ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দেওয়ার খবর সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ওয়াশিংটন সরাসরি তেহরানকে কোনো অর্থ দিচ্ছে না; বরং সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অন্য দেশগুলোর বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বিষয়টি পরিষ্কার করেন।
‘দ্য মেগান কেলি শো’-তে সাংবাদিক মেগান কেলির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে এবং তাদের আচরণে পরিবর্তন আনে, তাহলে দেশটির ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। এতে করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে।
ভ্যান্স উদাহরণ দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি ইরানে কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বর্তমান নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর কারণে তা সম্ভব নয়। তবে ইরান শর্ত পূরণ করলে এই বাধাগুলো শিথিল হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “যারা বলছেন আমরা ইরানকে অর্থ দিচ্ছি, তারা ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আমরা কেবল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে ইরান তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনলে অন্যান্য দেশ সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবে এবং দেশের পুনর্গঠন ও জনগণের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।”
এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার আকার হতে পারে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত হয়েছে।
তবে এই তহবিল সরকারি নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো অর্থ বা অনুদান থাকবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশসমূহ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বেসরকারি কোম্পানিগুলো এতে বিনিয়োগ করবে। জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার মতো খাতে এসব অর্থ ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে পরিচিত এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—ইরানের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষকে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া।
একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে তেহরান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন সরাসরি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। পরিবর্তে বিনিয়োগনির্ভর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রস্তাব সামনে আনে।
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বৈশ্বিক বিনিয়োগ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। যদিও দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ—বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে সেখানে। পাশাপাশি বড় জনসংখ্যা ও সম্ভাবনাময় শিল্পখাত থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগের অভাবে সেসব সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, সম্ভাব্য এই তহবিল গঠন এবং কার্যক্রম শুরু হবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর। সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগ কাঠামো চূড়ান্ত করা হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণ ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলবে।
এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক কাঠামোতে সম্মত হওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি অর্থ সহায়তার পরিবর্তে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হলে তা ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই এর সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
জি-৭ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ব্যস্ততার মাঝেও এক অনানুষ্ঠানিক মুহূর্ত ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সম্মেলনস্থলে রাষ্ট্রনেতাদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও কথোপকথনের ফাঁকে এই দুই নেতার সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। সম্মেলনের এক পর্যায়ে অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলাপরত অবস্থায় মেলোনি কাছে আসতেই মোদি এগিয়ে যান। তখন দুজনের মধ্যে হালকা হাস্যরসাত্মক কথোপকথন হয়। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মেলোনি মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আবার আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” এরপর মজার ছলে তিনি যোগ করেন, “আমরাই ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।” মেলোনির এই মন্তব্যে সায় দিয়ে মোদিও তাদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। মুহূর্তটি দ্রুতই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। ‘মেলোডি’ শব্দটি মূলত মোদি ও মেলোনির নামের সংমিশ্রণ। ২০২৩ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে মেলোনি মোদির সঙ্গে তোলা একটি সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ‘মেলোডি’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে বিষয়টি প্রথম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর থেকেই দুই নেতার প্রতিটি সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য মিম, ভিডিও ও রসাত্মক কনটেন্ট। এই জনপ্রিয়তাকে আরও উসকে দেয় সম্প্রতি রোম সফরের একটি ঘটনা। ওই সফরে মোদি মেলোনিকে ‘মেলোডি’ নামের একটি টফি উপহার দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নীল রঙের বন্দগালা স্যুট পরিহিত মোদি মেলোনির হাতে টফির একটি প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। সাদা স্যুট পরা মেলোনি হাসিমুখে উপহার গ্রহণ করে তাকে ধন্যবাদ জানান। ভিডিওতে মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের জন্য একটি উপহার এনেছেন... খুব, খুব ভালো টফি।” এ সময় দুই নেতাকেই বেশ স্বতঃস্ফূর্ত ও হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির কঠোর আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বিশ্বনেতাদের মানবিক দিকটি সামনে আনে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মুহূর্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জনমনে