স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় স্ত্রীকে চ্যাটজিপিটির সহায়তার অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের আলোচনা থেকে স্বামীকে বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনা তৈরিতে চ্যাটজিপিটি সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা জেমস গেটস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই চ্যাটবটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী শেরিল গেটস প্রথমে সংসারের সমস্যা ও ব্যক্তিগত হতাশা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলতেন। একপর্যায়ে সেই কথোপকথন স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা পর্যন্ত গড়ায়। ২০২৫ সালে কথিত বিষ প্রয়োগের ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হলেও প্রাণে বেঁচে যান জেমস। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে চ্যাটবটের কথোপকথনের তথ্য সামনে আসার পর তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেমস গেটসের আইনজীবীরা গত ৫ নভেম্বর সান ফ্রান্সিসকো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুতে জেমসের পরামর্শেই তাঁর স্ত্রী শেরিল কাজের সুবিধার জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করেন। পেশাগত কাজে প্রতিবেদন তৈরি, ওষুধসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি নিয়মিত চ্যাটবটটি ব্যবহার করতেন। পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ ও বিচ্ছেদের আলোচনা শুরু হলে শেরিল দাম্পত্য সমস্যা নিয়েও চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ধীরে ধীরে শেরিলের কথোপকথনের ধরন বদলে যায়। তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নজরদারি করা, তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়া এবং সন্তানদের নিয়ে আর্থিকভাবে অসহায় অবস্থায় ফেলে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করতেন। জেমসের আইনজীবীদের দাবি, চ্যাটজিপিটি এসব সন্দেহ যাচাই না করে সেগুলোকে আরও জোরালো করেছে। তাঁদের অভিযোগ, চ্যাটবটটি শেরিলের অবিশ্বাস ও ভয়কে প্রশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি স্বামীকে বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনা এবং তা গোপন রাখার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
জেমসের দাবি, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে বাড়িতে রাখা কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংকের স্বাদ অস্বাভাবিক তেতো মনে হতে শুরু করে তাঁর। একই বছরের ১০ জুলাই তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে তাঁর হৃদ্যন্ত্রসংক্রান্ত সমস্যা, পেটব্যথা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, অস্থিরতা ও বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপরও দীর্ঘদিন তিনি বুঝতে পারেননি তাঁর অসুস্থতার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে। প্রায় দুই মাস পর স্ত্রীর হাতে লেখা একটি নোট পাওয়ার পর তাঁর সন্দেহ আরও বাড়ে।
ওই নোটে ওলিয়েন্ডার নামের বিষাক্ত উদ্ভিদ এবং কয়েকটি প্রেসক্রিপশন ওষুধের উল্লেখ ছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। একই নোটে চ্যাটজিপিটির কথোপকথন মুছে ফেলা এবং অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করার নির্দেশনাও লেখা ছিল। জেমসের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, শেরিল চ্যাটজিপিটির কাছে ওলিয়েন্ডারের বিষাক্ততা, খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা এবং ময়নাতদন্তে তা শনাক্ত করা যাবে কি না, এমন প্রশ্ন করেছিলেন। মামলায় সংযুক্ত কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশটকে নিজেদের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তাঁরা।
এই ঘটনার পর জেমস পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০২৫ সালে শেরিলকে স্বামীকে হত্যাচেষ্টা এবং খাবার বা পানীয় দূষিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে প্রসিকিউটররা তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাটি প্রত্যাহার করেন। ফলে শেরিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এখন জেমসের নতুন দেওয়ানি মামলার মূল বিষয় হলো, চ্যাটজিপিটির নকশা ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল কি না এবং কথোপকথনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি শনাক্ত করে তা বন্ধ করার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না।
মামলায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মোট নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্য নকশায় অবহেলা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা দিতে ব্যর্থতা এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ। জেমসের দাবি, চ্যাটবটটি তাঁর স্ত্রীর সন্দেহ ও ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং কথিত হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল। তিনি আদালতের কাছে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। একই সঙ্গে চ্যাটবটের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়টিও মামলায় গুরুত্ব পেয়েছে।
