নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে তাকে তার বাসভবন থেকে আটক করা হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। ওই সহিংস ঘটনার সঙ্গে ওলির কোনো দায় রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। তবে পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষও এতে যুক্ত হয়। আন্দোলনের শুরুর দিনেই দমন-পীড়নের মধ্যে অন্তত ১৯ জন তরুণ নিহত হন।
ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)-এর জ্যেষ্ঠ নেতা মিন বাহাদুর শাহি জানান, সকালে তার বাসভবন থেকে ওলিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারীও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন্দ্র শাহ। তিনি গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ওলি সরকারের পতনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিনই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হলো।
সরকার-সমর্থিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং এতে অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণে একটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা’ কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সংস্থাটির পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শুক্রবার ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হতে পারে। তবে ইরান ধারাবাহিকভাবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। রাফায়েল গ্রোসি বলেন, “ইরান জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা নয়। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যত দ্রুত সম্ভব আমাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, আইএইএর দায়িত্ব কোনো দেশের উদ্দেশ্য নিয়ে মূল্যায়ন করা নয়। তবে কেবল মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো বিষয় গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় সব স্থানে যাচাই-বাছাই চালানোর সুযোগ থাকতে হবে। এদিকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুনে ১২ দিনব্যাপী সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে এসব স্থাপনার পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছিল। তবে সেপ্টেম্বরে দেশটি পুনরায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়। এর পর আইএইএর কর্মকর্তারা ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন। তবে হামলার শিকার স্থাপনাগুলোতে এখনও পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর মধ্যে’ বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান, জাতিসংঘের পরিদর্শন কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পরিচালিত আন্তঃসীমান্ত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ নিহত ছয় ভারতীয় সেনাসদস্যের নাম প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমে ওই অভিযানে নিজেদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রথমবার জনসমক্ষে স্বীকার করল দেশটি। নিহত সেনাসদস্যদের নাম নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের ‘রোল অব অনার’ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতিসৌধের দেয়ালে তাঁদের নাম খোদাই করা হয়েছে। দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গকারী এসব সেনাসদস্যকে সম্মান জানাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপারেশন সিন্দুরে নিহত ছয় সেনাসদস্য হলেন হেডকোয়ার্টার্স ১০ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের সুবেদার মেজর পবন কুমার, ৪ জম্মু ও কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রির রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (বীর চক্র), ৫ ফিল্ড রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার, ৮৫১ লাইট রেজিমেন্টের এভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুড মুরলীনায়েক, ২৩৭ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানির হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ৩৯ উইংয়ের সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার (বায়ু সেনা মেডেল)। স্মৃতিসৌধের ‘ওয়াল থ্রি-ডি’-তে ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত অংশে তাঁদের নাম সংযোজন করা হয়েছে। জাতীয় বীরদের স্মরণে নির্মিত এ স্মৃতিসৌধে তাঁদের অবদান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ হলো। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনব্যাপী সংঘাত চলাকালে ভারতীয় বাহিনীর হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এতদিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভারত সরকার প্রথমবারের মতো ওই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করল। এর আগে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটকসহ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর, ৭ মে ভোরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। ভারতের দাবি অনুযায়ী, এ অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অন্তত নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল জয়শ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার অবকাঠামো ধ্বংস করা। পরবর্তীতে ১০ মে দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) পর্যায়ের আলোচনার পর সামরিক তৎপরতা বন্ধে সম্মত হয় ভারত ও পাকিস্তান। প্রকাশিত তালিকা থেকে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী উভয় বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এটি অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। নিহতদের মধ্যে রাইফেলম্যান সুনীল কুমারকে বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বীর চক্র’ এবং সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমারকে ‘বায়ু সেনা মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ইন্ডিয়া গেটের কাছে উদ্বোধন হওয়া ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে এখন অপারেশন সিন্দুরও ভারতের উল্লেখযোগ্য সামরিক অভিযানের তালিকায় স্থান পেল।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা ইরান নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ইরানি তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহে সাময়িক ছাড় দেওয়ার পর দেশটির অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে আগামী এক দশকের মধ্যে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের জন্য ইরানি খনিজ তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহে অনুমতি দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন শোধনাগারগুলো সরাসরি ইরানি তেল কিনতে পারবে, ডলারে লেনদেন করতে পারবে এবং পূর্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত ট্যাংকার থেকেও তেল গ্রহণের সুযোগ পাবে। ১৯৮০ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ইরানের তেল কেনা নিষিদ্ধ করে। পরে ধাপে ধাপে কঠোরতর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিলে আবারও কঠোর অবরোধ ফিরে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ছাড় আগের যেকোনো শিথিলতার তুলনায় অনেক বিস্তৃত। এর ফলে ইরানের তেল খাত আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ইতোমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেও যেখানে রপ্তানি প্রায় স্থবির ছিল, সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে। ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ থেকেও জাহাজে তেল বোঝাইয়ের হার বেড়েছে। যদিও যুদ্ধের আগে দেশটি দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত, সেই পর্যায়ে ফিরতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে। কেন ধনী হতে পারে ইরান? বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে শিথিল থাকলে ইরান কয়েকটি বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। প্রথমত, দেশটির তেল ও গ্যাস রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি মজুতের মালিক ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি ক্রেতা আকর্ষণ করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং ও লেনদেনের জটিলতা কমে গেলে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি থেকে দেশটির আয় বাড়বে। তৃতীয়ত, বর্তমানে অবরুদ্ধ থাকা বিদেশি সম্পদ ও তহবিল ধীরে ধীরে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। চতুর্থত, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্ভাব্য ট্রানজিট ও নৌ-পরিচালনা আয়ের সুযোগও ইরানের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে। নতুন ক্রেতার অপেক্ষায় তেহরান গত কয়েক বছরে ইরানের অধিকাংশ তেল গেছে চীনের ছোট স্বাধীন শোধনাগারগুলোতে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকলে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পুরোনো ক্রেতারাও আবার বাজারে ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কারণ তারা নিশ্চিত হতে চায় যে বর্তমান ছাড় সাময়িক নয় এবং ভবিষ্যতে হঠাৎ করে আবার নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসবে না। এ ছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল থাকায় আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে? ওয়াশিংটনের আশা ছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে, চীনের ওপর ইরানের নির্ভরতা কমবে এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা সহজ হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা নেই। বরং ইরান ইতোমধ্যেই বাড়তি অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে শুরু করেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত কৌশলগত সুবিধা এখনো স্পষ্টভাবে পায়নি। সামনে কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি বর্তমান নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকে এবং ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে পূর্ণমাত্রায় ফিরতে পারে, তাহলে তেল রপ্তানি, ট্রানজিট আয়, অবমুক্ত সম্পদ এবং সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ মিলিয়ে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের উত্থান দেখতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে আগামী দশকের মধ্যে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।