সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিক উদ্ধারে জাতিসংঘের বৃহৎ অভিযান শুরু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ০:২২
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিক উদ্ধারে জাতিসংঘের বৃহৎ অভিযান শুরু
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিক উদ্ধারে জাতিসংঘের বৃহৎ অভিযান শুরু

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক নাবিক ও সমুদ্রকর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বৃহৎ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা (আইএমও) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) আইএমও’র মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক বিবৃতিতে জানান, ইরান, ওমানসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই জটিল অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জাহাজ চলাচলের সামগ্রিক পরিস্থিতি সতর্কভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

 

প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পরপরই ইরান নিরাপত্তার অজুহাতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌপথে শত শত পণ্যবাহী জাহাজ ও তেল ট্যাংকার আটকা পড়ে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ে ব্যাপকভাবে।

 

তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং ক্লিপলার শিপিং ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে—যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ।

 

ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার পরিকল্পনাটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল এবং বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে জাহাজ অপসারণ করা হবে। যুদ্ধপরবর্তী উত্তেজনা ও সীমিত চলাচলের কারণে জাহাজের সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

এদিকে, আন্তর্জাতিক নৌপথটি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক নিরাপত্তা মিশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে বহুজাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে।

 

হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত আল জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা আগের তুলনায় ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। ওমান ও ইরান যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে কার্যকর প্রক্রিয়া নির্ধারণে কাজ চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।

 

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো চূড়ান্ত চুক্তির অধীনে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে টোল বা কর আরোপের সুযোগ দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এখানে কোনো দেশের এককভাবে ফি আদায়ের অধিকার নেই।

 

তবে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ভিন্ন সুরে বলেছেন, যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।

 

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুরোপুরি সচল করতে আন্তর্জাতিক মহল এখনো সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে। এরই মধ্যে আটকে থাকা নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগকে মানবিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

