- প্রচ্ছদ
- Topic
শিক্ষার্থীরা
নিউইয়র্কে মাঝপথে পড়াশোনা থেমে যাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সানি রিকানেক্ট কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কর্মসূচিতে উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো চাহিদাসম্পন্ন নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন, ফি, বই ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের খরচ ছাড়াই পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন। সানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নিউইয়র্কবাসী, যাঁদের কোনো কলেজ ডিগ্রি নেই, তাঁরা অনুমোদিত সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে এই সুবিধা পেতে পারেন। শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীনভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন। অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর অবশিষ্ট টিউশন, ফি, বই ও শিক্ষা উপকরণের খরচ কর্মসূচির আওতায় বহন করা হবে। ২০২৫ সালের শরতে চালু হওয়া কর্মসূচিটির প্রথম বছরেই প্রায় ৫ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হন। কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রাপ্তবয়স্কদের আবার কলেজে ফেরানো, যাঁরা অর্থের অভাব, চাকরি কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে উচ্চশিক্ষা শেষ করতে পারেননি। প্রথম বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, নার্সিং ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিক্ষকতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় কর্মসূচির আওতায় ছিল। এবার এর সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পণ্য সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার মতো আরও কয়েকটি ক্ষেত্র যুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে নার্সিংয়ে। ২০২৬ সালের শরৎ থেকে অন্য কোনো বিষয়ে আগে থেকেই কলেজ ডিগ্রি থাকা ব্যক্তিরাও নির্দিষ্ট নার্সিং ডিগ্রি কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। নিউইয়র্কে নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মীর চাহিদা পূরণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার কর্মসূচির পরিধিও শুধু কমিউনিটি কলেজে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্দিষ্ট সহযোগী ডিগ্রি কর্মসূচির জন্য চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি প্রদানকারী কিছু সানি প্রতিষ্ঠানও এতে যুক্ত হয়েছে। তবে কোন কলেজে কোন বিষয়ের কর্মসূচি রয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। তবে টিউশন-ফি ছাড়ের সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তার জন্যও আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কের টিউশন সহায়তা কর্মসূচির মতো আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর অবশিষ্ট যোগ্য শিক্ষাখরচ সানি রিকানেক্টের মাধ্যমে বহন করা হয়। নিউইয়র্কের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও সানি রিকানেক্ট সম্প্রসারণে নতুন অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচিটির মাধ্যমে চাহিদাসম্পন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি মাঝপথে থেমে যাওয়া শিক্ষাজীবন আবার শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন নিউইয়র্কের আরও অনেক প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুল ছুটি শেষে পুনরায় খুলতে শুরু করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনবিহীন শ্রেণিকক্ষের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অন্তত ৩৯টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে স্কুলে ফোন ব্যবহারের ওপর নতুন নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসলেও, এই নীতি নির্ধারণী আলোচনাগুলোতে তরুণদের মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল। তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে স্ক্রিন-টাইম কমানোর এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, এসব নীতিমালা প্রায়শই অপরিকল্পিতভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এটি স্ক্রিন আসক্তির মূল কারণগুলোকে সমাধান করতে পারে না। এর ফলে, শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের 'ডিজিটাল সুস্থতা' নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অফলাইন সহায়তা ও বিকল্প কর্মসূচির দাবি তুলছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনে স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে ফোন ব্যবহার সীমিত করার নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি স্কুল অব দ্য আর্টসের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এলিস চোই মনে করেন, কেবল ডিভাইস আটকে রাখা খুব একটা কার্যকর হবে না, কারণ শিক্ষার্থীরা নিয়ম ভাঙার উপায় ঠিকই খুঁজে বের করবে। তার মতে, শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে কতটা সময় কাটাচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সময়টা তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে। চোই এবং তার মতো অনেক শিক্ষার্থী এখন স্কুলগুলোতে 'ডিজিটাল ওয়েলনেস এডুকেশন' বা ডিজিটাল সুস্থতা বিষয়ক শিক্ষার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। তারা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে তরুণদের মধ্যে অনিদ্রা ও মনোযোগহীনতা বাড়ছে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এদিকে, অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের স্কুলেই স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার নীতিমালা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার টাস্টিনের লিগ্যাসি ম্যাগনেট একাডেমির শিক্ষার্থী লিভ কংয়ের নেতৃত্বে একটি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা তৈরি করেছে। এক বছর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে ফোন নিষিদ্ধ করলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেবল ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ এবং বিরতির সময় ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নতুন নিয়ম চালু করা হয়। একইভাবে সান ডিয়েগোতে ফোন নিষেধাজ্ঞার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে কাজ করছেন ১৭ বছর বয়সী ভিহান ভরদ্বাজ। তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মিলে এমনভাবে নীতিমালাগুলো প্রচারের চেষ্টা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে যে এসব নিয়ম তাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নয়, বরং তাদের সহায়তার জন্যই করা হয়েছে। স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে অফলাইন সংযোগ ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। নিউইয়র্কে গত বছর ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ করার পর 'হ্যাশট্যাগ হাফ দ্য স্টোরি' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তিমুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি গ্রামীণ স্কুলে আর্ট প্রোগ্রাম চালুর জন্য 'ক্রাফটস কার্ট' স্থাপন করা হয়েছে। ব্রঙ্কসের ডেমোক্রেসি প্রেপ এন্ডুরেন্স হাইস্কুলের সাম্প্রতিক স্নাতক কেইডেন বোয়াহেন একটি অনুদানের সাহায্যে 'ওয়েলনেস ডে' আয়োজন করেন, যেখানে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ফোন ছাড়াই খেলাধুলা ও আড্ডার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি, লাজুক স্বভাবের বা ইন্ট্রোভার্ট শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণে সহায়তার জন্য লং আইল্যান্ডের ভ্যালি স্ট্রিম নর্থ হাইস্কুলে এই শরৎকাল থেকে একটি 'ডিটক্স রুম' চালু হতে যাচ্ছে। বই ও স্ট্রেস রিলিজের খেলনা দিয়ে সাজানো এই রুমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রশান্তি খোঁজার সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক বিকাশে এমন অফলাইন উদ্যোগগুলোই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের শিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ।
নিজের হাতে পুরো ডিসার্টেশন লেখার পরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল যুক্তরাজ্যের এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। নিখুঁত ব্যাকরণ, লেখার একই ধরনের ছন্দ এবং কিছু বিরামচিহ্নের ব্যবহার দেখে তার কাজ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন একজন পরীক্ষক। অভিযোগ প্রমাণিত ধরে প্রথমে তার নম্বর সীমিত করে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত রেকর্ডেও প্রভাব ফেলতে পারত। তবে দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তিনি এবং শেষ পর্যন্ত ডিসার্টেশনে পূর্ণ নম্বর পান। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজের মেডিকেল শিক্ষার্থী হ্যারিসন শার্পলসের সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে। গত বছরের আগস্টে ২০ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী জানতে পারেন, তার ডিসার্টেশনে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। শার্পলসের ডিসার্টেশনের বিষয় ছিল হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের উদ্বেগ কমাতে প্লে থেরাপির প্রভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার কাজ দুজন মানব পরীক্ষক মূল্যায়ন করেন। তাদের একজন লেখাটিতে সম্ভাব্য এআই ব্যবহারের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিবিসির দেখা পরীক্ষকের নোটে শার্পলসের লেখার অত্যন্ত পরিশীলিত ও একই ধরনের ভাষাশৈলী নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ধারাবাহিকভাবে প্রায় নিখুঁত ব্যাকরণ, বাক্য ও অনুচ্ছেদের গঠনে মিল এবং লেখার কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা। একই সঙ্গে তার লেখায় এম ড্যাশের ব্যবহারও সন্দেহের কারণগুলোর একটি হিসেবে উঠে আসে। শার্পলস অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করেন, পুরো ডিসার্টেশন তিনি নিজেই লিখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজটি শেষ করার