নিউইয়র্কে টিউশন-ফি ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার নতুন সুযোগ
নিউইয়র্কে মাঝপথে পড়াশোনা থেমে যাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সানি রিকানেক্ট কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কর্মসূচিতে উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো চাহিদাসম্পন্ন নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন, ফি, বই ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের খরচ ছাড়াই পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন।
সানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নিউইয়র্কবাসী, যাঁদের কোনো কলেজ ডিগ্রি নেই, তাঁরা অনুমোদিত সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে এই সুবিধা পেতে পারেন। শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীনভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন। অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর অবশিষ্ট টিউশন, ফি, বই ও শিক্ষা উপকরণের খরচ কর্মসূচির আওতায় বহন করা হবে।
২০২৫ সালের শরতে চালু হওয়া কর্মসূচিটির প্রথম বছরেই প্রায় ৫ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হন। কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রাপ্তবয়স্কদের আবার কলেজে ফেরানো, যাঁরা অর্থের অভাব, চাকরি কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে উচ্চশিক্ষা শেষ করতে পারেননি।
প্রথম বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, নার্সিং ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিক্ষকতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় কর্মসূচির আওতায় ছিল। এবার এর সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো আরও কয়েকটি ক্ষেত্র যুক্ত হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে নার্সিংয়ে। ২০২৬ সালের শরৎ থেকে অন্য কোনো বিষয়ে আগে থেকেই কলেজ ডিগ্রি থাকা ব্যক্তিরাও নির্দিষ্ট নার্সিং ডিগ্রি কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। নিউইয়র্কে নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মীর চাহিদা পূরণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এবার কর্মসূচির পরিধিও শুধু কমিউনিটি কলেজে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্দিষ্ট সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচির জন্য চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি প্রদানকারী কিছু সানি প্রতিষ্ঠানও এতে যুক্ত হয়েছে। তবে কোন কলেজে কোন বিষয়ের কর্মসূচি রয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে।
তবে টিউশন-ফি ছাড়ের সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তার জন্যও আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কের টিউশন সহায়তা কর্মসূচির মতো আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর অবশিষ্ট যোগ্য শিক্ষাখরচ সানি রিকানেক্টের মাধ্যমে বহন করা হয়।
নিউইয়র্কের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও সানি রিকানেক্ট সম্প্রসারণে নতুন অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচিটির মাধ্যমে চাহিদাসম্পন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি মাঝপথে থেমে যাওয়া শিক্ষাজীবন আবার শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন নিউইয়র্কের আরও অনেক প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreব্রুস উইলিসের পরিবার তাঁর মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দান করার পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া বা এফটিডি নিয়ে গবেষণা এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালে উইলিসের পরিবার জানায়, তাঁর আগের অ্যাফেসিয়ার সমস্যা আরও জটিল হয়ে ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ায় রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে শারীরিক অবস্থার কারণে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের সামনের ও পাশের অংশে প্রভাব ফেলে এবং এর কারণে ভাষা ও যোগাযোগের সমস্যা, আচরণ ও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে এই রোগের নিরাময় নেই এবং রোগের অগ্রগতি থামানোর নির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে গবেষকেরা রোগটির সঙ্গে মস্তিষ্কের পরিবর্তনের সম্পর্ক আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ পেতে পারেন। এর মাধ্যমে এফটিডির কারণ, রোগের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে গবেষণায় নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ‘ডাই হার্ড’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া উইলিসের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর পরিবার নিয়মিতভাবে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের পারিবারিক বিবৃতিতেও এফটিডি নিয়ে আরও গবেষণা ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। ২০২৬ সালে তাঁর পরিবারের মস্তিষ্ক গবেষণায় দানের পরিকল্পনার খবর আবারও সামনে এসেছে। আলঝেইমার্স ফাউন্ডেশন অব আমেরিকাও সামাজিক মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রুস উইলিসের অভিনয়জীবন কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর পরিবারের এই সিদ্ধান্ত তাই শুধু ব্যক্তিগত একটি উদ্যোগ নয়, বরং একটি জটিল স্নায়বিক রোগ সম্পর্কে ভবিষ্যৎ গবেষণায় অবদান রাখার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার প্রথম ৬ মাসে যে ভুলগুলো নষ্ট করতে পারে ক্রেডিট স্কোর
