মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরান যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে, তখন পাশ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোর নীরবতা এক বড় রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তথাকথিত 'প্যান-ইসলামিক' সংহতির বুলি ছাপিয়ে কেন আরব দেশগুলো তেহরানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দেশই ইরানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না, বরং অনেকে দেশটিকে হুমকি হিসেবেও দেখছে। মুসলিম দেশগুলো তথাকথিত 'প্যান-মুসলিম' বা বৃহত্তর মুসলিম সংহতির কথা বারবার প্রচার করলেও সাম্প্রদায়িক বৈপরীত্য, পারস্পরিক অবিশ্বাস, নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতার মতো বাস্তব পরিস্থিতিরও মুখোমুখি।
একইসাথে, একটি অনিশ্চিত পরিণতির যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারেও তাদের মধ্যে চরম অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আরব বিশ্বের কাছে নিজেদেরকে ইসলামি সংহতির রক্ষক এবং সকল মুসলিমের জন্য একটি মানবিক বার্তার বাহক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে তেহরান।
কিন্তু আজ সেই ইরানই রমজান মাসের মাঝখানে আরব দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে, বলছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিনা আসরাগিস। পারমাণবিক শক্তি অর্জনের মধ্য দিয়ে একটি আঞ্চলিক প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর থেকে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতেও ইরান হামলা চালাচ্ছে। যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, মুসলিম বিশ্ব কোনো একক বা অখণ্ড সত্তা নয়। প্রতিটি মুসলিম দেশ (যার বেশিরভাগই আরব) মূলত তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ দ্বারাই পরিচালিত হয়। ফলে কেবল সংহতির খাতিরে তারা ইরানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে ইচ্ছুক নয় বলেই মনে হচ্ছে।
তাছাড়া, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোরও ইরানের প্রতি মনোভাব বেশ জটিল। ইরান কোনো আরব দেশ নয়, তারা ভিন্ন ভাষায় কথা বলে এবং জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ শিয়া। যদিও বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই সুন্নি।
বর্তমান যুদ্ধের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক খুবই সামান্য, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ঐতিহাসিকভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে এই সুন্নি-শিয়া বিভাজন।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিস ব্যালানশ বিবিসিকে বলছেন, "শিয়াদের সঙ্গে সুন্নিদের কোনো সংহতি হতে পারে না, বিশেষ করে যখন শিয়া অধ্যুষিত ইরান সুন্নি রাষ্ট্রগুলোতে হামলা চালায়।"
তাছাড়া, ইরান তার সুন্নি প্রতিবেশীদের ওপর এমন একটি সময়ে হামলা চালিয়েছে যখন পবিত্র রমজান মাস চলছে। এমনকি ওই দেশগুলোকে আরও গুরুতর সংঘাতে টেনে আনার হুমকিও দিয়েছে, যা সরাসরি তাদের স্বার্থে আঘাত হানে।
কী করতে চেয়েছিল ইরান?
এই অঞ্চলে কিংবা বিশ্বজুড়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের খুব বেশি মিত্র কোনোকালেই ছিল না, কিন্তু এখন কার্যত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি।
প্রায় অর্ধশতাব্দীর ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিঘ্নকারী প্রধান দেশগুলোর একটিতে পরিণত করেছে। মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশই ইরানকে সন্দেহের চোখে দেখে এবং প্রায়শই তাদের প্রতি প্রকাশ্যে শত্রুতা পোষণ করে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে, ইরান সুপরিকল্পিতভাবে নিজেকে একটি শক্তিশালী ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু করে এবং মুসলিম বিশ্বের সংগ্রামের অগ্রনায়ক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি সুসংহত করার চেষ্টা চালায়।
সাবেক বন্ধু দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের 'প্রধান শত্রু' এবং ইসরায়েলকে 'অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর শত্রু' হিসেবেও ঘোষণা করেছিল ইরান।
তাদের লক্ষ্য ছিল নিজেদের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার মডেল অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা। বিশেষ করে এই অঞ্চলের শিয়া সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়া ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা।
ইরানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে, বিশেষ করে সৌদি আরবকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি, যাদের ভূখণ্ডে ইসলামের প্রধান পবিত্র স্থানগুলো অবস্থিত।
বহু বছর ধরে এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে একে অপরকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে রিয়াদ এবং তেহরান।
পারস্য উপসাগরের তেল-সমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর রাজনৈতিক ব্যবস্থার (রাজতন্ত্র) সঙ্গে ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শাহ শাসনামলের মিল রয়েছে। ফলে, আরব দেশগুলো নিজেদের দেশেও ইরানের মতো গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়ে বেশ আতঙ্কিত।
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো বেশ আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। ফলে আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠা নিয়ে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদের নিজস্ব স্বার্থের সাথে সরাসরি দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই 'স্নায়ুযুদ্ধ' কয়েক দশক ধরে চলেছিল, যা অবশেষে ২০২৩ সালে এসে থামে। সে সময় চীনের মধ্যস্থতায় নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করতে রাজি হয় রিয়াদ এবং তেহরান।
আর এবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর, সৌদি আরব এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়েছে যে, ইরান তাদের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ফেলতে দ্বিধাবোধ করবে না।
'আটলান্টিক কাউন্সিল' এ এক মন্তব্যে 'মিডল ইস্ট গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল'-এর নির্বাহী পরিচালক খালিদ আল-জাবের লিখেছেন, "চলমান সংঘাত যেদিকেই যাক না কেন, আঞ্চলিকভাবে ইরানের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে সেটি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। একবার আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে, তা পুনরায় ফিরে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।"
এই অঞ্চলে নিজের প্রভাব সংহত করতে ইরান কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তথাকথিত 'প্রতিরোধ অক্ষ' গড়ে তুলছে।
লেবানন, সিরিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনের সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার পাশাপাশি লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া 'হেজবুল্লাহ', ইয়েমেনের 'হুথি' এবং ইরাকের বিভিন্ন মিত্র বাহিনীকে অস্ত্র ও অর্থায়ন করেছে তেহরান।
এমনকি হামাস ও ইসলামিক জিহাদকে সমর্থনের মাধ্যমে, ইরান মুসলিমদের রক্ষক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত করতে ফিলিস্তিন ইস্যুকেও ব্যবহার করেছে।
ইরানের এই পদক্ষেপগুলোকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের জন্য লড়াইয়ের থেকেও বরং তেহরানের নিজস্ব প্রভাব বিস্তার এবং এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবেই বেশি দেখেছে অনেক আরব দেশ।
এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হওয়ার জন্য ইরানের আকাঙ্ক্ষা তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।
আস্থার সংকট যে কারণে
অনেক আরব দেশ মনে করে, অতীত কিংবা বর্তমান যেকোনো সময়েই, ইরানকে সাহায্য করার অর্থ হলো এমন একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা, যাকে তারা আঞ্চলিক ভারসাম্য বিনষ্টকারী এবং নিজেদের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মনে করে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিণতি কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু এটি বোঝা যাচ্ছে যে, এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভঙ্গুর ভারসাম্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফরাসি বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিস ব্যালানশ বলছেন, "উপসাগরীয় দেশগুলো বুঝতে পারছে যে ইরান মাত্র কয়েকটি আঘাতেই তাদের সমস্ত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধ্বংস করে দিতে পারে। সব মিলিয়ে ইরান আবারও এই অঞ্চলের প্রধান হুমকি হয়ে উঠছে।"
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের এই বিশেষজ্ঞ আরও যোগ করেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপট অনিবার্যভাবে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের আরও কাছাকাছি যেতে বাধ্য করবে।"
"বিশেষ করে 'আয়রন ডোম'-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেতে, যা দেশটির (সৌদি আরব) সুরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে পারে," বলেন তিনি।
এদিকে, ইরান সমর্থিত শিয়া বাহিনীগুলো তাদের পৃষ্ঠপোষকের সহায়তায় এগিয়ে আসতে চাইলেও বর্তমানে তাদের সেই সক্ষমতা ও সুযোগ খুবই সীমিত।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের ফলে যে তথাকথিত 'প্রতিরোধের অক্ষ' গড়ে উঠেছিল, সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
হেজবুল্লাহর নেতৃত্বকে অনেকটাই নির্মূল করেছে ইসরায়েল, পঙ্গু করে দিয়েছে হামাসকেও। এছাড়া বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মস্কো পালিয়ে গেছেন সিরিয়ার সাবেক নেতা ও ইরানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত বাশার আল-আসাদ।
সবশেষ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে ইসলামি বিশ্বে ইরানের প্রতি অবিশ্বাস আরও তীব্রতর হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিনা আসরাগিস বলছেন, "তেহরান সম্ভবত ভেবেছিল যে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর ওপর চাপ বাড়লে, তারাও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটা ঘটছে।"
পারস্য উপসাগরের কিছু দেশ ইরানের সাথেও ভালো সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছিল। ওমান এবং কাতার অনেকবারই ইরান সরকারের সাথে সংলাপে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।
তবে ভবিষ্যতে এই দেশগুলো তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
সুন্নি এবং শিয়া
বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই সুন্নি (প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ), যেখানে শিয়াদের সংখ্যা তুলনামূলক কম (প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ)।
প্রধান শিয়া জনগোষ্ঠীগুলোর বসবাস মূলত ইরান, আজারবাইজান, ইরাক এবং পাকিস্তানে।
মূলত ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের নবীর মৃত্যু পরবর্তী উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিরোধের মধ্য দিয়ে এই বিভাজনের সূত্রপাত হয়। সে সময় তার অনুসারীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছিল এই প্রশ্নে যে, কে মুসলিম উম্মাহর পরবর্তী নেতৃত্ব দেবেন?
শিয়ারা (যাদের নামের অর্থই হলো আলীর 'অনুসারী' বা 'দল') নবীর রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয় আলী ইবনে আবি তালিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে ছিলেন।
তাদের দাবি ছিল যে, নবীর নিকটতম আত্মীয় এবং শিষ্য হিসেবে আলীরই খলিফা হওয়ার বৈধ অধিকার রয়েছে।
অন্যদিকে, সুন্নিরা বিশ্বাস করত যে, নবীর সবচেয়ে যোগ্য এবং সম্মানিত সাহাবীদের মধ্য থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা বেছে নেওয়া উচিত।
ইসলামের নবীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু বকর প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। খেলাফতের এই ক্ষমতার লড়াই শেষ পর্যন্ত ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে আলীর হত্যাকাণ্ডের দিকে মোড় নেয়। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র হাসান ও হুসাইনও শাহাদাত বরণ করেন।
৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালা শহরের (বর্তমান ইরাক) কাছে হুসাইনের মৃত্যু আজও শিয়াদের কাছে একটি ঐতিহাসিক শোকাবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত।
এর মধ্য দিয়ে প্রাথমিক রাজনৈতিক মতবিরোধ ধীরে ধীরে এক গভীর ধর্মীয় ও মতাদর্শগত বিভাজনে রূপান্তরিত হয়।
মূলত ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবই এই ধর্মীয় সংঘাতকে একটি ভূ-কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপান্তরিত করেছিল।
তখন থেকেই মুসলিম বিশ্বে আঞ্চলিক নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে শিয়া অধ্যুষিত ইরান এবং সুন্নি অধ্যুষিত সৌদি আরব।
ইরানের নেতারা প্রকাশ্যে ইসলামের প্রধান দুই পবিত্র স্থান- মক্কা ও মদিনার রক্ষক হিসেবে সৌদি রাজবংশের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এছাড়া হজের সময় ইরানিদের উস্কানিতে ঘটা বেশ কয়েকটি ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তোলে।
তেহরানের প্রভাব সীমিত রাখতে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও আন্দোলনকে অর্থায়ন করেছিল রিয়াদ। যেখান থেকে পরবর্তীতে এমন সব জিহাদি সংগঠনের উত্থান ঘটে যারা সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
মুসলমানদের উপর প্রভাব বিস্তার
ইরান ও সৌদি আরবের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে চলা এই সংঘাত দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
সৌদি আরবের শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটিকে পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে চান। তিনি তার জাতীয় মহাপরিকল্পনা 'ভিশন ২০৩০'-এ তেল থেকে অর্জিত বিপুল রাজস্ব বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।
সৌদি আরব বর্তমানে সৌর ও বায়ু শক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে তাদের স্থানীয় ফুটবল লিগে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এসব কারণেই সৌদি আরব এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ইরানসহ তার সমস্ত প্রতিবেশীদের সাথে একটি বাস্তবসম্মত সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
এই লক্ষ্যেই ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় রিয়াদ এবং তেহরান তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনেও সম্মত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞ ব্যালানশের মতে, যুবরাজ বিন সালমান যেকোনো মূল্যে এই স্থিতিশীলতা 'ধরে রাখতে' এবং সবার সাথে আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু এখন সেই সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, আমিরাতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নাজাত আল-সাইদ মনে করেন, ইরান কখনোই তার অতীত নীতিগুলো বাতিল করতে চায়নি, বরং তারা একটি 'বিপ্লবী আদর্শের রাষ্ট্র' হিসেবেই রয়ে গেছে।
যা পারস্য উপসাগরের অন্য দেশগুলোর ঠিক বিপরীত, যারা অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্বার্থে আদর্শিক গোঁড়ামি থেকে সরে এসেছে।
আল-সাইদ আরও উল্লেখ করেন যে, "সৌদি আরবের ধর্মীয় রাজনীতি থেকে জাতীয়তাবাদের দিকে বিবর্তন এবং আদর্শ নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা সময়ের প্রয়োজনে নিজেকে পরিবর্তন করতে সক্ষম।
"কিন্তু আদর্শিক ব্যবস্থাগুলো সময়ের সাথে সাথে আরও বেশি অনড় হয়ে ওঠে, তাদের জন্য যেকোনো বড় ধরনের পরিবর্তন মানেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে," বলেন তিনি।
আবারও প্রধান হুমকি ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তিত হয় মূলত "আব্রাহাম অ্যাকর্ডস" চুক্তি স্বাক্ষরের পর।
এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং পরবর্তীতে মরক্কো- ইসরায়েলের সাথে নিজেদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।
এই নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থায় ক্রমেই বেশ কিছু আরব রাষ্ট্রের সাধারণ শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হতে থাকে ইরান।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সৌদি আরবও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল, যদিও এই চুক্তির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফিলিস্তিন ইস্যুটি।
এখন মূল প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের পর কী ঘটবে? তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা- যা দুর্বল হলেও এখনও টিকে আছে এবং হয়তো আরও বেশি বিপজ্জনক- সেটিই কি বহাল থাকবে, নাকি ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে?
