যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ সরকারের নতুন কনস্যুলেট অফিস স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার আটলান্টায় বসবাসরত প্রবাসীরা প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশির বসবাস, সেই শহরকে বাদ দিয়ে কেন ফ্লোরিডার মায়ামীতে কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার দিক থেকে আটলান্টা দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর একটি। এখান থেকে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, টেনেসি, আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনা—এই ছয়টি অঙ্গরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। ফলে কনস্যুলেট অফিস আটলান্টায় হলে বৃহত্তর সংখ্যক মানুষ সরাসরি সেবা নিতে পারতেন বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।
অন্যদিকে মায়ামী যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় পাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রবাসীদের জন্য সেখানে গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, একটি কনস্যুলেট যদি একটি শহরেই স্থাপন করতে হয়, তাহলে অধিক সংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনা করে আটলান্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল।
প্রবাসী নেতারা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সোনালী ব্যাংকের অর্থ প্রেরণ সেবা “সোনালী একচেঞ্জ” আটলান্টা থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শাখার তুলনায় এখান থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও আটলান্টায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, যদি ভবিষ্যতে একাধিক কনস্যুলেট স্থাপনের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে ফ্লোরিডার পাশাপাশি জর্জিয়ার আটলান্টাতেও কনস্যুলেট স্থাপন করা উচিত।
প্রবাসীদের আশা, অধিক সংখ্যক বাংলাদেশির সুবিধা বিবেচনা করে সরকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কনস্যুলেট স্থাপনের বিষয়ে আবারও পর্যালোচনা করবে এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার নেপথ্য কারণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন ভার্জিনিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন। মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির এই জ্যেষ্ঠ সদস্য অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে তার পরাজয় মেনে নিতে না পেরে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই যুদ্ধ শুরু করেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মার্কিন সেনাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সিনেটর কেইন 'জাস্ট দ্য নিউজ'-এর একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে জানান, ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরান ২০২০ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাকে পরাজিত করতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। ট্রাম্প এই অভিযোগকেই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। কেইন সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে। তিনি জানতে চান, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যুদ্ধকে রিপাবলিকানরা কি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই সমর্থন দিয়ে যাবেন? এর আগে ইরানে স্থলপথে সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধেও কঠোর সতর্কতা জারি করেছিলেন টিম কেইন। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্থল সেনা পাঠানো হলে ট্রাম্পের এই 'অপ্রয়োজনীয় এবং অবিবেচনাপ্রসূত' যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলবে। উল্লেখ্য, টিম কেইন ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন। বর্তমানে মার্কিন বৈদেশিক নীতি এবং সামরিক অভিযানের ওপর নজরদারি রাখার ক্ষমতা সম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিনেট কমিটির সদস্য হিসেবে তার এই মন্তব্য মার্কিন ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এর আংশিক অচলাবস্থা বা শাটডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। গত শনিবার (২১ মার্চ) ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (টিএসএ) রেকর্ড সংখ্যক ৩,২৫০ জন কর্মকর্তা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিলেন, যা মোট নির্ধারিত কর্মীবাহিনীর ১১.৫১ শতাংশ। টানা তিন সপ্তাহ ধরে বেতন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা 'কল-আউট' বা অসুস্থতার অজুহাতে এই গণছুটি নিয়েছেন। এর ফলে হিউস্টন, নিউ ইয়র্ক এবং আটলান্টার মতো প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের চার ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার থেকে অন্তত ১৪টি ব্যস্ততম বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা ডিএইচএস-এর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট পাসে রাজি না হওয়া পর্যন্ত এই শাটডাউন কাটবে না। হোয়াইট হাউসের বর্ডার চিফ টম হোমান জানিয়েছেন, আইসিই এজেন্টরা সরাসরি এক্স-রে স্ক্রিনিং না করলেও লাইন ব্যবস্থাপনা এবং বহির্গমন পথ পাহারার মাধ্যমে টিএসএ কর্মকর্তাদের সহায়তা করবে, যাতে মূল কর্মকর্তারা স্ক্রিনিংয়ের কাজে বেশি সময় দিতে পারেন। টিএসএ কর্মীদের ইউনিয়ন এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর প্রেসিডেন্ট এভারেট কেলি বলেন, আইসিই এজেন্টরা এভিয়েশন সিকিউরিটি বা বিস্ফোরক শনাক্তকরণে প্রশিক্ষিত নয়। অপ্রশিক্ষিত কর্মী মোতায়েন করা কোনো সমাধান নয় বরং এটি নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি দাবি করেন, কর্মীদের প্রতিস্থাপন নয় বরং তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা জরুরি। বর্তমানে হিউস্টনের উইলিয়াম পি. হবি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ ৪৭.৪ শতাংশ এবং জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ৪২.৪ শতাংশ কর্মী অনুপস্থিত রয়েছেন। লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় দাঁড়িয়েছে প্রায় চার ঘণ্টা। মূলত আইসিই এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) পলিসি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক রেষারেষিতে টিএসএ, ফেমা এবং কোস্ট গার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর অর্থায়ন বন্ধ হয়ে পড়ায় এই অচলাবস্থা চরমে পৌঁছেছে। সূত্র: এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত ৩.১ বিলিয়ন (৩১০ কোটি) ডলারের ফেডারেল তহবিল আটকে দেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শিকাগো ট্রানজিট অথরিটি (সিটিএ)। শুক্রবার শিকাগোর একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এবং কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় করা বন্ধ করে দিয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের দাবি, এই তহবিলটি মূলত পূর্ববর্তী জো বাইডেন প্রশাসনের সময় অনুমোদিত হয়েছিল, যা শিকাগোর বিখ্যাত ‘এল’ (L) ট্রেন নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তহবিল আটকে যাওয়ার ফলে বিশেষ করে ‘রেড লাইন’ ট্রানজিট প্রকল্পের কাজ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শিকাগো কর্তৃপক্ষের মতে, ফেডারেল সরকার এই অনুদানকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছে, যা শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরির পথে বড় বাধা। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই তহবিলটির ব্যবহার নিয়ে পর্যালোচনা করছে। প্রশাসনের দাবি, ঠিকাদারি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক চর্চা বা অদক্ষতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেই এই সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানান, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে জনগণের ট্যাক্সের টাকা যেন কোনো অবৈধ বা অপচয়মূলক কাজে ব্যয় না হয়।” তবে শিকাগোর মেয়র এবং ট্রানজিট কর্মকর্তারা এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘স্বৈরাচারী’ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত এই প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ যাত্রী এবং নির্মাণ শ্রমিকরা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শহরের ডেমোক্র্যাট নেতাদের সাথে ফেডারেল প্রশাসনের বাজেট নিয়ে বিরোধ চলছে। নিউইয়র্কের পর শিকাগোই এখন বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিল। আদালতের রায়ের ওপরই এখন নির্ভর করছে শিকাগোর এই মেগা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। সূত্র: ডেট্রয়েট নিউজ ও রয়টার্স।