মধ্যপ্রাচ্যের চার সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে ইরানকে ১৫ দফার একটি বিশদ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সীমাবদ্ধ করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, এই জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষ সম্মত হলে তারা সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে, তবে ইরান সরাসরি এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে—তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পেয়েছে, কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও বিমান চলাচলেও চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৫ দফার এই প্রস্তাবটি যুদ্ধের ময়দানে একটি কূটনৈতিক জানালা খুলে দিলেও, এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে ইসরায়েলের অবস্থান এবং ইরানের চূড়ান্ত সম্মতির ওপর।
সূত্র: আনাদোলু
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসরত লাখো অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব অর্জন দীর্ঘ যাত্রার শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সেই প্রক্রিয়া শিগগিরই আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। কারণ নাগরিকত্বের আবেদন ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) নাগরিকত্ব আবেদনপত্র বা এন-৪০০ ফরম জমা দেওয়ার ফি বাড়ানোর প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। এই ফরমের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডধারীরা মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান ৭৬০ ডলারের ফি বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করা হতে পারে। অন্যদিকে অনলাইনে আবেদনকারীদের জন্য ফি ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৮০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। শুধু ফি বৃদ্ধি নয়, বর্তমানে যেসব আবেদনকারী আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কম ফি বা ফি মওকুফের সুবিধা পান, সেই সুযোগও বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অনেক গ্রিন কার্ডধারী নাগরিকত্বের আবেদন পিছিয়ে দিতে পারেন। কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারেন। এই প্রস্তাবের প্রভাব ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের ওপরও উল্লেখযোগ্য হতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ লাখের বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ও ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ ভারতীয় বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। যদিও ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, নাগরিকত্ব কেবল ভোটাধিকার বা পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন, সরকারি সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ফলে আবেদন ব্যয় বাড়লে অনেক অভিবাসী সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিতে পারেন। তবে প্রস্তাবটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মার্কিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, এটি জনমত গ্রহণের ধাপ অতিক্রম করবে। নাগরিক, অধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তাদের মতামত জমা দিতে পারবেন। এরপর পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে নাগরিকত্ব আবেদন ফি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হতে এখনও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। অভিবাসন নীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই নাগরিকত্ব আবেদন ফি বাড়ানোর এই প্রস্তাব অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের মধ্যে ইসলামিক বা শরিয়াহসম্মত হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে যারা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রচলিত সুদভিত্তিক মর্টগেজ থেকে দূরে থাকতে চান, তাদের জন্য বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভিডিও দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রে হালাল মর্টগেজ লোন কীভাবে কাজ করে? মুসলিমদের জন্য বাসা কেনার শরিয়াহসম্মত উপায় বিশ্বব্যাপী ইসলামিক অর্থনীতির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও গড়ে উঠেছে শরিয়াহসম্মত অর্থায়নের একটি স্বতন্ত্র খাত। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান মুসলিম গ্রাহকদের জন্য এমন কিছু ব্যবস্থা চালু করেছে, যেগুলো সুদের পরিবর্তে সম্পদ, ভাড়া কিংবা অংশীদারিত্বভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হয়। অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তিনটি প্রধান মডেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এগুলো হলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকা। ইসলামিক অর্থনীতির মৌলিক নীতির মধ্যে অন্যতম হলো সুদ বা ‘রিবা’ পরিহার করা। একই সঙ্গে লেনদেনকে বাস্তব সম্পদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা, চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি ও লাভের ন্যায্য বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের বিভিন্ন মডেল এসব নীতির আলোকে তৈরি হয়েছে। ভিডিও দেখুন:যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট ছেড়ে কেন জর্জিয়ামুখী বাংলাদেশিরা? ৫ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন আতাহার হোসেন মুরাবাহা পদ্ধতিকে তুলনামূলকভাবে সহজ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ব্যবস্থায় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রথমে গ্রাহকের পছন্দের বাড়িটি ক্রয় করে। এরপর সেই বাড়িটি মূল মূল্য এবং পূর্বনির্ধারিত লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়। গ্রাহক দীর্ঘমেয়াদে কিস্তির মাধ্যমে সেই অর্থ পরিশোধ করেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি বাড়ির মূল্য যদি ৪ লাখ ডলার