বিশ্ব

ইরান ইস্যুতে যুদ্ধে বিশ্বনেতাদের যোগদানের আহ্বান নেতানিয়াহুর

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মার্চ ২১, ২০২৬ ২০:৫৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, ইরান শুধু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

 

রোববার দক্ষিণ ইসরায়েল-এর ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

 

নেতানিয়াহুর ভাষায়, “ইরান পুরো বিশ্বকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতাদের এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার। যদিও ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ এই পথে এগোতে শুরু করেছে, তবে আরও শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরান-এর পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই অভিযানের প্রেক্ষাপটেই নেতানিয়াহুর এই আহ্বান এসেছে।

 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আদর্শ মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন যে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করেছে।

 

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ইতোমধ্যে বহু বিশ্বনেতা ব্যক্তিগতভাবে এ অভিযানে সমর্থন জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
শান্তিচুক্তির বাস্তবতায় ইরানের তেল খাত হবে ‘পরীক্ষার মঞ্চ’
শান্তিচুক্তির বাস্তবতায় ইরানের তেল খাত হবে ‘পরীক্ষার মঞ্চ’: তেলমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি কার্যকর হলে ইরানের তেল শিল্পই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার ক্ষেত্র—এমনটাই মনে করছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।   ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সংস্থা ‘শানা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকনেজাদ বলেন, চুক্তি-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের জ্বালানি খাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন করে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থবির হয়ে থাকা এই খাত আবারও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   তেলমন্ত্রী জানান, ইরানের হাতে ইতোমধ্যেই শতাধিক প্রস্তুত বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত, যেখানে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও পরিচালনাগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় আছে বলেও তিনি জানান।   পাকনেজাদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এতে শুধু দেশটির অর্থনীতিই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইরানের প্রভাব আরও দৃশ্যমান হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস মজুদের অধিকারী ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।   এ প্রেক্ষাপটে তেহরান-ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সমঝোতা শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ২:৩৩
হরমুজ প্রণালি বন্ধের ইরানি দাবি প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ইরানি দাবি প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পর সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পর সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ

স্পেনের পাহাড়চূড়ার রহস্যময় প্রাসাদ

স্পেনের পাহাড়চূড়ার রহস্যময় প্রাসাদ: সত্যিই কি পুতিনের ‘গোপন ভিলা’?

ছবি: সংগৃহীত
চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালিতে টোল বসানোর হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র টোল বা চলাচল ফি আরোপ করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে ক্যাম্প ডেভিডে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, “বর্তমান ব্যবস্থায় ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো টোল নেই। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি চূড়ান্ত চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থে এবং আমাদের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবস্থার আওতায় টোল আরোপ করতে পারে।”   তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের শুল্ক বা অতিরিক্ত ব্যয় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তা ব্যয় বহন করেছে, তার একটি অংশ পুনরুদ্ধারের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছি। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সেই ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।”   তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক মহল এবং কিছু নীতিনির্ধারক প্রশ্ন তুলেছেন, হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সমঝোতায় ভবিষ্যতে টোল আরোপের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি কেন। সমালোচকদের মতে, বর্তমান সমঝোতা কেবল ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শুল্ক বা ফি আরোপের সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন বিরোধের কারণ হতে পারে।   হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে রপ্তানিকৃত তেলের বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই বিশ্ববাজারে যায়। ফলে এই প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, বরং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনাও অনেকাংশে এর ওপর নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২৩:৪৪
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে যাওয়ার পথে নৌকাডুবি, লিবিয়ার উপকূলে ভেসে এল ১৫ অভিবাসীর মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

জাপান যেতে বাড়বে খরচ, বিদেশিদের জন্য বাড়ছে ভিসা ফি

ছবি: সংগৃহীত

‘আমার জনপ্রিয়তা নয়, নিজেরটা দেখুন’, ট্রাম্পকে কড়া জবাব মেলোনির

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ ৬ ফিলিস্তিনি নিহত, প্রাণ হারালেন আল জাজিরার ক্যামেরাপারসনও

গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একজন ক্যামেরাপারসনও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।   ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এসব হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   শনিবার দিনের প্রথম হামলাটি ঘটে গাজা সিটিতে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টার দিকে একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে হামলা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ, রক্তমাখা কংক্রিটের টুকরো এবং বিধ্বস্ত ভবনের চিত্র দেখতে পান। এই হামলায় নিহত দুই বোনের পরিচয় জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা হলো চার বছর বয়সী জেইনা সাফাদি এবং ১৪ বছর বয়সী লানা সাফাদি। তাদের মরদেহ গাজা সিটির শিফা হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়, যেখানে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন।   নিহত শিশুদের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাফাদি বলেন, “আমরা ঘরের ভেতরে ছিলাম। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে।” হামলায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। তার স্ত্রীরও আঘাত লেগেছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “যে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে, সেটি কি সত্যিই যুদ্ধবিরতি? আমরা সাধারণ মানুষ। আমি কখনো অস্ত্র ধরিনি।” এই ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দিনের পরবর্তী সময়ে আরও তিনটি পৃথক হামলায় চারজন নিহত এবং অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হন।   গাজার মধ্যাঞ্চলের বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে চালানো হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আল জাজিরার ক্যামেরাপারসন আহমেদ উইশাহ। আল-আকসা হাসপাতাল ও আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আহমেদ উইশাহর পরিবারের জন্য এটি দ্বিতীয় বড় শোক। তার ভাই মোহাম্মদ উইশাহ, যিনি আল জাজিরার একজন সংবাদদাতা ছিলেন, গত এপ্রিলে আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।   এদিকে দক্ষিণ গাজার মাওয়াসি এলাকার বিস্তৃত তাঁবুশিবিরে জড়ো হওয়া একদল মানুষের ওপর চালানো আরেক হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাজা সিটিতে আরেকটি হামলায় কয়েকজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এর আগে ইসরায়েল বলেছে, তারা হামাস এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে।   ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে তাদের পাঁচজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর নিহত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।   জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং স্বাধীন গবেষকদের মতে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তবে মন্ত্রণালয় নিহতদের মধ্যে বেসামরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তাদের দাবি, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। নতুন এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনেক দূরের।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২২:১৭
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কাল পদত্যাগ করতে পারেন

ছবি: সংগৃহীত

গেমিং জগতের শোক, বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ইউবিসফটের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

0 Comments