বিশেষজ্ঞ ব্যালানশ মনে করেন, "ঘটনাপ্রবাহ যেদিকেই যাক না কেন, একটি বিষয় পরিষ্কার যে- ইরানের পক্ষে খুব শিগগিরই তার অতীত ক্ষমতার স্তরে ফিরে যাওয়া অসম্ভব বলেই মনে হয়।"
তিনি আরও যোগ করেন, "বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকুক বা নতুন কোনো নেতৃত্ব আসুক- ইরানকে তার প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে, যা শাহ শাসনামলে ছিল। যখন ইরান কার্যকরভাবে মধ্যপ্রাচ্যের "পুলিশম্যান" বা প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করত।"
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
কারাবন্দী ইরানি মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার পরিবার ও নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তেহরানে স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার ভাই হামিদরেজা মোহাম্মদি জানান, হৃদরোগজনিত জটিলতায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, মার্চের শেষ দিক থেকে অসুস্থতা শুরু হলেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় গত ১ মে তাকে উত্তর-পশ্চিম ইরানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তিনি তীব্র মাথাব্যথা, বমিভাব ও বুকে ব্যথায় ভুগছেন। তার ভাই বলেন, “আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তার হৃদ্যন্ত্র নিয়ে।” তিনি অভিযোগ করেন, যে প্রাদেশিক হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা চলছে, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের দাবি, তার পূর্বের চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকায় তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে পরিবার এবং নোবেল কমিটি তাকে তেহরান-এ স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মৃত্যুদণ্ড বিলোপের দাবিতে আন্দোলনের জন্য ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান নার্গিস মোহাম্মদি। তবে মানবাধিকার ইস্যুতে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে বহুবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গেছে, তিনি জীবনে ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের সাজা পেয়েছেন। ২০২১ সালে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৩ বছরের সাজা ভোগ শুরু করেন তিনি, যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং গোপনীয়তার সঙ্গে তার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশের সময় ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা নিজেই বিষয়টি সামনে আনেন। এর মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটেছে। সরকারি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে তার একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। যদিও তখন বিষয়টি প্রকাশ করা হলেও ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় তার প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম আকারের একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়ায় সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে তার শরীরে ক্যানসারের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সব পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও জানান, প্রোস্টেটের সমস্যাটি ছিল সামান্য এবং তা পুরোপুরি নিরাময় হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্টটি দুই মাস আগেই প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত করা হয়। এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার অসুস্থতার খবর শত্রু রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে ইরান প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তথ্য প্রকাশে দেরি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পূর্ণ কর্মক্ষম রয়েছেন বলে জানানো হলেও, তার এই গোপনীয়তা রক্ষা করার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে আজ এক মহাসন্ধিক্ষণ। শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ভোটযুদ্ধ। এবারের নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন এটি 'অস্তিত্ব রক্ষার' লড়াই, তেমনই বিরোধী দল বিজেপির জন্য এটি রাজ্যপাট 'দখলের' চূড়ান্ত পরীক্ষা। তৃণমূলের লক্ষ্য চতুর্থ জয় : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের নির্বাচনে ২১৫টি আসনে জিতে বিপুল জনমত নিয়ে তারা প্রত্যাবর্তন করেছিল। ২০২৬-এ এসে ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য টানা চতুর্থবারের মতো নবান্ন দখল করা এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা। বিজেপির মরণপণ লড়াই : অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এবার ক্ষমতা হস্তান্তরে মরিয়া। গত বিধানসভা নির্বাচনে তারা ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। যদিও পরবর্তীতে উপনির্বাচন ও দলবদলের কারণে সেই সংখ্যা ৭৫-এ নেমে আসে। এবার গেরুয়া শিবির সেই ক্ষতি পুষিয়ে রাজদণ্ড নিজেদের হাতে নিতে সবটুকু শক্তি নিয়োগ করেছে। অস্তিত্ব সংকটে বাম-কংগ্রেস : বিগত নির্বাচনে বিধানসভায় খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়া বাম দল এবং কংগ্রেসের জন্য এবারের লড়াই মূলত শূন্যস্থান পূরণের। বিধানসভায় নিজেদের প্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। দলবদলের রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ মেরুকরণের মাঝে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা ভারি করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে শেষ হাসি কে হাসছেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি পদ্ম শিবির।