অন্যদিকে ওপেনএআই তাদের বক্তব্যে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে জেমসের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এ মামলার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং অন্য ব্যক্তির ক্ষতির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দায় কতটা, তা নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সংবাদসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, সিবিএস নিউজ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreউচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শামীম নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন। সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয় বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে ব্রুকলিনের কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত ও শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে শনিবার, ৭ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বাংলা আওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেদী হাসান শামীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পড়াশোনা শেষ করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু নিউইয়র্কে আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁর চিকিৎসা ও সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় শামীম সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর গাড়ির চালক আহত শিক্ষার্থীকে সহায়তা না করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় শামীমের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। শরীরের অভ্যন্তরেও রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর শামীমের পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর পরিবার বাংলাদেশে থাকায় এই সংকটময় সময়ে স্বজনেরা সরাসরি পাশে থাকতে পারছেন না। দূর থেকে তাঁরা চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা একজন শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ব্যক্তিগত সহায়তা এবং আইনি সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে, ঘটনার পর শামীম তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানিয়েছে বাংলা আওয়ার। খবর পেয়ে ফারহান আরিয়ান হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বর্ণবিদ্বেষমূলক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে এ ধরনের উদ্দেশ্যের পক্ষে পুলিশের কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। দুর্ঘটনাটি ব্রুকলিনের ঠিক কোন এলাকায় এবং কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গাড়ির চালককে শনাক্ত করা হয়েছে কি না কিংবা পুলিশ কোনো আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়। শামীমের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাই এখন তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা। সূত্র: সিএসবি নিউজ
স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় স্ত্রীকে চ্যাটজিপিটির সহায়তার অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
বিশ্বকে বোকা বানানো সেই জলপরীর আসল পরিচয় উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা
দাম আরও বাড়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের যে ৯ শহরে বাড়ি কেনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নগদ অর্থে পুরো মূল্য পরিশোধের হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের ১০ শতাংশ কোনো মর্টগেজ লোন ছাড়াই সম্পূর্ণ নগদ অর্থে বাড়ি কিনেছেন। বাড়ির উচ্চমূল্য ও মর্টগেজের সুদের চাপের মধ্যেও এমন রেকর্ডের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাবা-মা ও পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে পাওয়া সম্পদ। একই সময়ে প্রথমবার বাড়ি কেনার মধ্যম বয়স ৪০ বছরেই রয়ে গেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের ‘২০২৬ প্রোফাইল অব হোম বায়ার্স অ্যান্ড সেলার্স’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমবার বাড়ি কেনা ক্রেতাদের মধ্যে পুরো অর্থ নগদে পরিশোধের হার ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি সংস্থাটির জরিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নগদ অর্থে বাড়ি কেনা এই ক্রেতাদের ২৮ শতাংশ বাড়ি কেনার জন্য উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে মর্টগেজ নিয়ে বাড়ি কেনা প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যে এই হার মাত্র ৯ শতাংশ। সব ধরনের প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের মধ্যে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ ব্যবহারের হারও রেকর্ড ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং মার্কেটে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে সম্পদ হস্তান্তরের প্রভাব এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ জেসিকা লাউটজ বলেন, পারিবারিক সম্পদের এই পরিবর্তন এখনো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। তবে কারা প্রথম বাড়ি কিনতে পারছেন এবং জীবনের কোন পর্যায়ে বাড়ির মালিক হচ্ছেন, তার ওপর প্রভাব ফেলছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ পাওয়া অনেক ব্যক্তিই এখন তরুণ বয়সের পরিবর্তে মধ্যবয়সে পৌঁছে প্রথম বাড়ি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। জরিপের একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, প্রথমবার সম্পূর্ণ নগদ অর্থে বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যম বয়স ৫৪ বছর। বিপরীতে মর্টগেজ নিয়ে প্রথম বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যম বয়স ৩৮ বছর। অর্থাৎ দুই শ্রেণির ক্রেতাদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ১৬ বছর। সামগ্রিকভাবে