পেপ্যালের পরিচয়ে ফোন প্রতারণার ফাঁদে ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, হারালেন অবসরের ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার
নিউইয়র্কে টিউশন-ফি ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার নতুন সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাঋণ পরিশোধব্যবস্থা চালুর পর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ত্রুটিতে বিপাকে পড়েছেন ঋণগ্রহীতারা। ভুল বকেয়া, খেলাপের নোটিশ এবং মাসিক কিস্তির পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে অনেকের ব্যক্তিগত বাজেট ও ক্রেডিট স্কোরে প্রভাব পড়ছে। ১ জুলাই নতুন পরিশোধব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় ঋণ পরিশোধের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ঋণ নেওয়ার সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যবসা ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক ঋণগ্রহীতার অ্যাকাউন্টে ভুল তথ্য দেখানো হয়েছে। কারও নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের পরও অ্যাকাউন্টে কয়েক মাসের বকেয়া দেখানো হয়েছে, আবার কারও কাছে ঋণ খেলাপের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ড্যানিয়েলা পেরেজ নামে এক ঋণগ্রহীতার অ্যাকাউন্টে ভুলভাবে ১৫টি কিস্তি বকেয়া এবং ১০ হাজার ৬৩৫ ডলার পাওনা দেখানো হয়। অথচ তার দাবি, তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। পরে তার অ্যাকাউন্টের তথ্য সংশোধন করা হয়। আরেক ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে ভুল বকেয়া তথ্যের কারণে ক্রেডিট স্কোর ৭৫৬ থেকে প্রায় ২০০ পয়েন্ট কমে ৫৭০-এ নেমে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে কিস্তির পরিমাণ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। কার্লি মার্শ নামে এক ঋণগ্রহীতাকে মাসে ৫০ ডলার কিস্তির তথ্য দেওয়া হলেও পরে জানানো হয়, তার প্রকৃত কিস্তি ৫২৫ ডলার। এই অর্থ পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় তিনি ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা বিভাগ ও ঋণসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে পরিষ্কার নির্দেশনার অভাব এসব ত্রুটির অন্যতম কারণ। এ ছাড়া এসব প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব পড়ছে ঋণ মওকুফের হিসাবেও। শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, কোডিং ত্রুটির কারণে কিছু ঋণগ্রহীতার পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস কর্মসূচির আওতায় জমা হওয়া ক্রেডিটও সংশোধন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা ঋণসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভুল শনাক্ত হলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, নতুন শিক্ষাঋণ ব্যবস্থা চালুর পর নিয়ম পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও ভুল তথ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ঋণগ্রহীতাই এখন কিস্তি, ক্রেডিট স্কোর ও ঋণ পরিশোধের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
এইচ-১বি ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ঘর-সংসার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মাধুর
নিউইয়র্কে মেয়রের সরকারি মুদি দোকানে ৩০ শতাংশ কম দামে নিত্যপণ্য, পরিকল্পনা ব্যয় নিয়ে বিতর্ক
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের লটারি ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি জোয়ান আর. গিন্থার। গণিতে পিএইচডি করা সাবেক কলেজ শিক্ষক ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চারবার বড় অঙ্কের লটারি জিতে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার এই ধারাবাহিক জয়ের ঘটনা একসময় নিছক ভাগ্যের বিস্ময় হিসেবে আলোচিত হলেও পরে পরিসংখ্যানবিদ ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, এর পেছনে হিসাবনির্ভর কৌশল কাজ করে থাকতে পারে। গিন্থারের প্রথম বড় জয় আসে ১৯৯৩ সালে। টেক্সাস লটারির লোটো টেক্সাস ড্রতে তিনি প্রায় ৫৪ লাখ ডলারের একটি অংশ পান। এরপর ২০০৬ সালে ২০ লাখ ডলারের একটি স্ক্র্যাচ-অফ পুরস্কার, ২০০৮ সালে ৩০ লাখ ডলার এবং ২০১০ সালে ১ কোটি ডলারের সর্বোচ্চ পুরস্কার জেতেন। টেক্সাস লটারির নিজস্ব রেকর্ডেও ২০০৮ সালের ৩০ লাখ ডলারের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেখানে তাকে তিনবার টপ-প্রাইজ বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১০ সালে চতুর্থবার বড় পুরস্কার জেতার পর তার মোট লটারি জয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তৎকালীন প্রতিবেদনে তার চারটি বড় জয়ের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত বিরল হিসেবে তুলে ধরা হয়। শুধু চারটি টিকিটই যদি তিনি কিনে থাকেন, তাহলে এমন ফলের সম্ভাবনা ১৮ সেপ্টিলিয়নের মধ্যে একবারের মতো হতে পারে বলে গণিতবিদদের উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল। তবে তিনি বাস্তবে কতগুলো টিকিট কিনেছিলেন, সেটিই এই হিসাবকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। গিন্থারের ঘটনাটি নিয়ে পরে আরও গভীর অনুসন্ধান হয়। হার্পার্স ম্যাগাজিনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি টেক্সাসের বিশপ এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কিনতেন। স্থানীয় বিক্রেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি একসঙ্গে পুরো রোল বা বড় প্যাকেটের টিকিট কিনতেন। ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তার নামে ১ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের অন্তত ২৮টি স্ক্র্যাচ-অফ পুরস্কার পাওয়ার তথ্যও উঠে আসে। এখানেই সামনে আসে গিন্থারের গণিতের জ্ঞান নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন অনুসন্ধানে বলা হয়, টেক্সাস লটারি স্ক্র্যাচ-অফ গেমে কতগুলো টপ প্রাইজ এখনও বাকি আছে, সেই তথ্য প্রকাশ করত। ফলে কোনো গেমে যখন বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, কিন্তু বড় পুরস্কারের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও অবশিষ্ট, তখন একটি টিকিটের প্রত্যাশিত মূল্য তুলনামূলকভাবে বেড়ে যেতে পারে। পরিসংখ্যানের ভাষায়, কোনো টিকিটের সম্ভাব্য পুরস্কার ও জয়ের সম্ভাবনা হিসাব করে যদি গড় প্রত্যাশিত রিটার্ন টিকিটের দামের চেয়ে বেশি হয়, সেটিকে Positive Expected Value বা +EV পরিস্থিতি বলা যায়। অনুসন্ধানকারীদের ধারণা ছিল, গিন্থার হয়তো এ ধরনের বিরল পরিস্থিতি শনাক্ত করে বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনতেন। তবে তিনি নিজে কখনো প্রকাশ্যে তার কৌশল ব্যাখ্যা করেননি, ফলে এটি নিশ্চিত প্রমাণ নয়। বিপুল পরিমাণ টিকিট কেনার বিষয়টিও তার জয়ের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশপ ও আশপাশের এলাকায় তিনি একাধিক দোকান থেকে হাজার হাজার উচ্চমূল্যের স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কিনতেন। এমনকি একটি দোকান থেকে একটি নির্দিষ্ট ৫০ ডলারের গেমের ৯ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। বেশি টিকিট কেনার ফলে অবশ্যই জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে, যদিও এতে কোনোভাবেই বড় পুরস্কার নিশ্চিত হয় না। তৎকালীন টেক্সাস লটারি কর্তৃপক্ষ গিন্থারের জয়ে কোনো কারচুপির সন্দেহের কথা জানায়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, এত বড় ধারাবাহিক সাফল্য কি নিছক ভাগ্যের ফল, নাকি বিপুল টিকিট কেনা, প্রকাশ্য তথ্য বিশ্লেষণ এবং গাণিতিক হিসাবের সমন্বিত ফল। হার্পার্সের অনুসন্ধানেও বলা হয়েছিল, ঘটনাটির রহস্য পুরোপুরি সমাধান করা যায়নি। গিন্থারের শিক্ষাজীবনও এই গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন এবং বিভিন্ন কলেজে গণিত পড়িয়েছেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে তাকে সাবেক কলেজ অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি লটারিতে বারবার বড় পুরস্কার জিতেছিলেন, তার পেশাগত জীবনও ছিল সংখ্যা ও পরিসংখ্যানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তবে গিন্থারের সাফল্যকে এমন কোনো সহজ ফর্মুলা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না, যা অনুসরণ করলেই লটারিতে নিশ্চিতভাবে লাভ করা সম্ভব। বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনলেও বড় পুরস্কার জেতা নিশ্চিত নয় এবং প্রত্যাশিত মূল্য ইতিবাচক হলেও বাস্তব ফলাফল দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ক্ষতির হতে পারে। গিন্থারের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কৌশল কতটা ভূমিকা রেখেছিল, তার নির্ভরযোগ্য উত্তর আজও অজানা। তবু তার চারটি বড় জয় একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। লটারির মতো সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর বলে বিবেচিত খেলাতেও প্রকাশ্য তথ্য, সম্ভাব্যতা ও বিপুল পরিমাণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার হিসাব বদলে ফেলা যায়। জোয়ান গিন্থারের ক্ষেত্রে সেই গণিত কতটা কাজ করেছিল আর কতটা ছিল ভাগ্য, সেই রহস্যই তাকে লটারি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বিজয়ী করে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা, পাশে ছিল মেয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে