সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মিশিগানে সাইক্লোস্পোরাসিস সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়াল, স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১১:৫০
মিশিগানে পাঁচ সপ্তাহে সাইক্লোস্পোরাসিস সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ছবি: গেটি ইমেজেস
মিশিগানে পাঁচ সপ্তাহে সাইক্লোস্পোরাসিস সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ছবি: গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে গত পাঁচ সপ্তাহে সাইক্লোস্পোরাসিসে আক্রান্ত হয়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষের রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৭০টি কাউন্টিতে মোট ১০ হাজার ৭৭ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদিন শত শত নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।

 

মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস জানিয়েছে, গত ২২ জুন থেকে ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। মূলত সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস নামের একটি পরজীবীর কারণে এই ডায়রিয়াজনিত রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, পেট ফাঁপা এবং চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।

 

প্রাদুর্ভাবের উৎস খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, গত জুনের শেষের দিকে মনরো কাউন্টিতে প্রথম এই রোগের বিস্তার ধরা পড়ে। বর্তমানে মিশিগানের ৭০টি কাউন্টিতে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের অবস্থা সবচেয়ে বেশি গুরুতর। শুধুমাত্র ওয়েইন কাউন্টিতেই এক হাজারেরও বেশি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ইটন, জেনেসি, ইনহ্যাম, লেনাওয়ে, ওকল্যান্ড, শিয়াওয়াসি, ওয়াসেনাওয়া এবং ওয়েইন কাউন্টির প্রতিটিতে তিনশটির বেশি সংক্রমণ পাওয়া গেছে। রাজ্যটিতে সাধারণত বছরে মাত্র ৫০টি এমন ঘটনা দেখা যেত, যা এবারের পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন করে তুলেছে।

 

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৩ জুলাই পরীক্ষার মাধ্যমে লেটুস বা সালাদ গ্রিনকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে ২৪ জুলাই সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা সিডিসি জানায়, জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড চেইন টেকো বেলের একটি লেটুস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে জড়িত। তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই রোগের একাধিক ভিন্ন ক্লাস্টার বা উৎস সক্রিয় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এই স্বাস্থ্য সংকটের প্রভাব পড়েছে মানুষের খাবার এবং কেনাকাটার অভ্যাসেও। সিবিএস নিউজের এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, পরজীবীর ভয়ে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জন আমেরিকানই ফলমূল ও শাকসবজি কম কিনছেন বা খাচ্ছেন। সুপারমার্কেটে লেটুসের বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি যেসব রেস্তোরাঁর মেন্যুতে লেটুস প্রধান উপাদান, সেখানেও গ্রাহকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

 

রোগ প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ নাগরিকদের বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফল ও শাকসবজি কাটার বা রান্নার আগে চলমান পানিতে ভালোভাবে ধোয়া, মেলন বা শসার মতো শক্ত সবজি ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করা, নষ্ট বা পচা অংশ কেটে ফেলা এবং কাটা বা রান্না করা সবজি দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে, চীনের সঙ্গে জিততে চান ট্রাম্প

চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুতগতিতে এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সতর্কতার মধ্যেই তিনি কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা কম গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে।    আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে কিছু গার্ডরেল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ ধীর করার পক্ষে তিনি অবস্থান নেননি। বরং এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরির জন্য কিছু ‘নেতিবাচক শক্তিকে’ দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ জয়ী হবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেই নতুন উদ্বেগ তৈরির সময়। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রযুক্তির সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে। তার এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এআই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধরে রাখার বিষয়টিকেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসও দ্রুত এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।    এআই নিয়ে উদ্বেগ শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে কৃষিজমি, পানি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে চাকরির ধরন বদলে যাওয়া বা কিছু কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এআইয়ের নিরাপত্তা, শিশুদের ওপর প্রভাব এবং সম্ভাব্য চাকরি হারানোর বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।    বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি পরস্পরকে টেক্কা দিতে গিয়ে এআই উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে থাকে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির সক্ষমতার ব্যবধান তৈরি হতে পারে। অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, দুই দেশ একই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকলে ঝুঁকিও বাড়তে পারে।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি, সাইবার হামলা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি অনুকরণের অভিযোগ তুলেছে, যা দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কীভাবে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখা যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৩:১০
বিদ্রুপ ও আপত্তি সত্বেও  ৯/১১ স্মরণে উপস্থিত মামদানি

