হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ইভেন্টে হামলার ছক ভেস্তে দিল এফবিআই, পাঁচজন গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপ্রচারিত ইউএফসি (আল্টিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ) ইভেন্টকে ঘিরে পরিকল্পিত বড় ধরনের হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এ ঘটনায় চারটি অঙ্গরাজ্য থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বহুস্তরীয় হামলার পরিকল্পনা করেছিল। প্রথম ধাপে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের ভবনগুলোতে আঘাত হানার পরিকল্পনা ছিল। এরপর বিশৃঙ্খলার মধ্যে আতঙ্কিত জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং স্নাইপারদের সামনে ঠেলে দেওয়ার কৌশল নির্ধারণ করা হয়। শেষ ধাপে হোয়াইট হাউসের প্রধান ফটকে হামলা চালানোরও পরিকল্পনা ছিল তাদের।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ওহাইওর ১৯ বছর বয়সী টাইসেন সি প্রোপার, ক্যালিফোর্নিয়ার ব্রায়ান ওমর রোয়া (২৪) ও মাইকেল অ্যালান থমাস (৩২), মিসৌরির ড্যানিয়েল কে এস্ক্রিজ (৩২) এবং নেব্রাস্কার আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজ (৩১)। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। যদিও তাদের সবাই ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত হয় টাইসেন প্রোপারকে কেন্দ্র করে। গত ১০ জুন তার মা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ফোন করে জানান, ছেলে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং অনলাইনে সাবেক সামরিক সদস্য ও ধর্মভিত্তিক একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে—যা তাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা নিজেদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে দেখালেও তারা বিশ্বাস করত যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে নতুন কাঠামো গড়া প্রয়োজন। সরকারি দুর্নীতি, আলোচিত এপস্টাইন ফাইলস, ডেটা সেন্টারের কারণে জলসংকটসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রথমে টিকটকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ শুরু হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তারা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ ‘সিগন্যাল’-এ ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়। ডিওজের দাবি, আব্রাহাম আলভারেজ হামলার সমন্বয় এবং ড্রোন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তারা ওয়াশিংটনের মানচিত্রে সম্ভাব্য স্নাইপার অবস্থান, ড্রোন উড্ডয়নের স্থান এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদানও করেছিল।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, হামলা কার্যকর হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি সিক্রেট সার্ভিসের উপপরিচালক ম্যাট কুইন।
এদিকে জি-৭ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই শোনেননি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে রোববার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে ‘দ্য ক্ল’ নামে একটি উন্মুক্ত মঞ্চে ইউএফসির বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমন্ত্রিত প্রায় ৪ হাজার ৩০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, আর আশপাশে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এছাড়া টাইসেন প্রোপারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সহিংসতার ষড়যন্ত্রের অতিরিক্ত অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ জুন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবকেয়া করের দায়ে একটি বিতর্কিত কর্মসূচির অধীনে বাজেয়াপ্ত হওয়া ভবনের মালিকদের ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে নিউইয়র্ক শহর। গত শুক্রবার ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা একটি আপস-মীমাংসা চুক্তির অধীনে, শহর কর্তৃপক্ষের বাজেয়াপ্ত করা ৬৪টি সম্পত্তির মালিকরা ক্ষতিপূরণের এই অর্থ পাবেন। প্রায় এক দশক আগে দায়ের করা একটি 'ক্লাস-অ্যাকশন' বা গণমামলার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। বাড়ির মালিকদের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী সারা কেইন এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পেরে আনন্দিত। ২০১৯ সালে দায়ের করা ওই মামলার নথিতে বাদীরা অভিযোগ করেছিলেন যে, "যথাযথ ক্ষতিপূরণ" ছাড়াই তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, যা সরাসরি তাদের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। এমনকি তাদের বাড়িগুলো যে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও শহর কর্তৃপক্ষ কোনো আগাম নোটিশ দেয়নি বলে দাবি করা হয়। মূলত 'থার্ড পার্টি ট্রান্সফার প্রোগ্রাম' নামের ওই কর্মসূচির অধীনে, যেসব