সূত্র: আল জাজিরা


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

বিশ্ব

View more
বিশ্বের বর্তমান সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে জেদ্দা টাওয়ার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হওয়ার পথে জেদ্দা টাওয়ার, বাধা হতে পারে বৈরী আবহাওয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের রেকর্ড গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরবের জেদ্দা টাওয়ার। প্রায় এক কিলোমিটার বা ১ হাজার মিটার উচ্চতার এই ভবনটির নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন এটি বুর্জ খলিফার বর্তমান উচ্চতা অতিক্রম করবে। নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত সৌদি বিনলাদিন গ্রুপের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প পরিচালক ইয়ান নরম্যান মিলার নিউজউইককে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে নির্মাণকাজের গতি নির্ভর করছে আবহাওয়া ও বাতাসের পরিস্থিতির ওপর। বিশেষ করে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছর কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।   জেদ্দা শহরে নির্মাণাধীন এই আকাশচুম্বী ভবনের নকশা করেছেন স্থপতি অ্যাড্রিয়ান স্মিথ ও গর্ডন গিল। দুজনই অ্যাড্রিয়ান স্মিথ অ্যান্ড গর্ডন গিল আর্কিটেকচারের প্রতিষ্ঠাতা। দুবাইয়ের ৮২৮ মিটার উচ্চতার বুর্জ খলিফার নকশা প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অ্যাড্রিয়ান স্মিথের। জেদ্দা টাওয়ার নির্মাণ করছে সৌদি বিনলাদিন গ্রুপ। প্রকল্পটি শেষ হলে ভবনটির উচ্চতা দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ২৮১ ফুট। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফার উচ্চতা ২ হাজার ৭১৭ ফুট। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণ শেষ হলে জেদ্দা টাওয়ার প্রায় ১৭২ মিটার বেশি উচ্চতা নিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়বে।   নিউজউইককে মিলার জানিয়েছেন, নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ভবনটি সম্পন্ন করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে সতর্ক থাকার কারণ হিসেবে তিনি এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, আগামী বছর শক্তিশালী বাতাসের কারণে নির্মাণকাজ এক বা দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে হতে পারে। চলতি বছরের গ্রীষ্মেও বাতাসের কারণে দীর্ঘ সময় নির্মাণের গতি কমিয়ে রাখতে হয়েছিল। আগস্টের মাঝামাঝি বাতাসের পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর কাজ দ্রুত এগিয়েছে এবং আগের সময়ের ঘাটতিও কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী এল নিনো বজায় থাকার সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশের বেশি। তবে এল নিনোর কারণে জেদ্দায় ঠিক কী ধরনের বাতাস বা আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিশ্চিত নয়। প্রকল্প পরিচালক মূলত সম্ভাব্য বাতাসজনিত নির্মাণঝুঁকির কথাই তুলে ধরেছেন।   নির্মাণকাজের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হলো ভবনটির উচ্চতা ৫০০ মিটারে পৌঁছানো। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি নভেম্বরের শেষ দিকে থ্যাংকসগিভিংয়ের সময় ভবনটি ১২৫ তলা পর্যন্ত পৌঁছে এই মাইলফলক অর্জন করতে পারে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভবনটির মূল কাঠামো ১২১ তলায় পৌঁছেছে। এরপর নির্মাণকাজ এগোবে প্রায় ৬৩০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ‘স্কাই টেরেস’ পর্যন্ত। এটি হবে ভবনের একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও দর্শনীয় স্থান, যেখান থেকে চারপাশের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যাবে।   এরপর প্রায় ৭০০ মিটার উচ্চতায় শুরু হবে ভবনের ‘স্কাই র‍্যাফট’ অংশ। এটি মূলত একটি বিশেষ কংক্রিট কাঠামো, যার পর থেকে ভবনের সরু চূড়ার অংশ নির্মাণ শুরু হবে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত স্থপতি পিটার ওয়েইসম্যান্টল জানিয়েছেন, এই উচ্চতায় পৌঁছানোর পর ভবনের কাঠামোগত নকশায় বড় পরিবর্তন আসবে। নিচের অংশের তুলনায় ওপরের অংশ সরু হওয়ায় কংক্রিট ঢালাইয়ের পরিমাণ কমবে। তবে নির্মাণপদ্ধতি পরিবর্তন এবং কাঠামোগত জটিলতার কারণে কাজের চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে। কাঠামোগত প্রকৌশলী জন পেরোন্টোর মতে, বুর্জ খলিফার উচ্চতা অতিক্রমের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা এখনো কঠিন, কারণ সামনে স্কাই টেরেস নির্মাণসহ বেশ কিছু জটিল কাজ বাকি রয়েছে।   জেদ্দা টাওয়ারকে ঘিরে সৌদি আরবের পরিকল্পনা শুধু একটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পাঁচ মিলিয়ন বর্গমিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জেদ্দা ইকোনমিক সিটির কেন্দ্রীয় স্থাপনা হিসেবে তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়েই ১১২টির বেশি টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানির প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা ফুয়াদ মাখলুফ। ভবনটির পাশাপাশি পানির ফোয়ারা, দোকানপাট, হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার কাজও পরিকল্পনায় রয়েছে।   সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির অংশ হিসেবেও জেদ্দা টাওয়ারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাত সম্প্রসারণের যে পরিকল্পনা দেশটি নিয়েছে, এই প্রকল্প তার দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। ২০৩০ সালে রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আগেই জেদ্দা ইকোনমিক সিটির বিভিন্ন উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মিলারের মতে, জেদ্দা টাওয়ারের পাশাপাশি পুরো শহরকে পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের উপযোগী করে গড়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য। তাঁর আশা, এই ভবন সৌদি আরবের প্রকৌশল ও নির্মাণ সক্ষমতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে জেদ্দার অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।   সংবাদসূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (নোয়া)।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ২৩:১৪
অনুসারীদের অনাহারে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত ধর্মগুরু পল ম্যাকেঞ্জি, গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

স্বর্গের লোভ দেখিয়ে অনাহারে ১৯০ শিশুর মৃত্যু, কেনিয়ায় ধর্মগুরুর ২০০ বছরের কারাদণ্ড

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য পেতে ২০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গোপন তথ্য দিলে ২০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বিজয় ভাষণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ সম্বোধন করেন আবদুল এল-সায়েদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

‘জেডি, হাবিবি’ বলে ভাইস প্রেসিডেন্টকে খোঁচা, আরব বিশ্বে প্রশংসায় ভাসছেন আবদুল এল-সায়েদ

এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিদ্র ওজোন স্তরে, কারণ জানাল নাসা
এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিদ্র ওজোন স্তরে, কারণ জানাল নাসা

পৃথিবীর সুরক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত ওজোন স্তরের গর্ত চলতি বছর অস্বাভাবিকভাবে বড় আকার ধারণ করেছে। অ্যান্টার্কটিকার ওপর তৈরি হওয়া এই গর্ত গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ওজোন গর্ত গত ৪৮ বছরের পর্যবেক্ষণে গড় আয়তনের হিসাবে সপ্তম বৃহত্তম। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাময়িক এই বৃদ্ধির পরও ওজোন স্তরের দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   নাসা ও এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ওজোন স্তরের গর্তের গড় আয়তন ছিল প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বর্গকিলোমিটার। যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট আয়তনের দ্বিগুণেরও বেশি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর গর্তটি সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭১ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়। এটি ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ওজোন গর্তের প্রায় ৯০ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গর্তের আয়তন বড় হলেও ওজোনের ঘনত্ব হ্রাসের মাত্রা অতীতের সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর তুলনায় কম ছিল।   গবেষকদের মতে, চলতি বছর ওজোন স্তরের গর্ত অস্বাভাবিকভাবে বড় হওয়ার প্রধান কারণ অ্যান্টার্কটিকার ওপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী পোলার ভর্টেক্স বা মেরু অঞ্চলের ঘূর্ণায়মান বায়ুপ্রবাহ। সাধারণত শীতকালে দক্ষিণ মেরুর চারপাশে এই বায়ুপ্রবাহ অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস আটকে রাখে। এর ফলে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে বিশেষ ধরনের মেঘ তৈরি হয়, যা ওজোন ধ্বংসকারী রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর থেকে উঠে আসা আবহাওয়াজনিত তরঙ্গ তুলনামূলক দুর্বল থাকায় পোলার ভর্টেক্স আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত হয়েছে। এতে ওজোন ক্ষয়ের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়।   এনওএএর কেমিক্যাল সায়েন্সেস ল্যাবরেটরির গবেষক অ্যামি বাটলার জানিয়েছেন, সাধারণত বায়ুমণ্ডলের বড় আকারের তরঙ্গ পোলার ভর্টেক্সকে দুর্বল করতে সাহায্য করে। কিন্তু এ বছর সেই প্রক্রিয়া দুর্বল থাকায় অ্যান্টার্কটিকার চারপাশে অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। অন্যদিকে নাসার ওজোন গবেষক পল নিউম্যান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওজোন গর্ত মৌসুমের তুলনামূলক পরবর্তী সময়ে তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে, যা ওজোন স্তরের সুস্থ হয়ে ওঠার ইতিবাচক লক্ষণ। তবে এবারের অস্বাভাবিক শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ গর্তটির বিস্তার বাড়িয়েছে।   ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার অংশে অবস্থিত। এটি সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ শোষণ করে মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদকে সুরক্ষা দেয়। ওজোন স্তর অতিরিক্ত পাতলা হলে অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি এবং পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যে অতীতে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লুরোকার্বনসহ কিছু রাসায়নিক পদার্থ ওজোন স্তর ক্ষয়ের অন্যতম কারণ।   তবে এবারের বড় গর্তের মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছেন গবেষকেরা। ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত মন্ট্রিয়ল প্রটোকলের মাধ্যমে ওজোন ধ্বংসকারী রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করায় বায়ুমণ্ডলে এসব উপাদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, আগের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের ঘনত্ব থাকলে চলতি বছরের গর্তটি আরও প্রায় ২৬ লাখ থেকে ৫২ লাখ বর্গকিলোমিটার বড় হতে পারত। বর্তমান অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ২০৭০-এর দশকের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকার ওজোন স্তর আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।   সংবাদসূত্র: নাসা, ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১০:২১
নাইকির পোশাক কেনা, বিক্রি ও পরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে লিবিয়ার দারুল ইফতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শিরক ও ইসরায়েলকে সমর্থনের অভিযোগে লিবিয়ায় নিষিদ্ধ হচ্ছে নাইকি

মজুরি বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফ্রান্সের প্যারিসে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, বেতন ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

মোবাইল গেমের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার প্রতারণার ঘটনায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মেহমেত আইদিন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মোবাইল গেম দিয়ে ১৩ কোটি ডলার প্রতারণা, যুবকের ৪৫ হাজার বছরের বেশি কারাদণ্ড

রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র দিতে চুক্তি রাশিয়ার

ইরানকে উন্নত প্রযুক্তির ৯০টি হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের উৎক্ষেপণযন্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিল রাশিয়া। ফাঁস হওয়া রুশ প্রতিরক্ষা শিল্পের নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। নথিগুলোতে ২০২৪ সালের মে মাসে তৈরি একটি উৎপাদন ও সরবরাহ পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে ‘কে-১০’ কোডনামে ৯০টি উৎক্ষেপণযন্ত্র রপ্তানির আদেশ দেখা যায়। পৃথক অভ্যন্তরীণ নথিতে কে-১০ কোডটি ইরানকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।   দ্য গার্ডিয়ানের হাতে আসা নথিগুলো সংগ্রহ করেছে ইউক্রেনের বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ডালাস অ্যানালিটিকস। এগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিমপেলের উৎপাদন পরিকল্পনার তথ্য রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব উৎক্ষেপণযন্ত্র সরবরাহের কথা ছিল। তবে চুক্তি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত সব সরঞ্জাম ইরানে পৌঁছেছিল কি না, সে বিষয়ে নথিতে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।   উৎক্ষেপণযন্ত্রগুলো রাশিয়ার এলএমইউআর বা ‘ইজদেলিয়ে ৩০৫’ নামের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জন্য তৈরি। এগুলো মূলত আক্রমণকারী হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপ করা হয়। ইউক্রেনে ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনী দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি এপিইউ-এল উৎক্ষেপণযন্ত্রে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায় এবং এটি রাশিয়ার এমআই-২৮ ধরনের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারের জন্য তৈরি।   ফাঁস হওয়া নথিতে ইরানের জন্য আরও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ইঙ্গিত রয়েছে। ২০২৩ সালে ইরানের জন্য ছয়টি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান তৈরির একটি পৃথক উৎপাদন পরিকল্পনার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওই বিমানগুলোর সরবরাহ নিয়ে আগে প্রকাশিত খবরের সঙ্গে নথির তথ্যের মিল রয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রের মতোই এসব নথি সরবরাহের পরিকল্পনা তুলে ধরে, প্রতিটি সরঞ্জাম বাস্তবে হস্তান্তর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে না।   রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পর ইরান রাশিয়াকে শাহেদ সিরিজের আক্রমণকারী ড্রোন সরবরাহ করে। পরে রাশিয়া নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থায় এসব ড্রোন তৈরি শুরু করে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্তে সহায়ক তথ্য ও স্যাটেলাইটের ছবি সরবরাহ করেছে। তেহরানের জন্য বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দেওয়ার প্রস্তুতির বিষয়েও সতর্ক করেছে ইউরোপের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা।   তবে ইরানকে চলমান সংঘাতে ব্যবহারের জন্য রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম দিচ্ছে, এমন খবর অস্বীকার করেছে মস্কো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়ার সহায়তার মাত্রা কম বলে মন্তব্য করেছেন। গত মাসে তিনি বলেন, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে রাশিয়া ‘খুব সামান্য, যদি আদৌ কিছু করে থাকে’ এমন ভূমিকা রাখছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা তিনি চান না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।   ২০২৫ সালে রাশিয়া ও ইরান একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে দুই দেশের অভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয় রয়েছে। তবে চুক্তিটি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার নিরাপত্তা চুক্তির মতো পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। শুধু অক্টোবর মাসেই রুশ ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনার খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে রাশিয়ার তেল আয়ের পরিমাণ বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও পশ্চিমা সামরিক সম্পদের একটি অংশ সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়াও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   তবে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়ার নিজস্ব সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা মেটাতে গিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদনব্যবস্থা চাপে রয়েছে। ভিমপেলের ২০২৪ সালের মে মাসের একটি চিঠিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহে বিলম্বের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র তৈরির কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানানো হয়েছিল। এতে রাশিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।   সংবাদ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২১:১২
যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট ধরনের পর্নোগ্রাফিক সামগ্রী রাখা ও প্রকাশের বিরুদ্ধে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে বিকৃত পর্নোগ্রাফি, আইন ভঙ্গ করলে ৫ বছরের জেল

ম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে গিয়ে পড়েন এক নারী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আটতলা থেকে পড়ে আধঘণ্টা অচেতন, জ্ঞান ফিরেই নির্বিকার ভঙ্গিতে ২০ মিনিট মোবাইল ব্যবহার করলেন নারী

অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতে পড়াশোনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া চীনের শিক্ষার্থী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

অসুস্থ মায়ের সেবায় পড়াশোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত, পাশে দাঁড়াল সহপাঠীরা

0 Comments