ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সংসদ মার্গ এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ও পুলিশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের দুইজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), একজন পরিদর্শক, একজন হেড কনস্টেবল ও একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন। কয়েকজন বিক্ষোভকারীও আহত হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে।
সংঘর্ষের পর যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। টেলিকম অপারেটরগুলো গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় জানায়, সরকারি নির্দেশে সাময়িকভাবে মোবাইল ডেটা পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভারত সরকার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রকাশ করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু সময়ের জন্য জনপথ ও টলস্টয় মার্গের আশপাশে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদেরও সহায়তা নেওয়া হয়। লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তারা আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার অনুরোধ জানান।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও সরকারি জবাবদিহি নিয়ে তরুণদের নেতৃত্বাধীন বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি।
ভারতের বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন নেতাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংসদ অধিবেশন চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে এ লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। বুধবার (২২ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, কিন্তু এখনো আলোচনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে তার বিশ্বাস, তেহরান শিগগিরই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত হবে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র আইআরজিসি নির্ধারিত পথ ব্যবহার করতে হবে। সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯০০টির বেশি জাহাজ মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে এই জলপথ অতিক্রম করেছে। ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আবারও হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর জবাবে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মাজিদ মুসাভি বলেন, ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং যেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেসব অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি স্পষ্ট চোখের বদলে চোখ।" তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামোসহ দেশের যেকোনো স্থাপনায় হামলা হলে তার জবাব শক্ত ও দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: শাফাক নিউজ, রয়টার্স, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন খরচ এবং আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের এক দম্পতি। নিজেদের বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আশা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই ঋণমুক্ত জীবন শুরু করতে পারবেন। ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের বাসিন্দা ক্রিস্টি-গ্লোরি গ্যালো (কেজি) এবং তার স্বামী রিকার্ডো পারাটা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইতালির তুসকানি অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর লুক্কায় বসবাস শুরু করবেন। দম্পতির দুই সন্তানের বয়স ১১ ও ৭ বছর। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করেছেন তারা। ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, তারা অল্প বয়সেই বিয়ে করেছেন, বাড়ি কিনেছেন, ব্যবসা শুরু করেছেন, ব্যবসা বিক্রিও করেছেন, সম্পত্তি সংস্কার করেছেন এবং পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি দুই সন্তানকে বড় করেছেন। জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রচলিত সব পথই অনুসরণ করেছিলেন তারা। কিন্তু এত কিছুর পরও কাঙ্ক্ষিত আর্থিক স্বস্তি পাননি। তার ভাষায়, "আমরা বসে নিজেদের প্রশ্ন করলাম, এত চেষ্টা করার পরও কেন মনে হচ্ছে আমরা এগোতে পারছি না?" ক্রিস্টি-গ্লোরি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও স্টাইলিং খাতে কাজ করেন। অন্যদিকে রিকার্ডো শিক্ষা খাতে কর্মরত। তারা জানান, প্রতিদিনের খরচ বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরো জীবনযাত্রা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন। ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "প্রতিবার বিল এলে গভীর শ্বাস নিতে হতো। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, সেটাও দেখে নিতে হতো।" তিনি আরও বলেন, তার স্বামীর আয়ের ওপর করের বোঝাও অনেক বেশি হয়ে উঠেছিল। গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে খরচ কমানোর জন্য পরিবারটি নানা উদ্যোগ নেয়। বিনোদনমূলক অনলাইন সেবার সদস্যপদ বাতিল করা, সন্তানের ফুটবল ক্লাব পরিবর্তন করা, অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, "আমরা বিলাসবহুল গাড়ি চালাই না। খুব সাধারণভাবেই জীবন কাটিয়েছি। তারপরও মনে হয়েছে শুধু খরচ কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।" শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নেন, জীবনযাত্রাকে আরও সীমাবদ্ধ না করে বরং নতুন দেশে নতুনভাবে শুরু করবেন। