক প্যাটি সারিস সাউথ সুদানের টিপিএস বাতিলের বিরুদ্ধে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। কয়েক ঘণ্টা পর শিকাগোর বিচারক ম্যাথিউ কেনেলিও মিয়ানমারের ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত দেন।
অভিবাসন অধিকারকর্মীদের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ—ডিএইচএস—টিপিএস বাতিল করার আইনগত ক্ষমতা রাখে না। তবে বিচারকরা সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
সাউথ সুদান ২০১১ সাল থেকে টিপিএস সুবিধা পেয়ে আসছে। দেশটিতে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে এই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। আর মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
আইনি লড়াই চলার সময় আদালতের দেওয়া প্রশাসনিক স্থগিতাদেশের কারণে এসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে ও কাজ করতে পারছিলেন। নতুন রায়ের ফলে সেই সুরক্ষা শেষ হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, টিপিএস বাতিল হলে এমন মানুষদেরও নির্বাসনের মুখে পড়তে হবে, যাদের নিজ দেশে এখনো সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা রয়েছে।
ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল বলেছেন, নতুন দুই রায়ের পর এখন শুধু ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত আদালতের বাধার মুখে রয়েছে।
এর আগে জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে যায়। সেই রায়ের পর নিচের আদালতগুলোর পক্ষে ডিএইচএসের টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এখন সাউথ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সেই একই আইনি ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হাজারো টিপিএসধারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করেছেন বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্লিনটন পরিবারের সঙ্গে ইউনূসের এই সাক্ষাৎ মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এনেছে। ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সামাজিক উদ্যোগের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে আয়োজিত দুই দিনের এই সম্মেলনে বৈশ্বিক বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ইউনূসও সম্মেলনের আমন্ত্রিত বক্তাদের একজন ছিলেন। মাইক্রোক্রেডিটের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিল ক্লিনটনের সঙ্গে ইউনূসের যোগাযোগ শুরু হয় কয়েক দশক আগে। ১৯৮০-এর দশকে বিল ক্লিনটন যখন আরকানসাসের গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল সম্পর্কে জানতে ইউনূসের সঙ্গে কাজ করেন। ক্লিনটন পরে নিজেই জানিয়েছিলেন, ১৯৮৪ সালে ওয়াশিংটনে একটি গভর্নরদের বৈঠকের সময় ইউনূসের সঙ্গে তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ হয়। এরপর আরকানসাসে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঋণ দেওয়ার একটি কর্মসূচি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালে ইউনূস আরকানসাসের লিটল রকের গভর্নরের বাসভবনে ক্লিনটন দম্পতির সঙ্গে দেখা করেন এবং বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের অভিজ্ঞতা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। পরে আরকানসাসে গুড ফেইথ ফান্ড নামে একটি মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ কর্মসূচি গড়ে ওঠে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন বিভিন্ন বক্তব্যে এই উদ্যোগের পেছনে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণার প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গেও মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে ইউনূসের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে তিনি ক্ষুদ্রঋণকে নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো এবং বিশেষ করে নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির একটি উপায় হিসেবে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। ১৯৯৫ সালে মেয়ে চেলসি ক্লিনটনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সফরের সময় হিলারি ক্লিনটন গ্রামীণ ব্যাংকের একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি গ্রামীণ নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেন। ক্লিনটন লাইব্রেরির সংরক্ষিত নথি অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল হিলারি ও চেলসি ক্লিনটন যশোরে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি গ্রামভিত্তিক প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তারা ঋণগ্রহীতা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেন। পরদিন তারা ঢাকায় যান। পরবর্তী বছরগুলোতেও হিলারি ক্লিনটন মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে তার আগ্রহের কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি বলেছিলেন, আরকানসাসে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ও বিল ক্লিনটন বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনূসের পরামর্শে আরকানসাসে ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তাদের মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করেছিল। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়। ২০০৬ সালে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং বিশেষ করে নারীদের আর্থিকভাবে সম্পৃক্ত করার মডেলটি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে আলোচিত হয়। নিউইয়র্কে এবারের ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের মঞ্চে ইউনূসের অংশগ্রহণ সেই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক যোগাযোগেরই আরেকটি পর্ব হিসেবে সামনে এসেছে। বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ একই সঙ্গে বাংলাদেশে উদ্ভূত মাইক্রোক্রেডিট ধারণার যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তারের কয়েক দশকের ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
টেক্সাসে সারোগেট মায়ের আবেদন খারিজ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতির কাছেই থাকছে সন্তান
ইসরায়েলি তাণ্ডব নিয়ে জাতিসংঘে ম্যাক্রোঁর ক্ষোভ, ক্রোধে পাল্টা জবাব নেতানিয়াহুর
