অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত
ইতালিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার বসবাসের অনুমতি বাতিল করে ইতালীয় প্রশাসন এই ব্যবস্থা নেয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় পুলিশের তথ্য এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভেনিস বিমানবন্দর থেকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওই বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়। ইতালির আদালতের গোপনীয়তা নীতির কারণে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সূত্রে জানা গেছে, তার নাম মাসুম মিয়া (৫৫)। তার বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার চল্লাবাজ এলাকায়। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গোরিৎসিয়া প্রদেশের মনফালকোন এলাকার একটি শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তে উঠে আসে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালেও তাকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গোরিৎসিয়া আদালত তাকে ৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে ত্রিয়েস্তে আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখেন।
রায়ের পর ভুক্তভোগী নারী ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোরিৎসিয়া পুলিশের অভিবাসন বিভাগ তাদের একটি নারী সহায়তা কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ওই বাংলাদেশির ইতালিতে বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়। পরে গোরিৎসিয়ার প্রিফেক্ট তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ জারি করেন। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই মঙ্গলবার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং মনফালকোনের সাবেক মেয়র আন্না মারিয়া সিসিন্ট বলেন, যারা নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা চালায় এবং মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের প্রতি সম্মান দেখায় না, তাদের ইতালিতে থাকার অধিকার নেই।
মনফালকোনের বর্তমান মেয়র লুকা ফাসানও ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পরিবারে নারী নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। ইতালিতে বসবাস ও কাজ করতে চাইলে দেশটির আইন এবং সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে।
এদিকে মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেটের কনসাল শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই বহিষ্কারের বিষয়ে ইতালীয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবহিত করেনি। তবে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতালির আইন মেনে চলা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreমার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানালেও ইউক্রেনের বিশ্লেষকদের দাবি, ক্রেমলিন এখনো যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয়। ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Kyiv Post-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের পরিবর্তে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত মিলছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুতিন ইউক্রেনকে স্বাধীন জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে আগের অবস্থানেই রয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য ও ক্ষমতার কাঠামো ধরে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবেও উপস্থাপন করছেন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, সের্গেই লাভরভ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা বন্ধ, রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোর দাবিকে স্বীকৃতি এবং মস্কোর নিরাপত্তা শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর জোর দেন। এসব অবস্থানকে শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে Kyiv Post। তবে রাশিয়া বরাবরের মতোই বলছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে তাদের নিরাপত্তা স্বার্থ ও ঘোষিত শর্তের ভিত্তিতে। মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তাকেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করে আসছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতার অবসান ও শান্তি সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত অন্তত ১৪
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ‘আইসিই অভিযান’ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ! চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ক্যাম্প
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত
ডাউন সিনড্রোমের কারণে একের পর এক বৈষম্যের শিকার হয়েও থেমে যাননি আনা ভিক্টোরিয়া। একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হারানোর পর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছর পড়াশোনা শেষ করে বিশ্বের প্রথম ডাউন সিনড্রোম–সম্পন্ন আইনজীবী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এবার তার লক্ষ্য নিজের অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করা। আনা ভিক্টোরিয়া জানিয়েছেন, নিজের শহরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কারণেই তাকে সেখান থেকে চলে যেতে হয়েছিল। এমনকি একই কারণে তাকে প্রচলিত বিদ্যালয়ে না পড়ে অনলাইনের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে হয়। তবে প্রতিকূলতা তার পথ থামাতে পারেনি। পরে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়। পাঁচ বছরের কঠোর অধ্যবসায়ের পর তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বিশ্বের প্রথম ডাউন সিনড্রোম–সম্পন্ন আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পান। আইনজীবী হওয়ার পর আনা ভিক্টোরিয়া এখন সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তার মতে, মানুষের সক্ষমতা কখনোই শারীরিক বা মানসিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে বিচার করা উচিত নয়; সুযোগ পেলে সবাই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। এবার তার নতুন লক্ষ্য রাজনীতিতে প্রবেশ করা। তিনি নিজের অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে আইন প্রণয়ন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাউন সিনড্রোম একটি জেনেটিক অবস্থা, যা মানুষের শেখার গতি ও শারীরিক বিকাশে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। তবে উপযুক্ত শিক্ষা, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা গেলে ডাউন সিনড্রোম–সম্পন্ন ব্যক্তিরাও শিক্ষা, কর্মজীবন ও নেতৃত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেন। আনা ভিক্টোরিয়ার সাফল্য সেই বাস্তবতারই একটি অনন্য উদাহরণ। বৈষম্য ও বাধা অতিক্রম করে তিনি শুধু আইনজীবীই হননি, বরং বিশ্বজুড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রতীক হিসেবেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।
দুই ‘মোসাদ’ গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ, ক্ষোভে গুঁড়িয়ে দিল বাড়ি
ভারতের ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের ঢেউ এবার ব্রিটেনে, পার্লামেন্টের সামনে শিক্ষার্থীদের শক্ত অবস্থান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ দুই বছর পুরোপুরি আড়ালে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক দুই বছর পূর্তিতে আগামী ৫ আগস্ট তিনি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে আসছেন। জানা গেছে, নয়াদিল্লির 'ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া' (এফসিসি সাউথ এশিয়া)-র উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি হাজির হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের রোডম্যাপ তুলে ধরবেন। নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই হাই-ভোল্টেজ ভার্চ্যুয়াল কর্মসূচিতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এফসিসি সাউথ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. ওয়ায়েল আওয়াদের পরিচালনায় এই বৈঠকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এছাড়াও প্যানেলে থাকছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক এবং কাউন্টার-টেররিজম বিশ্লেষক আবু ওবাইদা আরিন। মানবাধিকার প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হবেন 'বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ'-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও ইউএসএ চ্যাপ্টারের পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ার। সাবেক মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক, ক্রীড়া তারকা এবং মানবাধিকার কর্মীদের একই প্যানেলে নিয়ে আসাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের অবস্থান পুনর্গঠনের এক বড় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দলটির বহু নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান করছেন। বিশ্ব গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনা একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন, তেমনি অন্যদিকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি নিজের ওপর ওঠা অভিযোগগুলোর জবাব দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও এটিকে কাজে লাগাতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি চরম মেরুকৃত। একদলীয় শাসন, ২০২৪-এর আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমনপীড়ন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কারণে দেশের বড় একটি অংশের কাছে তিনি স্বৈরাচারের প্রতীক। অন্যদিকে, তাকে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ভারতের ওপর ক্রমাগত আইনি ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন যে, জীবন বা গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। মৃত্যুদণ্ডের দণ্ডাদেশ ও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের বিপরীতে দলীয় অনুসারীদের প্রত্যাশা—এই দুই মেরুর টানাপোড়েনে আগামী ৫ আগস্টের বৈঠকে তিনি ঠিক কী বার্তা দেন, সেদিকেই এখন নজর রাখছে পুরো দক্ষিণ এশিয়া।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা ফিলিস্তিনি যুবকের সন্ধান মিলল ইসরায়েলি সেনার ইনস্টাগ্রামের ছবিতে
পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করতে ১ লাখ ডলার ফি? ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবে এবার মুখ খুলল ভারত