ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও। এতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির একটি শুভেচ্ছা বিনিময়ের মুহূর্ত দেখা যায়, যা নিয়ে নেটদুনিয়ায় চলছে নানা ব্যাখ্যা ও আলোচনা।
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির ফাঁকে ধারণ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের সঙ্গে কথা বলছিলেন জেলেনস্কি। ঠিক সেই সময় সেখানে এসে পৌঁছান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একপর্যায়ে দুই নেতা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ব্যবহারকারী তাদের শরীরী ভাষা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের ধরন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শুরু করেন। কেউ কেউ ঘটনাটিকে বিব্রতকর মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আবার অনেকে বলেছেন এটি ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত স্বাভাবিক সামাজিক অভিবাদনের অংশ।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন নেতা একে অপরের কাছে এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং এরপর স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের কাজে ফিরে যান। তবে কয়েক সেকেন্ডের এই দৃশ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে বিশ্বনেতাদের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আচরণ প্রায়ই জনসাধারণের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। অনেক সময় একটি ছোট্ট মুহূর্তও সামাজিক মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার জন্ম দেয়।
এদিকে জি-৭ সম্মেলনে আরেকটি মুহূর্তও আলোচনায় এসেছে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বনেতাদের ভিড়ের মধ্য থেকে মেলোনি এগিয়ে এসে মোদির সঙ্গে করমর্দন করেন। এরপর দুজনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলাপ হয় এবং একপর্যায়ে হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশ তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময় দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন হয়। সামাজিক মাধ্যমে তাদের পূর্ববর্তী কিছু ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে এই সাক্ষাৎও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এবারের জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে বিশ্বনেতাদের কিছু অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তও জনসাধারণের আগ্রহ কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা সামনে এলেও সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে ভিডিওটি ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে কয়েক সেকেন্ডের এই দৃশ্য যে জি-৭ সম্মেলনের রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বিনোদনপ্রেমী ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছেও বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে, তা বলাই যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে জাপানি সমর্থকদের একটি পরিচিত দৃশ্য আবারও আলোচনায় এসেছে। খেলা শেষে স্টেডিয়ামে পড়ে থাকা আবর্জনা নিজেরাই পরিষ্কার করে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা। তবে এবার সেই প্রশংসার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ভিন্ন ধরনের বিতর্ক। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপানের বিশ্বকাপ ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা যায় জাপানি সমর্থকদের। বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে তাদের এই আচরণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রশংসিত হয়ে আসছে। দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণের উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই তাদের উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে একদিকে দেখা যায়, একজন জাপানি ফুটবল সমর্থক স্টেডিয়ামের আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। অন্যদিকে একটি ঘরোয়া দৃশ্যে একজন নারী বাসন ধুচ্ছেন, আর জাতীয় দলের জার্সি পরা একজন পুরুষ সোফায় আরাম করে বসে আছেন। ছবিটির নিচে লেখা ছিল, “অনুগ্রহ করে ঘরেও এটি করুন।” সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই মিমটি হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে। অনেকেই এটিকে জাপানি সমাজে গৃহস্থালি কাজের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। মিমটির মূল বার্তা হলো, স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার মতো দায়িত্বশীল আচরণ যদি প্রশংসার যোগ্য হয়, তাহলে একই দায়িত্ববোধ ঘরের কাজেও দেখা উচিত। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাজার করা, শিশু লালন-পালন এবং অন্যান্য অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের ক্ষেত্রে পুরুষদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালি কাজের ক্ষেত্রে জাপানি পুরুষদের অংশগ্রহণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে নিচের দিকে রয়েছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও সরকারি তথ্য বলছে নারী ও পুরুষের মধ্যে গৃহস্থালি কাজের ব্যবধান এখনও উল্লেখযোগ্য। জাপান সরকারের ২০২১ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, পুরুষরা দৈনিক গড়ে ৫১ মিনিট গৃহস্থালি ও পরিচর্যাসংক্রান্ত কাজে ব্যয় করেন। অন্যদিকে নারীরা একই ধরনের কাজে প্রতিদিন গড়ে ৩ ঘণ্টা ২৪ মিনিট সময় দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়লেও পরিবারে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে এখনও ঐতিহ্যগত ধ্যানধারণার প্রভাব রয়েছে। ফলে অনেক পরিবারে গৃহস্থালি কাজের বড় অংশ নারীদের ওপরই থেকে যায়। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাল হওয়া এই মিমটি কেবল একটি হাস্যরসাত্মক ছবি নয়; বরং এটি জাপানি সমাজে লিঙ্গভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে চলমান আলোচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এদিকে অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী মনে করেন, স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার জন্য জাপানি সমর্থকদের প্রশংসা করা উচিত, তবে একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। বিশ্বকাপের মাঠে জাপানি সমর্থকদের ইতিবাচক আচরণ যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি একটি ভাইরাল মিম দেশটির সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। ফলে ফুটবল মাঠের বাইরেও জাপানের সমাজব্যবস্থা ও পারিবারিক সংস্কৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু উত্তোলন ও পরিবহন ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং, যিনি লাল্লা সিং নামেও পরিচিত। এছাড়া বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিং নামের আরও দুজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে বালু মহাল পরিচালনা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন ভারত সিং। তবে তার পরিবারের অভিযোগ, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং তাকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত সিং ও তার সহযোগীরা একটি ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের গাড়ির সামনে ও পেছনে একাধিক ট্রাক দাঁড় করিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে গাড়িটিতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গাড়ির ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন মায়াঙ্ক সিং নামের আরও একজন। তাকে বিলাসপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী এবং মন্নু ত্রিপাঠী। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, কোরিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। নিহত ভারত সিংয়ের পরিবারের হাতে ওই এলাকার বালু মহালের ইজারা ছিল। অন্যদিকে স্থানীয় আরেক বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও প্রভাব বিস্তারসংক্রান্ত বিরোধ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বালু পরিবহন, খনি ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে তা আধিপত্য বিস্তার ও সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। কোরিয়া জেলার স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে বলেন, জেলার ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। ছত্তিশগড়ের সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরোও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেছেন, ঘটনার বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটির পেছনে প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। ছত্তিশগড়ের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনি ব্যবসা ঘিরে বিরোধ অনেক সময় কতটা সহিংস রূপ নিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আসছে। দেশটির সরকার অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং নিয়মতান্ত্রিক করতে বিভিন্ন নীতিমালায় সংশোধন ও পরিমার্জন করছে। ফলে যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, নতুন করে ভিসার আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন কিংবা কর্মী স্পনসরশিপের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো আবেদন প্রক্রিয়ার জট কমানো, নিয়মের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। শিক্ষার্থী ভিসা আপিলে আসছে বড় পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন বাতিল হলে এতদিন আপিল প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে শুনানির জন্য আবেদনকারীদের সরাসরি উপস্থিতও হতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা ট্রাইব্যুনাল (এআরটি) জমা দেওয়া নথি ও প্রমাণপত্র পর্যালোচনা করে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ফলে আবেদনকারীদের সরাসরি শুনানিতে অংশগ্রহণের প্রয়োজন কমে আসবে এবং নিষ্পত্তির সময়ও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অতীতে কিছু আবেদন নিষ্পত্তি হতে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগত। নতুন ব্যবস্থার ফলে সেই দীর্ঘসূত্রতা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরু থেকেই আবেদনপত্র ও সহায়ক কাগজপত্র নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ৪০৭ প্রশিক্ষণ ভিসায় বাড়তি নজরদারি অস্ট্রেলিয়ার ৪০৭ প্রশিক্ষণ ভিসাধারীদের কার্যক্রমের ওপরও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন এবং যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের স্পনসর করছে, তাদের কার্যক্রম এখন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি কর্মস্থলে গিয়ে যাচাই করছেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং ভিসার শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং প্রকৃত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিশ্চিত করতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে স্পনসর প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে। রিজিওনাল স্পনসরশিপে বাড়ছে ন্যূনতম বেতনসীমা অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক বা রিজিওনাল এলাকায় দক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত সাবক্লাস ৪৮২ ও ৪৯৪ ভিসার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। আগামী জুলাই থেকে এসব কর্মীর জন্য ন্যূনতম বার্ষিক বেতনসীমা প্রায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারে উন্নীত করা হবে। এর ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, স্থানীয় রেস্তোরাঁ এবং আঞ্চলিক এলাকার নিয়োগদাতাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এসব অঞ্চলে সাধারণত বেতন কাঠামো বড় শহরের তুলনায় কিছুটা কম হয়ে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বেতনসীমা দক্ষ কর্মীদের জন্য ইতিবাচক হলেও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ ব্যয় বাড়াবে। স্কিল অ্যাসেসমেন্টে ভাষা সহজ, তবে সময় লাগছে বেশি দক্ষ পেশাজীবীদের যোগ্যতা মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকা ট্রেড রিকগনিশন অস্ট্রেলিয়া (টিআরএ) তাদের স্কিল অ্যাসেসমেন্ট নির্দেশিকাগুলোর ভাষা আরও সহজ করেছে। এর ফলে আবেদনকারীদের জন্য নিয়মগুলো বোঝা সহজ হবে। তবে মূল যোগ্যতা বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি। অন্যদিকে আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে স্কিল অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হতে প্রায় চার মাস পর্যন্ত সময় লাগছে বলে জানা গেছে। পারিবারিক ও প্যারেন্ট ভিসার কোটা ঘোষণা আগামী অর্থবছরের জন্য পারিবারিক পুনর্মিলনভিত্তিক ভিসা কর্মসূচিতেও আসনসংখ্যা নির্ধারণ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর মধ্যে কন্ট্রিবিউটিং প্যারেন্ট ভিসার জন্য ৬ হাজার ৮০০টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাদের বাবা-মাকে দেশটিতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিয়মতান্ত্রিক করার উদ্যোগ সামগ্রিকভাবে নতুন পরিবর্তনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ এবং দক্ষ আবেদনকারীদের জন্য উপযোগী করে তুলতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মের এই পরিবর্তন শুরুতে কিছুটা জটিল মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি আবেদনকারীদের জন্য একটি আরও সুশৃঙ্খল ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। তাই নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং নিয়ম মেনে আবেদন করাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হবে।