নিউইয়র্কে অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ, রিফান্ড চাইছেন বাড়ির মালিকরা
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি যখন ধনীদের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর নতুন কর আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই সাধারণ বাড়ির মালিকেরা এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। কো-অপ এবং কন্ডো (condo) মালিকদের দাবি, বর্গফুটের ভুল হিসাবের কারণে তারা বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত সম্পত্তি কর বা প্রপার্টি ট্যাক্স দিয়ে আসছেন। সব মিলিয়ে পুরো শহরে যার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে লাখ লাখ ডলারে। অথচ এখন নিজেদের অতিরিক্ত দেওয়া টাকা ফেরত বা রিফান্ড পেতে গিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের কাছে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।
আপার ওয়েস্ট সাইডের শতবর্ষী একটি কো-অপ ভবনের বাসিন্দা এলেন সিলভারম্যান জানান, ভবনের সংস্কার কাজের সময় একজন স্থপতি দিয়ে নতুন করে মাপজোক করা হলে এই বিশাল গরমিল ধরা পড়ে। তিনি দেখতে পান, ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের রেকর্ডে থাকা তথ্যের চেয়ে তাদের ভবনের প্রকৃত আয়তন ২২ শতাংশ কম। নিউইয়র্ক সিটি মূলত বাসযোগ্য বর্গফুটের একটি জটিল সূত্রের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারণ করে থাকে। এই ভুল হিসাবের কারণে গত ৪০ বছর ধরে ভবনটিকে লাখ লাখ ডলার অতিরিক্ত কর গুণতে হয়েছে। ২০২৩ সালে সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে 'ক্ল্যারিক্যাল এরর রিপোর্ট' জমা দেওয়ার পর ভবিষ্যতের জন্য আয়তন সংশোধন করা হলেও, আইন অনুযায়ী পূর্ববর্তী ছয় বছরের পাওনা রিফান্ড দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
একই ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন আপার ইস্ট সাইডের বাসিন্দা অ্যান্ড্রু ক্যাভাগনারো। তার ভবনের আয়তনও প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট বেশি দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ জানানোর পর তাকে মাত্র দুই বছরের রিফান্ড দেওয়া হয়েছে, অথচ তার নিয়ম অনুযায়ী ছয় বছরের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। প্রপার্টি ট্যাক্স কনসালট্যান্ট স্ট্যান রুশো জানান, নিউইয়র্কের প্রায় ৭০ শতাংশ কন্ডো ও কো-অপ ভবনের বর্গফুটের হিসাবে এ ধরনের অতিরঞ্জন রয়েছে। গত বছর সিটি কর্তৃপক্ষ রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য সময়সীমা ছয় বছর থেকে কমিয়ে তিন বছরে নামিয়ে এনেছে। রুশোর মতে, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই রিফান্ড দেওয়ার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে, যাতে বাসিন্দাদের টাকা ফেরত দিতে না হয়।
এদিকে এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স। তারা শুধু একটি লিখিত বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের 'ট্যাক্স কমিশন'-এর কাছে আপিল করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে ট্যাক্স কমিশন বা মেয়র মামদানির দপ্তর থেকে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পায়নি সংবাদমাধ্যমগুলো। নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে সাত হাজারের বেশি কন্ডো এবং কো-অপ ভবন রয়েছে। সিটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট উত্তর বা সহযোগিতা না পেয়ে ভুক্তভোগী মালিকরা এখন নিজেদের অধিকার আদায়ে স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনপ্রণেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreদিনের বেলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের একজন 'হিউম্যান পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ার'। মহাকাশচারীরা যাতে স্পেসস্যুটে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন, তা নিয়ে কাজ করেন তিনি। কিন্তু দিনের কাজ শেষে এরিন অ্যান্ড্রুস নামের ৪১ বছর বয়সী এই নারীর জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজের বেডরুমের ক্লোজেটে (দেয়াল-আলমারি) তৈরি করা একটি অস্থায়ী সাউন্ড বুথে ভয়েসওভার আর্টিস্ট বা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে 'সাইড হাসল' করেন তিনি। আর চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই খণ্ডকালীন কাজ থেকে তিনি এখন মাসে গড়ে ৩২ হাজার ৪০০ ডলার আয় করছেন! ২০২২ সালের মার্চ মাসে স্বামীবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একজন 'সিঙ্গেল মাদার' হিসেবে এরিন চেয়েছিলেন মাসে অন্তত ২০০ ডলার বাড়তি আয় করতে, যাতে খরচের চিন্তা ছাড়া তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে আইসক্রিম খাওয়াতে বা শিশু জাদুঘরে নিয়ে যেতে পারেন। ইন্টারনেটে 'সিঙ্গেল মম সাইড হাসল' লিখে খুঁজতেই তিনি ভয়েসওভারের আইডিয়াটি পান। এরপর মাত্র ২০০ ডলার খরচ করে একটি ভয়েসওভার কোর্স করেন, একটি মাইক্রোফোন কেনেন এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়ালমার্ট থেকে ম্যাট্রেস টপার কিনে নিজের ক্লোজেটকে মিনি-রেকর্ডিং বুথে পরিণত করেন। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে, তাকে বসে বসে রেকর্ডিং করতে হতো। অনলাইন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ফাইভার-এ (Fiverr) প্রোফাইল খুলে কাজ শুরু করেন এরিন। বর্তমানে তিনি অ্যাপল, কোকা-কোলা, পেটস্মার্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির মতো বড় বড় ক্লায়েন্টদের হয়ে করপোরেট ঘোষণা ও ট্রেনিং ভিডিওর ভয়েসওভার দিচ্ছেন। এরিন জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে মানুষ এখন অতি-নিখুঁত কণ্ঠের বদলে আসল মানুষের একটু অমসৃণ ও স্বাভাবিক কণ্ঠ শুনতে বেশি পছন্দ করে, যা তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। চলতি ২০২৬ সালে ইতিমধ্যেই এই সাইড হাসল থেকে তিনি ২ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি আয় করেছেন, যা গত ২০২৫ সালের গ্রীষ্মেই নাসায় তার মূল বেতনের অঙ্ককে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে ভয়েসওভারের কাজ থেকে পাওয়া অর্থে তিনি ভ্রমণ করছেন, গাড়ি কিনেছেন এবং মেয়ের কলেজের পড়াশোনার জন্য সঞ্চয় করছেন। তবে নাসার চ্যালেঞ্জিং চাকরিটি ছাড়ার কোনো ইচ্ছে তার আপাতত নেই। বরং সম্প্রতি তিনি ভিডিও গেম এবং অ্যানিমেটেড কমিকসে চরিত্রভিত্তিক ভয়েসওভারের কাজও শুরু করেছেন এবং ২০২৫ সালের আগস্টে ডালাসে একটি ভিডিও গেমে কণ্ঠ দিয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। একসময় নিজেকে কেবল বিজ্ঞান ও অঙ্কের মানুষ ভাবা এরিন এখন নিজের এই শৈল্পিক সত্তা এবং অভাবনীয় আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ও চিন্তামুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন।
ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মীদের ওজন কমাতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়, সিইও বলছেন ‘সার্থক বিনিয়োগ’
নিউইয়র্কে ডোমিনিকান ডে প্যারেডে হামলা, ৬৫ বছরের বৃদ্ধকে কু পিয়ে জখম
নিউইয়র্কে অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ, রিফান্ড চাইছেন বাড়ির মালিকরা
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গভীর খাদে পড়ে গেলে পাঁচ কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মেসা কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, নিহত পাঁচজনেরই বয়স ১৭ বছর এবং তারা সবাই গ্র্যান্ড জংশন এলাকার বাসিন্দা। শনিবার গভীর রাতে গ্র্যান্ড জংশনের একটি আবাসিক এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ বিভাগ জানায়, রোববার স্থানীয় সময় সকাল আটটার কিছু আগে লুকআউট লেনের ২০০০ ব্লকে একটি গাড়ি পাহাড়ের খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তল্লাশি চালিয়ে তারা পাহাড়ের ঢালে বিধ্বস্ত গাড়িটির সন্ধান পান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ওই পাঁচ কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাড়িটি লুকআউট লেন ধরে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তা থেকে ছিটকে পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনার পেছনে গাড়ির অতিরিক্ত গতি অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। করোনার অফিস সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, গাড়ির চালক ও সামনের সিটের যাত্রীর পাশাপাশি অপর একজন সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন। তবে বাকি দুজনের সিটবেল্ট বাঁধা না থাকায় দুর্ঘটনার প্রচণ্ড ধাক্কায় তারা গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান। একাধিক সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। নিহতরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নীতিমালার কারণে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ বিভাগ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ফ্লোরিডায় স্ত্রী ও দুই অবুঝ সৎমেয়েকে হ ত্যার ১৪ বছর পর আদালতে দোষ স্বীকার পাষণ্ড স্বামীর
ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে এফবিআইয়ের হাতে উদ্ধার কিশোরী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে দাদির অসুস্থতার অজুহাতে গলফে জালিয়াতি, ফেইক ‘হোল-ইন-ওয়ান’ করে বিপাকে খেলোয়াড়
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে লাগামহীনভাবে বাড়ি বীমার (হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স) খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আবাসন সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। রাইস ইউনিভার্সিটির কিণ্ডার ইনস্টিটিউট ফর আরবান রিসার্চ এবং পাবলিক পলিসি সংস্থা 'টেক্সাস ২০৩৬'-এর যৌথ গবেষণায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত করার পর দেখা যায়, টেক্সাসের প্রায় ৬৪ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৭০ লাখ পরিবার তাদের নিজ কাউন্টির গড় মূল্যের একটি সাধারণ বাড়ি কেনার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ টেক্সাস রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে কম খরচে আবাসন সুবিধা মিললেও, বীমার দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় সেই সস্তা স্বর্গের সুনাম এখন ধ্বংসের মুখে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেক্সাসে বাড়ি বীমার গড় খরচ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বার্ষিক প্রায় ২,৯৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রাজ্যে বাড়ির গড় মূল্য ৩১ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৫০ ডলারে দাঁড়ালেও মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। গত পাঁচ বছরে টেক্সাসে গৃহস্থালিগুলোর মধ্যবর্তী আয় বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, যা একটি মধ্যম মূল্যের বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয়ের চেয়ে প্রায় ৫,৩৬৫ ডলার কম। অঞ্চলটিতে ঘনঘন তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নির্মাণসামগ্রীর আকাশচুম্বী দামকেই বীমার এই অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষকদের মতে, মোট আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি অর্থ যদি বাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে চলে যায়, তবে তা সাধারণ পরিবারের জন্য অসাধ্য হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে এই বীমা প্রিমিয়াম যদি মাত্র ৪ থেকে ১০ শতাংশও বৃদ্ধি পায়, তবে নতুন করে আরও ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পরিবার গৃহহীন থাকার ঝুঁকিতে পড়বে। এই সংকট বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। অস্টিন, ডালাস কিংবা হিউস্টনের মতো বড় মেট্রোপলিটন শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ কাউন্টিগুলোতেও বীমার এই অতিরিক্ত বোঝা সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সঞ্চয়ের পথকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি আবেদনে বড় ব্যবধান, ডেমোক্র্যাট এলাকায় ৫১ লাখ, রিপাবলিকান এলাকায় ১৭ লাখের কম
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি