সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও ফ্লোরিডার অধ্যাপক গ্রেপ্তার, প্রাণীর সঙ্গে যৌনতার অভিযোগের নেপথ্যে কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২০:৫
ছবি: রাইয়ান আবদুল বাতেন, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর
ছবি: রাইয়ান আবদুল বাতেন, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (USF) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর রাইয়ান আবদুল বাতেনের গ্রেপ্তার ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রাণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে প্রকাশিত অ্যারেস্ট রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যৌন কার্যকলাপসংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ অথবা সংরক্ষণসংক্রান্ত আইনে অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তিনি নিজে কোনো প্রাণীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে অংশ নিয়েছেন, এমন অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত রেকর্ডে পাওয়া যায়নি।

 

গত ২৮ অক্টোবর ফ্লোরিডার হিলসবোরো কাউন্টিতে বাতেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে আমেরিকা বাংলা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একাধিক শিক্ষার্থী, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ২০১৩ সালে বাতেনের জিমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে খোলা একটি পুরোনো ড্রপবক্স অ্যাকাউন্ট। ওই অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত বিপুলসংখ্যক ছবি ও ভিডিওর মধ্যে প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যৌন কার্যকলাপসংক্রান্ত (পর্ন ভিডিও) কিছু উপাদান পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।

 

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রপবক্স অ্যাকাউন্টটিতে দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যক্তিগত ফাইলও সংরক্ষিত ছিল। তবে আলোচিত আপত্তিকর ফাইলগুলো কখন, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সেখানে সংরক্ষিত হয়েছিল, তা নির্ধারণে ডিজিটাল ফরেনসিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্টটি বাতেনের ইমেইল ঠিকানায় খোলা হলেও প্রতিটি ফাইল তিনি নিজে আপলোড করেছেন কিংবা সেগুলোর বিষয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছিল এমন সিদ্ধান্ত কেবল অ্যাকাউন্টের পরিচয় থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় না। একইভাবে অ্যাকাউন্টে অন্য কারও প্রবেশের সম্ভাবনা থাকলেও সেটিকে প্রমাণিত হ্যাকিংয়ের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

 

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান শনাক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (NCMEC) এর কাছে রিপোর্ট পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বাতেনের মামলায়ও ড্রপবক্সের ফাইল নিয়ে এমন সতর্কবার্তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট ও আদালতের সার্চ ওয়ারেন্টের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ছাড়া সতর্কবার্তায় কী উল্লেখ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রকাশিত অভিযোগের তথ্যেও তাঁর বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান সংরক্ষণের পৃথক চার্জ নিশ্চিত করা যায়নি।

 

ফ্লোরিডার 828.126(6) ধারা অনুযায়ী, প্রাণীর সঙ্গে মানুষের নিষিদ্ধ যৌন কার্যকলাপসংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও জেনেশুনে ধারণ, বিতরণ কিংবা সংরক্ষণ করা থার্ড-ডিগ্রি ফেলোনি। ফলে এই মামলায় অভিযোগের প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে সরাসরি যৌন কার্যকলাপে অংশ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল উপাদান ধারণ, বিতরণ বা সংরক্ষণের আইনি পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফাইলের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির জ্ঞাতসারে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।

 

এদিকে বাতেনের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁকে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও গবেষক জানিয়েছেন, বাতেনের কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য তাঁদের জানা নেই। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মূলত পড়াশোনা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ও আন্দোলন চলাকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করেছেন এবং আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর পরিচিতরা। তবে আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্যপদের প্রমাণ নয়। তাঁর সঙ্গে জামায়াত-শিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

গ্রেপ্তারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পেশাগত অবস্থান এবং তাঁর অধীনে গবেষণারত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, গবেষকদের সুপারভিশন পরিবর্তন কিংবা বাতেনের জামিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তিও এখনো হয়নি।

 

সূত্র: প্রকাশিত হিলসবোরো কাউন্টি অ্যারেস্ট রেকর্ড, ফ্লোরিডা স্ট্যাটিউট 828.126(6) এবং আমেরিকা বাংলার কাছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
হুসঙ্গীর সম্পর্ক নিবন্ধনের নতুন আইন অনুমোদন করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউড সিটি কাউন্সিল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দিল ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট হলিউড শহরে তিন বা ততোধিক ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিবন্ধনের সুযোগ চালু হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় একাধিক সঙ্গীর সম্পর্কে থাকা ব্যক্তিরা শহর কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের সম্পর্ক নিবন্ধন করতে পারবেন। গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার শহরটির পাঁচ সদস্যের সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুমোদন করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায়ে বহুসঙ্গীর সম্পর্কের স্বীকৃতি ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে ওয়েস্ট হলিউড নতুন একটি উদ্যোগ নিল। তবে এই নিবন্ধন প্রচলিত বিয়ের সমান আইনি মর্যাদা দেবে না।   নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, তিন বা তার বেশি ব্যক্তি নিজেদের সম্পর্কের একটি আনুষ্ঠানিক নথি তৈরির জন্য সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সম্পর্কের সব পক্ষের সম্মতি থাকতে হবে এবং আবেদনকারীরা রক্তের সম্পর্কের এমন আত্মীয় হতে পারবেন না, যাঁদের মধ্যে বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। পাশাপাশি সম্পর্কের ধরন ও পারস্পরিক দায়িত্বসংক্রান্ত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ওয়েস্ট হলিউডের বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ অন্য শহরে বসবাস করেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এ শহরে সম্পর্ক নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।   নিবন্ধিত ব্যক্তিরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সঙ্গীর সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার এবং শহরটির আওতাধীন কারাগারে আটক সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ। বাসাভাড়ার ক্ষেত্রেও থাকছে বিশেষ সুরক্ষা। কোনো নিবন্ধিত সঙ্গী ভাড়া করা বাড়িতে বসবাস অব্যাহত রাখলে শুধু সম্পর্কের কাঠামোর কারণে বাড়ির মালিক তাঁর ভাড়ার চুক্তি বাতিল বা নবায়নে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন না। তবে এসব সুবিধা স্থানীয় অধ্যাদেশের আওতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। বিয়ে কিংবা অঙ্গরাজ্য স্বীকৃত প্রচলিত পারিবারিক অংশীদারত্বের মতো পূর্ণ আইনি অধিকার এতে পাওয়া যাবে না।   এই উদ্যোগের পেছনে দীর্ঘদিনের আলোচনা রয়েছে। আইনজীবী ও বহুসঙ্গীর সম্পর্কের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিরাইট দ্য বাইলাইনের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টিনা ফিয়ালহো ২০২৫ সালের শুরুতে ওয়েস্ট হলিউডের কাউন্সিল সদস্য চেলসি লি বায়ার্সের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে শহর কর্তৃপক্ষ সম্পর্কের কাঠামোর ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধে পৃথক অধ্যাদেশ অনুমোদন করে। চলতি বছরের মার্চে অনুমোদিত ওই ব্যবস্থায় বহুসঙ্গীর সম্পর্ক ও অপ্রচলিত পারিবারিক কাঠামোর মানুষদের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য থেকে সুরক্ষার কথা বলা হয়।   এর আগে গত মার্চে ওয়েস্ট হলিউড সিটি কাউন্সিল বহুসঙ্গীর সম্পর্ক নিবন্ধনের সম্ভাব্য কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয়। এ জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি বিষয়টি বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন অধ্যাদেশটি সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই পরবর্তী ধাপ। ওয়েস্ট হলিউডের মেয়র জন হেইলম্যান নতুন অধ্যাদেশটি উত্থাপন করেন। অন্যদিকে কাউন্সিল সদস্য চেলসি লি বায়ার্স সম্পর্কের কাঠামোর ভিত্তিতে বৈষম্য প্রতিরোধের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।   আইনটির অন্যতম উদ্যোক্তা ক্রিস্টিনা ফিয়ালহো লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে বলেন, এই আইন কেবল শুরু। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে এমন অনেক মানুষের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে, যাঁরা আগে নিজেদের সম্পর্কের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির সুযোগ কল্পনাও করতে পারতেন না। বহুসঙ্গীর সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা অধিকারকর্মীদের বক্তব্য, প্রচলিত পারিবারিক কাঠামোর বাইরে থাকা মানুষদের আবাসন, চিকিৎসা ও অন্যান্য নাগরিক সেবা পেতে প্রায়ই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।   তবে নতুন আইন নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা ও প্রশ্নও রয়েছে। ওয়েস্ট হলিউডের বাসিন্দা ও গ্রন্থাগারকর্মী মেগান কাটজের মতে, বহুসঙ্গীর সম্পর্ক মানেই সব সময় তিন বা চারজনের একটি যৌথ সম্পর্ক নয়। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির পৃথক সম্পর্কও একই পারিবারিক কাঠামোর অংশ হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাউন্সিল সদস্য বায়ার্স অধ্যাদেশে ভবিষ্যতে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যাতে একাধিক পৃথক দুই ব্যক্তির সম্পর্কও নিবন্ধনের আওতায় আনা যায়।   যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি পৌরসভায় আগেই একাধিক সঙ্গীর সম্পর্ক নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলি ও ওকল্যান্ড শহরেও পারিবারিক কাঠামোর ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বহুসঙ্গীর সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতাও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ফ্যামিলি কাউন্সিলের মতো রক্ষণশীল সংগঠনগুলো এ ধরনের উদ্যোগের সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।   সব মিলিয়ে, ওয়েস্ট হলিউডের নতুন অধ্যাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এটি বিয়ে বা প্রচলিত পারিবারিক অংশীদারত্বের বিকল্প নয়। বরং নির্দিষ্ট কিছু নাগরিক সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে বহুসঙ্গীর সম্পর্ক নিবন্ধনের একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে শহর কর্তৃপক্ষ।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, ওয়েস্ট হলিউড সিটি কাউন্সিল।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২০:২৬
ছবি: রাইয়ান আবদুল বাতেন, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর

বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও ফ্লোরিডার অধ্যাপক গ্রেপ্তার, প্রাণীর সঙ্গে যৌনতার অভিযোগের নেপথ্যে কী?

নবনির্বাচিত তরুণ কংগ্রেস সদস্য মাইকেল আলফনসো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জেন-জি প্রতিনিধি এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে, ২৬ বছর বয়সেই নির্বাচিত মাইকেল আলফনসো

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক শেখ রহমান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান

নাসার নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মহাকাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিলেন নাসার নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন দেশটির মহাকাশচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স। পৃথিবী থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন কলোরাডোর এই নভোচারী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনের দিন মহাকাশ স্টেশনের ভেতরে নিজের ‘আই ভোটেড’ (আমি ভোট দিয়েছি) স্টিকারের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে দেখা যায়, মহাকাশ স্টেশনের ভেতরের একটি দেয়ালে স্টিকারটি লাগানো রয়েছে। পোস্টের ক্যাপশনে ওয়াটকিন্স লেখেন, মহাকাশের শূন্যতা থেকেও নিজেদের মতামত জানানোর সুযোগ রয়েছে। সবাইকে ভোট দেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।   ওয়াটকিন্সের এই পোস্টকে স্বাগত জানিয়েছেন কলোরাডোর গভর্নর জ্যারেড পলিস। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে ‘আউট অব দিস ওয়ার্ল্ড’ বলে উল্লেখ করেন। মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের জন্য যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি এটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারেরও একটি উদাহরণ। পৃথিবীতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে, ব্যালট বাক্সে ভোট দিয়ে কিংবা ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়ে ভোট দেওয়ার প্রচলন থাকলেও নভোচারীদের ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় নিরাপদ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায়।   নাসার তথ্য অনুযায়ী, জেসিকা ওয়াটকিন্স ১ অক্টোবর স্পেসএক্সের ক্রু-১৩ অভিযানের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছান। এটি তাঁর দ্বিতীয় মহাকাশ অভিযান। এবার তিনি অভিযানের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০২২ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে অংশ নেওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। এবারের অভিযানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নাসার নভোচারী লুক ডেলানি, কানাডার মহাকাশ সংস্থার নভোচারী জশুয়া কুট্রিক এবং রাশিয়ার মহাকাশচারী সের্গেই তেতেরিয়াতনিকভ।   মহাকাশ থেকে যেভাবে ভোট দেন নভোচারীরা   মহাকাশে অবস্থান করলেও নভোচারীদের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। এ জন্য নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নাসা একটি বিশেষ নিরাপদ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে। প্রথমে নভোচারীর কাছে এনক্রিপ্ট করা বা সাংকেতিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় সুরক্ষিত একটি ব্যালট পাঠানো হয়। ই-মেইলের মাধ্যমে দেওয়া নির্দিষ্ট পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে নভোচারী ব্যালট পূরণ করেন। এরপর সেটি নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করেন।   যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নতুন নয়। ১৯৯৭ সালে টেক্সাসে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর একই বছর রুশ মহাকাশ স্টেশন মির থেকে প্রথমবার ভোট দেন মার্কিন নভোচারী ডেভিড উলফ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নাসার যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীতে থাকা ভোটারদের মতো নভোচারীদের ব্যালটও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায় এবং গণনার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়।   