হয়, তাহলে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেটি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে ৫ লাখ ডলারে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারে। চুক্তির শুরুতেই মোট মূল্য নির্ধারিত থাকায় ভবিষ্যতে অর্থ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে না। তবে কিছু গবেষক ও আলেমের মতে, এই মডেলের সঙ্গে প্রচলিত ঋণ ব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত মিল রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। ভিডিও দেখুন: নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাড়িভাড়া সংকটের মূল কারণ এবং তা থেকে উত্তরণের কার্যকর উপায়গুলো বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখুন। অন্যদিকে ইজারা পদ্ধতি মূলত ভাড়াভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা। ‘ইজারা’ শব্দের অর্থ ভাড়া। এই মডেলে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাড়ির মালিক হিসেবে থাকে এবং গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়িটি ব্যবহার করেন। এর বিনিময়ে তিনি মাসিক ভাড়া প্রদান করেন। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে মালিকানা অর্জনের সুযোগও থাকে। নির্ধারিত সময় শেষে সম্পূর্ণ মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইসলামিক স্কলারদের মতে, এই পদ্ধতিতে ঋণের পরিবর্তে সম্পদ ব্যবহারের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা হয়, যা ইসলামিক অর্থনীতির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তবে চুক্তির শর্ত এবং মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং বহুল ব্যবহৃত ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং মডেল হলো ডিমিনিশিং মুশারাকা বা হ্রাসমান অংশীদারিত্ব ব্যবস্থা। অনেক ইসলামিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ এই মডেলকে তুলনামূলকভাবে বেশি শরিয়াহসম্মত বলে মনে করেন। এই ব্যবস্থায় বাড়ির মালিকানা শুরু থেকেই গ্রাহক ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগাভাগি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বাড়ির মূল্য ৫ লাখ ডলার হলে এবং গ্রাহক যদি ২৫ হাজার ডলার ডাউন পেমেন্ট দেন, তাহলে তিনি শুরুতে বাড়িটির ৫ শতাংশের মালিক হবেন। বাকি ৯৫ শতাংশ মালিকানা থাকবে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে। পরবর্তী সময়ে গ্রাহক মাসিক ভিত্তিতে দুটি অংশে অর্থ প্রদান করেন। একটি অংশ প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন অংশ ব্যবহারের জন্য ভাড়া হিসেবে এবং অন্য অংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা মালিকানা ধীরে ধীরে কিনে নেওয়ার জন্য। এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কমতে থাকে এবং গ্রাহকের মালিকানা বাড়তে থাকে। চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পুরো বাড়ির মালিকানা গ্রাহকের হাতে চলে আসে। ইসলামিক ফাইন্যান্স ল্যান্ডারদের মতে, ঝুঁকি ও মালিকানা ভাগাভাগির কারণে এই মডেলটি অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থনীতির একটি বাস্তব প্রতিফলন। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং খাতে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে Guidance Residential, UIF Corporation, Ijara Community Development Corporation (IjaraCDC), Devon Bank Islamic Financing এবং LARIBA-এর মতো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং সেবা প্রদান করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই শরিয়াহ উপদেষ্টা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাদের পণ্য ও সেবার কাঠামো নির্ধারণ করে থাকে। তবে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে সব আলেম ও গবেষকের মধ্যে অভিন্ন মত নেই। কেউ কেউ এটিকে মুসলিমদের জন্য একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখেন। আবার অন্যদের মতে, কিছু মডেলের বাস্তব প্রয়োগ আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে কোনো চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, ফি, মালিকানা হস্তান্তরের পদ্ধতি এবং শরিয়াহ বোর্ডের মতামত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাপী ইসলামিক অর্থনীতির সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও শরিয়াহসম্মত আর্থিক সেবার চাহিদা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আর্থিক সচেতনতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে আগামী বছরগুলোতে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং আরও বিস্তৃত হবে এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি অটো বডি শপে নিলামে কেনা একটি গাড়ির ভেতর থেকে দুই পুরুষের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে। হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকায় অটো বডি শপের কর্মীরা বিষয়টি টের পান এবং পরে গাড়ির ভেতরে মরদেহ দুটি খুঁজে পান। পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত হয়। হ্যারিস কাউন্টি শেরিফ এড গঞ্জালেজ জানান, ডেপুটিরা 13600 ব্লক রিভেস্টন রোডে পৌঁছান, যেখানে গাড়িটি একটি টো ট্রাকের মাধ্যমে বডি শপে আনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানায়, গাড়িটি হ্যারিস কাউন্টির বাইরে অনুষ্ঠিত একটি নিলাম থেকে কেনা হয়েছিল। নতুন মালিক মেরামতের উদ্দেশ্যে গাড়িটি অটো বডি শপে পাঠান, কারণ এটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য ছিল। কর্তৃপক্ষের ধারণা, গাড়িটি বডি শপে আনার পর কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মরদেহ দুটি সেখানে ছিল এবং ধীরে ধীরে পচন শুরু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সার্জেন্ট মাইকেল রিচি, যিনি এবিসি হিউস্টনের সহযোগী চ্যানেল KTRK-কে বিষয়টি জানান। তবে এখনো পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, টো ট্রাক চালক যিনি গাড়িটি বডি শপে পৌঁছে দেন, তার সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।