ভবনে হাউজিং কোড লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তি কর বকেয়া থাকে, সেগুলোর মালিকানা যেকোনো অলাভজনক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যায়। পরবর্তীতে সংস্থাগুলো সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাতাদের কাছে ওই ভবনগুলো হস্তান্তর করে। কিন্তু আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বকেয়া করের তুলনায় বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তিগুলোর বাজারমূল্য অনেক বেশি ছিল। গত এক দশকের মধ্যে নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম বৃহৎ এই ক্ষতিপূরণ চুক্তির খবরটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি তার 'ফিক্স দ্য সিটি' আবাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিতর্কিত এই কর্মসূচিটিকে আবারও চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। শহরের আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু স্টার্ন অবশ্য দাবি করেছেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সাবেক মালিকদের কোনো অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়নি। তবে একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই শহর কর্তৃপক্ষ এই আপস-মীমাংসায় সম্মত হয়েছে। বর্তমান চুক্তিটি শুধুমাত্র ২০১৯ সালে বাজেয়াপ্ত হওয়া সর্বশেষ সম্পত্তিগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাদীদের আইনজীবীদের মতে, গণমামলাটির অংশ হিসেবে এখনও আরও ৫০০টির বেশি সম্পত্তির নিষ্পত্তি হওয়া বাকি। আইনজীবী কেইন আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত ব্যবস্থা বাকি মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও এমন ইতিবাচক রায় দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বন্ধুকে বাঁচাতে গু লিবিদ্ধ তরুণ, সাহায্য না করে ভিডিও করল জনতা
ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে ২৫ কোটি ডলার লুট, বৃদ্ধার বুদ্ধিতে ধরা প্রতারক
অনলাইনে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য ও বিস্ফোরক তৈরির ঘটনায় পেনসিলভানিয়ায় তরুণ গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি থাকা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু গাড়ি চালানোর সময় কয়েকটি সাধারণ ভুল শুধু ট্রাফিক জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়তে পারে গাড়ির বীমা, টোল, মেরামত ও জ্বালানি খরচেও। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, লাল বাতি বা স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থামা, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা, টোল বা পার্কিংয়ের জরিমানা সময়মতো পরিশোধ না করা এবং বীমার মূল্য তুলনা না করার কারণে বছরে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। সাম্প্রতিক লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে ১১ থেকে ১৫ মাইল বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা হলে গাড়ির বীমার খরচ গড়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বছরে গড়ে ৫২৪ ডলার ৭৪ সেন্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত বীমা খরচ হতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্যে এই বৃদ্ধি আরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়ায় একই ধরনের ট্রাফিক টিকিটের পর বীমার গড় খরচ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। অর্থাৎ একটি ট্রাফিক টিকিটের আর্থিক প্রভাব শুধু জরিমানা দেওয়ার মধ্যেই শেষ হয় না, পরবর্তী কয়েক বছরও বাড়তি বীমা খরচ বহন করতে হতে পারে। আরেকটি সাধারণ ভুল হলো লাল বাতি বা স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থেমে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া। লাল বাতির ক্যামেরায় ধরা পড়ার নিয়ম এবং জরিমানার পরিমাণ শহর ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। তাই পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই অঙ্কের জরিমানা নির্ধারণ করা যায় না। তবে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি ট্রাফিক আইন ভঙ্গের বিষয়টি নথিভুক্ত করলে তা চালকের ড্রাইভিং রেকর্ডে প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বীমার খরচ বাড়ার কারণ হতে পারে। নিরাপদ অভ্যাস হলো লাল বাতি ও স্টপ সাইনে সম্পূর্ণভাবে গাড়ি থামানো। গাড়ির বীমার ক্ষেত্রেও শুধু কম মাসিক খরচ দেখেই পলিসি নেওয়া ঠিক নয়। শুধু দায়বদ্ধতার বীমা থাকলে দুর্ঘটনায় অন্য ব্যক্তি বা তার সম্পত্তির ক্ষতির দায় মেটানো যায়, কিন্তু নিজের গাড়ির সব ধরনের ক্ষতির সুরক্ষা নাও পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে বীমাবিহীন বা অপর্যাপ্ত বীমা থাকা চালকের কারণে দুর্ঘটনা হলে বীমাবিহীন চালকের সুরক্ষা কাজে আসতে