ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর অনীহা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ফ্লোরিডার মায়ামিতে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। ট্রাম্প বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি ওয়াশিংটন। হামলার পর ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশের বিরোধিতাও সামনে এসেছে।
বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ন্যাটোর পাশে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তার ভাষায়, যদি মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দেয়, তবে তাদের প্রতি একই ধরনের সমর্থন দেখানো কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্ন উঠছে।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প ন্যাটো জোটের ভেতরে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
কানাডায় চলতি বছরে অভিবাসন ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির স্থায়ী বাসিন্দা বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিদেশি কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রায় ২৯ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ তালিকায় কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। অভিবাসনসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, চলতি বছরে কানাডা মাত্র তিন লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অথচ দেশটিতে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী বাসিন্দা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে চলতি বছরে ১০ লাখের বেশি মানুষের কানাডায় বৈধভাবে অবস্থানের পথ সংকুচিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটধারীরা। তাঁদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও এই পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কানাডার স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও খাদ্যশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রেখে আসছেন। তথ্য অনুযায়ী, কানাডার মোট অস্থায়ী বাসিন্দাদের প্রায় অর্ধেকই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত। ফলে এই সংকটের প্রভাব দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে পড়তে পারে। বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং কর্মীরাও এর বাইরে নন। এদিকে ওয়ার্ক পারমিটধারীদের জন্য স্টাডি পারমিট ছাড়া পড়াশোনার যে বিশেষ সুযোগ চালু ছিল, তা আগামী ২৭ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই তাঁদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ এবং ভবিষ্যৎ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতি ও উন্নয়নকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে অস্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকের ভবিষ্যৎ। অভিবাসনবিষয়ক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সরকারের বর্তমান নীতির লক্ষ্য অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাঁদের ধারণা, এ নীতির ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে কানাডা ছাড়তে হতে পারে।
পশ্চিম ইউরোপে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ আঘাত হেনেছে। এই পরিস্থিতি নতুন করে সামনে এনেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা—গত তিন দশকে বিশ্বের অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়েছে ইউরোপ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপের গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়েছে। এই হার বৈশ্বিক গড় উষ্ণায়নের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তবে ইউরোপে তাপমাত্রা অন্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত বাড়ার পেছনে আরও কয়েকটি আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক কারণও কাজ করছে। ইউরোপের উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের বরফে আচ্ছাদিত ছিল। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেই বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। বরফ সরে যাওয়ায় উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে সাগরের গাঢ় রঙের জলরাশি, যা বরফের তুলনায় অনেক বেশি সূর্যতাপ শোষণ করে। ফলে উত্তর ইউরোপ ও আর্কটিক সংলগ্ন অঞ্চলে উষ্ণায়ন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে ‘আর্কটিক অ্যামপ্লিফিকেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইউরোপে শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এতে বাতাসে অ্যারোসল নামে পরিচিত সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ কমেছে। অ্যারোসল সূর্যের কিছু তাপ মহাকাশে প্রতিফলিত করতে সাহায্য করে। ফলে এই কণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি সৌর বিকিরণ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে তুষারপাতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সর্বোচ্চ তুষারপাতের মৌসুমেও তুষারের পরিমাণ গড়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম ছিল। তুষারের সাদা আবরণ সাধারণত সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। কিন্তু তুষার কমে যাওয়ায় উন্মুক্ত মাটি বেশি তাপ শোষণ করছে। বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। ইউরোপের দ্রুত উষ্ণায়নের সঙ্গে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী ‘জেট স্ট্রিম’-এর পরিবর্তনেরও সম্পর্ক রয়েছে। উত্তর গোলার্ধের আবহাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে উষ্ণ নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং শীতল উত্তর মেরুর তাপমাত্রার পার্থক্যের ওপর। কিন্তু মেরু অঞ্চলে দ্রুত উষ্ণায়নের কারণে এই পার্থক্য কমে আসছে। ফলে জেট স্ট্রিমের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন বলে উল্লেখ করেন। এর ফলে উচ্চচাপের গরম বায়ু দীর্ঘ সময় ধরে একটি এলাকায় আটকে থাকতে পারে এবং কয়েক দিনের গরম রূপ নিতে পারে সপ্তাহব্যাপী তীব্র তাপপ্রবাহে। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিম ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তীব্র ও পুনরাবৃত্ত তাপপ্রবাহের অন্যতম কারণ এই ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন। বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি এই প্যাটার্নের ঘনঘন উপস্থিতির জন্য দায়ী কি না। তবে তারা একমত যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন প্রায় এক মাস স্থায়ী ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহ হয়তো তত দীর্ঘস্থায়ী হবে না, কিন্তু ইতোমধ্যেই বহু অঞ্চলে তাপমাত্রার পুরোনো রেকর্ড বড় ব্যবধানে ভেঙে গেছে। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী লিজি কেন্ডনের ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হওয়া এখন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চলতি তাপপ্রবাহে যে মাত্রায় পুরোনো রেকর্ড ভাঙছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে পাঠানো এক বার্তায় এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই বার্তায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, এই দুর্যোগের সময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য জরুরি ত্রাণ, চিকিৎসা সামগ্রী ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পাঠাতে ইরান প্রস্তুত। তিনি ভূমিকম্পকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ঐক্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ এবং বহু ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।