মুম্বাইয়ে ভারি বৃষ্টিতে ভবন ধস: পাঁচ শিশুসহ নিহত ৬, উদ্ধার অভিযান চলছে
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে টানা মৌসুমি বৃষ্টির মধ্যে একটি পুরোনো ভবন ধসে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার (তারিখ) নগরীর মানখুর্দ এলাকায় একটি বস্তিতে দুই থেকে তিনটি বহুতল ভবন হঠাৎ ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে দমকল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীরা। নগর কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় পাঁচ শিশু ও এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।
স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে মুম্বাইয়ে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর মধ্যে রোববার একদিনেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়, কোথাও কোথাও তা ১৬১ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। অতিবৃষ্টির কারণে শহরের বহু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নগরীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে দুই শহরের মধ্যে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিমান ও রেল যোগাযোগেও। মুম্বাই থেকে ছেড়ে যাওয়া ও সেখানে আগত কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি মুম্বাই-পুনে রুটে কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভারি বৃষ্টির সময় বড় ধরনের ঝুঁকিতে থাকে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মুম্বাইয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকি পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার ইচ্ছা কখনোই গোপন রাখেননি। নিজের প্রথম মেয়াদে তিনবার কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে এখনো পর্যন্ত তাদের সরাসরি দেখা হয়নি। ট্রাম্প দাবি করছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বহুল কাঙ্ক্ষিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন সম্ভবত ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। দুই নেতার মধ্যে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের এই আগ্রহে সাড়া দেওয়ার পরিবর্তে পিয়ংইয়ং উল্টো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ কোরিয়া—কারো সঙ্গেই তারা আলোচনায় বসবে না। অথচ দক্ষিণ কোরিয়া গত কয়েক মাস ধরেই তার এই যুদ্ধংদেহী উত্তরের প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কিমকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারছে না। গত বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তার সঙ্গে কিমের কথা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি দ্রুতই উড়িয়ে দিয়েছেন কিমের বোন এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি বলেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ভাইয়ের 'চমৎকার সম্পর্ক' রয়েছে, তবে দুই নেতার মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগের কথা তিনি নিশ্চিত করেননি। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।" এদিকে, গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প হঠাৎ করেই তা সীমিত করার ঘোষণা দেন। তারপরও উত্তর কোরিয়ার মনোভাবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পিয়ংইয়ং বরাবরই এসব মহড়ার তীব্র সমালোচনা করে আসছে এবং এগুলোকে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। বার্ষিক এই যৌথ মহড়ার বিষয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার প্রতি "একটি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী বার্তা দেয়।" তার এই মন্তব্যকে অনেকেই পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। যদিও ট্রাম্প একই সঙ্গে এই মহড়া কমানোকে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এক ধরনের শাস্তি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সিউল জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' নামের এই সামরিক মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই, আগামী শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কিম ইয়ো জং এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "মার্কিন পক্ষ যদি তাদের এই পদক্ষেপগুলোকে কোনো ধরনের 'সদিচ্ছার নিদর্শন' হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে, তবে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত উত্তর পাবে না।" গত জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি সীমান্তের ওপারে লাউডস্পিকারে বাজানো প্রোপাগান্ডা সম্প্রচার বন্ধ করে দেন। লি দ্রুত "অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনার দুষ্টচক্র" শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে গত মে মাসে পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে সিউলের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের কয়েক দশকের পুরনো লক্ষ্য থেকে সরে আসে। এরও প্রায় দেড় বছর আগে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের "প্রধান শত্রু" হিসেবে ঘোষণা করেছিল।\ প্রযুক্তিগতভাবে কোরীয় উপদ্বীপের দেশ দুটি এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসানের পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কেবল লড়াই থেমেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ-এর বরাত দিয়ে গত শুক্রবার দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থামানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনাই হলো সবচেয়ে "বাস্তবসম্মত" উপায়। ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, "আন্তঃকোরীয় বিনিময় বর্তমানে পুরোপুরি থমকে আছে।" কিম জং উন কেন ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় অনাগ্রহী, তার পেছনের কারণও বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ট্রাম্প কিম সম্পর্কে বলেছিলেন, "আমার মনে হয় সে আমাকে মিস করে।" তিনি উত্তর কোরিয়ার এই নেতাকে একজন "স্মার্ট লোক" এবং "ধর্মীয় উন্মাদ নয়" বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন। তবে গত বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেশ কিছু পদক্ষেপে উত্তর কোরিয়া ক্ষুব্ধ হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উত্তর কোরিয়াকে একটি "দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র" (রোগ স্টেট) বলে আখ্যায়িত করলে পিয়ংইয়ং এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা এই মন্তব্যকে "অমার্জিত ও অযৌক্তিক" উল্লেখ করে বলে যে, এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে অবিবেচকের মতো ক্ষুণ্ন করেছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের 'গোল্ডেন ডোম' বা পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র হামলাসহ সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের স্মৃতি এখনো কিমের মনে গেঁথে আছে। সেবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্রাগার নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় ট্রাম্প হঠাৎ করেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, "মাঝে মাঝে আপনাকে আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়।" উত্তর কোরিয়া এখন নিজেদের একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করতে চায় এবং তারা কখনোই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেছেন, সিউলের মূল্যায়ন অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এই সংখ্যাটি আগের দিন ট্রাম্পের দাবি করা ৫৭টির চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শুরুতে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছিলেন যে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে প্রায় ৬০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।
প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও
বাগদাদের আকাশে ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিমান, হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট
ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে দেশটির সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। বুখারির এই বক্তব্যকে ইমরান খানের দল ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের তীব্র বিরোধের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইমরান নিজে এমন কোনো অবস্থান নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে তার সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্যও খুব সীমিত। বুখারি বলেন, ইমরান খান মুক্তি পেলে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যা দেশের ক্ষতি করতে পারে। তার ভাষায়, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে নিজের কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুনির চাইলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এমনকি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাপ্রধান উদ্যোগ নিলে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির পথও তৈরি হতে পারে। তবে বুখারি স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি নিজেও বর্তমানে দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। ইমরান খান ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সম্পর্ক ২০২২ সালে তার সরকারের পতনের পর থেকেই তীব্র বিরোধে রূপ নেয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার, দুর্নীতি, সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় সহিংস হামলায় উসকানি এবং বেআইনি বিয়েসহ একাধিক মামলা হয়। ইমরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং তার দল মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বেশির ভাগ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যদিও একটি মামলার সাজা বহাল রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে আপিল চলছে। এর মধ্যেই ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার নির্দেশও দেয়। তবে পরে সরকার ওই আদেশের পুনর্বিবেচনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। সরকারের যুক্তি ছিল, কারাগারের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত এবং বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০ আগস্ট ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইমরানের দল আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। সরকার অবশ্য বলছে, চিকিৎসা পরীক্ষায় তাৎক্ষণিক গুরুতর শারীরিক সমস্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইমরানের দল সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আপাতত কোনো আলোচনায় না গেলেও সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বুখারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি হবে। বুখারির সাম্প্রতিক বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনীতিতে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও এটিকে এখনই সামরিক বাহিনী ও ইমরান খানের দলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ ইমরান নিজে এমন কোনো সমঝোতার বার্তা দেননি এবং তার দলের পক্ষ থেকেও সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের ঘোষণা বহাল রয়েছে।