পারে। চুরি, আগুন, ভাঙচুর, শিলাবৃষ্টি বা সংঘর্ষ ছাড়া অন্যান্য কারণে গাড়ির ক্ষতি হলে ব্যাপক বীমা সুরক্ষা কাজে লাগতে পারে। কোন ধরনের বীমা বাধ্যতামূলক এবং কোনটি অতিরিক্ত, তা অঙ্গরাজ্য ও পলিসিভেদে ভিন্ন। গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পিছিয়ে দেওয়াও পরে বড় খরচের কারণ হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে ইঞ্জিনের তেল পরিবর্তন, টায়ারের বাতাসের চাপ পরীক্ষা, ব্রেক, ব্যাটারি এবং গাড়ি প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত সার্ভিস করানো গুরুত্বপূর্ণ। ছোট সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত হলে বড় ধরনের যান্ত্রিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। একইভাবে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ইঞ্জিন সংক্রান্ত সতর্কতার বাতি জ্বলে উঠলে সেটি দীর্ঘদিন উপেক্ষা না করে কারণ পরীক্ষা করা উচিত। তবে শুধু সতর্কতার বাতি জ্বলেছে বলেই নির্দিষ্ট কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পরীক্ষা করে প্রকৃত সমস্যা শনাক্ত করার পর মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। টোল ও পার্কিংয়ের জরিমানাও সময়মতো পরিশোধ করা জরুরি। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং বা ক্যামেরার জরিমানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, পার্কিং টিকিট পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ১০ ডলার বিলম্ব জরিমানা যোগ হতে পারে এবং সময় গড়ালে অতিরিক্ত পেনাল্টিও যুক্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে গাড়িতে চাকা আটকানো বা গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থাও হতে পারে। টোলের ক্ষেত্রেও একইভাবে সময়মতো বিল পরিশোধ করা গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট থ্রুওয়ের বিভিন্ন রুটে ই-জেডপাস ব্যবহারকারীরা অনেক ক্ষেত্রে টোল বাই মেইলের তুলনায় কম হারে টোল দিতে পারেন। টোল বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ফি যোগ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। নিয়মিত গাড়ি চালানো ব্যক্তিদের তাই ই-জেডপাস অ্যাকাউন্ট সচল রাখা এবং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও পেমেন্টের তথ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় খরচ হতে পারে। গাড়ির মালিকের নির্দেশিকায় যে ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, সেটিই ব্যবহার করা উচিত। যেসব গাড়িতে সাধারণ মানের পেট্রোল ব্যবহার করা যায়, সেখানে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বেশি দামের প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করলে সাধারণত বাড়তি পারফরম্যান্স বা জ্বালানি সাশ্রয়ের উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাওয়া যায় না। তবে গাড়ি প্রস্তুতকারক যদি প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার বাধ্যতামূলক বা সুপারিশ করে, সে ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। সবশেষে, একই ড্রাইভিং রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বীমা কোম্পানি একই চালকের জন্য ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। তাই পলিসি নবায়নের সময় শুধু বর্তমান কোম্পানির প্রস্তাবিত মূল্য গ্রহণ না করে কয়েকটি কোম্পানির বীমা কোট তুলনা করা যেতে পারে। ক্রেডিট স্কোরও কিছু অঙ্গরাজ্যে গাড়ির বীমার মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এর নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন এবং সব জায়গায় ক্রেডিট স্কোরের প্রভাব একই নয়। গাড়ির খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় কোনো পদক্ষেপের চেয়ে নিয়মিত ছোট ছোট বিষয় নজরে রাখাই বেশি কার্যকর হতে পারে। গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে টায়ারের বাতাসের চাপ, ড্যাশবোর্ডের সতর্কতার বাতি, ই-জেডপাস বা টোল অ্যাকাউন্ট এবং বীমা পলিসির তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। কোনো ট্রাফিক টিকিট, পার্কিং জরিমানা বা টোল বিল পেলে সেটি ফেলে না রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা প্রয়োজন হলে আপত্তি জানানো উচিত। অঙ্গরাজ্য, শহর, গাড়ির মডেল, চালকের ড্রাইভিং রেকর্ড এবং বীমা পলিসির ধরন অনুযায়ী প্রকৃত খরচ ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট জরিমানা বা বীমার খরচের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মোটরযান কর্তৃপক্ষ, টোল কর্তৃপক্ষ এবং বীমা কোম্পানির সর্বশেষ তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
নিউইয়র্কে অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্ট লটারির শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর, যেভাবে আবেদন করবেন
