- প্রচ্ছদ
- Topic
আইআরএস
যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমোদনের অবস্থা জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০২৬ সালের আয়কর ফরমের খসড়ায় এ-সংক্রান্ত নতুন প্রশ্ন যুক্ত করেছে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বা আইআরএস। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর দাখিলকারী প্রায় সব কর্মীকেই জানাতে হবে, তারা মার্কিন নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া বিদেশি। আইআরএসের ২০২৬ সালের খসড়া ১০৪০ ফরমে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, করদাতা এবং যৌথভাবে কর দাখিল করলে তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশি কি না। ফরমে করদাতা ও তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদা করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইআরএসের খসড়া ফরমে বলা হয়েছে, এই তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ফরম পূরণের অংশ হিসেবেই থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, নতুন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এমন অভিবাসীদের ফেরতযোগ্য কর-সুবিধা নেওয়া ঠেকানো যাবে, যারা ফেডারেল আইনের অধীনে এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস আগস্টে প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইনের আওতায় ফেরতযোগ্য কর-ক্রেডিটের অর্থকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি নাগরিকদের সেসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করা হবে। প্রশাসনের হিসাবে, এতে করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী ও পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর-সুবিধার বিষয় জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে অর্জিত আয় কর-সুবিধা বা ইআইটিসি এবং অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধা। ট্রেজারি ও আইআরএসের প্রস্তাবে শিশু কর-সুবিধা, অর্জিত আয় কর-সুবিধা, দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত কর-সুবিধা এবং আমেরিকান অপরচুনিটি কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশের ওপর নতুন যোগ্যতার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কর ও অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার ফর ট্যাক্সপেয়ার রাইটসের নির্বাহী পরিচালক নিনা ওলসনের মতে, আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়া করার জন্য করদাতার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থা জানা আইআরএসের প্রয়োজন নেই। তার যুক্তি, কর-সুবিধার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য আইআরএসের কাছে আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বরের তথ্য রয়েছে। আইআরএসের বর্তমান ব্যবস্থায় অর্জিত আয় কর-সুবিধা দাবি করা ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যের সঙ্গে যাচাই করা হয়। ফলে নতুন করে নাগরিকত্ব বা কাজের অনুমতির তথ্য চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর তা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে কি না, সে বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অননুমোদিতভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন কর-সুবিধা সংক্রান্ত বিধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বোস্টন ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির গবেষকদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার মানুষ এমন পরিবারে রয়েছেন যারা অর্জিত আয় কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ হারাতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার শিশু। অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এবং ৫ লাখ ৭৪ হাজার শিশু প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সম্ভাব্যভাবে সুবিধা হারাতে যাওয়া শিশুদের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গবেষকদের হিসাবে, এ ধরনের সুবিধা হারাতে পারে এমন শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই মার্কিন নাগরিক। কারণ তাদের বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থার কারণে পরিবারটি নতুন যোগ্যতার শর্তের আওতায় পড়তে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং কাজের অনুমতি থাকা কিছু অভিবাসীও প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষকদের বিশ্লেষণে ডাকা বা ডাকা-সুরক্ষিত অভিবাসী, সাময়িক সুরক্ষিত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট সাময়িক ভিসায় কাজ করা কিছু মানুষকে সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বিধির প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিতভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে আইআরএসের কর-তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিল। ২০২৫ সালে ট্রেজারি বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মধ্যে একটি তথ্য বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, যার আওতায় আইআরএসের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইসের সঙ্গে ভাগ করার বিষয়টি সামনে আসে। পরে ফেডারেল আদালতে এই তথ্য ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়। একটি ফেডারেল বিচারক পরবর্তী সময়ে আইআরএসের গোপন কর-তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ফেডারেল গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আইসের পাঠানো প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার নামের মধ্যে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই করে তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে দিয়েছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগে কর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। নতুন ১০৪০ ফরমের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমতির প্রশ্নটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে ফেরতযোগ্য কর-সুবিধার যোগ্যতা পরিবর্তনের বিধিটিও এখনো প্রস্তাবিত। ট্রেজারি ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত ও শুনানির সুযোগ রেখেছে। তাই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর ভাষা বা প্রয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের আইআরএস ও ট্রেজারি বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের জন্য নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে আইআরএস। এতে কর ফেরতের অগ্রগতি দেখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখা ও কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর অ্যাপটি চালুর ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। এটি আগের ‘আইআরএসটুগো’ অ্যাপের জায়গা নিয়েছে। কর ফেরতের অবস্থা জানতে অ্যাপে সাইন ইন করতে হবে না। সাইন ইন ছাড়াই নির্দিষ্ট কর পরিশোধ এবং বিনামূল্যে কর রিটার্ন দাখিলের সহায়তা খোঁজার সুবিধাও থাকছে। তবে সাইন ইন করলে করের বকেয়া, আগের পরিশোধের তথ্য, আইআরএসের পাঠানো নির্দিষ্ট চিঠি এবং করসংক্রান্ত নথি দেখা যাবে। সংশোধিত রিটার্নের ফেরতের অবস্থাও দেখা যাবে। আইআরএস জানিয়েছে, চালুর সময় অ্যাপে অনলাইন অ্যাকাউন্টের সব সুবিধা থাকছে না। যাঁদের ফোনে আগে থেকেই ‘আইআরএসটুগো’ আছে, তাঁদের আলাদা অ্যাপ নামাতে হবে না। স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু থাকলে পুরোনো অ্যাপটি নতুন সংস্করণে বদলে যাবে। অ্যাপটি বিনামূল্যে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লেতে পাওয়া যাচ্ছে। আইআরএসের নামে নকল অ্যাপ বা বার্তা থেকে সতর্ক থাকতে বলেছে সংস্থাটি। আসল অ্যাপ খুঁজতে আইআরএসের ওয়েবসাইটে থাকা যাচাইকৃত লিংক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা বা ইমেইলে আইআরএস ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চায় না বলেও জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে কিছু অঙ্গরাজ্যে এই ফেরত না নেওয়া অর্থের পরিমাণ অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য উঠে এসেছে। কর প্রস্তুতকারী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সিগমা ট্যাক্স প্রোর করা বিশ্লেষণে ২০১৮ থেকে ২০২২ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের আইআরএস তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে কত ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি, তা হিসাব করা হয়েছে। ২০২২ সালকে বিশ্লেষণের শেষ বছর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কারণ, ওই বছরের কর ফেরত পাওয়ার দাবির তিন বছরের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আইআরএসে ফেরত না নেওয়া অর্থের তথ্য পাওয়া যায়। আলাস্কায় প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৮ ডলার। ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে আনুমানিক ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। সেখানে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৭২১ ডলার। পাঁচ বছরের প্রতিটি বছরেই জনসংখ্যার অনুপাতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণে আলাস্কা শীর্ষে ছিল। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে আনুমানিক ৫৫৪ জনের সম্ভাব্য কর ফেরত পাওনা ছিল। আলাস্কার পর ছিল ওয়াশিংটন, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই ও নেভাদা। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল উইসকনসিনে। ২০২২ সালে সেখানে আনুমানিক ১ কোটি ৪৮৭ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। জনসংখ্যার অনুপাতে এই পরিমাণ ছিল প্রতি এক লাখ বাসিন্দায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৯ ডলার। অঙ্গরাজ্যটিতে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৬৫৮ ডলার। উইসকনসিনের পর ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটা। প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৭ ও ২ লাখ ৭১ হাজার ৪১৭ ডলার। পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অবস্থানে বড় পরিবর্তনও দেখা গেছে। ২০১৮ সালে ৪০তম অবস্থানে থাকা মন্টানা ২০২২ সালে ২৩তম স্থানে উঠে আসে। অ্যারিজোনা ২৬তম থেকে ১১তম এবং মিসিসিপি ৪১তম থেকে ৩০তম অবস্থানে উঠে আসে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় পতন দেখা যায় কলোরাডোতে। ২০১৮ সালে ১৩তম অবস্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটি ২০২২ সালে ৩৫তম স্থানে নেমে যায়। বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইয়ান গার্ডনার বলেন, করব্যবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব কিংবা আইআরএসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অডিট বা অতিরিক্ত করের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগের কারণে অনেকে তাদের পাওনা কর ফেরত দাবি করেন না। তবে তার মতে, কয়েকশ ডলারের মধ্যম পরিমাণের এই সম্ভাব্য ফেরত অনেক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসীদের জন্য কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট চার ধরনের কর ক্রেডিট থেকে করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন যোগ্যতা না থাকা অভিবাসীরা। তবে তাঁরা নিজেদের বকেয়া আয়কর কমানোর জন্য এসব কর ক্রেডিটের মূল অংশ ব্যবহার করতে পারবেন। বুধবার প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) বলেছে, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল কল্যাণ আইন অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ নন এমন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার আওতায় ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশও পড়বে। প্রস্তাবটি এখন জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত। নতুন প্রস্তাবটি চার ধরনের কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিট, শিশু কর ক্রেডিট, আমেরিকান অপরচুনিটি কর ক্রেডিট এবং অর্জিত আয় কর ক্রেডিট। এই কর ক্রেডিটগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ কোনো করদাতার পাওনা করের পরিমাণের চেয়ে ক্রেডিট বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ সাধারণত কর ফেরত হিসেবে পাওয়া যায়। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে অননুমোদিত অভিবাসীরা তাঁদের করের দায় কমানোর জন্য ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারলেও অতিরিক্ত অংশ নগদ ফেরত হিসেবে পাবেন না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা ১৯৯৬ সালের আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ হতে হবে। কর ক্রেডিট প্রথমবার দাবি করার সময় এই যোগ্যতা থাকতে হবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের সুবিধায় ব্যবহার করা উচিত নয়, যাঁরা ফেডারেল আইনের অধীনে ওই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আইআরএস কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানোও বলেছেন, নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা কেবল যোগ্য করদাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আইআরএসের হিসাবে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারের বছরে সর্বোচ্চ ২.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে এই হিসাব প্রস্তাবিত নিয়মের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, নিশ্চিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়। এই উদ্যোগের পেছনে ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’ বা কল্যাণ সংস্কার আইনকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আইনে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। তবে কয়েক দশক ধরে কর ক্রেডিটকে ওই আইনের আওতায় সরাসরি ‘সরকারি সুবিধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। নতুন প্রস্তাবের যুক্তি হলো, কোনো কর ক্রেডিট শুধু করের দায় কমিয়ে দিলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু করের দায়ের অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে সরাসরি ফেরত দেওয়া হলে সেটি সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অবশ্য সব ধরনের অভিবাসন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক বছরের জন্য বিশেষ ‘প্যারোল’ মর্যাদায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিটি কর ক্রেডিটের নিজস্ব আয়সীমা ও অর্থ পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরতযোগ্য। আবার শিশু কর ক্রেডিট ও অর্জিত আয় কর ক্রেডিট মূলত নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা পরিবার ও কর্মজীবীদের করের বোঝা কমাতে সহায়তা