আমেরিকা

এই ছবিটিই হয়ে থাকল তাদের শেষ স্মৃতি, মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ হারালেন পাঁচ বন্ধু

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২২:২৯
ওই দলের একটি ছবি
ওই দলের একটি ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সায়োটো নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে একের পর এক উদ্ধার করতে নেমে পাঁচ প্রাপ্তবয়স্কের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে নদীতে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দলের একটি ছবি তুলেছিলেন এক নৌযাত্রী। পরে জানা যায়, সেটিই সম্ভবত তাদের জীবনের শেষ ছবি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার ওহাইওর পাউয়েল এলাকার সায়োটো নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশু নদীর তীরে সময় কাটাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একজন পানিতে নেমে বিপদে পড়লে তাকে বাঁচাতে অন্যরা একে একে নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচজনই তলিয়ে যান। উদ্ধারকারীরা সেদিন দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরদিন নদী থেকে আরও তিন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

 

 

 

দুর্ঘটনার আগে স্থানীয় ব্যাপ্টিস্ট পাদ্রি ও নিয়মিত নৌচালক মার্কাস এল. মার্টিন নদীপথে যাওয়ার সময় দলটিকে কোমরসমান পানিতে মাছ ধরতে দেখেন। নদীর ওই অংশটি হঠাৎ গভীর হয়ে যাওয়া ও তলদেশের ঢাল থাকার কারণে বিপজ্জনক বলে তিনি জানতেন। ফেরার পথে তাদের এখনও একই জায়গায় দেখে তিনি একটি ছবি তুলে রাখেন। পরে দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরে তার ধারণা হয়, সেটিই হয়তো তাদের জীবিত অবস্থার শেষ ছবি। 

মার্টিন জানান, তিনি একসময় তাদের সতর্ক করার কথাও ভেবেছিলেন। তবে মাঝখানে একাধিক নৌযান থাকায় ঢেউ তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় আর এগিয়ে যাননি। পরে ঘটনাটি জানার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন বলেও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান। 

 

 

 

ডেলাওয়্যার কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে একজনকে উদ্ধার করতে গিয়েই ধারাবাহিকভাবে অন্যরাও বিপদে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত সবাই ডুবে যান। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। 
হন্ডুরাস সরকার নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে চারজন দেশটির নাগরিক। তাদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া দুজন হলেন ৩৩ বছর বয়সী হোসে মারিও পিনেদা দিয়াস এবং তার ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী মারিনা সুয়াপা রেগালাদো। বাকি নিহতদের পরিচয় পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো শেষে প্রকাশ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    

 

 

 

এই দুর্ঘটনায় এক দম্পতির ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই সন্তান এতিম হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা ওহাইওর শিশু সেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। হন্ডুরাস সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ট্রাম্পসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকির মাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর হুমকির মাত্রা ‘সর্বকালের সর্বোচ্চ’, সতর্ক করল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা সুরক্ষায় থাকা শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকির মাত্রা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শুধু হুমকির সংখ্যা নয়, সেগুলোর ধরন ও জটিলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সিক্রেট সার্ভিসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এখন যে ধরনের পরিস্থিতি দেখছি, আমার কর্মজীবনে এর আগে এমন দেখিনি।” একই ব্রিফিংয়ে সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারানও বলেন, তাঁর ২৪ বছরের কর্মজীবনে বর্তমান হুমকির পরিবেশ সবচেয়ে উদ্বেগজনক।   সিক্রেট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হুমকিসংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে প্রেসিডেন্ট, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকিও রয়েছে। একই সময়ে গত বছরের তুলনায় এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।   কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন চরমপন্থা, ড্রোন প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগতভাবে হামলার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তে সিক্রেট সার্ভিস এখন আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত নজরদারি ও তদন্ত চালাচ্ছে।   এদিকে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির (WHCA) পুনঃনির্ধারিত নৈশভোজকে ঘিরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত এপ্রিলে একই অনুষ্ঠানে এক বন্দুকধারীর হামলার ঘটনায় অনুষ্ঠানটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংগঠনটি জানায়, নতুন আয়োজনে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নতুন প্রবেশপদ্ধতি রাখা হয়েছে।   সেই অনুষ্ঠানের আগে ও পরে শত শত সাবেক সাংবাদিক এবং আটটি সংবাদমাধ্যম-স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে।   সিক্রেট সার্ভিস আরও জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি নিরাপত্তা-সুরক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নজরদারিতে রয়েছেন, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংস্থাটির মতে, এই প্রবণতা বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা আরও স্পষ্ট করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ, অনলাইন উগ্রবাদ এবং উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংস হুমকি বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২৩:৪০
ছবি: লানা সিল্ক, প্রেসিডেন্ট ও সিইও, ট্রান্সফর্ম ইরান।