বিদ্রুপ ও আপত্তি সত্বেও ৯/১১ স্মরণে উপস্থিত মামদানি, স্মরণানুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত পাশে ছিলেন তিনি

পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট

পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট, ক্যাম্পাসে বাড়ছে মাদকঝুঁকি

আইসিইর আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত

আইসিইর আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাবেক বিচারকের মামলা

ফ্লোরিডার লেকল্যান্ডে জলাভূমির মধ্যে দুই শিশুকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশি অভিযানে আটক হন আইজ্যাক কিনসে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পুলিশের তাড়া খেয়ে দুই শিশুকে নিয়ে কুমিরভর্তি জলাভূমিতে পালালেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাড়ি দুর্ঘটনার পর পুলিশের হাত থেকে পালানোর সময় দুই ছোট শিশুকে নিয়ে ঘন জলাভূমিতে ঢুকে পড়েন ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, আইজ্যাক কিনসে নামের ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরে পুলিশের ড্রোনে তাকে শনাক্ত করা হয়। জলাভূমির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় বারবার পড়ে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুও পানিতে ডুবে যায়।   ঘটনাটি ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর ভোরে লেকল্যান্ড শহরের হাইওয়ে ৩৩ ও নর্থ কম্বি রোডের কাছে। লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি সড়ক বন্ধের চিহ্ন ও বালুর বস্তা অতিক্রম করে নির্মাণাধীন এলাকায় ঢুকে গাছের উন্মুক্ত শিকড়ের কাছে গিয়ে থেমে যায়। দুর্ঘটনাটি ছিল এক গাড়ির উল্টে যাওয়ার ঘটনা বলে পুলিশ জানিয়েছে।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটির চালককে সেখানে পায়নি। গাড়ির ভেতরে দুটি শিশুদের নিরাপত্তা আসন দেখতে পেয়ে কর্মকর্তারা আশপাশে দ্রুত তল্লাশি শুরু করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, শিশু দুটিও হয়তো গাড়িতে ছিল এবং চালক তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে গেছেন। তল্লাশি শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশের ড্রোনে দুর্ঘটনাস্থলের দক্ষিণ দিকে ঘন গাছপালা ও জলাভূমির মধ্যে কিনসেকে দেখা যায়। পুলিশ বলেছে, তখন তার সঙ্গে ছিল ২ বছর বয়সী একটি শিশু ও ১০ মাস বয়সী একটি শিশু। চারদিকে অন্ধকার থাকায় দুর্গম জলাভূমির মধ্য দিয়ে তাদের নিয়ে এগোতে গিয়ে কিনসে বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন।   পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জলাভূমির পানির মধ্যে চলার সময় কিনসে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। এতে দুই শিশুও কয়েকবার দাঁড়িয়ে থাকা পানিতে ডুবে যায়। একপর্যায়ে তিনি ২ বছর বয়সী শিশুটিকে রেখে ছোট শিশুটিকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের কাছে পৌঁছে দুই শিশুকেই উদ্ধার করেন। ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আলো ফেলে কিনসেকে কাছে আসতে বলতে শোনা যায়। আরেক কর্মকর্তা শিশুটিকে তার কাছ থেকে নেওয়ার সময় চিৎকার করে বলেন, “শিশুটিকে আমাকে দিন, এখনই শিশুটিকে দিন।” পরে পুলিশ সদস্যরা দুই শিশুকেই নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন এবং কিনসেকে আটক করেন।   উদ্ধারের পর দুই শিশুকে লেকল্যান্ড রিজিওনাল হেলথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিনসেকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিনসের মধ্যে মদ্যপ অবস্থার লক্ষণ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজেই মদ্যপ থাকার কথা জানান বলে পুলিশ দাবি করেছে। তার চালকের লাইসেন্সও স্থগিত ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এই ঘটনায় কিনসের বিরুদ্ধে মোট ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর এবং তিনটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে শিশুদের গুরুতর শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলার সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি অভিযোগও রয়েছে। লেকল্যান্ড পুলিশের প্রধান স্যামি টেলর বলেন, ঘটনাটি আরও ভয়াবহ পরিণতি নিতে পারত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলাভূমির পানিতে শিশুরা কয়েকবার ডুবে গিয়েছিল এবং তারা ডুবে মারা যেতে পারত। তিনি বলেন, পুলিশের ড্রোন দ্রুত ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জলাভূমিটি ছিল ঘন ও দুর্গম। ফলে সাধারণভাবে হেঁটে সেখানে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন ছিল। ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করার পর কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। তবে পুলিশ এখনো জানায়নি, কিনসের সঙ্গে থাকা দুই শিশুর সঙ্গে তার ঠিক কী সম্পর্ক এবং দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি কেন সড়ক বন্ধের চিহ্ন অতিক্রম করেছিল। এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।   লেকল্যান্ড পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ঘটনাটি দুই শিশুর জীবনহানির মতো পরিণতিতে গড়াতে পারত। দ্রুত ড্রোন মোতায়েন, কর্মকর্তাদের ধৈর্য এবং সমন্বিত তৎপরতার কারণে শিশু দুটিকে দুর্গম এলাকা থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ একই সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও উল্লেখ করেছে।   সূত্র: লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগ ও ফক্স ১৩ নিউজ।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ০:৬
পানি সংরক্ষণে ‘ওয়াটার সেভার’ ওয়েব অ্যাপ তৈরি করেছে ১৩ বছর বয়সী নেহা ব্লান্ট। ছবি: সংগৃহীত