জন্য তার হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে লিখতেও তিনি আগ্রহী ছিলেন। ফলে এআই ব্যবহার করার প্রয়োজনই তিনি অনুভব করেননি। অভিযোগ ওঠার পর তাকে ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের একটি প্যানেলের সামনে অনলাইন শুনানিতে অংশ নিতে হয়। সেখানে ডিসার্টেশনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ ও মেডিকেল টার্মের অর্থ জানতে চাওয়া হয়। শার্পলস পরে জানান, এমন ধরনের প্রশ্নের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না এবং শুনানিতে নিজের অবস্থান প্রত্যাশামতো তুলে ধরতে পারেননি। প্রথম শুনানির এক সপ্তাহ পর তাকে জানানো হয়, এআই ব্যবহারের অভিযোগ বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে তার ডিসার্টেশনের গ্রেড সীমিত করে দেওয়া হয়। বিষয়টি তার ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশার রেকর্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানতে পেরে তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আপিল করেন। শার্পলসের আপিলের অন্যতম ভিত্তি ছিল প্রথম শুনানির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন। আপিল গৃহীত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার তার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। নতুন শুনানিতে তার লেখার প্রক্রিয়া ও কীভাবে তিনি ডিসার্টেশন তৈরি করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। দ্বিতীয় শুনানিতে শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এআই ব্যবহারের অভিযোগ বহাল থাকেনি। পরে ডিসার্টেশনের জন্য তাকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়ার কারণে তার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং গ্র্যাজুয়েশনও পিছিয়ে যায়। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মামলার বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করেছে, ওই শিক্ষার্থীর আপিল গ্রহণের সিদ্ধান্তটি প্রথম শুনানির আয়োজনসংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়াগত সমস্যার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষায় এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এবং বৃহত্তর শিক্ষা খাতের সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখায় এআই ব্যবহার শনাক্ত করা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। শার্পলসের ঘটনা দেখিয়েছে, শুধু লেখার ধরন, নিখুঁত ব্যাকরণ বা নির্দিষ্ট বিরামচিহ্নের মতো বৈশিষ্ট্যকে সন্দেহের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করলে মানুষের নিজের লেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
আমেরিকায় কলেজে পড়ার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিবাসী পরিবারগুলোর অনেকেই জানেন না, মার্কিন নাগরিক না হলেও নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা শিক্ষার্থীরা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যোগ্য শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ পেল গ্রান্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার। এটি কোনো শিক্ষাঋণ নয়, বরং ফেডারেল সরকারের দেওয়া শিক্ষা অনুদান, যা সাধারণত ফেরত দিতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ২০২৬-২৭ সালের হালনাগাদ ফাফসা নির্দেশনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফেডারেল শিক্ষাসহায়তা পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে মার্কিন নাগরিক অথবা সরকারের সংজ্ঞা অনুযায়ী যোগ্য অ-নাগরিক হতে হবে। অর্থাৎ শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্যই পেল গ্রান্ট সীমাবদ্ধ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা কিংবা বৈধ কোনো ভিসা থাকলেই পেল গ্রান্ট পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। শিক্ষার্থীর অভিবাসন মর্যাদা, আর্থিক প্রয়োজন এবং ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত বিবেচনা করা হয়। কারা যোগ্য অ-নাগরিক - ২০২৬-২৭ ফাফসা ফরমের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড বা গ্রিন কার্ড থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। শর্তযুক্ত গ্রিন কার্ড থাকা শর্তযুক্ত স্থায়ী বাসিন্দারাও এই শ্রেণিতে পড়তে পারেন। এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নথিতে শরণার্থী বা আশ্রয়প্রাপ্ত মর্যাদা থাকা ব্যক্তিরাও যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। কিছু প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। ২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আই-৯৪ নথিতে অন্তত এক বছরের জন্য প্যারোল করার বিষয়টি নিশ্চিত থাকতে হবে এবং সেই মর্যাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া চলবে না। কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং নির্দিষ্ট টি-ভিসাধারীরাও যোগ্য অ-নাগরিক শ্রেণির মধ্যে থাকতে পারেন। মানবপাচারের শিকার কোনো ব্যক্তির কাছে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বৈধ সনদ বা যোগ্যতার চিঠি থাকলেও তিনি নির্ধারিত শর্তে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর যোগ্য হতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বড় সুযোগ - যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থী যদি বৈধ গ্রিন কার্ডধারী হন, তাহলে শুধু মার্কিন নাগরিক না হওয়ার কারণে তিনি পেল গ্রান্ট থেকে বাদ পড়বেন না। তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পাওয়া নিশ্চিত নয়। পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা। শিক্ষার্থীর ফাফসা তে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার যোগ্যতা ও সম্ভাব্য অনুদানের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, শুধু পরিবারের আয় দেখেই পেল গ্রান্ট-এর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় না। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কর দাখিলের অবস্থা, ফেডারেল দারিদ্র্য নির্দেশিকা-সহ একাধিক বিষয় হিসাবের মধ্যে আসে। এফ-১ শিক্ষার্থীরা কি পেল গ্রান্ট পাবেন? যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আসা বাংলাদেশিদের জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এফ-১ বা এফ-২ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ বা জে-২ বিনিময় দর্শনার্থী ভিসা থাকা ব্যক্তিদের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ক্ষেত্রে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে শুধু এসব ভিসার ভিত্তিতে তারা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাবেন না। তবে এর অর্থ এই নয় যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের আর্থিক সহায়তার দরজা বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের নিজস্ব বৃত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কিংবা বেসরকারি বৃত্তির নিয়ম আলাদা হতে পারে। ডাকা থাকলেও পেল গ্রান্ট নয় - শৈশবে আগতদের জন্য স্থগিত ব্যবস্থা বা ডাকা পাওয়া শিক্ষার্থীরাও বর্তমানে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর জন্য যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন না। তবে ডাকা (DACA) প্রাপ্ত কোনো শিক্ষার্থীর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলে তিনি ফাফসা পূরণ করতে পারেন। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী কোনো অঙ্গরাজ্য বা কলেজের নিজস্ব আর্থিক সহায়তার জন্য যোগ্য কি না, তা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু ফাফসা পূরণ করতে পারা মানেই ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হওয়া নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলেই পেল গ্রান্ট নয় - অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। কারও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকলেই তিনি পেল গ্রান্ট পাবেন, এমন কোনো নিয়ম নেই। ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা যোগ্য অ-নাগরিক মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়তা কর্মসূচির অন্য শর্তও পূরণ করতে হয়। পেল গ্রান্ট আসলে কী? পেল গ্রান্ট এবং শিক্ষাঋণ এক বিষয় নয়। ফেডারেল পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজন থাকা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেডারেল অনুদান। সাধারণ পরিস্থিতিতে এই অর্থ ফেরত দিতে হয় না। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে, অনুদানের কিছু অংশ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ পুরস্কার বছরে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পেল গ্রান্ট পেতে পারেন। তবে সবাই সর্বোচ্চ পরিমাণ পাবেন না। ব্যক্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা দুই বছরের কমিউনিটি কলেজ, পেশাগত বিদ্যালয়, কারিগরি বিদ্যালয়, যোগ্য অনলাইন বিদ্যালয় এবং চার বছরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সংশ্লিষ্ট খরচে পেল গ্রান্ট ব্যবহার করতে পারেন। একজন যোগ্য শিক্ষার্থী সাধারণভাবে প্রায় ছয় বছর বা ১২টি শিক্ষামেয়াদের সমপরিমাণ সময় পর্যন্ত পেল গ্রান্ট পাওয়ার সুযোগ পান। বছরগুলো একটানা হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। কীভাবে আবেদন করবেন? পেল গ্রান্ট-এর জন্য সাধারণত আলাদা কোনো আবেদন করতে হয় না। শিক্ষার্থীকে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড এর জন্য বিনামূল্যের আবেদন বা ফাফসা পূরণ করতে হয়। ফাফসা জমা দেওয়ার পর ফাফসা জমা সারসংক্ষেপে শিক্ষার্থী তার সম্ভাব্য পেল গ্রান্ট-এর একটি আনুমানিক হিসাব দেখতে পারেন। তবে সেটিই চূড়ান্ত অর্থের নিশ্চয়তা নয়। শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তা দপ্তর চূড়ান্তভাবে কত ধরনের এবং কত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে নিজেরা অনুমান না করে ফাফসা পূরণের পরামর্শ দিয়েছে। কারণ অনেক পরিবার শুধু আয় বা অভিবাসন পরিস্থিতি দেখে আগেই ধরে নেয় যে তারা কোনো সহায়তা পাবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য মূল বিষয়টি হলো, সন্তান মার্কিন নাগরিক না হলেও পেল গ্রান্ট-এর সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী, শরণার্থী, আশ্রয় মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি এবং সরকারের নির্ধারিত আরও কিছু যোগ্য অ-নাগরিক এই সহায়তার আওতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে এফ-১, এফ-২, জে-১, জে-২ বা ডাকা অবস্থানকে বর্তমানে ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য অভিবাসন মর্যাদা হিসেবে গণ্য করা হয় না। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি আলাদা। তাই নিজের অভিবাসন মর্যাদা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে অনুমান করার পরিবর্তে ফাফসা পূরণ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের আর্থিক সহায়তা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করাই যোগ্যতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এক ডেন্টাল শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার মামলা করেছেন তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তির পর কোনো আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি রোগীকে দেখেননি; বরং দূরবর্তী স্থান থেকে ভিডিও স্ক্রিনের মাধ্যমে তার চিকিৎসা তদারকি করা হচ্ছিল। পরিবারের দাবি, এ অবহেলার কারণেই ২৬ বছর বয়সী কনর হাইলটনের মৃত্যু হয়েছে। আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তীব্র পেটব্যথা, বমি, পানিশূন্যতা, মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ এবং অ্যালকোহল প্রত্যাহারজনিত জটিলতা নিয়ে কনর হাইলটন ব্রিজপোর্ট হাসপাতালের মিলফোর্ড ক্যাম্পাসে ভর্তি হন। পরে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে কোনো অনসাইট আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে গেলেও তাকে সরাসরি কোনো চিকিৎসক পরীক্ষা করেননি। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হাইলটনের খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে তার হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায়। জরুরি সংকেত দেওয়ার পর তাকে শ্বাসনালি দিয়ে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, জরুরি চিকিৎসা শুরু করতেও বিলম্ব হয়েছিল, কারণ যিনি রোগীকে ইনটিউবেট করতে এসেছিলেন তিনি প্রথমে আইসিইউর অবস্থানই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরিবারের আইনজীবীর দাবি, হাসপাতালটি একটি ‘টেলি–আইসিইউ’ পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছিল, যেখানে সংকটাপন্ন রোগীদের দূরবর্তী স্থান থেকে ভিডিওর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হতো। তাদের অভিযোগ, রোগী বা পরিবারের সদস্যদের আগে থেকে জানানো হয়নি যে আইসিইউতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না। যদি তারা বিষয়টি জানতেন, তাহলে কনরকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের চেষ্টা করতেন। মামলায় ইয়েল নিউ হ্যাভেন হেলথ, ব্রিজপোর্ট হাসপাতাল মিলফোর্ড ক্যাম্পাস এবং সংশ্লিষ্ট নর্থইস্ট মেডিকেল গ্রুপকে আসামি করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে কনরের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল। অন্যদিকে ইয়েল নিউ হ্যাভেন হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মামলার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে বিচারাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা রোগীদের নিরাপদ ও সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অপ্রাপ্তবয়স্ক এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে একাধিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক জেসি হিউবেল (৩৭) স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মোনমাউথ কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস মঙ্গলবার জানায়, হিউবেল ফ্রিহোল্ড টাউনশিপ হাই স্কুলের শিক্ষক। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয় এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তখন ১৮ বছরের কম বয়সী ছিলেন। তদন্তকারীরা জানান, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাগুলো নিউ জার্সির ফ্রিহোল্ড টাউনশিপ, ইংলিশটাউন, ম্যানালাপান টাউনশিপ এবং রেড ব্যাংক—এই চারটি এলাকায় সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রতিটি এলাকায় পৃথকভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হিউবেলের বিরুদ্ধে প্রতিটি এলাকায় একটি করে ‘শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার’ অভিযোগ এবং দ্বিতীয়-ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও বিচার সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনগত এখতিয়ার অনুযায়ী পরিচালিত হবে। মোনমাউথ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। অভিযুক্ত শিক্ষকের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কারও কাছে অতিরিক্ত তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে জেসি হিউবেলের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।