‘বাজে চুক্তি’: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলে তীব্র অসন্তোষ ও রাজনৈতিক বিরোধিতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখা সামনে আসার আগেই ইসরায়েলে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় হিব্রু দৈনিক ‘ইয়েদিওত আহরোনত’-এর রোববার সংখ্যার প্রধান শিরোনামে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে দুই শব্দে আখ্যা দেওয়া হয়েছে—“বাজে চুক্তি”, যা ইসরায়েলের বর্তমান জনমত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কাঠামোতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, মার্কিন অবরোধ শিথিল এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর কথাও আলোচনায় রয়েছে। এই সময়ে দুই দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে।
তবে এসব আলোচনায় ইসরায়েলের প্রত্যাশিত মূল নিরাপত্তা ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দেশটির নীতিনির্ধারক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়টি আলোচনার প্রাথমিক কাঠামোতে না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাকব নাগেল এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত যাই ঘটুক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে নিজের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করবেন। তিনি আরও বলেন, চুক্তির যেসব সম্ভাব্য বিষয় সামনে এসেছে, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক সক্ষমতা বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ স্পষ্টভাবে নেই।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ইতিহাসে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বর্তমান সরকারে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করছেন না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে না গিয়ে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ইসরায়েলি প্রশাসন। চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক মিত্রবাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তা ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে পর্যাপ্ত কাঠামো নেই বলে ইসরায়েল মনে করছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে চলমান আলোচনায় সেই অবস্থান কতটা প্রতিফলিত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও এই বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে। ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে বলে সমালোচনা উঠছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreসৌদি আরবের মক্কা নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি রয়্যাল এয়ার ডিফেন্স বাহিনী ধ্বংস করে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন বিষয়ক জোট জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের হামলা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি বাধা দেওয়া হয়। এটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এমন প্রচেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার অভিযোগও করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সেই ঘটনার পর এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আল-মালিকি। মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি সেখানে যান। সৌদি জোটের মুখপাত্র বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সৌদি দাবিকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, মক্কা বা অন্য কোনো ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করার দাবি সত্য নয়। ফলে ড্রোনটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ঘটনার আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের মক্কা ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইরানঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের একাধিক হামলার পর সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে কয়েকটি হামলার দাবি করেছে, যার মধ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও রয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব সৌদি আরবের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়ছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই নৌপথ বিশ্ব বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ রয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে পাওয়া গেল বিপুল পরিমাণে সোনা-রুপার উচ্চ ঘনত্বের খনিজভান্ডার
জাপানে ঘুমের প্রতিযোগিতা, ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে জেতা যাবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা
তুরস্ক ভ্রমণে এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ কোরীয় পর্যটক, নিলেন ‘আবদুল্লাহ’ নাম
তুরস্কে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে নতুন করে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের প্রধান আদালতের বাইরে সমাবেশ করতে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের আটক করা হয়। এর একদিন আগে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী, সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। মঙ্গলবারের সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আগের অভিযানে আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘এলজিবিটিকিউ হওয়া অপরাধ নয়’ লেখা একটি ব্যানারও প্রদর্শন করেন। এরপর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। তুরস্কের সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক অভিযানকে ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ নামে একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও তাদের সংগঠনগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের বিভিন্ন প্রদেশে এলজিবিটিকিউ সংগঠনের কার্যালয়, সমকামীদের জন্য পরিচালিত বার এবং অধিকারকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কিছু সংগঠন ও গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবেও প্রবেশাধিকার সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ অভিযানের আওতায় ১৫টি প্রদেশে ১৬২ ব্যক্তি, নয়টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনি কার্যক্রম চলছে। ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আইদিন ও মেরসিনের প্রধান কৌঁসুলিদের কার্যালয়ের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে। তুরস্ক সরকার এসব কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে যৌন ব্যবসায় সহায়তা, অশ্লীল উপকরণ তৈরি বা বিতরণ এবং শিশুদের এ ধরনের উপকরণের সংস্পর্শে আনার অভিযোগও রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলজিবিটিকিউ সংগঠনগুলোর বিদেশি ও সরকারি উৎস থেকে পাওয়া অর্থায়ন নিয়েও তদন্তের কথা বলা হয়েছে। তবে এই অভিযানের পর ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও’ফ্লাহার্টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এলজিবিটিকিউ নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার, অভিযান এবং ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব বন্ধের প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানান। ও’ফ্লাহার্টি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অধিকার নিয়ে কাজ করা বা বৈষম্যহীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া নিজে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পরিচয়, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ড বা বৈধ অর্থায়ন পাওয়ার কারণে নয়, বরং স্বীকৃত অপরাধের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত ও আটক হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ, বিচারিক পর্যালোচনা এবং ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেকোনো বিধিনিষেধ আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তুরস্কে সমলিঙ্গের সম্পর্ক নিজে অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। তবে দেশটিতে এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অতীতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং জনসংখ্যা ও পারিবারিক মূল্যবোধের আলোচনায় এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক অভিযানের পর অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু এখন আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের কর্মকাণ্ডে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না। ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনায় তুরস্কে এলজিবিটিকিউ অধিকার, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চলমান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সূত্র: বিবিসি, ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয়, এএফপি।
মানবসভ্যতার ঝুঁকি তুলে এআই নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জাতিসংঘের, আপত্তি ট্রাম্প-চীনের
দীর্ঘায়ুর রেকর্ড জাপানে, শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা পেরোল ১ লাখ - ৮৮ শতাংশই নারী
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসছেন আওয়ামী লীগের ২১ নেতা
তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুনে অ্যাসিড হামলায় মুখ ও ডান চোখের গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বারফিন ওজেক। হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেই সাবেক প্রেমিক কাসি ওজান চেলতিককেই বিয়ে করেন, যিনি তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ১৯ বছর বয়সী বারফিন একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক কাসিম ওজান চেলতিকের অ্যাসিড হামলার শিকার হন। হামলায় তার মুখে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন তৈরি হয়। চিকিৎসার পরও মুখে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন থেকে যায় এবং তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। চোখের পাতা ও ঠোঁটেও পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর চেলতিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার অপরাধে ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বারফিন তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। এরপর মামলার শেষ পর্যায়ে চেলতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বারফিন ও চেলতিকের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হাতায়ের কুমলু জেলার একটি বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, যে ব্যক্তির হামলায় বারফিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন, আবার অনেকে এমন সম্পর্কের পেছনে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বারফিনের বাবা ইয়াশার ওজেকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিয়ের খবর জানতে পেরেছিলেন এবং এই বিয়েতে তিনি সম্মতি দেননি। গার্হস্থ্য সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সবসময় সরল বা তাৎক্ষণিক হয় না। ভয়, মানসিক আঘাত, নির্ভরশীলতা, সামাজিক চাপ, অপরাধীর ওপর আবেগগত টান এবং সম্পর্কের জটিলতা একজন ভুক্তভোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্তকে সহজভাবে বিচার না করে সহিংসতার শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। বারফিনের ঘটনাটি একই সঙ্গে অ্যাসিড সহিংসতার ভয়াবহতাও সামনে আনে। অ্যাসিড হামলার শারীরিক ক্ষতি অনেক সময় চিকিৎসার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুখের দাগ, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। বারফিনের ক্ষেত্রেও হামলার পর মুখের গুরুতর ক্ষতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি তুরস্কের একাধিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর বারফিনের গল্প আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিস্ময়কর বিয়ের গল্প হিসেবে দেখলে এর মূল বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অ্যাসিড হামলা, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি, একটি ফৌজদারি মামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি গার্হস্থ্য সহিংসতার পর ভুক্তভোগীদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে।
রাশিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ঘাঁটিতে সেনা পাঠাচ্ছে জার্মানি, বাড়ছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা!
সামান্য দাঁতের ব্যথা থেকে ওপেন হার্ট সার্জারি! শরীরে ধরা পড়ল ‘নীরব ঘাতক’ রোগ