পানির অপচয় ঠেকাতে ১৩ বছর বয়সেই অ্যাপ তৈরি, নেহার উদ্যোগে সাশ্রয় ২ কোটি গ্যালন পানি

চীনা ব্যবসায়ী শু বোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেসি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সারোগেট মা হয়ে জানলেন অনাগত সন্তানের বাবার আরও ৩০০ সন্তান রয়েছে

ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রাভো। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ৫০ ঘণ্টা আত্মগোপনে মার্কিন সেনা, জানালেন বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজ করতে গুনতে হতে পারে ১ লাখ ডলার, ওপিটি ফি বাড়ানোর পথে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজ করতে গুনতে হতে পারে ১ লাখ ডলার, ওপিটি ফি বাড়ানোর পথে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT) প্রোগ্রামের ফি এক লাখ ডলারে উন্নীত করার যে প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন দিয়েছিল, তা হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা পর্যায় পার করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, যা যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয়সহ বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।   ওপিটি হলো এফ-১ (F-1) ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে তারা পড়াশোনা শেষ করার পর নিজেদের বিষয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত কোনো ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ পান। বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।   প্রস্তাবিত এই ফি কার্যকর হলে ওপিটি প্রোগ্রামের ব্যয় সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই ভারতীয় এবং তারাই গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী এই কর্মসংস্থান সুবিধার অন্যতম প্রধান গ্রহীতা।   তবে হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনায় ছাড়পত্র পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, এক লাখ ডলার ফি এখনই চূড়ান্ত হয়ে গেছে বা অবিলম্বে এটি প্রদান করতে হবে। নতুন যেকোনো বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে ফেডারেল রুলমেকিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) এই প্রস্তাবের পর্যালোচনা শেষ হলেও চূড়ান্ত ফি এবং আনুষঙ্গিক নিয়মাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি।   যদি প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়, তবে সেটি 'ফেডারেল রেজিস্টার'-এ প্রকাশিত হবে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ প্রস্তাবের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে জনসমক্ষে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।   বর্তমান নিয়মে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার বিষয়ের ওপর অস্থায়ী কাজের অনুমোদন পান এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (STEM) মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের ওপিটি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রযুক্তি, ফিন্যান্স এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো পেশাদার খাতে প্রবেশের জন্য ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ক্রমশ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।   তাই এক লাখ ডলারের এই বিশাল ফি কার্যকর হলে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে ইচ্ছুক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এটি একটি বড় আর্থিক বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। তবে চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এখনই এক লাখ ডলার ফি দেওয়ার কথা ভেবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৯:৪০
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর দাবি ট্রাম্পের, না কমালে বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর দাবি ট্রাম্পের, না কমালে বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিক্যাব চালক গুরবিন্দর সিং

নিউইয়র্কে ৯/১১ হামলার পর টানা ৪০ দিন বিনা ভাড়ায় ট্যাক্সি চালিয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুরবিন্দর

মিনেসোটায় কোভিড তহবিল জালিয়াতির অভিযোগে পলাতক ফাহাদ, ধরিয়ে দিলে দেড় লাখ ডলার পুরস্কার

মিনেসোটায় কোভিড তহবিল জালিয়াতির অভিযোগে পলাতক ফাহাদ, ধরিয়ে দিলে দেড় লাখ ডলার পুরস্কার

0 Comments