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ ছিল আবাসনের দামের বিশাল পার্থক্য। দম্পতি জানান, ২০২৩ সালে তারা গোল্ড কোস্টে ৫ লাখ ২৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে একটি টাউনহাউস কিনেছিলেন। পরে সেটি সংস্কার করেন। বর্তমানে বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কাছাকাছি। অন্যদিকে ইতালির লুক্কায় তারা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) মূল্যের সম্পূর্ণ সংস্কার করা তিন শয়নকক্ষের একটি বাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের দাবি, বাড়িটিতে নতুন পাইপলাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জানালা ও তাপ নিরোধকসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা আগে থেকেই রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত সংস্কারের প্রয়োজন হবে না। অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি বিক্রি করলে ইতালির নতুন বাড়ি কেনার পরও তাদের হাতে সঞ্চয় থাকবে এবং সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত জীবন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা। পরিবারটির ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পথ সহজ হয়েছে রিকার্ডোর ইতালীয় বংশসূত্রের কারণে। তিনি ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দুই সন্তানও দ্বৈত নাগরিকত্ব অর্জন করেছে। আর ক্রিস্টি-গ্লোরি স্বামীর মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন এবং তিন বছর পর ইতালির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তিনি স্বীকার করেন, এই সুযোগ সবার জন্য সহজলভ্য নয়। ক্রিস্টি-গ্লোরি আরও জানান, জীবনে দুবার মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, "এ ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষকে বদলে দেয়।" তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় অনেক মানুষ বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারটি যখন নতুন জীবনের সুবিধা-অসুবিধার তালিকা তৈরি করে, তখন সবচেয়ে বড় ভয় ছিল ৪০ বছর বয়সে পৌঁছে এই সুযোগ না নেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হওয়া। ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "ওটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।" নতুন জীবনে তারা সন্তানদের নিয়ে আরও বেশি সময় বাইরে কাটাতে, সাইকেল চালাতে, ফুটবল খেলতে এবং ইতালীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যেতে চান। তিনি বলেন, "এখন প্রথমবারের মতো ভবিষ্যতের চাকরি নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে অনেক হালকা লাগছে। আমরা আর ঋণের বোঝা নিয়ে বাঁচব না।" সূত্র: ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া।
জাপানের নাগোয়া শহরে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবন থেকে এক যুবক নিচে পড়ে এক নারী পথচারীর ওপর আছড়ে পড়ার ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ওপর থেকে পড়া ২৯ বছর বয়সী যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে ওই যুবক ভবন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা—উভয় দিক থেকেই তদন্ত চলছে। জাপানি গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় ১টার দিকে নাগোয়া শহরের সাকায়ে এলাকার ইয়াবাচো স্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটে। নিহত তরুণী হৌরা ইনাবা (২৩) এক বন্ধুর সঙ্গে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় শিনসেই তাগুচি (২৯) নামের এক ব্যক্তি ১২ তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে সরাসরি তাঁর ওপর আছড়ে পড়েন। ঘটনার পর ইনাবার সঙ্গে থাকা বন্ধু জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, একজন ব্যক্তি ওপর থেকে পড়ে তাঁর বন্ধুকে গুরুতর আহত করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত শকে (হেমোরেজিক শক) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইনাবার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে তাগুচি এখনো অচেতন এবং তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইচি প্রিফেকচার পুলিশ জানিয়েছে, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি তাগুচি দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তিনি ভবনের ঠিক কোন তলা থেকে পড়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলটি নাগোয়া শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা, যেখানে অফিস, আবাসিক ভবন, দোকানপাট এবং বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। গভীর রাত হলেও এলাকায় পথচারীদের চলাচল ছিল। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জাপানে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ইয়োকোহামায় একটি ভবন থেকে পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিচে থাকা এক নারী পথচারীর ওপর পড়লে ওই পথচারীর মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২০ সালে ওসাকায়ও বহুতল ভবন থেকে ঝাঁপ দেওয়া এক কিশোরের সঙ্গে নিচে থাকা এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।