করে। আইআরএসের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কোনো দম্পতি যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দিলে তাঁদের মধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের যোগ্য হলেই ফেরতযোগ্য অংশ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ যৌথ কর বিবরণীর ক্ষেত্রে উভয় ব্যক্তির একই ধরনের যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা শেষে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা প্রত্যাহার করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের একটি নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ। ওই নির্দেশনায় ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ১৯৯৬ সালের কল্যাণ সংস্কার আইনের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ট্রেজারি বিভাগ বিচার বিভাগের আইন পরামর্শ দপ্তরের কাছে ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশ ওই আইনের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে মতামত চায়। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইন পরামর্শ দপ্তর মত দিয়েছে যে কর ক্রেডিটের যে অংশ করদাতাকে নগদ অর্থ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, সেটি সরকারি সুবিধার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। নতুন নিয়মটি অবশ্য ওবামা প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ‘ওবামাকেয়ার’-এর প্রিমিয়াম কর ক্রেডিটে প্রযোজ্য হবে না। ট্রেজারি ও আইআরএস জানিয়েছে, ওই কর সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যেই পৃথক আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। একইভাবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু হওয়া নতুন ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ এবং যোগ্য শিশুদের জন্য নির্ধারিত এককালীন ১ হাজার ডলারের অর্থও এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বে না। কারণ এসব সুবিধা আইন অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তবে প্রস্তাবিত বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বাস্তবে কখন থেকে এর প্রভাব পড়বে এবং কোন কোন করদাতা ঠিক কতটা সুবিধা হারাবেন, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে চার ধরনের ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তর বা আইআরএস। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফেডারেল আইনে যেসব ব্যক্তি এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য নন, তারা করদাতাদের অর্থে দেওয়া এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাবেন না। ১৯ আগস্ট ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস যৌথভাবে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধার ফেরত দেওয়া অংশকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে স্পষ্টভাবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়মের আওতায় পড়বে চার ধরনের কর সুবিধা। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণ কর সুবিধা, শিশু কর সুবিধা, আমেরিকান সুযোগ কর সুবিধা এবং অর্জিত আয় কর সুবিধা। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পেতে করদাতাকে ফেডারেল আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা আইনে নির্ধারিত যোগ্য বিদেশি হতে হবে। যোগ্য বিদেশিদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং আইনে নির্ধারিত আরও কিছু শ্রেণির মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। করদাতাকে নিজের ট্যাক্স রিটার্নে শপথভঙ্গের শাস্তির বিধান মাথায় রেখে ঘোষণা করতে হবে যে তিনি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার জন্য আইনগতভাবে যোগ্য। যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া দম্পতিদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা আলাদা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা যোগ্য বিদেশি হলেই সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা পূরণ হবে। তবে প্রস্তাবিত নিয়মের অর্থ এই নয় যে যোগ্য নন এমন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার কোনো অংশই দাবি করতে পারবেন না। যে অংশটি সরাসরি আয়করের দায় কমাতে ব্যবহৃত হয়, অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে সেটি দাবি করা যেতে পারে। মূলত করের দায়ের চেয়ে বেশি হয়ে যে অর্থ করদাতাকে ফেরত দেওয়া হয়, নতুন নিয়মে সেই অংশটিকেই সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল আইনে যাদের এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার অনুমতি নেই, তাদের কাছে করদাতাদের অর্থে দেওয়া সুবিধা পৌঁছানো ঠেকানো। