আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ধস, বিলাসবহুল বাড়ির দাম কমছে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১২:৩৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাইয়ের বিলাসবহুল আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই রিয়েল এস্টেট বাজারে বেচাকেনা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। দুবাই-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালুস্ট্র্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে আবাসন বিক্রি প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান লেনদেনের এই হার গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।

 

ভ্যালুস্ট্র্যাট-এর আবাসন গবেষণা বিভাগের প্রধান হায়দার তুয়াইমা জানান, বৈশ্বিক মহামারির পর থেকে তৈরি করা বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারে এত বড় ধরনের বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে দুবাইয়ের আরেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেইডিন’-এর পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে মাসে দুবাইয়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামের (৬.১ বিলিয়ন ডলার) সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মাসের তুলনায় এই বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক।

 

দুবাইয়ে গত কয়েক বছর ধরে শূন্য আয়কর নীতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের আগমনে আবাসন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার এসেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিশেষ করে মার্চ মাসে দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন শান্তি চুক্তি হলেও বাজার কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।

 

আবাসন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধস ঠেকাতে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের বিক্রেতারা এখন কোটি কোটি টাকা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। অত্যন্ত দামি সম্পত্তি কেনাবেচায় নিয়োজিত এক এজেন্ট জানান, বর্তমানে যে দু-একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। গত দেড় বছরে দুবাইয়ে বাড়ি কেনা অতি-ধনী ক্রেতাদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ক্রেতারা এখন দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বিরত থাকছেন।

 

গত ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংকে পেছনে ফেলে বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে দুবাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইয়ের এই অবস্থান এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিব্রাজক অতি-ধনীরা এখন দুবাই ছেড়ে মিলান, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ আন্তর্জাতিক শহরের দিকে ঝুঁকছেন। এই আকস্মিক ধসের কারণে দুবাইয়ে গড়ে ওঠা শত শত ছোট রিয়েল এস্টেট ব্রোকার এজেন্সি এখন ব্যবসা বন্ধ করার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
হিথ্রো বিমানবন্দরের নতুন রানওয়েতে ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি, সরকারি রিপোর্টে সতর্কতা

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হিথ্রো বিমানবন্দরে বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় রানওয়ে নির্মাণের ফলে আশেপাশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের দ্রুত বিমানবন্দর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ চালু করার পরপরই প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক সরকারি রিপোর্টে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য করা ‘এইকম’ (Aecom) নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক বিশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই হাব বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের ওপর "মারাত্মক নেতিবাচক" প্রভাব পড়বে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন রানওয়ে নির্মাণ এবং তা চালু করার পর শুধু যে ওই এলাকার শব্দদূষণ ও বায়ুর গুণমান খারাপ হবে তা নয়, বরং এটি স্থানীয়দের আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্মুক্ত স্থান এবং যাতায়াতের সুযোগকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর পাশাপাশি হিথ্রো বিমানবন্দরের এই সম্প্রসারণের ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়া, সামাজিক সংহতি দুর্বল হওয়া, শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ল্যান্ডস্কেপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার মতো গভীর সংকট তৈরি হবে।   অবশ্য এই নতুন নীতিমালার প্রভাব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, তৃতীয় রানওয়েটি নির্মাণ করা হলে দেশে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মতো অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু বড় ধরনের সুবিধা মিলবে। তবে শেষ পর্যন্ত রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে উপসংহার টানা হয়েছে যে, অর্থনৈতিক লাভ হলেও পরিবেশগত এবং সামাজিক দিক বিবেচনা করলে এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে, যা কোনোভাবেই পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।   এই বিতর্কিত সম্প্রসারণ প্রকল্পের পেছনে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার পুরো অর্থায়ন করবে বিশ্বের বড় বড় বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা। ৩,৫০০ মিটার দীর্ঘ এই রানওয়েটি তৈরি করতে হলে বিখ্যাত ‘এম২৫’ (M25) মোটরওয়ের একটি অংশ স্থানান্তর করতে হবে এবং প্রায় ৮০০টি ঘরবাড়ি বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের কিনে নিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বছরে প্রায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং এটি বছরে প্রায় ১৫ কোটি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।   যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস এই প্রকল্পের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এবং তারা আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগেই হিথ্রোর মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করতে বদ্ধপরিকর। এই সম্প্রসারণের ফলে ৬০ হাজারের বেশি ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ৪২ বিলিয়ন পাউন্ডের সুবিধা যোগ হবে। তবে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন ‘নো থার্ড রানওয়ে কোয়ালিশন’ এই উদ্যোগকে তীব্র সমালোচনা করে একে ‘এক দশকের ধ্বংসযজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৩:২
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি স্কুলে বাড়তি ট্যাক্স বসালেও কমেনি শিক্ষার্থী, দাবি ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ধস, বিলাসবহুল বাড়ির দাম কমছে

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ | ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে লোহিত সাগরের দিকে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে জার্মানি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দুটি জাহাজ লোহিত সাগরের দিকে মোতায়েন করছে জার্মানি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটো সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক চলাকালীন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সমঝোতার পর জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার তোড়জোড় শুরু হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি নৌপরিবহন ও বীমা শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালিতে জরুরি ভিত্তিতে মাইন অপসারণকারী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জোরালো আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মাইনসুইপার ‘ফুলদা’ এবং অন্য একটি জাহাজ ‘মোজেল’ সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এই সামরিক মিশন সফল করতে এবং মাইন অপসারণ অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের আগে ইরান ও ওমানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জাহাজ মোতায়েনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের যেকোনো মিশনের ভবিষ্যৎ মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে মাইনমুক্ত করা সম্ভব না হলে ওই অঞ্চলে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।   উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় জার্মানি এই বিশেষ মিশনের জন্য পানির নিচে নিখুঁতভাবে পরিচালিত ড্রোন, মাইন অপসারণে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর ডুবুরি এবং শক্তিশালী জাহাজ সুরক্ষা দলও পাঠাচ্ছে। এদিকে জলপথটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি বহুজাতিক নৌ-মিশনের পরিকল্পনা করছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান এই জলপথে যেকোনো ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে বরাবরই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে আসছে।   অন্যদিকে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে গ্রিস সরকার। তবে দেশটির সরকারি মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানান, এই সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয়ে গ্রিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১২:১০
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান না মানলে মমতার বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত: দিলীপ ঘোষ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা | ছবি: সংগৃহীত

সেরা তরুণ বিজ্ঞানীর আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পেলেন বাংলাদেশের অনন্যা

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে আবার ফিরছে পাকিস্তানের ‘হাঙ্গর’ সাবমেরিন, ভারতের অস্বস্তি

চীনের ডিএফ-৫সি তরল-জ্বালানি চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে চীনের তীব্র আপত্তি ও হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে ‘বর্ধিত পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ (এক্সটেন্ডেড নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স) জোরদার করার সাম্প্রতিক উদ্যোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। বেইজিং কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও টোকিওর এই নীতি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি সাফ জানান, ‘বর্ধিত প্রতিরোধ’ মূলত শীতল যুদ্ধের সময়কার একটি পুরোনো ও বিপজ্জনক ধারণা। কিছু দেশ নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই পারমাণবিক সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে চরম অস্থিরতা তৈরি করছে।   সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও টোকিওর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ‘বর্ধিত প্রতিরোধ’ সংলাপ এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্ত করে নিউক্লিয়ার কনসালটেশন গ্রুপের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানায়, জাপানকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে তারা নিজেদের সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা, এমনকি প্রয়োজন হলে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। মূলত আমেরিকার এই প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতির পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালো চীন।   মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, "পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) পর্যালোচনা সম্মেলনগুলোতে বিশ্বের বহু দেশ এই ধরনের ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করেছে। অথচ কিছু দেশ পারমাণবিক বলয় তৈরি করে বিশ্বে নতুন করে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু করতে চাইছে।"   এ সময় জাপানের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে চীনা মুখপাত্র বলেন, টোকিও একদিকে মুখে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত শান্তিময় বিশ্বের কথা বলে, অন্যদিকে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়ে ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। জাপানকে এনপিটি-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "জাপানের উচিত ‘তিনটি অ-পারমাণবিক নীতি’ অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা এবং কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করা।"   উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র হিসেবে কাজ করছে। তবে টোকিওর যেকোনো ধরনের পারমাণবিক বা সামরিক অগ্রগতিকে বেইজিং তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি বড় হুমকি হিসেবে দেখে থাকে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১১:২০
ছবি: সংগৃহীত

অর্ধেক লাল, অর্ধেক হলুদ: নিউজিল্যান্ডে দেখা মিলল ১০ লাখে একটি হওয়া বিরল আপেলের

পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স নাটালি এ বেকার | ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের আতিথেয়তা, খাবার ও বিয়ের ঐতিহ্যে মুগ্ধ মার্কিন কূটনীতিক

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইরানের আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত হলে হিজবুল্লাহকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান

0 Comments