পার্কে ডেটে গিয়েছিলেন তরুণী, সঙ্গীর গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দুই আফগান নাগরিক
মানুষের ক্যানসারের চিকিৎসায় সুস্থ হলো ১৫ ফুটের অজগর, বিশ্বে প্রথমবারের মতো নতুন চিকিৎসা
ইসরায়েলের বিধিনিষেধে গাজায় জমজমাট কালোবাজার: মুনাফা লুটছে ইসরায়েলি সেনা ও ব্যবসায়ীরা, নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা
আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ১৯ শতকের একটি ঐতিহাসিক দুর্গ কিনেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে সঙ্গে নিয়ে কেনা স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি দেশটির কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের তীরে অবস্থিত। দুর্গটির সঙ্গে প্রায় ৪৪০ একর জমিও রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাকারবার্গের এক মুখপাত্র তাঁর দুর্গ কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্গটি মেটার ইউরোপীয় সদর দপ্তর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল গথিক পুনরুজ্জীবন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত তিনতলা একটি ঐতিহাসিক ভবন। দুর্গটির বর্তমান কাঠামো প্রায় ১৮২৭ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। স্থাপনাটি রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের দিকে তাকিয়ে থাকা একটি উঁচু জায়গায় অবস্থিত। ২০০৩ সালে দুর্গটিতে ব্যাপক সংস্কার করা হয় বলে আয়ারল্যান্ডের সরকারি স্থাপত্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দুর্গটির নকশা করেন স্থপতি জেমস ও জর্জ রিচার্ড পেইন। দুর্গটির সঠিক ক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। লেনদেনটি প্রকাশ্য বাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের সরকারি সম্পত্তি মূল্য নিবন্ধনেও এর দাম দেখা যাচ্ছে না। তবে দ্য আইরিশ টাইমস প্রথম জাকারবার্গের কেনার খবর প্রকাশ করে এবং তাদের হিসাবে সম্পত্তিটির মূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ইউরোর মধ্যে হতে পারে। জাকারবার্গের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার ঐতিহাসিক বাড়িটির দেখভাল চালিয়ে যেতে এবং আয়ারল্যান্ডে সময় কাটাতে আগ্রহী। মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে হওয়ায় দেশটির সঙ্গে জাকারবার্গের ব্যবসায়িক যোগাযোগও দীর্ঘদিনের। তবে এই দুর্গকে জাকারবার্গ পরিবারের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করবেন এবং আয়ারল্যান্ডে গেলে এই ঐতিহাসিক বাড়িটিকে অবস্থানের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করবেন। স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বর্তমান দুর্গটি ১৯ শতকে নির্মিত হলেও একই এলাকায় এর চেয়েও পুরোনো একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। নতুন স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি জন কিলির জন্য নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, কিলি ক্লনমেলের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ওয়াটারফোর্ড কাউন্টির উচ্চ শেরিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত দুই দশকে দুর্গটির ব্যাপক সংস্কার করেন আগের মালিক মাইকেল অ্যালেন-বাকলি ও তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের কাছ থেকেই জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান সম্পত্তিটি কিনেছেন বলে একাধিক আইরিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দুর্গটির অবস্থানও বিশেষ আকর্ষণীয়। এটি কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকায় নদীর তীরে অবস্থিত। স্থানীয় ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটি ক্যাপোকুইন ও লিসমোর শহরের কাছাকাছি এবং নদী ও আশপাশের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এলাকাটি ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত। আয়ারল্যান্ডে জাকারবার্গের এই সম্পত্তি কেনার পেছনে দেশটির সঙ্গে মেটার দীর্ঘ ব্যবসায়িক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মেটার আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মী রয়েছে। ডাবলিনে রয়েছে কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর। এছাড়া কর্কে মেটার ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি কার্যক্রম এবং ডাবলিনের বাইরে একটি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে। আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ইউরোপীয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তুলনামূলক অনুকূল করব্যবস্থা এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুবিধার কারণে দেশটিতে বহু মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ইউরোপীয় সদর দপ্তর রয়েছে। মেটাও এর ব্যতিক্রম নয়। জাকারবার্গের নতুন এই সম্পত্তি কেনার খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বড় আকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বিনিয়োগের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ড ও ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকাতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধনী বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে জাকারবার্গের জন্য এটি শুধু আরেকটি বিলাসবহুল সম্পত্তি নয়, বরং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো এই দুর্গ এখন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মালিকানায়। জাকারবার্গের পরিবার ভবিষ্যতে কীভাবে ঐতিহাসিক সম্পত্তিটির ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা