যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে বিকৃত পর্নোগ্রাফি, আইন ভঙ্গ করলে ৫ বছরের জেল
যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নির্দিষ্ট ধরনের পর্নোগ্রাফিক ছবি বা ভিডিও নিজের কাছে রাখা এবং প্রকাশ করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনে শ্বাসরোধের দৃশ্য, নির্দিষ্ট আত্মীয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্কের দৃশ্য এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের ছদ্মবেশে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন কর্মকাণ্ডের চিত্রযুক্ত সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে এসব সামগ্রী প্রকাশ বা অন্যের কাছে ছড়ালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর নিষিদ্ধ সামগ্রী নিজের কাছে রাখার অপরাধে বিষয়ভেদে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাস্তব মানুষের মতো দেখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবিও এই আইনের আওতায় পড়বে।
নতুন বিধানটি যুক্তরাজ্যের অপরাধ ও পুলিশিং আইন ২০২৬-এর অংশ। এতে তিন ধরনের পর্নোগ্রাফিক সামগ্রীকে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রথমত, কোনো ব্যক্তির গলা চেপে ধরা বা শ্বাস নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার বাস্তবসম্মত দৃশ্য। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্কের দৃশ্য, এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাস্তবে আত্মীয় না হলেও যদি তাঁদের আত্মীয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তৃতীয়ত, এমন যৌন কর্মকাণ্ডের দৃশ্য, যেখানে অন্তত একজনকে ১৬ বছরের কম বয়সী বলে মনে হয় অথবা তাঁকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে অভিনয় করতে দেখা যায়। তবে এই বিধান সব ধরনের পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে করা সাধারণ যৌন অভিনয়ের ওপর blanket নিষেধাজ্ঞা নয়।
নতুন আইনে নিষিদ্ধ সামগ্রী নিজের কাছে রাখার শাস্তি অপরাধের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্বাসরোধ বা নির্দিষ্ট আত্মীয়ের মধ্যে যৌন সম্পর্কের দৃশ্যসংবলিত পর্নোগ্রাফি রাখলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর ১৬ বছরের কম বয়সী হিসেবে উপস্থাপিত ব্যক্তিকে নিয়ে যৌন কর্মকাণ্ডের দৃশ্যসংবলিত সামগ্রী রাখলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিন ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী প্রকাশ, আপলোড, পাঠানো, ভাগাভাগি বা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
আইনের আওতায় শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সামগ্রীই নয়, ব্যক্তিগত মুঠোফোন, কম্পিউটার, অনলাইন অ্যাকাউন্ট কিংবা ক্লাউডে সংরক্ষিত ছবিও পড়তে পারে। আগে থেকে এসব সামগ্রী নিজের কাছে থাকলে আইন কার্যকরের আগেই স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছিল বিচার মন্ত্রণালয়। একইভাবে অনলাইনে আপলোড করা নিষিদ্ধ ছবি বা ভিডিও অন্যদের দেখার সুযোগ থাকলে সেগুলোও সরিয়ে ফেলতে হবে। তবে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ছবি পেয়ে গেলে এবং অযৌক্তিক সময় পর্যন্ত সেটি নিজের কাছে না রাখলে নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, সহিংসতামূলক যৌন দৃশ্যের সহজলভ্যতা মানুষের আচরণ ও সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সহিংস আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত অক্টোবরে দেশটির বিচার প্রতিমন্ত্রী অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস বলেন, এই আইনের উদ্দেশ্য নিরীহ যৌন পছন্দকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। বরং নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরে, এমন সামগ্রীর বিস্তার রোধ করাই এর লক্ষ্য। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যারোনেস গ্যাবি বার্টিনের নেতৃত্বে পরিচালিত পর্যালোচনার সুপারিশের ভিত্তিতেও আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
তবে নতুন আইন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বাক্স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের আশঙ্কা, আইনের কিছু শব্দ ও সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে তৈরি কিছু যৌন দৃশ্যও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। বিশেষ করে শ্বাসরোধ বা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দেওয়ার সংজ্ঞা আইনে নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গলা চেপে ধরার পাশাপাশি মুখ ও নাক ঢেকে দেওয়া কিংবা বুকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করাও শ্বাসরোধের আওতায় আসতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট ছবি আইনের আওতায় পড়বে কি না, তা শেষ পর্যন্ত আদালত নির্ধারণ করবে।
আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য জেসিকা আসাতো নতুন বিধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কিছু বক্তব্য সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে হওয়া কিছু যৌন কর্মকাণ্ড নিয়েও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচকদের মতে, আইনের অস্পষ্টতা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিভিত্তিক যৌন আচরণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধ করা হয়েছে নির্দিষ্ট ক্ষতিকর ও বাস্তবসম্মত দৃশ্যযুক্ত সামগ্রী, সব ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন নয়।
এদিকে, অনলাইনে নিষিদ্ধ সামগ্রীর বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপরও যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা আইনের আওতায় দায়িত্ব রয়েছে। দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম এসব নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড অথবা তাদের যোগ্য বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। তবে এটি নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে ব্যক্তির কারাদণ্ডের বিধান থেকে আলাদা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, নতুন বিধানটি মূলত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কার্যকর হয়েছে। স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ ধরনের সামগ্রী নিয়ন্ত্রণে পৃথক আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পুরো যুক্তরাজ্যে একই নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে মনে করার সুযোগ নেই।
সংবাদ সূত্র: যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয়, সরকারি আইনবিষয়ক ওয়েবসাইট ও নিউজউইক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বিশ্ব
