খাদ্যাভ্যাস কি বদলে দিতে পারে মানুষের জিন? আলুর প্রভাবে আন্দিজবাসীর ডিএনএ-তে বড় পরিবর্তন
মানুষের খাদ্যাভ্যাস কি বংশগতি বা জেনেটিক্স বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা অঞ্চলের মানুষের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, উত্তরটি ইতিবাচক। দীর্ঘকাল ধরে প্রধান খাবার হিসেবে আলু খাওয়ার ফলে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জিনগত গঠনে এক বিশেষ পরিবর্তন এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের লালায় উপস্থিত ‘অ্যামাইলেজ’ নামক এনজাইম বা উৎসেচক নিয়ন্ত্রণ করে ‘AMY1’ নামক একটি জিন। শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার সময় এই এনজাইম মুখগহ্বরেই শর্করা ভাঙতে শুরু করে। বিজ্ঞানীদের মতে, আন্দিজ অঞ্চলের আদিবাসী ‘কেচুয়া’ ভাষাভাষী মানুষদের শরীরে এই জিনের আধিক্য দেখা গেছে। এই জেনেটিক পরিবর্তন তাদের উচ্চ-শর্করাযুক্ত খাবার অর্থাৎ আলু সহজে হজম করতে সাহায্য করে।
ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোর গবেষকরা আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার ৮৫টি জনগোষ্ঠীর ৩ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণার সহ-প্রধান লেখক লুয়ান ল্যান্ডউ জানান, যাদের শরীরে AMY1 জিনের সংখ্যা বেশি ছিল, তারা অন্যদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পেয়েছিলেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যেও এই বৈশিষ্ট্যটি ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্দিজের প্রতিকূল উচ্চতায় আলু ছিল ক্যালরির অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য উৎস। গবেষণার আরেক লেখক কেন্দ্রা শিয়ার জানান, পেরুতে বর্তমানেও প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার প্রজাতির আলু পাওয়া যায়। মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বজুড়ে আলুর যে জনপ্রিয়তা, তার মূলে রয়েছে প্রাচীন আন্দিজবাসীর এই বিবর্তনীয় অভিযোজন। এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে, দীর্ঘমেয়াদী খাদ্যাভ্যাস মানুষের ডিএনএ-তে স্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কর্মকর্তা শরীফুল এম. খান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পৌঁছেছেন। ২০২৫ সালের ৩০ জুন থেকে তাঁর পদোন্নতি কার্যকর হয়। বর্তমানে তিনি পেন্টাগনে মার্কিন স্পেস ফোর্সের সদর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে এ পদে পৌঁছানো প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। স্পেস ফোর্সের হালনাগাদ জীবনী অনুযায়ী, শরীফুল খান ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান দায়িত্বে আছেন। সদর দপ্তরের নীতি, পরিকল্পনা ও বিভিন্ন বিভাগের কাজের সমন্বয় তাঁর দায়িত্বের অংশ। এর আগে তিনি পেন্টাগনে ‘গোল্ডেন ডোম ফর আমেরিকা’ কর্মসূচির ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন বলে ২০২৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাই ওই পদকে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না। শরীফুল খান ১৯৯৭ সালে ইউএস এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে কমিশন পান। সামরিক জীবনে স্যাটেলাইট পরিচালনা, স্পেস সিস্টেম ও উৎক্ষেপণসংক্রান্ত কাজে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১ সালে তিনি কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে এবং ২০০৭ সালে ‘অপারেশন সাইলেন্ট সেন্ট্রি’তে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ৩৭৯তম স্পেস রেঞ্জ স্কোয়াড্রনের কমান্ডার ছিলেন। পরে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কলোরাডোয় ৩১০তম স্পেস উইংয়ের নেতৃত্ব দেন। স্পেস ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই দায়িত্বে প্রায় ১ হাজার ৫০০ সামরিক সদস্যের কার্যক্রম তদারক করেছেন তিনি। সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি স্পেস সিস্টেমস অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট, স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স ও মিলিটারি স্ট্র্যাটেজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। তাঁর পাওয়া সম্মাননার মধ্যে রয়েছে লিজিয়ন অব মেরিট, ডিফেন্স মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল ও মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল। সূত্র : আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
নিজের ছোড়া গুলিতে বিকৃত হয়ে যায় মুখমণ্ডল, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পেলেন নতুন জীবন
মুদিপণ্য কিনতে কিস্তির ঋণ নিচ্ছেন ২৯ শতাংশ আমেরিকান, বাড়তি খরচের আশঙ্কা
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সে ফুল ফান্ড! জেনে নিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা
যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদনে টেক্সাস ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষে উঠে এসেছে। চলতি ২০২৬ সালেও অঙ্গরাজ্যটিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। টেক্সাসের সৌরবিদ্যুতের এই উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষিজমি, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত নতুন প্রকল্প স্থাপনের সুযোগ। অঙ্গরাজ্যের আলাদা বিদ্যুৎ গ্রিডে সৌর প্রকল্প যুক্ত করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় বিনিয়োগকারীরাও এখানে বড় আকারের প্রকল্প গড়ে তুলছেন। একই সময়ে টেক্সাসের জনসংখ্যা ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় নতুন উৎপাদন সক্ষমতার প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে। এর একটি বাস্তব উদাহরণ উভালডের কৃষক স্টিভ কারগিল। তাঁর পরিবার ১৯৫৩ সাল থেকে টেক্সাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শুষ্ক ও সমতল জমিতে কৃষিকাজ করছে। ৬৭ বছর বয়সী কারগিল একসময় ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর তিন সন্তানের একজন ভবিষ্যতে পারিবারিক খামারের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু ২০১৮ সালের একটি ভয়াবহ শিলাবৃষ্টির পর সেই পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কারগিল ও তাঁর ছেলে রায়ান কয়েক মাস ধরে বাঁধাকপি ও পেঁয়াজের ফসল পরিচর্যা করেছিলেন। কিন্তু একটি রাতের ঝড়ে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তাঁর ছেলে কৃষিকাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। কারগিলও বুঝতে পারেন, তাঁর তিন সন্তানের কেউই পূর্ণকালীন কৃষিকাজে যেতে আগ্রহী নন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট অবসরভাতা না থাকায় নিজের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও তিনি চিন্তিত ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে কারগিল তাঁর মোট জমির প্রায় এক-চতুর্থাংশ, ৬০০ একর জমি, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ইজারা দেন। ওসিআই এনার্জি সেখানে বড় একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে। এই ইজারা থেকে কারগিল বছরে প্রায় ২ লাখ ডলার আয় করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই আয় দীর্ঘস্থায়ী খরার মধ্যেও কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে তিনি নিজের চাষের জমিতে সেচের জন্য বরাদ্দ পানি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছেন এবং ডিজেল ও সারের দাম বাড়লেও আগের মতো চাপ অনুভব করছেন না। টেক্সাসের বিদ্যুৎ খাতেও এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টেক্সাসে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে ৫৮ হাজার ৬৩৪ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় উৎপাদন ছিল ৫৩ হাজার ৭১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। তবে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ, যেমন বাড়ির ছাদে স্থাপিত ব্যবস্থা, যুক্ত করলে ক্যালিফোর্নিয়া এখনো এগিয়ে রয়েছে। টেক্সাসের সৌরবিদ্যুতের বিস্তার কতটা দ্রুত হচ্ছে, তার আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বাভাসে। জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, টেক্সাসের অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে থাকা বিদ্যুৎ গ্রিডে ২০২৬ সালে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৭৮ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং কয়লা থেকে উৎপাদন প্রায় ৬০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা হতে পারে। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার পেছনে খরচও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওসিআইয়ের প্রকল্প উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা জেমস স্কটের মতে, প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থায় ধারাবাহিক উন্নতির কারণে সৌরবিদ্যুতের ব্যয় কমেছে। একটি প্রকল্প চালু হওয়ার পর সূর্যের আলো জ্বালানি হিসেবে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চুক্তিতে স্থিতিশীল দাম নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়। সৌর প্রকল্পের কারণে কৃষকরাও নতুন আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বড় ও সমতল জমির প্রয়োজন হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো কৃষকদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিচ্ছে। টেক্সাস সোলার অ্যান্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মার্ক স্টোভার বলেন, এসব ইজারা সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত চলে এবং সময়ের সঙ্গে এর মূল্য বাড়তে পারে। এতে কোনো কোনো পরিবার অবসর নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, কেউ পারিবারিক তহবিল গড়ে তুলছে, আবার কেউ কৃষিখামার টিকিয়ে রাখতে পারছে। তবে সৌরবিদ্যুতের এই বিস্তার নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। উত্তর-পূর্ব টেক্সাসের ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির কিছু বাসিন্দা নতুন সৌর প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। স্থানীয় আইনজীবী বিএফ হিকসের অভিযোগ, সৌর প্রকল্প তৈরির জন্য পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের কবরস্থানের পাশেও একটি প্রকল্প তৈরি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ডেভিড ট্রুসডেলও জমি পরিষ্কার, পানি প্রবাহ এবং বড় ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির বাসিন্দারা একসময় নতুন সৌর প্রকল্প নির্মাণে স্থানীয় পর্যায়ে স্থগিতাদেশ কার্যকর করলেও পরে আইনি চাপের মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। সমালোচকদের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে জমির দৃশ্যগত পরিবর্তন, গাছপালা পরিষ্কার করার পর পানি প্রবাহের প্রভাব এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা। তারপরও