মেইনে আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত ব্যক্তির ৩ বছরের মেয়ের কার সিটেও লাগে গুলি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনাসদস্যের প্রকাশ্য সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগনের প্রকাশ্য সামরিক হতাহতের ডাটাবেসে নতুন করে এক নারী আর্মি অফিসারের মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হওয়ার পর এই সংখ্যা দাঁড়ায়। ওই কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে সামরিক বিমানে যাওয়ার সময় প্রাণঘাতী শারীরিক জরুরি অবস্থার শিকার হন বলে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ওই নারী অফিসারের মৃত্যু ঘটে। তবে পেন্টাগন তখনও তার মৃত্যুর বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি। পরে ২১ সেপ্টেম্বর ডিফেন্স ক্যাজুয়েলটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমে নতুন তথ্য যুক্ত করা হয়। নিহত সেনার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নতুন মৃত্যুর তথ্যটি পেন্টাগনের ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ ক্যাটাগরিতে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে ইরান যুদ্ধসংশ্লিষ্ট প্রকাশ্য হিসাবের মধ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে ১৪ জন এবং আলাদা ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ ক্যাটাগরিতে পাঁচজনের মৃত্যু তালিকাভুক্ত হয়েছে। পেন্টাগনের প্রকাশ্য ডাটাবেসে এই দুই ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা এখন ১৯। তবে মার্কিন সেনা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে ছয় মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রকাশ্য ডাটাবেসের চেয়ে বেশি হতে পারে। ওই প্রতিবেদনের সময় পেন্টাগনের প্রকাশ্য হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৮ জন। পেন্টাগন ওই হিসাবের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নতুন করে ১৯তম মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হওয়ায় যুদ্ধের সামরিক হতাহতের হিসাব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত সেনাদের মৃত্যুর ধরন এবং কোন অপারেশনের সঙ্গে তাদের মৃত্যু যুক্ত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সামরিক বাহিনীতে কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর তার মৃত্যু দায়িত্ব পালনের সময় ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক তদন্ত করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরিবারের প্রাপ্য বিভিন্ন সুবিধা ও সারভাইভার বেনিফিটের বিষয়ও যুক্ত থাকতে পারে। পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরির অধীনে তালিকাভুক্ত ১৪ মৃত্যুর মধ্যে সাতজনের মৃত্যু ‘হোস্টাইল’ এবং সাতজনের মৃত্যু ‘নন-হোস্টাইল’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া নারী আর্মি অফিসারের মৃত্যুও নন-হোস্টাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তার মৃত্যু সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে হামলায় ঘটেছে বলে পেন্টাগনের প্রকাশ্য শ্রেণিবিন্যাসে দেখানো হয়নি। ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হতাহতের হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় রয়েছে। নতুন করে আরও একজন সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ্য তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এখন নজর থাকবে পেন্টাগনের পরবর্তী আপডেট এবং সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।
৬৯৪ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা, হাজারো গাড়ি ঋণগ্রহীতার জন্য আসছে বড় আর্থিক স্বস্তি
১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ভিসায় বাধ্যতামূলক সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই
১০ শতাংশের বেশি পর্যন্ত কমছে বাড়ির বিমার হার, স্বস্তি পেতে পারেন ৬২ হাজারের বেশি মালিক
ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় পছন্দ বা ইবি-৩ ক্যাটাগরির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিয়ে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রথমে সঠিকভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। তাকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিদর্শিত ও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া, অথবা প্যারোল করা হয়ে থাকতে হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। এ ছাড়া আবেদনকারীকে অভিবাসী ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার সময় ও ইউএসসিআইএসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়—দুই সময়েই তার জন্য অভিবাসী ভিসা অবিলম্বে পাওয়ার মতো অবস্থায় থাকতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, যে নিয়োগকর্তা আবেদনকারীর জন্য ফর্ম আই-১৪০ জমা দিয়েছেন, তার দেওয়া চাকরির অফারটি তখনও বহাল থাকতে হবে এবং আই-৪৮৫ অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে সেই চাকরি গ্রহণের ইচ্ছা থাকতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য তাকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে অথবা অগ্রহণযোগ্যতার কোনো শর্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েইভার বা আইনি সুবিধার জন্য যোগ্য হতে হবে। সবশেষে, ইউএসসিআইএসকে আবেদনকারীর পক্ষে গ্রিন কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত সব শর্ত পূরণ করলেও আবেদনটি অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চাকরি পরিবর্তন করলে কী হবে? ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আই-১৪০ অনুমোদনের পর চাকরি পরিবর্তন করলেই আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যান না। ফর্ম আই-৪৮৫ অন্তত ১৮০ দিন মুলতবি থাকার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। নতুন চাকরিটি আগের চাকরির মতো বা একই ধরনের পেশাগত শ্রেণিতে হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে চাকরি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ইবি-৩সহ কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে চাকরির অফার ও সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনকারীদের ফর্ম আই-৪৮৫, আই-১৪০ এবং প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টসহ সব নথি সঠিকভাবে জমা দেওয়া এবং নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে ডিপ্লোমা ছাড়াই চাকরির সুযোগ, চলছে নিয়োগ
গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র