ইসলাম নিয়ে আমেরিকানদের অনেক ধারণাই বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না: ইরানে জন্ম নেওয়া খ্রিস্টান নেত্রীর দাবি

ভারতীয় নাগরিক নিতিশ কৌশল

অন্যের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়েই গ্রেপ্তার এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার ভারতীয় নাগরিক

ওই দলের একটি ছবি

এই ছবিটিই হয়ে থাকল তাদের শেষ স্মৃতি, মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ হারালেন পাঁচ বন্ধু

মেডিকেয়ারে ৫৪৭ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন খালিদ সাতারি। ছবি: সংগৃহীত
৫৪ কোটি ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি, ৩ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেয়ার’ থেকে অর্ধবিলিয়ন বা ৫৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দীর্ঘ তিন বছর ধরে পলাতক থাকা এক শীর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ (ডিঅ্যান্ডজে) জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তির নাম খালিদ সাতারি (৫৪)। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির তদন্তের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতারণার ঘটনা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, খালিদ সাতারি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি মেডিকেল ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার পরিচালনা করতেন। এই পরীক্ষাগারগুলোর মাধ্যমে তিনি রোগীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল বংশাণুক্রমিক (জেনেটিক) পরীক্ষার ভুয়া বিল তৈরি করে মেডিকেয়ার কর্মসূচির কাছে পাঠাতেন। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য তিনি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করতেন।   এই বিশাল জালিয়াতি চক্রটি পরিচালনা করতে সাতারি একাধিক রোগী সংগ্রহকারী এজেন্ট, টেলিমার্কেটিং কল সেন্টার এবং অনলাইন চিকিৎসাসেবা (টেলিমেডিসিন) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করেছিলেন। লোভনীয় বিপণন কৌশল, বিপুল অর্থ ঘুষ এবং অবৈধ কমিশন বা ‘কিকব্যাক’ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি এই চক্র সচল রাখতেন। তিনি চিকিৎসক ও এজেন্টদের কোটি কোটি ডলার ঘুষ দিয়েছেন বলে তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।   আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রাথমিক অভিযোগের পর তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে জামিনে থাকা অবস্থাতেই তিনি হিউস্টন ও টেক্সাসভিত্তিক কয়েকটি ল্যাবরেটরির সঙ্গে পুনরায় হাত মিলিয়ে একই ধরনের জালিয়াতি চালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে বিচারিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে তিনি জালিয়াতির বিপুল অর্থ নিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়ে যান।   দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সাতারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি ভুয়া মেক্সিকান পাসপোর্ট পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাকে উন্নত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।   খালিদ সাতারির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা, তারযোগে জালিয়াতি, রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা, অবৈধ ঘুষ লেনদেন এবং অর্থ পাচারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২২:২৬
ফ্লোরিডার একটি রিসোর্টে মারা গেছেন ইসরায়েলি-আমেরিকান টিভি ব্যক্তিত্ব ইয়াকির লেভি। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডার হোটেলের ২৮ তলা থেকে নিচে পড়ে ইসরায়েলি-মার্কিন তারকা ইয়াকির লেভির মৃত্যু

ব্র্যাডলি অর্টন

ম্যাসাজের সময় স্পর্শ ও যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে স্পা কর্মী আটক

স্বয়ংক্রিয় বিলিং ত্রুটির কারণে অন্যায়ভাবে চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলেছেন ফোর্ডের সাবেক কর্মী নিক নাবোজনি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৮ ডলারেরও কম দামের চিপস ও বিস্কুট চুরির অভিযোগে চাকরি হারালেন ফোর্ড কর্মী

মেয়ের কথায় লটারির টিকিট পরীক্ষা করেই জ্যাকপট জয়ের খবর পান মিশিগানের ৭৫ বছর বয়সী ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
'এখন লটারি জিতলে ভালো হতো', মেয়ের কথার কিছুক্ষণ পরই আড়াই লাখ ডলারের লটারি জিতলেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়ের বাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় সুখবর পেলেন ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। মেয়ের মুখে "এখন লটারি জিতলে ভালো হতো" কথাটি শোনার পরই তিনি পকেটে থাকা লটারির টিকিট পরীক্ষা করেন। আর তাতেই জানতে পারেন, তিনি জিতেছেন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৮ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশি মুদ্রায়)।   মিশিগান লটারি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ম্যাকোম্ব কাউন্টির বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। লটারি কর্তৃপক্ষকে তিনি জানান, প্রতি সোমবার দোকানে গেলে ফ্যান্টাসি ৫ লটারির একটি টিকিট কেনা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, পরদিন ঝড়ে একটি গাছ ভেঙে মেয়ের বাড়ির ওপর পড়ার পর সেই ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতে সাহায্য করছিলেন। তখন তার মেয়ে হঠাৎ বলেছিল, "এখন যদি লটারিতে জিততে, তাহলে কতই না ভালো হতো।"   এই কথাতেই তার মনে পড়ে যায়, আগের দিন কেনা লটারির টিকিটটি এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। তিনি বলেন, "আমি পকেট থেকে টিকিট বের করে মিশিগান লটারির মোবাইল অ্যাপে নম্বর মিলিয়ে দেখি। তখনই জানতে পারি আমি জ্যাকপট জিতেছি। বিশ্বাসই হচ্ছিল না।" লটারি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত ফ্যান্টাসি ৫ ড্রয়ের ১৩, ১৬, ২৬, ২৮ ও ৩৭ নম্বরের সঙ্গে তার টিকিটের সব নম্বর মিলে যায়। এতে তিনি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৮ ডলারের জ্যাকপট জিতে নেন।   জয়ী টিকিটটি তিনি সেন্ট ক্লেয়ার শোরস শহরের লিটল ম্যাক বিয়ার অ্যান্ড ওয়াইন নামের একটি দোকান থেকে কিনেছিলেন। লটারিতে পাওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে প্রশ্নে ওই ব্যক্তি জানান, আপাতত পুরো অর্থ সঞ্চয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিশিগান লটারি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতই খেলোয়াড়দের দ্রুত টিকিট পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। কারণ, এর আগেও মিশিগানে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি পাওয়ারবল পুরস্কারের টিকিট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না করায় সেই অর্থ রাজ্যের স্কুল এইড ফান্ডে চলে যায়।   এদিকে মিশিগানের সর্বশেষ বড় লটারি জ্যাকপট জয়ের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের জুনে, যখন ব্রেকফাস্ট ক্লাব নামে একটি লটারি গ্রুপ ৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের মেগা মিলিয়নস জ্যাকপট জেতে। পরে তারা ফ্লোরিডায় বাড়ি কেনা এবং ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।   সূত্র: মিশিগান লটারি।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২১:৪৯
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বহনকারী স্কুলবাসে অশালীন আচরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন স্টিভেন এডওয়ার্ড উইলকিন্স। ছবি: সংগৃহীত

স্কুলবাসে অশালীন আচরণের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক বাসচালকের ২০ বছরের সাজা

পডকাস্টে ছেলেদের জীবনযাপন নিয়ে রসিকতা করে আলোচনায় ব্র্যান্ডি গ্ল্যানভিল। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানেরা কোকেন ও মদ ছুঁয়েও দেখে না, ছেলেদের ‘বোরিং’ বললেন মার্কিন তারকা ব্রান্ডি গ্ল্যানভিল

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন শার্লটস ওয়েব’ চলছিল

অভিবাসীদের সতর্ক করতে হর্ন বাজিয়ে গ্রেপ্তার ২ মার্কিন নারী, আইসের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের মামলা

0 Comments