বিশ্ব

মমতার বাসভবনে সিআইডি তল্লাশি, তৃণমূলের ভেতরে অস্থিরতা

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২০:৪৬
মমতার বাসভবনে সিআইডি তল্লাশি
মমতার বাসভবনে সিআইডি তল্লাশি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে তার বাসভবনে পৌঁছেছে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭১ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক এমন এক সময় এই তদন্তের মুখে পড়লেন, যখন তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ ও প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের ঘটনা সামনে আসছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনয়নের সমর্থন জানানো হয়। এই চিঠি ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত।

 

তৃণমূলের দুই সংসদ সদস্য ঋতাব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা গত ২৭ মে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে জানান, ৬ মে অনুষ্ঠিত দলের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অথচ দলীয়ভাবে পাঠানো চিঠিতে এমন দাবি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, তারা বৈঠকের কার্যবিবরণীতে ১৯ মে স্বাক্ষর করেছিলেন, ৬ মে নয়।

 

এই দুই সংসদ সদস্য আরও অভিযোগ করেন, ৬ মে তারিখ দেখিয়ে যে প্রস্তাবটি দেখানো হয়েছে, তা পরে তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে থাকা বেশ কিছু স্বাক্ষর জাল। তাদের দাবি, মোট ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি স্বাক্ষর বড় হাতের অক্ষরে লেখা, যা সন্দেহজনক।

 

এ ঘটনার পর দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঋতাব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এনডিটিভি জানিয়েছে, বর্তমানে সিআইডির তিনটি পৃথক দল একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এর মধ্যে একটি দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে ঘটনার সময় তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। অন্য একটি দল তার ভাতিজা ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে, পাশাপাশি আরেকটি দল তার বাসভবনেও অনুসন্ধান করছে।

 

এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে এ ধরনের অভিযোগ ও তদন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে এই বিতর্কের পরবর্তী পরিস্থিতি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বিশ্ব

View more
চিকিৎসক থমাস কেলি, যিনি চিকিৎসা পেশার অভিজ্ঞতা থেকে এআইভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাইডি গড়ে তুলেছেন। ছবি: সংগৃহীত
রোগী দেখার চাপেই চিকিৎসক জীবনে ক্লান্তি, চাকরি ছেড়ে গড়া এআই স্টার্টআপের মূল্য এখন ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার

শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক হবেন। কঠিন পথ পার হয়ে সেই লালিত স্বপ্ন সত্যিও করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের তরুণ থমাস কেলি। ২০১৭ সালে ডাক্তারি পাস করে নাম লেখান মহৎ এই পেশায়। তবে বাস্তবে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে কঠিন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, রোগীর উপচে পড়া ভিড় আর নিত্যদিনের প্রশাসনিক কাগজের পাহাড় তাকে ঠেলে দেয় তীব্র মানসিক ক্লান্তির (বার্নআউট) দিকে। অবশেষে সেই ক্লান্তিকর জীবন থেকে বাঁচতে ডাক্তারি পেশাকেই বিদায় জানান তিনি। কিন্তু গল্পটা সেখানে শেষ হয়নি। সেই অভিজ্ঞাতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, যার বাজারমূল্য এখন সাড়ে চারশো মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।   সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অস্ট্রেলীয় এই তরুণ উদ্যোক্তার রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ৩৩ বছর বয়সী ড. থমাস কেলি জানান, মেলবোর্নে ছোটবেলায় যে চিকিৎসকের কাছে তিনি যেতেন, তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই ২০১৩ সালে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি ইউটিউবে শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি এবং মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের টিউটরিং শুরু করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের চাপ সামলাতে গিয়ে সময় বাঁচাতে তিনি প্রথম 'অস্কার' নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইন্টারভিউ টিউটর তৈরি করেন, যা শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে সাহায্য করত। ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার শুরু করে।   পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সরাসরি চিকিৎসাসেবায় যোগ দেওয়ার পর কেলি অনুধাবন করেন, বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। তিনি বলেন, "একজন রোগীর জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় পাওয়া যেত। দিনে প্রায় ১০০ জন রোগী দেখতে হতো, তার ওপর শত শত পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর কাজের সমন্বয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দৌড়ে কাটাতে হতো। একজন চিকিৎসকের মূল কাজ রোগীর কথা মন দিয়ে শোনা, কিন্তু সেই সুযোগটাই ছিল না।"   এই অতিরিক্ত চাপ ও বার্নআউট থেকে মুক্তি পেতে এবং অন্যান্য চিকিৎসকদের কাজ সহজ করতে কেলি সিদ্ধান্ত নেন এআই প্রযুক্তিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে কাজে লাগানোর। তিনি চিন্তা করেন, যে প্রযুক্তি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আলাপচারিতা বুঝতে পারে, তা নিশ্চয়ই চিকিৎসক ও রোগীর সাধারণ কথোপকথন শুনে প্রেসক্রিপশন ও ক্লিনিক্যাল নোট তৈরি করতে পারবে।   ২০২১ সালে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন কেলি। একদিকে ভাস্কুলার সার্জারির উচ্চতর প্রশিক্ষণ, অন্যদিকে নিজের উদ্ভাবিত এআই প্রযুক্তিকে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। ঝুঁকি নিয়ে তিনি চিকিৎসকের ক্যারিয়ারে বিরতি দেন এবং পুরোদমে এআই টুল তৈরির কাজে নেমে পড়েন। গড়ে তোলেন 'হাইডি' (Heidi) নামের একটি এআই মেডিকেল স্ক্রাইব। এই প্রযুক্তি চিকিৎসক ও রোগীর কথোপকথন শুনে সরাসরি ক্লিনিক্যাল নোট তৈরি করে দেয়, যা চিকিৎসকদের প্রশাসনিক কাজের বড় বোঝা দূর করে।   কেলি বলেন, "আমি ভেবেছিলাম এই সুযোগটা না নিলে সারাজীবন আফসোস থেকে যাবে। অংক, ব্যবসা আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তাদের মধ্যে আমি এই ঝুঁকিটা নিতে পেরেছি।"   বর্তমানে ‘হাইডি’ চিকিৎসকদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। গত অক্টোবরে কোম্পানিটি ৬৫ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ-বি অর্থায়ন নিশ্চিত করে, যার মাধ্যমে এর আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬৫ মিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি)। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।   একটি সরকারি প্রেসক্রিপশন লেখার যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা থমাস কেলি প্রমাণ করেছেন উদ্ভাবনী চিন্তা ও সাহসের মাধ্যমে যেকোনো অচলাবস্থাকেই বিরাট সাফল্যে রূপান্তর করা সম্ভব।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২০:৪১
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে | ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল: আড়াই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া, জরুরি অবস্থা ও সেনা মোতায়েন

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন

ইসরাইলিদের তাণ্ডবে আগুনে পুড়ল ফিলিস্তিনি গ্রাম, ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন

১০ বছরের মধ্যে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ইলন মাস্ক
১০ বছরের মধ্যে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ইলন মাস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে মানুষের আর তার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এই প্রযুক্তিই পৃথিবীতে অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে এবং অর্থের গুরুত্বও অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।    দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এআই সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তাকে অতিক্রম করতে পারে। আর প্রায় ১০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তিটি এতটাই উন্নত হবে যে মানুষ আর এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে না।    মাস্কের ভাষ্য, উন্নত রোবট ও এআই মানুষের অধিকাংশ কাজ করে দিতে সক্ষম হবে। ফলে এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে, যেখানে পণ্য ও সেবার প্রাচুর্য এতটাই বেড়ে যাবে যে অর্থের বর্তমান গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে মানুষ বাধ্য হয়ে কাজ করার পরিবর্তে নিজের পছন্দের কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।    তবে এই আশাবাদের পাশাপাশি এআই নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন টেসলা ও এক্সএআইয়ের প্রধান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন এখন আর থামানো সম্ভব নয়। তাই বিশ্বের শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর উচিত সবচেয়ে উন্নত মডেল প্রকাশের আগে একে অপরের প্রযুক্তি পর্যালোচনা করা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা। তাঁর মতে, শিল্পখাত নিজেই যদি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারে, তখনই কেবল সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে।    সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মাস্ক। তিনি স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনীতিতে "একটু বেশিই জড়িয়ে পড়েছিলেন"। যদিও নিজের অনেক অবস্থানকে এখনো সঠিক বলে মনে করেন, তবুও অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে বিতর্ক বেড়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।    বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই মাস্কের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং গবেষকেরা এখন এমন একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবসমাজের জন্য নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ৩:৫৮
অগ্নিঝুঁকিতে ফোর্ডের ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ব্রঙ্কো

অগ্নিঝুঁকিতে ফোর্ডের ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ব্রঙ্কো, জরুরি রিকলের ঘোষণা

নাসার সঙ্গে কাজের সুযোগ!  এক বছর ‘চাঁদ-মঙ্গল’ মিশনে অংশ নিতে পারেন আপনিও

নাসার সঙ্গে কাজের সুযোগ! এক বছর ‘চাঁদ-মঙ্গল’ মিশনে অংশ নিতে পারেন আপনিও, চলছে আবেদন

একইসঙ্গে ৩ বোনকে বিয়ে করে ভাইরাল যুবক!

