বাংলাদেশ

স্ত্রী ইকরার মৃত্যুর মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৫:৫৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, যিনি জাহের আলভী নামে পরিচিত, তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন দুপুর দেড়টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন জাহের আলভী। পরে শুনানি শুরু হলে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেন। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়াসহ একাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান।

 

জামিন আবেদনে জাহের আলভীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। আবেদনে বলা হয়, প্রেমের বিয়ে নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিহিংসাবশত মামলাটি করা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।

 

আসামিপক্ষের দাবি, মামলাটি দায়েরের সময় জাহের আলভী দেশে ছিলেন না। ঈদ উপলক্ষে নাটকের কাজের জন্য তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে শুনানি শেষে আদালত এসব যুক্তি গ্রহণ না করে জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান তারা।

পরে স্বজন ও বাড়ির মালিক মিলে দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়।

 

ঘটনার পরদিন রাতে ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ রাজধানীর সংশ্লিষ্ট থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহের আলভী ছাড়াও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা চরম মানসিক চাপে ছিলেন এবং সেই পরিস্থিতির কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন জাহের আলভী ও তার পরিবার। তাদের দাবি, মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।

এদিকে ঘটনাটি নাট্যাঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে এর কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
ছবি: সংগৃহীত
রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় নতুন অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে অংশীদারত্ব নবায়ন করে অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য জরুরি সহায়তা, সুরক্ষা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন মানবিক সেবা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীরও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।   ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নতুন তহবিলের আওতায় শুধু শরণার্থীরাই নয়, কক্সবাজারের প্রায় ৭০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাও উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংস্থাটি বলছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমাতেও এসব কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে।   নতুন অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যয় করা হবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে। এর আওতায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজি ব্যবহারের ফলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের প্রয়োজন কমে যায়। এতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি বন উজাড়ও কমানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ধোঁয়াজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমে আসে।   বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ফলে শুধু খাদ্য, আশ্রয় বা জরুরি সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে।   তিনি বলেন, “আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন সক্ষমতা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন।” অন্যদিকে ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন এই দীর্ঘ মানবিক সংকটের সময়ে সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   তিনি বলেন, “ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।” উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির কক্সবাজারে অবস্থান করছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা।   রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ২০২৫-২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) অনুযায়ী, চলতি বছরে শরণার্থীদের জরুরি চাহিদা পূরণে প্রায় ৭১ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত পুরো অর্থের সংস্থান হয়নি।   এ অবস্থায় ইউএনএইচসিআর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতি ও ধারাবাহিক অর্থায়ন অপরিহার্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৭:৩৬
ছবি: সংগৃহীত

৮০% ছেলেকে ‘আনফিট’ বলে ছাত্রীকে লিভ টুগেদারের প্রস্তাব দিলেন খুবি অধ্যাপক

ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী ইকরার মৃত্যুর মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত

রাবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ প্রদর্শনী ঘিরে সংঘর্ষ, হল সংসদের জিএস আহতের অভিযোগ

বিকেএসপি ঘুরে বিভিন্ন বিভাগের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন জাইমা রহমান। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
এত প্রতিভা ও দক্ষ কোচ থাকার পরও কেন আন্তর্জাতিক পদক কম? প্রশ্ন তুললেন জাইমা রহমান

প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ও নিবেদিতপ্রাণ কোচ থাকার পরও বাংলাদেশ কেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি পদক জিততে পারছে না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত মতামত প্রকাশ করেছেন।   জাইমা রহমান লিখেছেন, ফুটবল, ক্রিকেট, জুডো, অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন ক্রীড়া শাখায় বাংলাদেশের অসংখ্য জাতীয় ক্রীড়াবিদ বিকেএসপি থেকে উঠে এসেছেন। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি দেশের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, বিকেএসপিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিভার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আনন্দময় পরিবেশ এবং চারিত্রিক গুণাবলি তাকে মুগ্ধ করেছে। শিক্ষক, কোচ, চিকিৎসক দল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে তরুণ ক্রীড়াবিদদের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন।   তবে এত প্রতিভা ও দক্ষ প্রশিক্ষক থাকার পরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসার বিষয়টি তার মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   জাইমা রহমানের মতে, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রয়োজন। অল্প বয়স থেকেই বিভিন্ন পরিবেশে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলে তাদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।   তিনি আরো লিখেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত। তারা বিশ্বের সেরাদের বিরুদ্ধে নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করতে চায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা বহন করে সাফল্য বয়ে আনতে আগ্রহী।   পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, স্পোর্টস সায়েন্স এবং পুনর্বাসন সহায়তা।   একই সঙ্গে শিক্ষা ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে যেন একাডেমিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে একটি বেছে নিতে না হয়। বরং উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একাডেমিক মান বজায় রেখেও অ্যাথলেট-কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশেরও নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা প্রয়োজন।   পোস্টের শেষে বিকেএসপির শিক্ষক, কোচ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন গর্বিত বাংলাদেশি হওয়ার আরও একটি কারণ এনে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১৫:৪৮

আইফোন চুরির অপবাদে হোস্টেলে স্কুলছাত্রকে ‘পিটিয়ে হত্যা’ অভিযোগ

ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি জুন কিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি

ছবি:সংগৃহীত
দিল্লি বিমানবন্দরকাণ্ডে ভারতের কাছে জবাব চাইল বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘অপ্রত্যাশিত ও দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।   ঘটনার পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি দায়িত্বে সফরে থাকা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে এমন আচরণ দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের বিষয়।   জানা গেছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহযোগিতা বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নিতে ড. জাহেদ উর রহমান দিল্লি পৌঁছান। বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় তার নাম বিশেষ পর্যবেক্ষণ তালিকায় আসায় তাকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি সফর অব্যাহত না রেখে বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রকাশ্যে এ ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন।   ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অতীতের কিছু বক্তব্য ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তাকে অতিরিক্ত সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশ ও ভারত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি, কথিত ‘পুশ-ইন’, অনিয়মিত অভিবাসন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত টহল জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও সীমান্ত-সংক্রান্ত কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।   কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও মাঝে-মধ্যে উদ্ভূত এ ধরনের ঘটনা পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হয় এবং দুই দেশ পরবর্তী সময়ে কী বার্তা দেয়, সেদিকে নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৬:৩৭
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত

রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে আটকে ছয় বাংলাদেশি, ভারত থেকে পুশ-ইনের অভিযোগ

0 Comments