ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা, ‘এখনই চুক্তি না হলে সুযোগ শেষ’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং চলমান সংকট নিরসনে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং সংকট নিরসনের সুযোগ এখনও রয়েছে। তিনি এটিকে তেহরানের জন্য “শেষ সুযোগ” বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই এবং কোনো ইরানি প্রতিনিধি এ উদ্দেশ্যে বিদেশে যাননি। তার দাবি, ওমানের সঙ্গে কেবল নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌপথ নিয়ে আলোচনা চলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ঘটনাটি ওমান উপকূলের কাছে ঘটেছে। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক বা কূটনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচল কমে গেলেও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার একদিন পর শনিবার হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারেননি সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা। শুক্রবার ট্রাম্প এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার সকালে তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে এমএস নাউয়ের সংবাদদাতা আকায়লা গার্ডনার ও একজন ক্যামেরাকর্মী হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের প্রবেশের অনুমতিপত্র অকার্যকর করে দেওয়া হয় এবং তারা প্রবেশ করতে পারেননি। গার্ডনার জানান, অনুমতিপত্র দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটি অকার্যকর দেখায়। কারণ জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী তাকে বলেন, বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পর্যায়ের। সিএনএনের জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক বেটসি ক্লেইনের প্রবেশের অনুমতিপত্রও অকার্যকর করে দেওয়া হয়। তিনি শনিবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করেও ঢুকতে পারেননি। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিক ও ক্যামেরাকর্মীকে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায় এবং পরে তারা অনুমতিপত্র ছাড়া সেখান থেকে চলে যান। পলিটিকোর হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেটকেও শনিবার সকালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পলিটোর তথ্য অনুযায়ী, গোপন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন এবং তার প্রবেশের অনুমতিপত্র নিয়ে নেন। ফলে তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের আগের দিনের ঘোষণার পর বাস্তবে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে মিথ্যা সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, তারা তার প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে এ সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে তিনি ক্লান্ত। তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ না করে গত কয়েক বছরের সামগ্রিক সংবাদ কাভারেজের কথা বলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি অসৎ সংবাদমাধ্যম পছন্দ করেন না। ট্রাম্পের ঘোষণার পর সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো তাদের সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষার কথা জানিয়েছে। সিএনএন বলেছে, হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করার দায়িত্ব তারা অব্যাহত রাখবে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের হোয়াইট হাউস দলের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে। এমএস নাউ জানিয়েছে, তাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পলিটোর প্রধান সম্পাদক জোনাথন গ্রিনবার্গারও প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেট এবং হোয়াইট হাউস কাভার করা অন্য সাংবাদিকদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতিও তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি ও ফক্স নিউজের প্রতিবেদক জ্যাকুই হাইনরিশ বলেছেন, সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটোর সহকর্মীদের পক্ষে সংগঠনটি অবস্থান করছে। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে। সিবিএস নিউজের আইনবিষয়ক সহযোগী জেসিকা লেভিনসন ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপকে সংবাদবিষয়ক মতের ভিত্তিতে বৈষম্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এটি তার আইনি বিশ্লেষণ, আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসেরও হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। ২০২৫ সালে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের নির্ধারিত নাম ব্যবহার না করায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সংবাদমাধ্যমটি সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি ফেডারেল আদালত হোয়াইট হাউসকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। পরে আপিল আদালতের মাধ্যমে কিছু সীমিত স্থানে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ চলতে থাকে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও সিএনএনের তৎকালীন প্রতিবেদক জিম অ্যাকোস্টার প্রেস অনুমতিপত্র নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। সিএনএন মামলা করার পর একজন ফেডারেল বিচারক তার অনুমতিপত্র পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। সর্বশেষ ঘটনায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবিধানিক অধিকার এবং হোয়াইট হাউসের সংবাদ কভারেজ নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
সান ফ্রান্সিসকোতে ১৭.৫ লাখ ডলারে বিক্রির তালিকায় বিরল ভাসমান বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড দামে জ্বালানি ট্রাকচালকদের ডিউটি ১৬ ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুলের ফি ৯ লাখ রুপি, যা মারুতি গাড়ির সমান, খরচ নিয়ে তুমুল আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকের একটি ওয়ালমার্টে শপিং কার্ট নিয়ে এক কিশোরী কর্মীর সঙ্গে তর্কের জেরে ৭৭ বছর বয়সী এক ক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। নিহত বার্ট আতিয়েনজা ৭ জুন ২০২৬ দোকানে হামলার শিকার হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরদিন মারা যান। মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় ভোঁতা আঘাত এবং মৃত্যুর ধরন হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঘটনাটি ঘটে নরফোকের একটি ওয়ালমার্টে। সেদিন চার্চ থেকে স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েনজাকে নিয়ে বাজার করতে গিয়েছিলেন বার্ট। জোসেফিনের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী এক নারী কর্মী ভারী শপিং কার্ট নিয়ে যাওয়ার সময় তার খুব কাছ দিয়ে যান এবং প্রায় তাকে ধাক্কা দিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় বার্ট ওই কর্মীর কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং কেন তিনি ক্ষমা চাননি, তা জানতে চান। জোসেফিনের দাবি, এ সময় বার্ট ও ওই কর্মীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তারা সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় কিশোরী কর্মী তাদের দিকে একটি ক্যান ছুড়ে দেন। সেটি তাদের গায়ে লাগেনি। এরপর দম্পতি আবার কেনাকাটা করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর ওই কিশোরীর বাবা-মা ওয়ালমার্টে এসে বার্টের মুখোমুখি হন বলে জোসেফিন জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুজন বার্টকে ঘিরে ধরে আঘাত করেন। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করেন জোসেফিন। ঘটনাটির কিছু অংশ দোকানের নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হামলার পর বার্টকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্ত্রী জোসেফিন জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারছিলেন। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ জুন তার মৃত্যু হয়। মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় ভোঁতা আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ৪২ বছর বয়সী এরিকা মিচেল ও ৪৪ বছর বয়সী ট্রাভিস হোয়াইটকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুজনকেই জামিন ছাড়া হেফাজতে রাখা হয়েছে। শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর হামলা ও অপরাধে ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অভিযোগ ছিল, পরে বার্টের মৃত্যুর পর হত্যার অভিযোগ যুক্ত করা হয়। ওই ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ্যাসল্ট অ্যান্ড ব্যাটারি, অ্যাগ্রাভেটেড ম্যালিশাস ওয়াউন্ডিং এবং একটি অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়সের কারণে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং তাকে কিশোর আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে অভিযুক্ত দম্পতির আইনজীবী বলেছেন, তারা আগে থেকে কাউকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়ে ওয়ালমার্টে যাননি। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়ের ফোন পাওয়ার পর তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হামলায় রূপ নেয়। মামলায় অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বার্টের স্ত্রী জোসেফিন জানিয়েছেন, ৪২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর এমন মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি সাধারণ বাজারের সময় শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী ঘটনায় রূপ নিল, সেটিই এখন মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
'চাকরিটা আমার দরকার ছিল’, নিউইয়র্কে 'হাইজিন সমস্যা’ দেখিয়ে নতুন চাকরিতে বরখাস্ত যুবক
গাড়ির গ্রিলের ভেতর ৩ ফুটের অজগর, আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্য
অসুস্থ ছেলেকে চিকিৎসা না দিয়ে ‘ঘামিয়ে’ সুস্থ করার চেষ্টা, অপুষ্টিতে ৩ বছরের শিশুর মৃ ত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উবার চালকের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর হাইওয়েতে প্রা ণ হারানো ২৩ বছর বয়সী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা-মাকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ওই মৃ ত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ স্টোনের নেতৃত্বে সালিশি প্রক্রিয়ায় উবার ও চালক ভু ট্রানকে যৌথভাবে দায়ী করা হয়। এমিলির বাবা কেন পার্কার ও মা ক্যারল নরম্যান্ডিনকে ২ কোটি ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই ঘটনায় এমিলির বন্ধু লুনা মুরকে আলাদাভাবে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আবারও রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা এবং চালকের আচরণের জন্য কোম্পানির দায় কতটা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট রাতে অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩ হাইওয়েতে। এমিলি ও তার বন্ধু লুনা রাতে বাইরে সময় কাটানোর পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে লুনা গাড়ির ভেতর অসুস্থ হয়ে ব মি করলে চালক ভু ট্রান গাড়ি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রান হাইওয়ের একটি গোর পয়েন্টে গাড়ি থামান। গোর পয়েন্ট হলো হাইওয়ে ও এক্সিট র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির অংশ। সালিশকারী রিচার্ড স্টোন ওই জায়গাটিকে অনি রা পদ ও বেআ ইনি স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সালিশি নথিতে বলা হয়েছে, গাড়ি পরিষ্কার করার খরচ নিয়ে ট্রানের সঙ্গে লুনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই নারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এমিলি হাইওয়ের দিকে চলে যান এবং চলন্ত একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃ ত্যু হয়। সালিশি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এমিলি ও তার বন্ধু দুজনই ম দ্য প অবস্থায় ছিলেন এবং ট্রান তাদের এই অবস্থার কথা জানতেন। স্টোনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ড এক্সিট দিয়ে নি রা পদ জায়গায় গাড়ি থামাতে পারতেন। ঘটনার পর এমিলির বাবা-মা ও লুনা উবার এবং ট্রানের বিরুদ্ধে মা ম লা করেন। পরে পক্ষগুলো আদালতের পরিবর্তে সালিশি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। পাঁচ দিন ধরে চলা সেই সালিশিতে উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, তারা মূলত যাত্রী ও স্বাধীনভাবে কাজ করা চালকদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারক স্টোন সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে উবারকে চালকের অ ব হেলার জন্য ভিকারিয়াসলি দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ উবারকে এই দায় থেকে সুরক্ষা দেয় না। সালিশি নথিতে ট্রানের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি জিপিএস তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমিলি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর ট্রানের গাড়ি তার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায় এবং পরে চালক পরবর্তী এক্সিট ব্যবহার করেন। এরপর তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি পরিষ্কারের ফি নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে এর আগেও উবারের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সালিশি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা সিদ্ধান্তের পৃথক অংশে বিবেচনা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর উবার জানিয়েছে, তারা সালিশকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানির বক্তব্য, তারা সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও ওই রাতের ঘটনার জন্য উবারকে আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। অন্যদিকে এমিলির বাবা-মা বলেছেন, তারা এই অর্থকে শুধু ক্ষ তি পূ রণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, মেয়ের মৃ ত্যুর ঘটনা সামনে এনে রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি আদালতের রায় নয়, বরং একটি বেসরকারি সালিশি সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি উবারের চালকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে সরাসরি কোনো নতুন নজির তৈরি করবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন হিসেবে থাকছে।
ফ্লোরিডায় শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার
‘কী ছোট মনের, কী আত্মমগ্ন!’ ট্রাম্পের নাম বসানোর উদ্যোগে কেনেডি পরিবারের ক্ষোভ