- প্রচ্ছদ
- Topic
সংঘাত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধসহ চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ পাঠাতে হচ্ছে। এতে চীনের মোকাবিলায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও সক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল। বুধবার ভার্জিনিয়ার নরফোক নেভাল স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীকে কাজ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সামরিক সক্ষমতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলও বজায় রাখতে হচ্ছে। অ্যাডমিরাল কডলের ভাষায়, সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে তাকে নিয়মিত সমন্বয় করতে হচ্ছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত থাকে। এই প্রয়োজন মেটাতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপন করবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যারিয়ারের সংখ্যা সাময়িকভাবে কমে যাবে। কডল স্বীকার করেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রয়োজনের তুলনায় কম এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রয়োজন মেটাতে নৌবাহিনীর জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ কোথাও না কোথাও থেকে সরিয়ে আনতেই হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরে বর্তমানে প্রায় ২০০টি জাহাজ ও ১ হাজার ৫০০টি বিমান রয়েছে। এসব সামরিক সক্ষমতার মূল লক্ষ্য হলো ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকা। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান চীনের সামরিক শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এই ভারসাম্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কডল জানান, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক অগ্রাধিকারের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এবং বাকি ৪০ শতাংশ অন্যান্য অঞ্চলে রাখার একটি ভারসাম্য অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারোও এই ঝুঁকির বিষয়টি মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরেছেন বলে জানান কডল। তবে নৌবাহিনীর প্রধানের দাবি, প্রশান্ত মহাসাগরে সামরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় অন্যান্য উপায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থ রক্ষা এবং একই সময়ে চীনের ওপর নজর রাখা, এই দুই লক্ষ্যই এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক কৌশলে কতটা প্রভাব পড়বে, তা এখন ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন চার তারকা জেনারেল ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফ্রে। ম্যাকক্যাফ্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ১৫টি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে ওয়াশিংটনকে নতুন করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিম সৌদি আরব, ইসরায়েল ও দক্ষিণ ইউরোপে নতুন সামরিক প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে হতে পারে। ম্যাকক্যাফ্রে দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে উপসাগরীয় যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসনেও দায়িত্ব পালন করেন। তার এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার সময়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় অঞ্চলটির মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ম্যাকক্যাফ্রের মতে, এর ফলে শুধু কয়েকটি সামরিক স্থাপনার বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রভাবের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রবেশাধিকার সীমিত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প ঘাঁটি ও নতুন সামরিক অংশীদার খুঁজতে হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তার দাবি, সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে ইসরায়েল। আলাউদিনভ রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের উপপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আখমাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার। তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলাউদিনভ বলেন, তার ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখানেই থামবে না, বরং আরও তীব্র হবে। তার অভিযোগ, সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পুরো ন্যাটো জোটকে এতে জড়ানোই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তার মতে, সেই চেষ্টা ইতোমধ্যে অনেকটাই সফল হচ্ছে। এরপরই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যটি করেন রুশ এই জেনারেল। আলাউদিনভের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইসরায়েল নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করতে পারে এবং তার পরিণতিতে রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই সেখানে পড়তে হয় - এমন মন্তব্যও করেন তিনি। আলাউদিনভ অবশ্য ইরানকে ঘিরে আগেও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করা উচিত রাশিয়ার। এমনকি রুশ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিলে নিজেও ইরানে গিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ইউক্রেনকে যেভাবে সহায়তা করছে, তার পাল্টা হিসেবে ইরানকে সমর্থনের যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন এই রুশ কমান্ডার। রাশিয়া এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রুশ পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় মস্কো সংঘাত কমানো এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। শনিবার উভয় পক্ষ অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা সপ্তম রাতের অভিযানে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দেশটির বাহিনী কুয়েতের আল-আদিরি সামরিক শিবির, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, জর্ডান ও কাতার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বাহরাইনেও বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় বেশিরভাগ ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগুন লাগে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের একাধিক ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। পানীয় জলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলার পরিধি বেড়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, সেতু, বন্দর, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং চাবাহার বন্দরের একটি নজরদারি টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত পুনরায় শুরুর পর থেকে অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নতুন করে আরও ১৩ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল সীমিত করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলারের ওপরে উঠে গেছে এবং জাহাজ চলাচল তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে চীন ও পাকিস্তান উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন আর শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নেই; জ্বালানি, বন্দর, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট জামাল ফারেস আলরোয়ায়ির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, উল্লিখিত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা করে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুদ্ধে সহায়তা করায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির দায় এসব দেশের ওপরও বর্তায়। এ কারণে ইরান তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বা নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কয়েক দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও পৃথক সামরিক পদক্ষেপ নেয়। সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহে মোহাজেরানি জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতে দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে একটি আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস হামলায় আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নামের এক কথিত পীর নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরিফে’ এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ধারণকৃত একটি বিতর্কিত ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে শামীম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে দরবার শরিফটি ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তারা ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, তিন বছর আগের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালায়। হামলায় শামীমসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক মো. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানিয়েছেন, নিহতের শরীরে পিটুনি ও কোপের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দফায় দফায় হামলা চলে। বিকেল নাগাদ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহত শামীম ২০২১ সালেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তিন মাস কারাবরণ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তারা কোনো প্রকার আইনি জটিলতায় জড়াতে চান না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
ইরান জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত শেষ করার জন্য তাদের সদিচ্ছা রয়েছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ফোনালাপে এই মন্তব্য করেন ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পেজেশকিয়ান। বিবিসির সিনিয়র সংবাদ প্রতিবেদক জন সাডওয়ার্থ জানিয়েছেন, খবর প্রকাশের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে অনেক বিশ্লেষক ইরানের এই সদিচ্ছাকে পুরোপুরি আশার আলো হিসেবে দেখছেন না। জন সাডওয়ার্থ বলেন, যুদ্ধ বন্ধের ‘সদিচ্ছার’ সঙ্গে কঠোর শর্তও জড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পুনরায় কোনো সংঘাত শুরু হবে না এ ধরনের নিশ্চয়তা ইরান চাচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে আমেরিকার ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ইরানও একই ধরনের আগ্রাসনবিরোধী নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছিল। একই সময়ে, প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন হুমকি জারি করেছে। তারা পাল্টা আঘাতের পরিধি সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজার এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করছে, যেখানে ইরানের সদিচ্ছা ও শর্তের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েই জোর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ লিও চতুর্দশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে আহ্বান জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। রোমের অদূরে কাস্তেল গান্দোলফো-তে নিজের বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা করি, তিনি কার্যকর কোনো পথ খুঁজছেন, যা যুদ্ধ থেকে বের হতে সহায়তা করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট সহিংসতার মাত্রা কমানোর কোনো উপায় খুঁজে পাবেন এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, পোপের এই আহ্বান কেবল নৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সূত্র: আল–জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিল ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ইসরায়েল একটি স্থায়ী 'বাফার জোন' হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কাটজের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ আর তাদের ঘরে ফিরতে পারবেন না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সীমান্ত সংলগ্ন লেবানিজ গ্রামগুলোর সমস্ত ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে লিতানি নদীর ওপর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই আক্রমণগুলোকে একটি 'পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযানের পূর্বাভাস' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিতানি নদী পর্যন্ত ইসরায়েলের এই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি যুদ্ধবিমান বিমানবিধ্বংসী হামলার মুখোমুখি হলেও এটি সফলভাবে হুমকি শনাক্ত করে নিরাপদে অভিযান শেষ করেছে এবং কোনো ক্ষতি হয়নি। এটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তৃতীয়বারের মতো। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের আকাশে ২০০টির বেশি আকাশযান ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি চলমান সংঘাতের তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।