প্রথমবার বাড়ি কেনার মধ্যম বয়স দাঁড়িয়েছে ৪০ বছর। কয়েক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের বয়স তুলনামূলক অনেক কম ছিল। বর্তমানে বাড়ির দাম, ভাড়া, শিক্ষাঋণ এবং ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড়ের চাপ অনেকের বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে। প্রথমবার বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্টের অর্থ সংগ্রহেও পারিবারিক সহায়তার ভূমিকা বাড়ছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ব্যক্তিগত সঞ্চয় ব্যবহার করেছেন। অবসরকালীন সঞ্চয়, শেয়ার বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ ব্যবহার করেছেন ৩০ শতাংশ। আর পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার বা ঋণ হিসেবে অর্থ পেয়েছেন ২৫ শতাংশ। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের ডাউন পেমেন্টের জন্য অর্থ দিচ্ছেন, মর্টগেজ লোনের সহস্বাক্ষরকারী হচ্ছেন অথবা নিজেদের বিনিয়োগ সম্পত্তি বিক্রি করে সন্তানদের বাড়ি কিনতে সহায়তা করছেন। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে ন্যাশভিলের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এমিলি ওয়ার্নার জানান, সম্প্রতি তাঁর কয়েকজন প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতা পরিবারের সহায়তায় ১০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বাড়ি সম্পূর্ণ নগদ অর্থে কিনেছেন। অন্যদিকে আইওয়ার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ব্র্যান্ডন উইন জানান, তিনি এমন ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, যাঁদের বাবা-মা বাজারে মর্টগেজের সুদের হার সাড়ে ৬ শতাংশ থাকার সময় মাত্র ৩ শতাংশ সুদে অর্থ ধার দিয়েছেন। এ ধরনের সহায়তা ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার খরচ কমিয়ে আনতে পারে। নগদ অর্থে বাড়ি কেনার আরেকটি সুবিধা হলো, মর্টগেজ অনুমোদনের অপেক্ষা করতে হয় না। ফলে বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত শেষ করা যায় এবং ঋণ অনুমোদন না হওয়ার ঝুঁকিও থাকে না। ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট অ্যান্থনি মিয়ান বলেন, একই বাড়ি কেনার জন্য একাধিক প্রস্তাব এলে অনেক বিক্রেতা নগদ অর্থে কেনার প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেন। কারণ এতে অর্থায়নসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কম থাকে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় পারিবারিক সম্পদ ক্রেতাদের কোন এলাকায় বাড়ি কেনার সামর্থ্য থাকবে, সেটিও প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে যারা আগে থেকেই বাড়ির মালিক, তারা নতুন বাড়ি কেনার বাজারে বড় সুবিধা পাচ্ছেন। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, মোট বাড়ি ক্রেতাদের ৭৮ শতাংশই আগে বাড়ি কিনেছেন এমন ব্যক্তি। এই শ্রেণির ক্রেতাদের ৩০ শতাংশ সম্পূর্ণ নগদ অর্থে বাড়ি কিনেছেন। তাঁদের মধ্যম বয়স ৬২ বছর এবং পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৭ হাজার ডলার। বিপরীতে প্রথমবার বাড়ি কেনা পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলার। প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যম ডাউন পেমেন্ট ছিল বাড়ির মূল্যের ৯ শতাংশ, আর আগের বাড়ির মালিকদের ক্ষেত্রে তা ১৯ শতাংশ। এদিকে মোট বাড়ি ক্রেতাদের মধ্যে প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের অংশ ২০২৫ সালের ২১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২২ শতাংশ হয়েছে। তবে ২০০৮ সালের আগের ঐতিহাসিক গড় প্রায় ৪০ শতাংশের তুলনায় এই হার এখনো অনেক কম। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের মতে, বাড়ির ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এখনো নতুন ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। চলতি বছরের শুরুর দিকে মর্টগেজের সুদের হার সাময়িকভাবে কমে যাওয়ায় কিছু নতুন ক্রেতা বাড়ি কেনার সুযোগ পেয়েছিলেন। বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালে বাড়ি বিক্রেতারা তাঁদের সম্পত্তি বিক্রির আগে মধ্যম হিসাবে ১২ বছর ধরে মালিক ছিলেন, যা নতুন রেকর্ড। বিক্রেতাদের ২২ শতাংশ পরিবার ও বন্ধুদের কাছাকাছি যেতে বাড়ি বিক্রি করেছেন। অন্যদের মধ্যে বাড়ি ছোট হওয়া, প্রয়োজনের তুলনায় বড় হওয়া, পারিবারিক অবস্থার পরিবর্তন কিংবা অবসর গ্রহণের কারণে বাড়ি বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আবাসন বাজারে নিজের সঞ্চয়ের পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ ও আগে থেকে থাকা বাড়ির ইকুইটি নতুন সম্পত্তি কেনার সামর্থ্য নির্ধারণে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সংবাদসূত্র: ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস, রিয়েলটর ডটকম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পেতে সাবেক স্ত্রীকে দুই বছর শেকল দিয়ে বেঁধে রাখলেন স্বামী
ভেটেরানস ডে উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ২৬ স্থানে বিনামূল্যে কার ওয়াশ
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর অভিবাসন নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিলেন হিউস্টনের মেয়র
যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের প্রচলিত শিক্ষাগন্তব্য নয়, উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে উত্তর কোরিয়াকেই বেছে নিয়েছিলেন রাশিয়ার তরুণী ডায়ানা কারাবেগোভিচ। মাত্র ১৯ বছর বয়সে দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে কিম ইল সুং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিময় শিক্ষার্থী হিসেবে কয়েক মাস পড়াশোনা করেন তিনি। সেখানে নিয়মিত ক্লাস, বাড়ির কাজ, ক্যাফেতে সময় কাটানো, ভলিবল খেলা, সাঁতার ও বরফের ওপর স্কেটিংয়ের মতো অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। তবে এসব সাধারণ শিক্ষাজীবনের আড়ালে ছিল বিশ্বের অন্যতম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি দেশের ভিন্ন বাস্তবতা। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন বর্তমানে ২৮ বছর বয়সী এই তরুণী। ডায়ানা রাশিয়ার মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরীয় ভাষা ছিল তাঁর প্রধান ভাষা। পড়াশোনার অংশ হিসেবে তিনি দুটি বৃত্তি পান। এর একটি ছিল উত্তর কোরিয়ার কিম ইল সুং বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং অন্যটি দক্ষিণ কোরিয়ার হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজে। দুই দেশের শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা কাছ থেকে বোঝার আগ্রহ থেকেই তিনি উভয় বিনিময় কর্মসূচিতেই অংশ নেন। তাঁর মতে, কোরীয় উপদ্বীপের ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতি বুঝতে দুই দেশের অভিজ্ঞতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উত্তর কোরিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়াটি তাঁর জন্য তুলনামূলক সহজ ছিল বলে জানান ডায়ানা। রাশিয়ার নিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর পড়াশোনার খরচ ও যাতায়াত ব্যয় বহন করে। অন্যদিকে কিম ইল সুং বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করে। মস্কোয় উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র পাওয়ার পর বিমানে পিয়ংইয়ং পৌঁছান। পর্যটকদের মতো সব সময় দলবদ্ধভাবে চলার বাধ্যবাধকতা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী হিসেবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা ও স্থানীয় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস করতে হতো ডায়ানাকে। সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন দুটি করে ক্লাস থাকত। এর মধ্যে ছিল পড়া ও কথা বলার অনুশীলন। শনিবার একটি কথোপকথনভিত্তিক ক্লাস হতো, আর রবিবার ছিল ছুটির দিন। ক্লাসের বাইরে শিক্ষার্থীরা বাড়ির কাজ করতেন এবং অবসর সময়ে একে অন্যের সঙ্গে সময় কাটাতেন। ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় যাওয়া, ভলিবল ও টেবিল টেনিস খেলা, সাঁতার কাটা এবং বরফের ওপর স্কেটিং ছিল তাঁদের নিয়মিত বিনোদনের অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে দেশের পাহাড়ি এলাকাতেও ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁরা। তবে উত্তর কোরিয়ায় একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা দেশটির সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। দেশটিতে গণমাধ্যম, ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রবাহের ওপর রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নির্বিচার আটক, জোরপূর্বক শ্রম, নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে তথ্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি সাংস্কৃতিক উপাদান দেখার কারণেও গুরুতর শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই কোরিয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে ডায়ানা জানান, উত্তর কোরিয়ায় তাঁর সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল সেখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা। তাঁর ভাষায়, স্থানীয় মানুষজনকে তিনি বেশ স্বাভাবিক, বন্ধুবৎসল ও সামাজিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হিসেবে দেখেছেন। তাঁরা বাইরে সময় কাটাতেন, রেস্তোরাঁয় যেতেন, গান গাইতেন এবং একসঙ্গে আনন্দ করতেন। কয়েকজন উত্তর কোরীয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজেকে অতিথির পরিবর্তে পরিবারের একজন সদস্য বলে মনে হয়েছে বলে জানান তিনি। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবধান বুঝতে দুই দেশেই পড়াশোনার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ডায়ানা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোরীয় উপদ্বীপ বিভক্ত হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া গড়ে ওঠে। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ হলেও দুই দেশের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়নি। উত্তর কোরিয়ায় কিম পরিবারের দীর্ঘদিনের শাসন, একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি দেশটিকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে। নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডায়ানা বলেন, উত্তর কোরিয়ায় তাঁর কয়েক মাসের অবস্থান দেশটির মানুষের জীবন সম্পর্কে জানার একটি বিরল সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পাওয়া অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের পুরো বাস্তবতা বোঝা সম্ভব নয়। তাঁর এই অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সীমিত সুযোগ এবং দেশটির সমাজ সম্পর্কে বাইরের বিশ্বের জানার সুযোগ কতটা সীমিত, তা নতুন করে সামনে এনেছে। সংবাদসূত্র: নিউজউইক, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অসহায়দের বিনামূল্যে নতুন পোশাক দিচ্ছে ‘কমপ্যাশন থ্রেডস’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাঝআকাশে দুই স্কাইডাইভারের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল দুজনের