বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০ বৃত্তির ঘোষণা সৌদি আরবের
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০টি শিক্ষাবৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।
রাষ্ট্রদূত জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে সৌদি সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্রমবাজারে প্রবেশ আরও সহজ করার বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান যেকোনো নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত দূর করতে উভয় পক্ষই সম্মতি প্রকাশ করেছে। এছাড়া হজ ও ওমরাহ পালন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি সে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে তাদের পাঠানো বিপুল রেমিট্যান্স বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও বড় ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিনের এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে উভয় দেশের সরকারই বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। সাক্ষাতকালে সৌদি প্রতিনিধিদলের পক্ষে ভাইস অ্যাম্বাসাডর খালিদ সাঈদ এম আল হাদাল এবং কনস্যুলার সেকশনের ডেপুটি হেড মুহাম্মদ ফাহাদ ধি. আল সুহাইমিও উপস্থিত ছিলেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে একই পরিবারের বাবা ও তিন ছেলেকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার প্রায় ৪০ দিন পরও তাদের খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। পুলিশের দাবি, চারজনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের পর বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পরিবার বলছে, তারা ভারতীয় নাগরিক। সংবাদমাধ্যম স্ক্রলও বিএসএফ সত্যিই তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়েছে কি না স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। নিখোঁজ চারজন হলেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার বালিয়াঘাটি গ্রামের ৬০ বছর বয়সী দাবলু শেখ এবং তার তিন ছেলে—২৯ বছর বয়সী কায়েম শেখ, ২০ বছর বয়সী রাজাউল শেখ ও ১৬ বছর বয়সী আসমাউল শেখ। দাবলুর স্ত্রী জাহানারা বিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ অথবা ১৪ আগস্ট সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে এসে প্রথমে তার স্বামীকে নিয়ে যান। পরে তিন ছেলেকেও আটক করা হয়। এরপর থেকে স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোটার তালিকার তথ্য। স্ক্রল জানিয়েছে, দাবলু শেখ এবং তার ছেলে কায়েম শেখ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পরও তালিকাভুক্ত ছিলেন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। স্ক্রল তাদের নাম ভোটার তালিকায় স্বাধীনভাবে যাচাই করেছে। আরও পুরোনো নথিতে দাবলুর বাবা শেখ সামজানির নাম ১৯৬৬ ও ১৯৯৫ সালে সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ বা মাসুমের দাবি, চারজনের কাছে আধার কার্ড, রেশন কার্ডসহ ভারতে বসবাসের বিভিন্ন নথিও রয়েছে। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়ে তাদের আটক, ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং কথিতভাবে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মাসুম বলছে, পরিবারের দীর্ঘদিনের ভারতে বসবাস ও ভোটার তালিকার তথ্য থাকার পরও তাদের বিদেশি ঘোষণার আগে স্বচ্ছ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে সুতি থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অভিজিৎ বসু মল্লিক স্ক্রলকে বলেছেন, চারজনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের বাংলাদেশে ‘ডিপোর্ট’ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফরেনার্স আইনের অধীনে মামলার প্রয়োজন ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনার আওতায় তাদের আটক করে জঙ্গিপুরের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। পরিবার পুলিশের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। জাহানারা বিবি বলেন, পুলিশ তাদের কাছে বাংলাদেশের কোনো কাগজপত্র আছে কি না জানতে চেয়েছিল। পরিবারের দাবি, তাদের বাংলাদেশের কোনো নথি নেই এবং তারা কখনো বাংলাদেশেও যাননি। তবে ভোটার কার্ড, আধার বা রেশন কার্ড থাকা একাই কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে না; এই চারজনের নাগরিকত্বের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। মুর্শিদাবাদে একই ধরনের আরও অভিযোগ দাবলু শেখের পরিবারের ঘটনাটি সামনে আসার আগেও মুর্শিদাবাদে একই ধরনের বেশ কয়েকটি আটক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্ক্রলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অন্তত ১০ মুসলিম পুরুষ ও দুই শিশুকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করেছিল। দাবলু ও তার তিন ছেলের ঘটনা যুক্ত হলে এমন আটকের সংখ্যা ১৬-তে পৌঁছায়। কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে বা বাড়ি থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা তাদের স্বজনদের নিয়ে গেছেন এবং নাগরিকত্বের পক্ষে নথি উপস্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। এর আগের ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্তত চারজন বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাচাই পেরিয়েছিলেন বলে স্ক্রলের অনুসন্ধানে উঠে আসে। কয়েকজন সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। আবার অন্তত একটি ঘটনায় বিএসএফ এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা গ্রহণ না করে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ নথির বরাতে জানানো হয়েছে। প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্টও এ ধরনের আটকের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টও সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের ৩৯ বছর বয়সী সাহিদুল শেখকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার আরেক ঘটনায় পুলিশকে হলফনামা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে বলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। কেন তাকে আটক করা হয়েছিল এবং ৮ আগস্ট আটকের পর রাজ্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছেও প্রতিবেদন চাওয়া হয়। স্ক্রলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই শুনানিতে আদালত মানবাধিকারের প্রশ্নও তোলে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিদেশি সন্দেহ করার ভিত্তি কী এবং নাগরিকত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আগের একটি রায়ের প্রসঙ্গও