টেক্সাসে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যে নতুন বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় ৪০ শতাংশই টেক্সাসে হতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যে বড় ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রকল্পও বাড়ছে। ফলে তেল ও গ্যাসের জন্য পরিচিত টেক্সাসের জ্বালানি চিত্রে সৌরবিদ্যুৎ এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। উভালডের কৃষক কারগিলের মতো জমির মালিকদের জন্য এটি যেমন নতুন আয়ের উৎস তৈরি করছে, তেমনি অঙ্গরাজ্যের দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতেও সৌরবিদ্যুতের ভূমিকা বাড়ছে। তবে গ্রামীণ জমি ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্কও একই সঙ্গে চলতে থাকছে। সূত্র: বিবিসি
আইন স্কুলে জেডির চেয়ে ‘৫০ বিলিয়ন গুণ ভালো’ ছিলেন উষা ভ্যান্স
ওয়াশিংটনে বাড়ির উঠানে কালো ভালুকের হামলা, লড়াই করে বাঁচল ১২ বছরের কিশোর
কাতারে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে ভুয়া বিয়েতে জড়ানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন রোমানিয়ার এক নারী। নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়, নিউ জার্সি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যামডেনের ফেডারেল আদালতে বিচারক ক্রিস্টিন পি. ও'হার্নের সামনে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি মার্কিন নাগরিক ভিক্টর পুরিলার সঙ্গে এমন একটি বিয়েতে জড়িয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পথ তৈরি করা। মিরচেয়া ও পুরিলা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে বিয়ে করেন। পরের বছর ২০২৫ সালের জুনে তারা আটলান্টিক সিটির বোর্ডওয়াক এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য যৌথভাবে ভাড়ার চুক্তিও করেন। বাইরে থেকে দেখলে এতে তাদের একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু আদালতের নথি অনুযায়ী, বাস্তবে পুরিলা ওই অ্যাপার্টমেন্টে মিরচেয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন না। তিনি কাছের শহর অ্যাবসিকনে নিজের পরিবারের বাড়িতে থাকতেন। পরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া নথিতে অবশ্য দুজনই দাবি করেন, তারা আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে একসঙ্গে থাকেন। ২০২৫ সালের আগস্টের দিকে পুরিলা মিরচেয়ার জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের কাছে ফরম আই-১৩০ জমা দেন। ওই ফরমে তিনি মিরচেয়ার সঙ্গে আটলান্টিক সিটিতে একই বাসায় বসবাস করার কথা উল্লেখ করেন। মিরচেয়াও পরে ফরম আই-৪৮৫-এ একই ধরনের তথ্য দেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে অবশ্য তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসঙ্গতি পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, পুরিলার মোবাইল ফোন ও গাড়ির অবস্থান পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, বেশিরভাগ রাতেই সেগুলো অ্যাবসিকনে ছিল। এর ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, তিনি আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে নিয়মিত বসবাস করতেন না। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা মিরচেয়া ও পুরিলাকে আলাদাভাবে সাক্ষাৎকার নেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কীভাবে তাদের পরিচয় হয়েছিল, তারা কীভাবে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পুরিলা কত ঘন ঘন তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে যেতেন এবং তারা কীভাবে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতেন, এসব বিষয়ে দুজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এসব তথ্য ও কর্মকাণ্ড তাদের বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য ছিল না, বরং অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এই মামলায় পুরিলার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং বিবাহ জালিয়াতির অভিযোগের বিচার এখনো চলমান। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, পুরিলা এর আগে ২০১৪ সালে এক বুলগেরিয়ান নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। ওই নারী পরবর্তীতে সেই বিয়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মিরচেয়ার বিরুদ্ধে বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সর্বোচ্চ শাস্তি, চূড়ান্ত সাজা নয়। তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি। মামলাটির তদন্ত করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়। নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি রবার্ট ফ্রেজার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রকৃত সম্পর্কের পরিবর্তে কাগুজে বা সাজানো বিয়ের ব্যবহার ফেডারেল আইনে অপরাধ। এই মামলাতেও প্রসিকিউটরদের মূল অভিযোগ ছিল, বিয়েটিকে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে তাঁর সাজা ঘোষণার পরই আদালত তাঁর ক্ষেত্রে কী শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়; ফেডারেল আদালতের নথি
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে পারিবারিক আর্থিক চাপ, সময়মতো সব বিল দিতে পারছে না ৩২ শতাংশ পরিবার
নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সুখবর, বিনামূল্যে ৭০ হাজার অপেরা টিকিট দিচ্ছেন মেয়র মামদানি