নাসার ক্রু-১৩ অভিযানটি শুধু মহাকাশে অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ অভিযানে পৃথিবী ও মহাকাশে মানুষের জীবন সম্পর্কে গবেষণা, প্রযুক্তির পরীক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মহাকাশে থেকেও ভোট দেওয়ার মাধ্যমে জেসিকা ওয়াটকিন্স দেখিয়েছেন, পৃথিবী থেকে দূরে অবস্থান করলেও নাগরিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ বজায় রাখা সম্ভব।   সূত্র: কেডিভিআর (KDVR), নাসা (NASA), স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়াম।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৯:৩২
প্রেমের গুঞ্জন আর কবজির অস্ত্রোপচার, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্পের নাতনি

প্রেমের গুঞ্জন আর কবজির অস্ত্রোপচার, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্পের নাতনি

নিউইয়র্কে আদালতের নির্দেশে আপাতত বন্ধ আফগান অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন

নিউইয়র্কে আদালতের নির্দেশে আপাতত বন্ধ আফগান অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন

মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়ার পথে হাকিম জেফ্রিজ, হতে যাচ্ছেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার

মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়ার পথে হাকিম জেফ্রিজ, হতে যাচ্ছেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার

টেনেসির কারাগার থেকে পালিয়ে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে মিসৌরিতে ধরা পড়লেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি
টেনেসির কারাগার থেকে পালিয়ে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে মিসৌরিতে ধরা পড়লেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির নর্থওয়েস্ট কারেকশনাল কমপ্লেক্স থেকে পালানোর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জ্যাকব মর্লি। ২৮ বছর বয়সী ওই আসামিকে টেনেসি থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটির কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (টিবিআই) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সফল সমন্বয়ের ফলেই তাকে পুনরায় আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।   চার বছর আগে নিজের এক সহকর্মীকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিল জ্যাকব মর্লি। গত ২৫ অক্টোবর কারাগারের সীমানার একটি বেড়া গলিয়ে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সে পালিয়ে যায়। এরপর ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১২০ মাইল দূরে উদ্ধার হওয়া একটি চুরি যাওয়া ট্রাকেও তাকে দেখা গিয়েছিল।   দীর্ঘ তল্লাশি ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর অবশেষে মিসৌরি থেকে তাকে আটকের মধ্য দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সফল এই অভিযানের জন্য টিবিআই তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৮:০
ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-সহ তিনজনের মৃ ত্যু, দুই বছর পর গ্রেপ্তার অভিযুক্ত চালক

ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-সহ তিনজনের মৃ ত্যু, দুই বছর পর গ্রেপ্তার অভিযুক্ত চালক

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চাকরি হারানোর শঙ্কায় মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চাকরি হারানোর শঙ্কায় মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ

নিউইয়র্কে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপের আইনি লড়াইয়ে মেয়র মামদানির জয়

নিউইয়র্কে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপের আইনি লড়াইয়ে মেয়র মামদানির জয়

0 Comments