আইনজীবীরা তুলেছেন। ২০২৪ সালের রহিম আলী মামলার রায়ে আদালত বলেছিল, কাউকে বিদেশি বলে অভিযোগ করার ভিত্তি যে তথ্য বা উপাদান, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হবে—যাতে তিনি অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ পান। সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ নিয়েও বিতর্ক শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক ও সীমান্তের দিকে পাঠানোর অভিযোগ এসেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জুনে অভিযোগ করেছিল, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কিছু বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি একাধিক ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা সন্দেহভাজন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের মে মাসে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কথিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন এবং শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে স্ক্রল জানিয়েছে। দাবলু শেখ ও তার তিন ছেলের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাদের বর্তমান অবস্থান। পুলিশ বলছে, তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিএসএফের কাছ থেকে সেই দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি এবং পরিবার বলছে, প্রায় ৪০ দিন ধরে তারা জানেই না চারজন কোথায় আছেন। জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপারের কাছেও মন্তব্য চেয়েছে স্ক্রল; সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত জবাব পাওয়া যায়নি।
পরামর্শ নিতে গিয়ে জজের সাথে প্রেম, বিয়ে, এবার বিচারক হওয়ার পথে চৈতি
নাটোরে ১০৬ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
পাসপোর্ট হারানো, চুরি হওয়া কিংবা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পুনঃইস্যুর নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা গত ২১ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনা জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও ‘হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত’ নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে শুধু জরিমানাই নয়, হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য জানানোর প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার পর দ্রুত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে। জিডি করার পর সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এর সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। তবে ওই সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন না পৌঁছালে আবেদনকারী জিডির কপি সংযুক্ত করেই পুনঃইস্যুর আবেদন করতে পারবেন। এরপর পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। সরকার বলছে, পাসপোর্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ দলিল। হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর সেটি বাতিল বা ‘রিভোক’ করা হলে পরে খুঁজে পাওয়া গেলেও সেটি আর সক্রিয় করা যাবে না। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণও করা যাবে না। পরে পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে থানার পাশাপাশি নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে। হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে এর ডেটা পেজে আগের পাসপোর্ট হারানোর তথ্য উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডেটাবেজে পুরোনো পাসপোর্টের অবস্থা ‘হারানো’ বা ‘বাতিল’ হিসেবে হালনাগাদ করা হবে। পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ এবং বাবা-মায়ের নামের মতো মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করা যাবে না। তবে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী বৈধ সংশোধনের সুযোগ আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও নিয়ম প্রযোজ্য। বিদেশে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন প্রয়োজনীয় ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ থাকলে সেটি জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে এবং শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করতে হবে। ফলে নতুন নিয়মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হচ্ছে—প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা নেই; দ্বিতীয়বার এবং এরপর প্রতিবার ঘটলে নির্ধারিত পুনঃইস্যু ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দিতে হবে।
অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি
বাবা-দাদার নামে থাকা জমির তথ্য মিলবে মোবাইলেই, যেভাবে খুঁজবেন জানুন
বিমানের বহরে বড় চমক, ১১ বোয়িং কেনার পথে বাংলাদেশ; দরজায় ১০ এয়ারবাসের প্রস্তাবও
রাজধানীর উত্তরা–মতিঝিল রুটে চলন্ত মেট্রোরেলের অপারেটর কেবিনের দরজার তালা খুলে যাওয়ার ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রায় ২৬ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখার পর ত্রুটি ঠিক করে আবার ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়। এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. মহসিন শেখের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মতিঝিলগামী একটি ট্রেন শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে থাকার সময় ঘটনাটি ঘটে। প্রথম কোচসংলগ্ন নারী যাত্রীদের অংশে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে অপারেটরের কেবিনের দরজার তালা খুলে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন। ট্রেনটি সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটের দিকে আগারগাঁও স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরা–মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দরজার সমস্যাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। প্রায় ২৬ মিনিট পর, সকাল ৮টা ৩ মিনিটে আবার মেট্রোরেল চলাচল শুরু হয়। ঘটনার পর উত্তরা–মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে শুধু চলন্ত ট্রেনের দরজা খুলে যাওয়ার কথা বলা হলেও, দ্য ডেইলি স্টারের বিস্তারিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এটি যাত্রী ওঠানামার সাধারণ দরজা নয়; ট্রেন অপারেটরের কেবিনের দরজার তালা খুলে যাওয়ার ঘটনা।
বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে খরচ ৫০ লাখ টাকা, দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী
ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী