বিশ্ব

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া, কোন দেশ কী বলল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৬:১৫
তেহরানে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের সমর্থনে সমাবেশ । গেটি ইমেজ
তেহরানে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের সমর্থনে সমাবেশ । গেটি ইমেজ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা বা চুক্তি হয়েছে বলে ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহু দেশ এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর এবং স্থিতিশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কিছু দেশ বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা শর্ত নিয়ে সতর্ক মন্তব্যও করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক ঘোষণায় বলেন, “ইরান ইসলামিক রিপাবলিকের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ।” তিনি আরও লেখেন, “বিশ্বের জাহাজগুলো ইঞ্জিন চালু করুক। তেল প্রবাহ শুরু হোক।”

 

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ আরও বিস্তৃত একটি চুক্তি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে শুক্রবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর একটি “বড় অগ্রগতি”, যার ফলে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

 

কাতার

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি পার্থক্য নিরসনে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

 

রাষ্ট্রীয় প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে এবং বাকি ইস্যুগুলোর সমাধানে দায়িত্বশীল সংলাপকে উৎসাহিত করবে।

 

পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সংঘাত সমাধানে কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে। তিনি কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

 

ইসরায়েল

চুক্তি ঘোষণার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, লেবাননে নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরায়েল কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার করবে না।

 

তিনি বলেন, ইরান যদি লেবাননে হামলার জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে “কঠোর শক্তি” প্রয়োগ করা হবে।

 

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই চুক্তিকে ইসরায়েল ও “পুরো মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর” বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, ইরানকে দুর্বল করতে যে অগ্রগতি হয়েছে তা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

 

তুরস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, আঙ্কারা ভবিষ্যতেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সহায়তা করবে।

 

জাতিসংঘ

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তিকে “সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়ন। তাঁর মতে, নৌপথে বাধাহীন চলাচল পুনরুদ্ধার করা জরুরি।

 

যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চুক্তিকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে যুক্তরাজ্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

 

ফ্রান্স

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে পুনরায় চালুর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।

 

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকা সবসময়ই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করে চুক্তিটি কার্যকর ও টেকসই হবে।

 

জার্মানি

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, এই চুক্তি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত নরওয়ের রাজকন্যার ছেলে, ৪ বছরের কারাদণ্ড

নরওয়ের রাজকন্যা মেতে-মারিতের ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবিকে ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ওসলো আদালত। একই সঙ্গে একজন ভুক্তভোগী নারীকে সুরক্ষার জন্য তার চলাচলের ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই) সকালে ওসলো আদালত দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে এই রায় ঘোষণা করে। প্রায় তিন মাস আগে শুরু হওয়া এবং ছয় সপ্তাহব্যাপী আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে আগেই ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।   রায়ে বিচারক ইয়ন স্ভেরদ্রুপ এফিয়েস্তাদ তার সাবেক প্রেমিকা নোরা হাউকল্যান্ডকে নির্যাতনের অভিযোগে হোইবিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলার ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেবল নোরা হাউকল্যান্ডের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। আদালত হোইবিকে হাউকল্যান্ডসহ আরও তিনজন নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।   তবে একই মামলায় আনা ধর্ষণের আরও দুটি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। মামলায় মোট ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল হোইবির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ছিল চারটি ধর্ষণের অভিযোগ, হামলা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং যানবাহন সংক্রান্ত অপরাধ। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একটি অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।   ২৯ বছর বয়সি হোইবি আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, বিশেষ করে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কিছু কম গুরুতর অপরাধের দায় তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তার আইনজীবীরা তাকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন। সেই অনুযায়ী তিনি ইলা কারাগার থেকে অনলাইনে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন।   রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ সর্বোচ্চ ১৮ মাসের সাজা দাবি করে, ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস চেয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারজন নারীকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়। প্রতিটি ঘটনায় বলা হয়, ভুক্তভোগীরা ঘুমন্ত অবস্থায় বা অসহায় পরিস্থিতিতে ছিলেন।   এই রায় নরওয়ের রাজপরিবারের জন্যও কঠিন সময়ের মধ্যে এলো। কারণ হোইবির মা রাজকন্যা মেতে-মারিত দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। পাশাপাশি পরিবারের বিরুদ্ধে অতীতে বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে জনসমালোচনাও রয়েছে।   গত সপ্তাহে আদালত তাকে সাময়িক মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করলেও পরে আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে। তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে আটক ছিলেন। এই মামলা নরওয়ে ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৭:১২
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স–যুক্তরাজ্য যৌথ নৌ মিশন প্রস্তুত: হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর ঘোষণা ম্যাক্রোঁর

তেহরানে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের সমর্থনে সমাবেশ । গেটি ইমেজ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া, কোন দেশ কী বলল

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

‘বাজে চুক্তি’: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলে তীব্র অসন্তোষ ও রাজনৈতিক বিরোধিতা

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।   সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ওয়েবসাইটে লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা সীমিত করা এবং অনলাইন গেমের ভেতরে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   সরকারি সূত্রগুলো এই পরিকল্পনাকে “অস্ট্রেলিয়া-প্লাস” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা প্রথম দেশ হিসেবে এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত নীতিটি সেই ব্যবস্থার চেয়েও বেশি কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। একজন বাবা হিসেবে আমি জানি, প্রতিটি অভিভাবকই চান তাঁদের সন্তান নিরাপদ পরিবেশে বড় হোক।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল কাঠামো শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।   দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা মোট ১০টি বড় প্ল্যাটফর্মে কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক ও কিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ, রাতের কারফিউ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।   সরকারের তিন মাসব্যাপী এক গণপরামর্শে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন।   তবে এই প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনাও রয়েছে। অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ১৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করা কিশোরী মলি রাসেলের বাবা ইয়ান রাসেল এই উদ্যোগকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন।   তার মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিশুদের মধ্যে ভুয়া নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে এবং তারা অনলাইন জগতের আরও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রবেশ করতে পারে।   অন্যদিকে ব্রিটেনের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী জানিয়েছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য। এখন শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৪:২৪
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্পের জন্মদিনে পুতিনের ফোন, মস্কো সফরে যেতে পারেন উইটকফ ও কুশনার

বাণিজ্যিক রকেটে ৮ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশে চীনের আরেক সাফল্য

বাণিজ্যিক রকেটে ৮ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশে চীনের আরেক সাফল্য

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন জটিলতা: দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ইউরোপের চার দেশের ঘোষণা
ইউরোপের চার দেশের ঘোষণা: ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতার পর ইউরোপের চার প্রভাবশালী দেশ ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   রোববার (১৪ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী হয়—তা পর্যবেক্ষণ করে তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বিবৃতিতে দেশগুলোর নেতারা বলেন, “ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—এ লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।”   এর আগে স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তার কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন, তাঁর দেশের মধ্যস্থতায় সোমবার ভোরে এই সমঝোতা হয়েছে।   জানা গেছে, সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, এই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত।   ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয়ও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।   ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় একটি বিস্তৃত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলবে। সেখানে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও পরবর্তী আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আগে থেকেই রয়টার্সকে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।   এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেশটি আগেই জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অংশ তারা নয়।   এদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি আগামী শুক্রবার থেকে আবারও খুলে দেওয়া হবে। কয়েক মাস ধরে ইরান এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।   তিনি আরও জানান, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করো—তেল প্রবাহিত হতে দাও।”   এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। সোমবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়। পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে চুক্তির শর্তগুলো কীভাবে কার্যকর করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ০:৫৩
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকত না: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলে মাঝ আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ৬

0 Comments