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আইন অনুযায়ী যারা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের হাতে করদাতাদের অর্থ যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেন, ফেরতযোগ্য কর সুবিধা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিন পরিবার এবং কর্মজীবীদের আর্থিক সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব সুবিধা কেবল আইনগতভাবে যোগ্য করদাতাদের জন্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি করব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত এবং প্রকাশ্য শুনানির অনুরোধ গ্রহণ করবে। নিয়ম চূড়ান্ত হলে চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশের তারিখে বা তার পরে শেষ হওয়া কর বছরের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের লাখো করদাতা ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস) থেকে অর্থ ফেরত বা রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, তবে এই অর্থ দাবি করার জন্য তাদের হাতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত সময় রয়েছে। করদাতাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থা ন্যাশনাল ট্যাক্সপেয়ার অ্যাডভোকেট-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে করদাতারা তাদের প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার অধিকার হারাবেন। এই রিফান্ডের বিষয়টি মূলত গত নভেম্বরে এক ফেডারেল বিচারকের দেওয়া রুলিংয়ের ওপর ভিত্তি করে সামনে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে, ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১১ মে পর্যন্ত চলা কোভিড-১৯ দুর্যোগকালীন সময়ে আইআরএস-এর উচিত ছিল ট্যাক্স ফাইলিং এবং পেমেন্টের সময়সীমা স্থগিত রাখা। আইআরএস-এর নিয়ম অনুযায়ী, দুর্যোগকালীন ঘোষণা শেষ হওয়ার পর রিটার্ন দাখিল বা পেমেন্ট করার জন্য করদাতারা অতিরিক্ত ৬০ দিন সময় পেয়ে থাকেন, যা ওই নির্দেশনার কারণে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছিল। সাধারণত রিটার্ন দাখিলের পর তিন বছর বা কর, জরিমানা বা সুদ পরিশোধের পর দুই বছর পর্যন্ত রিফান্ড দাবি করার সুযোগ থাকে। যেহেতু আদালত ফাইলিংয়ের সময়সীমা ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেছেন, তাই ক্ষতিগ্রস্ত করদাতারা এখন ২০২৬ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত রিফান্ড বা 'প্রোটেকটিভ ক্লেইম' দায়ের করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে ন্যাশনাল ট্যাক্সপেয়ার অ্যাডভোকেট এরিন কলিন্স একটি ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় করদাতাদের অবশ্যই ২০২৬ সালের ১০ জুলাইয়ের আগে বা ওই দিনের মধ্যে রিফান্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। যারা দুর্যোগকালীন সময়ে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করে জরিমানা বা সুদের সম্মুখীন হয়েছেন, দেরিতে রিটার্ন বা পেমেন্ট করার কারণে যাদের এখনও জরিমানা বা সুদ বকেয়া আছে, অথবা যারা আন্তর্জাতিক তথ্য রিটার্ন দেরিতে দাখিল করেছেন, তারা এই রিফান্ডের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। এছাড়া যারা মনে করেন যে তারা ওই সময়ে কোনো রিফান্ড, রিফান্ডেবল ক্রেডিট, উইথহোল্ডিং ক্রেডিট, প্রাক্কলিত ট্যাক্স পেমেন্ট ক্রেডিট বা অন্য কোনো ট্যাক্স বেনিফিট দাবি করতে ভুলে গেছেন, তারাও আবেদন করতে পারবেন। কলিন্স পরামর্শ দিয়েছেন, করদাতাদের এখনই নিজেদের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা উচিত যে তাদের রিফান্ড ক্লেইম, সংশোধিত রিটার্ন, মূল রিটার্ন, অ্যাবেটমেন্ট রিকোয়েস্ট বা প্রোটেকটিভ ক্লেইম দাখিল করার প্রয়োজন আছে কি না। যেসব করদাতা দুর্যোগকালীন সময়ে পরিশোধিত জরিমানা বা সুদের রিফান্ড চাইছেন, তাদের 'ফর্ম ৮৪৩' (Claim for Refund and Request for Abatement) পূরণ করে জমা দিতে হবে। তবে নভেম্বরের ওই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যেহেতু আপিল হতে পারে, তাই আবেদনকারীদের ফর্মের ওপর "Protective Refund Claim Pursuant to Kwong Case" (কোয়াং বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলার কথা উল্লেখ করে) লিখে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে আইনি বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের রিফান্ড পাওয়ার অধিকার সুরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে, আয়, কর্তন বা ট্যাক্সের ওপর প্রভাব ফেলে এমন কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে 'ফর্ম ১০৪০-এক্স' ব্যবহার করে সংশোধিত বা মূল রিটার্ন দাখিল করতে হবে। কলিন্স মনে করেন, ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে, কারণ স্থগিতাদেশ আইনের বিষয়ে সরকারের ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে ব্যর্থ হলে রায় শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলেও করদাতারা রিফান্ড থেকে বঞ্চিত হবেন। রিফান্ডের গ্যারান্টি না থাকলেও শেষ মুহূর্তে সময়সীমা পেরিয়ে গেলে করদাতারা চিরতরে তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।