সুরক্ষার আদেশের পরও থামেনি হয়রানি পিছু নেয়া, স্যাক্রামেন্টোতে গুলিতে প্রাণ গেল শালিনীর
২৩ বছর বয়সে জর্জিয়ায় ইতিহাস গড়া তরুণ মেয়রকে ১০ মাসের মধ্যেই পদচ্যুত করল সিটি কাউন্সিল
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির মালিকদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মর্টগেজ থাকা বাড়িগুলোর ৩ দশমিক ২ শতাংশকে ‘সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক বছর আগে এই হার ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এমন বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে যেখানে মালিকের মর্টগেজ ঋণের পরিমাণ বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি। রিয়েল এস্টেট ডেটা প্রতিষ্ঠান এটিটিওএম -এর দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইউএস হোম ইকুইটি অ্যান্ড আন্ডারওয়াটার রিপোর্টে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার মর্টগেজের হার এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে মিনেসোটায়। সেখানে হার ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের একই সময়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। ‘আন্ডারওয়াটার মর্টগেজ’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হচ্ছে, যখন কোনো বাড়ির বিপরীতে নেওয়া ঋণের মোট বকেয়া ওই বাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এটিটিওএম-এর ‘সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার’ সংজ্ঞা অনুযায়ী, সম্পত্তির বিপরীতে থাকা ঋণের আনুমানিক ব্যালান্স বাড়িটির বাজারমূল্যের অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি হলে সেটিকে এই শ্রেণিতে ধরা হয়। এমন অবস্থায় বাড়ির মালিক বাড়িটি বিক্রি করতে গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। মিনেসোটার পর সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার মর্টগেজের উচ্চ হার দেখা গেছে লুইজিয়ানায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ, আইওয়ায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, মিসিসিপিতে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আরকানসাসে ৬ শতাংশ। বিপরীতে নিউইয়র্কে এই হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নিউ জার্সিতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম হার দেখা গেছে ভারমন্টে, মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে বাড়ির মালিকদের ইকুইটির অবস্থানও দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এটিটিওএম-এর তথ্য। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মর্টগেজ থাকা বাড়ির ৪১ দশমিক ১ শতাংশকে ‘ইকুইটি রিচ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, এসব বাড়ির বিপরীতে থাকা ঋণের মোট পরিমাণ বাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকেও হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে টানা চার প্রান্তিক ধরে ইকুইটি রিচ বাড়ির হার কমেছে এবং এটি প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বাড়ির ইকুইটি কমে যাওয়ার অর্থ হলো, অনেক মালিকের বাড়ির বর্তমান মূল্য ও মর্টগেজ ঋণের মধ্যে যে আর্থিক ব্যবধান ছিল, সেটি আগের তুলনায় সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বাড়ির দাম কমে গেলে বা স্থির থাকলে, কিন্তু মর্টগেজের বকেয়া দ্রুত না কমলে এই ব্যবধান আরও সংকুচিত হতে পারে। আর কোনো মালিকের ঋণ যদি বাড়ির বাজারমূল্য ছাড়িয়ে যায়, তখন বাড়ি বিক্রি বা রিফাইন্যান্স করার সুযোগও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিকে এখনই আবাসন বাজারের বড় ধরনের সংকট হিসেবে দেখছে না এটিটিওএম। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ইকুইটি পরিস্থিতি ২০২০ সালের আগের সময়ের তুলনায় এখনো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। অর্থাৎ, ঝুঁকির কিছু সূচক খারাপ দিকে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাড়ির মালিক এখনো আগের দশকের বড় ধরনের আবাসন সংকটের মতো অবস্থায় নেই। তবু নতুন তথ্যটি বাড়ি মালিক, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং মর্টগেজধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বাড়ির মূল্য কমছে বা দীর্ঘ সময় ধরে স্থির রয়েছে, সেখানে মর্টগেজের বকেয়া ও বাড়ির বর্তমান মূল্যের পার্থক্য ভবিষ্যতে আরও বড় হতে পারে। ফলে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট নয়, বাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার এবং ভবিষ্যৎ বিক্রির সম্ভাবনাও হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের হয়রানিতে নীরব থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মাহমুদ খলিল
সিনেট শুনানিতে কাশ প্যাটেলকে তীব্র জেরা, এফবিআই প্রধানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন