বিশ্ব

তেহরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মার্কিন নাগরিক আটক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ০:৩৮
তেহরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মার্কিন নাগরিক আটক
তেহরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মার্কিন নাগরিক আটক

ইসরায়েলের সংবেদনশীল সামরিক ও সরকারি স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কে সরবরাহের অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্ত এই যুবকের বয়স মাত্র ২০ বছর বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ।

 

দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, আটক ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে যুক্ত এক এজেন্টের সঙ্গে নিয়মিত ডিজিটাল যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সরকারি স্থাপনার স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে ওই এজেন্টের কাছে পাঠাতেন। এর বিনিময়ে প্রতিটি কাজের জন্য কয়েক ডলার থেকে শুরু করে শত শত ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করতেন তিনি।

 

জেরুজালেম জেলা পুলিশ গত ৯ জুন একটি গোপন অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আদালতে প্রসিকিউটরস ডিক্লারেশন দাখিল করা হয়েছে এবং শিগগিরই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র গঠন করা হবে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সাইবার ও তথ্যভিত্তিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে ইসরায়েল।

 

এদিকে, অন্য এক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত তদারকি ব্যবস্থার বিষয়ে পূর্ণ সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।

 

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেনা প্রত্যাহার একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিজবুল্লাহর কার্যক্রম ও সামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই ইসরায়েল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই দুই ঘটনাই অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

সূত্র: আল জাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার মানুষ

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক, ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।    শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার ভূকম্পন ও আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নাজেওকেও এলাকার কাছে সমুদ্রের নিচে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার।    ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং অনেক মানুষ বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিক্কা, নাজেওকেও, মাঙ্গারাই ও পূর্ব মাঙ্গারাই। সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছেন।    ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপাসনালয় ও সরকারি স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।    ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রের ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছিল।    উদ্ধারকাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিধস। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাটি ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।   ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে হাজার হাজার সামরিক ও পুলিশ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরানো, আটকে পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আফটারশক অব্যাহত থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর আগেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ২০২২ সালের পশ্চিম জাভার ভূমিকম্পে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল।   বর্তমান ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:১
চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের

চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের

চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি

তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা, চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি

মিসরও যোগ দিতে পারে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে: এরদোয়ান

মিসরও যোগ দিতে পারে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে: এরদোয়ান

হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে চায় তেহরান
ইরান-ওমান সমঝোতার পথে, হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে চায় তেহরান

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে ওমানের সাথে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা করছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সাথে তারা সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।   বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের কারণে এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীতে আগের মতো পূর্ণ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তার কথায়, "এখনকার পরিস্থিতিতে সেটা বাস্তবসম্মত নয়।"   এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে এবং খুব শিগগিরই তিনি এই প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন।   তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ওই মন্তব্য 'মজা করেই' করেছিলেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক্স-এ লেখেন, "হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে। এই জলপথ কখন খোলা বা বন্ধ হবে—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক অধিকার তেহরানের।"   বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় এই ৩৩ কিলোমিটার চওড়া প্রণালী দিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের সাথে এই সমঝোতার উদ্যোগকে ইরানের একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে—যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার একটি বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে। তবে ওয়াশিংটন এই উদ্যোগকে কতটা সহ্য করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ০:৫৮
শ্রীধর চিল্লালের কাটা নখ নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকের বকুনি থেকে জেদ করে তিনতলা ভবনের সমান নখ রেখে গিনেস বুকে রেকর্ড করেলন শ্রীধর

ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। ৭ জুন ইউরোপে যাওয়ার পর দুই মাসেও দেশে ফেরেননি তিনি। ছবি: সংগৃহীত

‘সংক্ষিপ্ত সফরে’ ইউরোপ গিয়ে ২ মাস ধরে ‘নিখোঁজ’ বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট

সাবেক প্রেমিকের বাড়ির সামনে এক টন পেঁয়াজ পাঠিয়েছিলেন চীনের শানডংয়ের এক তরুণী। ছবি: সংগৃহীত

‘আমি ৩ দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা’, ব্রেকআপের পর সাবেক প্রেমিকের বাড়িতে এক টন পেঁয়াজ পাঠালেন তরুণী

উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা ও বার তালিকাভুক্ত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
নর্দমার পাইপ বসাতে গিয়ে মিলল ১০৪ কোটি টাকার সোনা, প্রথমে ভেবেছিলেন এক ইউরোর কয়েন

বেলজিয়ামে নর্দমার নতুন পাইপ বসানোর কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৪ কোটি টাকা মূল্যের সোনার সন্ধান পেয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরা। দেশটির সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডে এলাকায় একটি পুরোনো ব্রুয়ারির ভবনের নিচে কাজ করার সময় এই বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়া যায়।   সম্প্রতি ঘটা এই ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোনা পাওয়ার পর শ্রমিকরা সেটি নিজেদের কাছে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সোনাগুলো তালিকাভুক্ত করে নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নিয়ে যায়। বিষয়টির উৎস ও প্রকৃত মালিকানা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   ঘটনাটি ঘটে ব্রাসেলসের কাছের ফ্লেমিশ অঞ্চল সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডেতে। সেখানে একটি পুরোনো ব্রুয়ারির মালিকের বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সংস্কারের কাজ চলছিল। ভবনটি বর্তমানে সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের অধীনে রয়েছে। সংগঠনটি সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সংস্কারকাজ চালাচ্ছে।   নর্দমার পাইপ বসানোর জন্য মাটির নিচে খনন করতে গিয়ে শ্রমিকরা পুরোনো ভবনের একটি অংশের ভিতের কাছে পৌঁছান। সেখানেই তারা অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও নির্মাণশ্রমিক কোবে ভিআরটি নিউজকে জানান, প্রথমে তিনি সেগুলোকে এক ইউরোর কয়েন ভেবেছিলেন। পরে আরও খনন করার পর বোঝা যায়, সেখানে আসলে বিপুল পরিমাণ সোনা লুকিয়ে রাখা ছিল।   সাইটের প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, শ্রমিকরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও একের পর এক সোনার কয়েন ও বার বেরিয়ে আসার পর তারা বিস্মিত হয়ে যান। এরপর তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া সোনার তালিকা তৈরি করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ৪৯টি সোনার বারসহ বিপুলসংখ্যক সোনার কয়েন পাওয়া গেছে। সেগুলোর মোট মূল্য আনুমানিক ৯ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ১০.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। পরে পুরো সোনার ভাণ্ডার নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়।   তবে এত বিপুল সম্পদ পাওয়ার পরও নির্মাণশ্রমিকদের জন্য সেটি নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বেলজিয়ামের আইনি বিধান অনুযায়ী, সোনার প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হেফাজতেই থাকবে। মালিকানা নিয়ে দাবি জানানোর জন্য পাঁচ বছর সময়ের বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত মালিক শনাক্ত না হলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী দাবিদার ও সন্ধানকারীর অধিকার নির্ধারিত হতে পারে।   সোনার এই ভাণ্ডারটি কার ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তদন্তকারীরা এর উৎস ও মালিকানা যাচাই করছেন। এটি কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, কিংবা পুরোনো ব্রুয়ারির মালিক পরিবারের সম্পদ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ভবনটির সঙ্গে ভ্যান আসশে পরিবার ও পুরোনো ব্রুয়ারির সম্পর্কের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত সোনাগুলোর প্রকৃত মালিক হিসেবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।   এই আবিষ্কারের পর স্থানীয় সমাজকল্যাণ সংগঠনটির কর্মকর্তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভবনটি বর্তমানে সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের মালিকানাধীন। সংগঠনটি সমাজের অসহায় মানুষদের সহায়তায় কাজ করে। সংগঠনটির পরিচালক আশা প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত যদি আইনগতভাবে এই সম্পদের কোনো অংশ তাদের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে এর আগে মালিকানা ও আইনি বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি জরুরি।   অন্যদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গুপ্তধন খোঁজার লোকজনের ভিড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পুলিশ। তারা সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। কারণ জায়গাটি এখনো নির্মাণকাজ ও ভাঙার কাজ চলা একটি ঘেরাও করা এলাকা এবং সেখানে বেশ কয়েকটি গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সব সোনা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   নির্মাণশ্রমিকদের জন্য ঘটনাটি নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজে থাকা প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, তার বহু বছরের কর্মজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আর ১৮ বছর বয়সী কোবের আশা, শেষ পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তারা এই আবিষ্কারের জন্য কোনো ধরনের পুরস্কার বা সন্ধানকারীর সম্মানী পেতে পারেন।   পুলিশও জানিয়েছে, তারা আশা করছে এই অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার শেষ পর্যন্ত সঠিক মানুষের হাতে যাবে এবং এর ইতিবাচক ফল অনেক মানুষের জীবনে কাজে লাগবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২১:১৩
খাবার সংকট ও মানসিক স্বাস্থ্য উদ্বেগে দেশে ফিরছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

খাবার সংকট ও মানসিক স্বাস্থ্য উদ্বেগে দেশে ফিরছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত অন্তত ২০

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের, যুদ্ধবিরতির বদলে চান ‘শান্তি ব্যবস্থা’

0 Comments