আলাদা আগ্রহও তৈরি করে। মোদি ও মেলোনির এই ‘মেলোডি’ রসায়নও তার ব্যতিক্রম নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। নতুন করে একাধিক ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এ ঘটনার পর ইসরাইলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ জুন) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ গভর্নরেটে একাধিক হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। হামলাগুলো সংঘটিত হয় এমন এক সময়ে, যখন অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা চলছে। লেবাননের জাতীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, মাইফাদুন এলাকায় দুটি গাড়িকে লক্ষ্য করে পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়। একই সময়ে শৌকিন গ্রামেও একটি গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় এবং তারা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা আলোচনার পুরো সময়জুড়ে তেহরান বারবার বলে এসেছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। যদিও দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি দাবি করেন, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সংঘাতের সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলার ঘটনায় সেই প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরাইলকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ইসরাইলকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং দখল করা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতি এবং সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থায় অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা এগোলেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ফলে সংঘাত পুনরায় বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরান তাদের আশ্বস্ত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও দক্ষিণ লেবাননের সাম্প্রতিক হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।
ভারতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর যুক্তিতে ভারত সরকার ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের সেবা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভ। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দুরভ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের কারণে ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা ফাঁসকারীদের থামাতে পারেনি, বরং তারা অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে গেছে। দুরভ লিখেছেন, “কিছু ব্যবহারকারী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শেয়ার করেছে বলে টেলিগ্রাম এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এতে কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অথচ যারা প্রকৃতপক্ষে ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ছে না। প্রশ্নফাঁসের কার্যক্রম অন্য অ্যাপে স্থানান্তরিত হয়েছে।” ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই পরীক্ষাকে ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-এর সুপারিশে টেলিগ্রামের ওপর এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার পর ইতোমধ্যে অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাপ স্টোর থেকে টেলিগ্রাম সরিয়ে দিয়েছে গুগল। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যাপলও। ফলে নতুন ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারছেন না। যাদের মোবাইলে টেলিগ্রাম আগে থেকেই ইনস্টল করা রয়েছে, তারাও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারেন বলে জানা গেছে। এনটিএর মহাপরিচালক অভিষেক সিং বলেছেন, পুনঃপরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, “পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম হতে দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভারত সরকার শুধু টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি। দেশটিতে অ্যাপটির বার্তা সম্পাদনা (মেসেজ এডিট) করার সুবিধাও ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, অতীতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ভুয়া প্রমাণ তৈরিতে এই সুবিধার অপব্যবহার করা হয়েছিল। পরীক্ষার পর বার্তা সম্পাদনা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো যেন প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়েছিল। এদিকে ভারতীয় সাইবার অপরাধ সমন্বয় কেন্দ্রকে (আই৪সি) অনলাইনভিত্তিক পরীক্ষাজালিয়াতি দমনের প্রধান সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিহার, গুজরাট ও রাজস্থানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে প্রশ্নফাঁস ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেল, গ্রুপ ও বট ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অতি কঠোর ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেক ডিজিটাল অধিকারকর্মী ও নীতিবিশেষজ্ঞ। জননীতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইজিএপির অংশীদার ধ্রুব গর্গ বলেছেন, টেলিগ্রাম শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। ফলে পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিপুল সংখ্যক নিরীহ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “সরকার পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া কি সবচেয়ে কম ক্ষতিকর ও কার্যকর সমাধান, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।” ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, টেলিগ্রাম বন্ধ করা এবং বার্তা সম্পাদনার সুবিধা নিষ্ক্রিয় করা মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। কারণ প্রশ্নফাঁস বা গুজব ছড়ানোর মতো কার্যক্রম সহজেই অন্য মেসেজিং অ্যাপ কিংবা ব্যক্তিগত গ্রুপে স্থানান্তরিত হতে পারে। নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষা সামনে রেখে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন ভারতে নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি কোটি কোটি মানুষের ডিজিটাল যোগাযোগের অধিকার ও সরকারের হস্তক্ষেপের সীমা কোথায় হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।