View moreইরানকে উন্নত প্রযুক্তির ৯০টি হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের উৎক্ষেপণযন্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিল রাশিয়া। ফাঁস হওয়া রুশ প্রতিরক্ষা শিল্পের নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। নথিগুলোতে ২০২৪ সালের মে মাসে তৈরি একটি উৎপাদন ও সরবরাহ পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে ‘কে-১০’ কোডনামে ৯০টি উৎক্ষেপণযন্ত্র রপ্তানির আদেশ দেখা যায়। পৃথক অভ্যন্তরীণ নথিতে কে-১০ কোডটি ইরানকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। দ্য গার্ডিয়ানের হাতে আসা নথিগুলো সংগ্রহ করেছে ইউক্রেনের বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ডালাস অ্যানালিটিকস। এগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিমপেলের উৎপাদন পরিকল্পনার তথ্য রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব উৎক্ষেপণযন্ত্র সরবরাহের কথা ছিল। তবে চুক্তি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত সব সরঞ্জাম ইরানে পৌঁছেছিল কি না, সে বিষয়ে নথিতে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। উৎক্ষেপণযন্ত্রগুলো রাশিয়ার এলএমইউআর বা ‘ইজদেলিয়ে ৩০৫’ নামের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জন্য তৈরি। এগুলো মূলত আক্রমণকারী হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপ করা হয়। ইউক্রেনে ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনী দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি এপিইউ-এল উৎক্ষেপণযন্ত্রে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায় এবং এটি রাশিয়ার এমআই-২৮ ধরনের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারের জন্য তৈরি। ফাঁস হওয়া নথিতে ইরানের জন্য আরও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ইঙ্গিত রয়েছে। ২০২৩ সালে ইরানের জন্য ছয়টি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান তৈরির একটি পৃথক উৎপাদন পরিকল্পনার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওই বিমানগুলোর সরবরাহ নিয়ে আগে প্রকাশিত খবরের সঙ্গে নথির তথ্যের মিল রয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রের মতোই এসব নথি সরবরাহের পরিকল্পনা তুলে ধরে, প্রতিটি সরঞ্জাম বাস্তবে হস্তান্তর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে না। রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পর ইরান রাশিয়াকে শাহেদ সিরিজের আক্রমণকারী ড্রোন সরবরাহ করে। পরে রাশিয়া নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থায় এসব ড্রোন তৈরি শুরু করে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্তে সহায়ক তথ্য ও স্যাটেলাইটের ছবি সরবরাহ করেছে। তেহরানের জন্য বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দেওয়ার প্রস্তুতির বিষয়েও সতর্ক করেছে ইউরোপের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। তবে ইরানকে চলমান সংঘাতে ব্যবহারের জন্য রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম দিচ্ছে, এমন খবর অস্বীকার করেছে মস্কো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়ার সহায়তার মাত্রা কম বলে মন্তব্য করেছেন। গত মাসে তিনি বলেন, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে রাশিয়া ‘খুব সামান্য, যদি আদৌ কিছু করে থাকে’ এমন ভূমিকা রাখছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা তিনি চান না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে রাশিয়া ও ইরান একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে দুই দেশের অভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয় রয়েছে। তবে চুক্তিটি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার নিরাপত্তা চুক্তির মতো পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। শুধু অক্টোবর মাসেই রুশ ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনার খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে রাশিয়ার তেল আয়ের পরিমাণ বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও পশ্চিমা সামরিক সম্পদের একটি অংশ সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়াও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়ার নিজস্ব সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা মেটাতে গিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদনব্যবস্থা চাপে রয়েছে। ভিমপেলের ২০২৪ সালের মে মাসের একটি চিঠিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহে বিলম্বের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র তৈরির কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানানো হয়েছিল। এতে রাশিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। সংবাদ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে বিকৃত পর্নোগ্রাফি, আইন ভঙ্গ করলে ৫ বছরের জেল
আটতলা থেকে পড়ে আধঘণ্টা অচেতন, জ্ঞান ফিরেই নির্বিকার ভঙ্গিতে ২০ মিনিট মোবাইল ব্যবহার করলেন নারী
অসুস্থ মায়ের সেবায় পড়াশোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত, পাশে দাঁড়াল সহপাঠীরা
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই নিউজউইক তাদের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে’। প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য হলো, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে, তার উল্টো প্রভাব পড়েছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এবং নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়। ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখল করে ইরানি শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্যরা। এ ঘটনায় ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সংকটটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসনকে বড় রাজনৈতিক চাপে ফেলে। ৪৭ বছর পর একই তারিখে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম কার্টার ও ট্রাম্পের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়, ‘কার্টার থেকে ট্রাম্প, কীভাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিপাকে ফেলেছে’। দুই প্রেসিডেন্টের ছবিতেই লাল ক্রস চিহ্ন দিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২২৮টি আসন নিশ্চিত করেছে বলে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে। ফলে আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ট্রাম্পকে এখন বিরোধী দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান।’ নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সারির অধ্যাপক মার্ক শানাহান বলেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে দেশে পণ্যমূল্য বেড়েছে। তাঁর মতে, টেক্সাস, কানসাস ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের কাছে পররাষ্ট্রনীতি মুখ্য বিষয় না হলেও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু ইরান সেই প্রতিশ্রুতির অসারতা তুলে ধরেছে। নির্বাচনের আগে পরিচালিত গ্যালাপের এক জরিপে ৭৭ শতাংশ ভোটার ইরান যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ অথবা ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি যুদ্ধের বিষয়টিও ভোটারদের বিবেচনায় ছিল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ২৭ সেন্টে পৌঁছেছিল, যা আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের বাড়তি খরচ রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে। ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রক্ষণশীল ভাষ্যকার ম্যাট ওয়ালশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুদ্ধকে গত দুই দশকের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ভুল বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। অন্যদিকে, স্ট্যান্ড টুগেদারের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিড স্মিথ নির্বাচনের ফল প্রকাশের রাতে লেখেন, ‘এটা যুদ্ধের কারণেই হয়েছে।’ ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) সভাপতি জামাল আবদি বলেন, নির্বাচনের আগে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে এলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অবরোধ বজায় রাখতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ভোটারদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা উচিত। ইরানের নেতারাও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মার্কিনরা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন এবং ইরান সেই বার্তাকে সমর্থন করে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধানের উপদেষ্টা হামিদরেজা মোগাদ্দামফারও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না সব বিশ্লেষক। ফ্রান্সের এসইএসসি বিজনেস স্কুলের ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও নেতৃত্ববিষয়ক কেন্দ্রের সহপরিচালক অরেলিয়াঁ কোলসন বলেন, অর্থনীতি নিয়ে মানুষের আস্থাহীনতা এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ আগে থেকেই ছিল। ইরান যুদ্ধ সেই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত সরাসরি মানুষের সংসারের খরচে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধটি যখন পেট্রল পাম্পের দামে প্রভাব ফেলেছে, তখন সেটি আর শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় থাকেনি, হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রশ্ন। নির্বাচনের ফলের পর ট্রাম্পের সামনে কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুই কক্ষের সঙ্গে কাজ করার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিবর্তন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তদন্তের অঙ্গীকার করেছে। ফলে ইরান যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিণতির পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রভাবও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরকে কঠিন করে তুলতে পারে। সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
চীনের কারখানায় ৮ ঘণ্টার শিফট শেষ করে ইতিহাস গড়ল শাওমির হিউম্যানয়েড রোবট
যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ, কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্ত ও অভিযোগকে ‘গতানুগতিক উসকানি’ এবং ‘অযৌক্তিক বক্তব্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এফবিআইয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর এ চুরির সঙ্গে জড়িত। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলেই যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার চেষ্টা করে। তাঁর দাবি, দেশটির বিরুদ্ধে ভুল ধারণা ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করতে চায় ওয়াশিংটন। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাইন্যান্স গত শুক্রবার জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে হ্যাকাররা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এফবিআই শনিবার জানায়, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ ঘটনার জন্য দায়ী। সংস্থাটির মতে, একই গোষ্ঠী গত বছর ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির সঙ্গেও জড়িত ছিল। এফবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়েছে, চুরি করা ডিজিটাল সম্পদের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব সম্পদ বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। অর্থ পাচার ঠেকাতে ক্রিপ্টো বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ঠিকানাগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই। এদিকে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করবে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিপরীতে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর ১ নভেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন আবার চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকেরা প্রায় ৪৬৪ কোটি ডলারের সম্পদ উত্তোলন করেন। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অন্যান্য অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা দেশটি এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, এ ধরনের অর্থ দেশটির অর্থনীতি সচল রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় মেটানোর কাজে ব্যবহার হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ২০২২ সালে জানিয়েছিল, আগের পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায় ১১০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করেছে। অতীতেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বড় সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভারে হামলা, ২০১৪ সালে সনি পিকচার্স হ্যাকিং এবং ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ওয়ানাক্রাই ম্যালওয়্যার হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সাধারণত অস্বীকার করে আসছে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সিউল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, বাইন্যান্সের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়াই দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বাইন্যান্সের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উত্তর কোরিয়া আবারও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে। ফলে ক্রিপ্টো চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা।
সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার দায়ে জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত
১০ লাখের বেশি কর্মী নিয়ে শীর্ষে চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, পেছনে ফেলল টেসলা, টয়োটা ও ফোর্ডকে