সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারকে ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৯:১৮
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারকে ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারকে ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার বোদুগুম আখিলেশ রেড্ডিকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ২০২৫ সালের আবুধাবি টি-১০ টুর্নামেন্টকে ঘিরে ম্যাচের বিভিন্ন দিক প্রভাবিত করার চেষ্টা, অন্য একজন খেলোয়াড়কে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

 

আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রেড্ডির বিরুদ্ধে মোট তিনটি দুর্নীতিবিরোধী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচের ফল বা ম্যাচের অগ্রগতির কোনো অংশ বেআইনিভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং অন্য একজন অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা।

 

তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, রেড্ডি তার মোবাইল ফোন থেকে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন তথ্য ও বার্তা মুছে ফেলেছিলেন। ট্রাইব্যুনাল এটিকেও দুর্নীতিবিরোধী বিধির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে।

 

রেড্ডিকে ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা ওই তারিখ থেকেই কার্যকর হিসেবে গণনা করা হয়েছে।

 

২৬ বছর বয়সী রেড্ডি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের হয়ে চারটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের বিপক্ষে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। ওই চার ম্যাচে তিনি একটি উইকেট নিয়েছেন।

 

মাইনর লিগ ক্রিকেটেও রেড্ডির অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আটলান্টা ফায়ারের হয়ে খেলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ ছিলেন। ক্রিকেটের বিভিন্ন রেকর্ডে তাকে আটলান্টা ফায়ারের খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আবুধাবি টি-১০ টুর্নামেন্টে রেড্ডি অ্যাসপিন স্ট্যালিয়ন্সের হয়ে খেলেছিলেন। ওই আসরেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী বিধি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ঘটে বলে আইসিসি জানিয়েছে।

 

তবে আইসিসির সিদ্ধান্তকে শুধু ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ হিসেবে উল্লেখ করলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয় না। ট্রাইব্যুনাল তাকে কোনো ম্যাচ সফলভাবে ফিক্স করার জন্য নয়, বরং ম্যাচের ফল বা অগ্রগতিতে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, অন্য খেলোয়াড়কে এতে যুক্ত করার চেষ্টা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে।

 

ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিং ও অন্যান্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইসিসির কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আট বছরের নিষেধাজ্ঞার ফলে ২০৩৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রেড্ডি কোনো ধরনের ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপ প্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা
সুপার এল নিনোতে বাড়বে তাপপ্রবাহ, বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃ ত্যুর আশঙ্কা

সুপার শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। এর ফলে ২০২৬ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৭ সালের শুরুর সময় পর্যন্ত অতিরিক্ত তাপজনিত মৃ ত্যুর সংখ্যা ৪ লাখ ৫১ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাবে কোনো অঞ্চলে তীব্র খরা, আবার অন্য অঞ্চলে বন্যা ও চরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে।   ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর সর্বোচ্চ শক্তি দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্মের সময়ের সঙ্গে মিলে যেতে পারে। তাই ওই অঞ্চলে তাপজনিত মৃ ত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে। নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সুদানে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃ ত্যুর সংখ্যা কয়েক দশ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে।   ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ৪ লাখ ৫১ হাজারের মতো বড় সংখ্যা অনেকের কাছে অসাড় করে দেওয়ার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এই সংখ্যার পেছনে রয়েছে বাবা-মা, শিশু, দাদা-দাদি, প্রতিবেশী এবং প্রতিদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা অসংখ্য মানুষ।   যুক্তরাষ্ট্রেও এল নিনোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ তাপজনিত মৃ ত্যু হতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে, কারণ রেকর্ড গরম গ্রীষ্মের পরও শরতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এল নিনোর সবচেয়ে বড় তাপের প্রভাব এখনও আসেনি। অতীতের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শক্তিশালী এল নিনোর পরের বছর অনেক সময় আরও বেশি গরম হতে পারে। কলাম্বিয়া ক্লাইমেট স্কুলের অধ্যাপক জেফরি শামান বলেছেন, এই প্রবণতা ২০২৭ সালেও তীব্র গরমের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   তীব্র গরমের ঝুঁকি শহরের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিশেষভাবে বেশি। জলবায়ু ও আইন বিষয়ে অধ্যাপক শিলা ফস্টারের মতে, ১৯৮২ সালের পর শহরাঞ্চলে চরম তাপের সংস্পর্শ প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে এবং এতে প্রায় ১৭০ কোটি মানুষ প্রভাবিত হচ্ছেন।   তাপপ্রবাহে মৃ ত্যু হওয়া অনেক মানুষ ঘরের ভেতরেই থাকেন। অনেকের বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার থাকলেও দীর্ঘ সময় সেটি চালানোর খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে একের পর এক তাপপ্রবাহের সময় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।   এল নিনোর প্রভাব শুধু তাপমাত্রা বাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, বাড়তে পারে খাদ্যের দাম এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোথাও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি ও খাদ্য সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।   তবে ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃ ত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়, এটি একটি মডেলভিত্তিক প্রক্ষেপণ। এল নিনোর প্রকৃত শক্তি, স্থানীয় আবহাওয়া এবং মানুষকে তীব্র গরম থেকে সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতার ওপর বাস্তব মৃ ত্যুর সংখ্যা অনেকটাই নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৫:৪৩
বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার গ্রিড উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, গ্রিড শক্তিশালী করতে ২০০ কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২০৩২ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে

সোশ্যাল সিকিউরিটির টাকা ফুরিয়ে আসছে, ট্রাস্ট ফান্ড শেষ হতে পারে ২০৩২ সালে

এফবিআইয়ের চাকরির ওয়েবসাইটে সাইবার হা মলার দাবি ঘিরে তদন্ত চলছে

প্রায় সব এফবিআই এজেন্টের ‘অতি সংবেদনশীল তথ্য’ চুরির দাবি হ্যা কারদের

কম যাত্রী ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে নরস আটলান্টিক। ছবি: সংগৃহীত
কম যাত্রী ও জ্বালানির উচ্চমূল্যে নরস আটলান্টিকের প্রায় সব যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইট বাতিল

কম যাত্রী ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে নরওয়ের কম খরচের এয়ারলাইন নরস আটলান্টিক। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক ও রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরের দুটি রুট বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে নরস আটলান্টিকের নির্ধারিত মাত্র একটি রুট চালু থাকবে, যা অরল্যান্ডো থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক পর্যন্ত।   নরস আটলান্টিকের এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রগামী আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সাম্প্রতিক মন্দাভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ভ্রমণ ও পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে প্রায় ৩১ লাখ আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ সংখ্যা ১১ দশমিক ৮ শতাংশ কম। জুলাইয়েও আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী কমেছিল ৭ শতাংশ।   ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পর্যটকের আগমন কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক চিত্রে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমেছে। যাত্রীসংখ্যার এই পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন তাদের ফ্লাইট সূচি ও রুট নতুন করে পর্যালোচনা করছে। কম চাহিদার রুটে ফ্লাইট কমিয়ে তুলনামূলক বেশি চাহিদার গন্তব্যে উড়োজাহাজ ব্যবহারের চেষ্টা করছে তারা।   অসলোভিত্তিক নরস আটলান্টিক ২০২২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে কম খরচে দীর্ঘপাল্লার বিমান চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। একসময় নিউইয়র্ক, মায়ামি, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, বোস্টন ও অরল্যান্ডো থেকে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তাদের ফ্লাইট চলত। তবে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে সেবা গুটিয়ে নিয়েছে এবং আরও কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রগামী রুট কমিয়েছে।   এবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে লন্ডন ও রোমের দুটি রুটও বন্ধ হচ্ছে। উড়োজাহাজ চলাচলের সূচি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারোরুটস প্রথম এই পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশ করে। ২৫ অক্টোবরের পর নরস আটলান্টিকের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চালু থাকা একমাত্র নির্ধারিত রুট হবে অরল্যান্ডো থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর পর্যন্ত।   নরস আটলান্টিক তাদের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রগামী রুট থেকে সরিয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার শহরগুলো থেকে থাইল্যান্ডের মতো অবকাশযাপনকেন্দ্রিক গন্তব্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির লন্ডন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন পর্যন্ত একটি মৌসুমি রুটও রয়েছে।   ফ্লাইট কমানোর পাশাপাশি নরস আটলান্টিক ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাও করছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ডলার ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে। সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি ৬ লাখ ডলারের নিট লোকসান এবং রাজস্বে ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ পতনের কথা জানিয়েছে।   নরস আটলান্টিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইভিন্ড রোয়াল্ড জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম এখনো বেশি থাকায় আগামী মাসগুলোতে উড়োজাহাজের সক্ষমতা কোথায় ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক থাকছেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নমনীয়ভাবে উড়োজাহাজ ব্যবহারের কৌশল অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে আসন্ন শীতকালীন মৌসুমের বুকিং নিয়ে তারা আশাবাদী।   যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমে যাওয়ার পেছনে জ্বালানির উচ্চমূল্যসহ বিভিন্ন কারণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নরস আটলান্টিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্লাইট কমানোর বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কোনো একটি কারণকে দায়ী করেননি। তার বক্তব্যে মূলত জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং উড়োজাহাজের সক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি উঠে এসেছে।   সূত্র: দ্য স্ট্রিট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৪:২৬
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কর্মকর্তা শরীফুল এম. খান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত

পেন্টাগনে স্পেস ফোর্সের দায়িত্বে বাংলাদেশি জেনারেল শরীফুল খান

মুখে গুরুতর আঘাতের পর ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যামেরন আন্ডারউডের সফল মুখমণ্ডল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিজের ছোড়া গুলিতে বিকৃত হয়ে যায় মুখমণ্ডল, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পেলেন নতুন জীবন

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কিনতেও ‘বাই নাউ, পে লেটার’ বা এখন কিনে পরে পরিশোধের সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে। ছবি: সংগৃহীত

মুদিপণ্য কিনতে কিস্তির ঋণ নিচ্ছেন ২৯ শতাংশ আমেরিকান, বাড়তি খরচের আশঙ্কা

সিজিপিএ কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। ছবি: সংগৃহীত
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সে ফুল ফান্ড! জেনে নিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা

সিজিপিএ কম হলেই যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে কম সিজিপিএতে ভর্তি হওয়া আর টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচসহ পূর্ণ ফান্ডিং পাওয়া আলাদা বিষয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও সিজিপিএর তালিকা দেখে আবেদন করার আগে তাই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের শর্ত যাচাই করা জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ইস্ট বে আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম ২.৫ জিপিএর সমতুল্য ফল চায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শর্তও পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যূনতম জিপিএ দিয়ে তার সব প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ বোঝানো যায় না।    ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসেও প্রোগ্রামভেদে শর্তের পার্থক্য দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি মনোবিজ্ঞান মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫। অন্যদিকে শিক্ষকতা শিক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রোগ্রামে ২.৭৫-এর নিচে ফল থাকলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আপিলের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। আপিলের সুযোগ থাকা সরাসরি ভর্তির নিশ্চয়তা নয়।    ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এডুকেশনইউএসএ জানিয়েছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ছাড় কিংবা ভাতা পাওয়া যেতে পারে। তবে অনেক স্কলারশিপ মোট খরচের কেবল একটি অংশ বহন করে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলেই সেখানে পূর্ণ ফান্ডিং মিলবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।    প্রচলিত তালিকায় থাকা ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপলকেও ক্যাম্পাসে গিয়ে পড়াশোনা ও পূর্ণ ফান্ডিংয়ের সুযোগের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। এটি অনলাইনভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি টিউশন ফি না নিলেও গ্র্যাজুয়েট কোর্সে অ্যাসেসমেন্ট ফি রয়েছে। আবেদনকারীদের তাই পড়াশোনার ধরন ও সম্ভাব্য খরচ আলাদাভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।    কম সিজিপিএ নিয়ে আবেদন করতে চাইলে প্রথমে নিজের বিষয়ের প্রোগ্রাম বাছাই করে তার ন্যূনতম জিপিএ, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফান্ডিংয়ের নিয়ম দেখতে হবে। রিসার্চ, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস ও সুপারিশপত্র আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে; তবে এগুলো কোনো বাধ্যতামূলক ন্যূনতম শর্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না। এডুকেশনইউএসএও প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তির শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেয়।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১:৯
যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। ছবি: সংগৃহীত

তেল শিল্পের আধিপত্যের মাঝেই টেক্সাসে দ্রুত গতিতে বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

আইন স্কুলে জেডির চেয়ে ‘৫০ বিলিয়ন গুণ ভালো’ ছিলেন উষা ভ্যান্স

বাড়ির উঠানে কালো ভালুকের হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করে ১২ বছরের রবিন ওয়েস্টগেট। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে বাড়ির উঠানে কালো ভালুকের হামলা, লড়াই করে বাঁচল ১২ বছরের কিশোর

0 Comments