একইসঙ্গে ৩ বোনকে বিয়ে করে ভাইরাল যুবক!

১০০ বছরের পুরোনো জটিল সমস্যার সমাধান করে গণিতের ‘নোবেল’ জিতলেন চীনের দুই অধ্যাপক
১০০ বছরের পুরোনো জটিল সমস্যার সমাধান করে গণিতের ‘নোবেল’ জিতলেন চীনের দুই অধ্যাপক

গণিতের সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি ফিল্ডস মেডেলে প্রথমবারের মতো ইতিহাস গড়েছে চীন। একসঙ্গে দেশটির দুই নাগরিক—হং ওয়াং ও ইউ দেং—বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণিত কংগ্রেসে (আইসিএম) তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এ সম্মাননা। গণিতে অসাধারণ অবদানের জন্য তাদের সঙ্গে আরও ফিল্ডস মেডেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন পারডন এবং কানাডার জেকব সিমারম্যান।  ফিল্ডস মেডেলকে প্রায়ই গণিতের ‘নোবেল পুরস্কার’ বলা হয়। ১৯৩৬ সাল থেকে প্রতি চার বছর পরপর ৪০ বছরের কম বয়সী গণিতবিদদের যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দেওয়া হয়। এ বছরের প্রতিটি বিজয়ী ১৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার অর্থ পুরস্কারও পেয়েছেন।    ৩৫ বছর বয়সী হং ওয়াং চীনের গুয়াংশিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর তিনি ফ্রান্স ও পরে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় (এনওয়াইইউ) এবং ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট ডেস হাউটস এতিউডস সায়েন্টিফিকসে অধ্যাপনা করছেন। তিনি ১৯১৭ সালে উত্থাপিত বিখ্যাত ‘কাকেয়া সমস্যার’ ত্রিমাত্রিক রূপের সমাধানে যুগান্তকারী অবদান রাখেন। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি ফিল্ডস মেডেলের ৯০ বছরের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় নারী বিজয়ীও হলেন।  অন্যদিকে ৩৭ বছর বয়সী ইউ দেং পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পর এমআইটি ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর অধ্যাপক। গ্যাসের অণুর আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি ডেভিড হিলবার্টের ১৯০০ সালে উত্থাপিত বিখ্যাত ‘ষষ্ঠ সমস্যা’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেন, যা দীর্ঘদিন ধরে গণিতবিদদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।  পুরস্কার ঘোষণার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো হং ওয়াংকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ওয়াং ফ্রান্সের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষের প্রতীক।    দুই চীনা নাগরিকের একসঙ্গে ফিল্ডস মেডেল জয়ের খবরে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ওয়েইবো ও রেডনোটে ‘ফিল্ডস মেডেল’ এবং ‘প্রথম চীনা ফিল্ডস মেডেলজয়ী’ বিষয়ক পোস্ট কয়েক কোটি বার দেখা হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।    ফিল্ডস মেডেলজয়ী জাতিগত চীনা গণিতবিদ শিং-তুং ইয়াও এই অর্জনকে চীনের গণিত গবেষণার জন্য ‘বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে দুই চীনা নাগরিকের এই সাফল্য বিশ্ব গণিত গবেষণায় চীনের ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ০:৪৮
ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দরে হামলা করল সৌদি আরব

ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দরে হামলা করল সৌদি আরব

সাও পাওলোর যে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

জন্মদিনের পার্টিতে ব্যস্ত শিক্ষকরা! ব্রাজিলে আয়নার পেছনে আটকে ১ বছরের শিশুর বেদনাদায়ক মৃত্যু

আহত সাংবাদিক

বিক্ষোভ কাভার করতে গিয়ে আহত সাংবাদিক, শরীরে এখনও ৩০টি পেলেট

0 Comments